বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কবে প্রতিষ্ঠিত হয়? কাজ ও কাঠামো

২ আগস্ট, ২০২৬১৪ মিনিট পড়া

বাপাউবো কবে, কোন আদেশে গঠিত, কোন মন্ত্রণালয়ের অধীন, কী কাজ করে — ওয়াপদা বিভাজন থেকে অভিন্ন নদী পর্যন্ত পরীক্ষায় আসা সব তথ্য এক জায়গায়।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭২ সালে, রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ৫৯ (Bangladesh Water and Power Development Boards Order, 1972) দ্বারা। এই এক লাইনটাই বিসিএস, ব্যাংক ও অন্যান্য চাকরির পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশিবার এসেছে। কিন্তু প্রশ্ন শুধু সাল ধরে আসে না — আদেশের নম্বর, কোন সংস্থা ভেঙে এটি হলো, কোন মন্ত্রণালয়ের অধীন, কী কাজ করে — সব দিক থেকেই আসে।

তাই সাল মুখস্থ করে থেমে যেয়ো না। নিচে ধাপে ধাপে পুরো ছবিটা সাজানো আছে, শেষে আছে ভুল-ফাঁদ আর এক নজরে রিভিশন টেবিল।

পানি উন্নয়ন বোর্ড কবে প্রতিষ্ঠিত হয়

সংক্ষেপে উত্তরটা এমন:

প্রশ্ন উত্তর
প্রতিষ্ঠার সাল ১৯৭২
কোন আদেশে রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ৫৯, ১৯৭২
আদেশের ইংরেজি নাম Bangladesh Water and Power Development Boards Order, 1972
কোন সংস্থা ভেঙে ওয়াপদা (WAPDA)
ইংরেজি নাম Bangladesh Water Development Board (BWDB)
নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়

খেয়াল করো, আদেশটির নামেই "Boards" বহুবচনে আছে। কারণ একটি আদেশ দিয়েই দুটি বোর্ড জন্ম নিয়েছিল — একটি পানির, একটি বিদ্যুতের। এই বহুবচনটাই মনে রাখার সবচেয়ে ভালো ক্লু।

ওয়াপদা কী ছিল, কেন ভাঙা হলো

স্বাধীনতার আগে পানি আর বিদ্যুৎ — দুটো খাতই দেখত একটিমাত্র সংস্থা। তার নাম ওয়াপদা, পুরো নাম Water and Power Development Authority। এটি গঠিত হয় ১৯৫৯ সালে।

তখনকার বাস্তবতায় বাঁধ বানানো আর সেই বাঁধ থেকে বিদ্যুৎ তোলা — দুটো কাজ একসাথে ভাবা হতো। কিন্তু কাজের পরিধি বাড়তে বাড়তে একটি সংস্থার পক্ষে দুটো বিশাল খাত সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে।

স্বাধীনতার পরপরই ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ৫৯ দিয়ে ওয়াপদাকে ভেঙে দুই ভাগ করা হয়:

  • বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (BWDB) — পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা
  • বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (BPDB) — বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন

দুটো সংস্থার জন্মদিন একই, জন্মদাতা আদেশও একই। তাই একটির প্রশ্ন পড়লে অন্যটিও একসাথে পড়ে ফেলা বুদ্ধিমানের কাজ — বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড নিয়ে আলাদা লেখাটি পড়ে নিলে দুটো একসাথে গেঁথে যাবে, আর পরীক্ষায় গুলিয়ে যাওয়ার ভয় থাকবে না।

বাপাউবো কোন মন্ত্রণালয়ের অধীন

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি সংস্থা।

এখানে একটা সাধারণ ভুল হয়। অনেকে ভাবে নদী মানেই নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। কিন্তু ভাগটা এভাবে বুঝো:

কাজ কার দায়িত্ব
বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ, বাঁধ, নদীভাঙন রোধ পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় → বাপাউবো
নৌপথ, নৌবন্দর, নৌচলাচলের ড্রেজিং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়
বিদ্যুৎ উৎপাদন বিদ্যুৎ বিভাগ → বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড

মানে নদী নিয়ে সব কাজ এক জায়গায় নেই। নদীর পানি ব্যবস্থাপনা বাপাউবোর, আর নদীপথে জাহাজ চলা অন্য মন্ত্রণালয়ের। প্রশ্নে "নদী" শব্দ দেখলেই তাড়াহুড়ো করে উত্তর দিয়ো না, আগে দেখো কোন ধরনের কাজের কথা বলা হচ্ছে।

বাপাউবোর প্রধান কার্যালয় ঢাকার মতিঝিলে ওয়াপদা ভবনে। নামটা রয়ে গেছে পুরোনো সংস্থার স্মৃতি হিসেবে।

বাপাউবো আসলে কী কাজ করে

বাপাউবোর কাজের তালিকা মনে রাখতে হলে একটা সহজ সূত্র ধরো — পানি বেশি হলেও সমস্যা, কম হলেও সমস্যা। বাপাউবোর কাজ এই দুই সমস্যারই সমাধান করা।

পানি বেশি হলে যা করে:

  • বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ
  • জলাবদ্ধতা দূর করতে নিষ্কাশন খাল খনন
  • নদীভাঙন রোধে তীর সংরক্ষণ
  • উপকূলে পোল্ডার নির্মাণ, লবণাক্ত পানি ঠেকানো

পানি কম হলে যা করে:

  • সেচ প্রকল্প পরিচালনা
  • ব্যারেজ ও রেগুলেটর দিয়ে পানি ধরে রাখা ও বণ্টন
  • ভূগর্ভস্থ ও ভূউপরিস্থ পানির তথ্য সংগ্রহ

এর বাইরেও নিয়মিত কাজ আছে — নদীর পানির উচ্চতা মাপা, বন্যা পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য তথ্য সরবরাহ, নদী ড্রেজিং করে নাব্যতা ফেরানো, আর অভিন্ন নদীর পানিপ্রবাহের হিসাব রাখা।

এই কাজগুলোর প্রায় প্রতিটি থেকেই MCQ হয়। বাংলাদেশ বিষয়াবলির প্রশ্নব্যাংক ঘেঁটে দেখো, "নিচের কোনটি বাপাউবোর কাজ নয়" ধরনের প্রশ্ন বারবার ঘুরে ফিরে আসে।

পোল্ডার, বাঁধ আর উপকূল রক্ষা

উপকূলীয় অঞ্চলে বাপাউবোর সবচেয়ে দৃশ্যমান কাজ হলো পোল্ডার। পোল্ডার শব্দটা এসেছে ডাচ ভাষা থেকে — নিচু জমিকে চারদিকে বাঁধ দিয়ে ঘিরে ফেলে সেই জমিকে সমুদ্রের নোনা পানি থেকে বাঁচানো হয়।

ষাটের দশকে উপকূলীয় বাঁধ প্রকল্পের (Coastal Embankment Project) আওতায় দক্ষিণাঞ্চলে বহু পোল্ডার তৈরি হয়। এগুলো এখনো ঘূর্ণিঝড়ের জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ততা থেকে ফসল ও বসতি রক্ষা করে।

পোল্ডারের কাজ তিনটি:

১. জোয়ারের লবণাক্ত পানি ঢুকতে না দেওয়া ২. ঘূর্ণিঝড়ের জলোচ্ছ্বাসের ধাক্কা কমানো ৩. ভেতরের বৃষ্টির পানি স্লুইস গেট দিয়ে বের করে দেওয়া

পোল্ডারের সংখ্যা, বাঁধের মোট দৈর্ঘ্য বা চলমান প্রকল্পের হিসাব — এই সংখ্যাগুলো সময়ের সাথে বদলায়। পরীক্ষার আগে হালনাগাদ তথ্য সাম্প্রতিক সংবাদ ও তথ্যের পাতা থেকে দেখে নিয়ো, পুরোনো বইয়ের সংখ্যা ধরে বসে থেকো না।

সেচ ও নিষ্কাশন — বাপাউবোর বড় প্রকল্পগুলো

বাংলাদেশের কৃষি বহুলাংশে সেচনির্ভর, বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমের বোরো ধান। বড় সেচ প্রকল্পগুলো বাপাউবো পরিচালনা করে।

উত্তরাঞ্চলের তিস্তা সেচ প্রকল্প এর মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে বেশি প্রশ্নে আসা নাম। তিস্তা ব্যারেজ লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানীতে অবস্থিত। এটি বাংলাদেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প হিসেবে পরিচিত।

সেচ প্রকল্পে যেসব কাঠামো ব্যবহৃত হয়:

কাঠামো কাজ
ব্যারেজ নদীর পানি আটকে উচ্চতা বাড়িয়ে খালে পাঠানো
রেগুলেটর খালের পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ
স্লুইস গেট ভেতরের পানি বের করা, বাইরের পানি ঠেকানো
পাম্প হাউস নিচু জায়গা থেকে পানি তুলে দেওয়া

মনে রেখো, ব্যারেজ আর ড্যাম এক জিনিস নয়। ড্যাম পানি জমিয়ে বিশাল জলাধার বানায়, ব্যারেজ শুধু পানির উচ্চতা নিয়ন্ত্রণ করে পাশে সরিয়ে দেয়। এই পার্থক্যটা থেকেও প্রশ্ন হয়।

নদীভাঙন রোধ ও ড্রেজিং

প্রতি বর্ষায় পদ্মা, যমুনা, মেঘনার তীরে হাজার হাজার মানুষ ভিটেমাটি হারায়। নদীভাঙন ঠেকানো বাপাউবোর অন্যতম দায়িত্ব।

ভাঙন রোধে যেসব পদ্ধতি ব্যবহার হয়:

  • সিসি ব্লক — কংক্রিটের ব্লক ফেলে তীর শক্ত করা
  • জিও ব্যাগ — বালুভর্তি বিশেষ ব্যাগ ডাম্পিং
  • রিভেটমেন্ট — তীরের ঢালে পাথর বা ব্লকের আস্তরণ
  • গ্রোয়েন ও স্পার — নদীর স্রোত তীর থেকে সরিয়ে দেওয়ার কাঠামো

ড্রেজিং মানে নদীর তলদেশ থেকে পলি তুলে গভীরতা বাড়ানো। বাংলাদেশ পলিবাহিত নদীর দেশ, তাই প্রতি বছরই পলি জমে নদী ভরাট হয়ে যায়। ড্রেজিং না করলে বর্ষায় পানি উপচে বন্যা হয়, শুকনো মৌসুমে নদী শুকিয়ে যায়।

পানি খাতের অন্য সংস্থাগুলো — কে কী করে

পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি গুলিয়ে যায় এখানেই। বাপাউবোর পাশাপাশি আরও কয়েকটি সংস্থার নাম মনে রাখতে হয়।

সংস্থা পুরো নাম মূল কাজ
বাপাউবো (BWDB) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড মাঠপর্যায়ে বাঁধ, সেচ, নিষ্কাশন, ভাঙন রোধ
WARPO পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা পানি খাতের জাতীয় পরিকল্পনা ও নীতি সহায়তা
JRC যৌথ নদী কমিশন অভিন্ন নদী নিয়ে ভারতের সাথে আলোচনা
BPDB বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন

পার্থক্যটা এক লাইনে ধরো — WARPO পরিকল্পনা করে, বাপাউবো মাটিতে কাজ করে। WARPO কোনো বাঁধ বানায় না, বাপাউবো কোনো জাতীয় পানি নীতি লেখে না।

যৌথ নদী কমিশন বা JRC গঠিত হয় ১৯৭২ সালে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অভিন্ন নদীর পানি নিয়ে আলোচনার জন্য। মানে বাপাউবো আর JRC — দুটোরই জন্মসাল ১৯৭২। এই মিলটা মনে রাখলে দুটো তারিখই একসাথে থাকে।

অভিন্ন নদী কয়টি — সংখ্যাগুলো ঠিকভাবে মনে রাখো

এটি বাংলাদেশ বিষয়াবলির চিরচেনা প্রশ্ন। সংখ্যাগুলো এভাবে ভাগ করে মনে রাখো:

বিষয় সংখ্যা
মোট অভিন্ন নদী ৫৭
ভারতের সাথে অভিন্ন ৫৪
মিয়ানমারের সাথে অভিন্ন

সহজ সূত্র — ৫৪ আর ৩ যোগ করলে ৫৭। প্রশ্নে যদি শুধু "ভারতের সাথে কয়টি" জিজ্ঞেস করে, উত্তর ৫৪; "মোট কয়টি" হলে ৫৭। অনেকে তাড়াহুড়োয় ৫৭-এর জায়গায় ৫৪ লিখে নম্বর হারায়।

অভিন্ন নদী মানে যে নদী এক দেশে উৎপন্ন হয়ে অন্য দেশে প্রবাহিত হয়েছে। বাংলাদেশ গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকার একেবারে ভাটির দেশ। এর মানে উজানে কী হচ্ছে, তার ওপর আমাদের পানি সরাসরি নির্ভরশীল — এবং এই ভৌগোলিক বাস্তবতাই বাপাউবোর কাজকে এত কঠিন করে তোলে।

ফারাক্কা ও গঙ্গা চুক্তি নিয়ে যা জানতেই হবে

ফারাক্কা বাঁধ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে, গঙ্গা নদীর ওপর, বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি। এটি চালু হয় ১৯৭৫ সালে। উদ্দেশ্য ছিল গঙ্গার পানি হুগলি নদীতে সরিয়ে কলকাতা বন্দরের নাব্যতা ধরে রাখা।

এর ফলে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পানিপ্রবাহ কমে যায় এবং লবণাক্ততা বাড়ে। দীর্ঘ আলোচনার পর ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির মেয়াদ ৩০ বছর।

মনে রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট:

  • ফারাক্কা বাঁধ গঙ্গা নদীর ওপর, পদ্মার ওপর নয়
  • বাঁধটি ভারতের ভূখণ্ডে, বাংলাদেশে নয়
  • চুক্তির সাল ১৯৯৬, মেয়াদ ৩০ বছর
  • পানিপ্রবাহ মাপা হয় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে

গঙ্গা বাংলাদেশে ঢোকার পর পদ্মা নামে পরিচিত হয় — তাই "ফারাক্কা পদ্মার ওপর" লেখা অপশনটি ফাঁদ। এই ধরনের কূটনৈতিক ও চুক্তিভিত্তিক প্রশ্ন সমাধান করতে হলে বাংলাদেশ বিষয়াবলির অনুশীলন সেট নিয়মিত করো, একই ফাঁদ বারবার ফিরে আসে।

তিস্তা প্রসঙ্গটাও এখানেই পড়ে ফেলো। তিস্তা ভারতের সিকিম-পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও বাপাউবোর তিস্তা সেচ প্রকল্প এই নদীর পানির ওপর নির্ভরশীল।

তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে, কিন্তু গঙ্গার মতো দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি এখনো হয়নি। এটি যৌথ নদী কমিশনের আলোচনার নিয়মিত এজেন্ডা।

এই বিষয়ে অবস্থা বদলায়, তাই কোনো নির্দিষ্ট দাবি বা সাম্প্রতিক অগ্রগতির তারিখ মুখস্থ করার আগে হালনাগাদ তথ্য দেখে নিয়ো। এটি চলমান বিষয় — সাম্প্রতিক অংশ থেকে সর্বশেষ অবস্থা জেনে নেওয়াই নিরাপদ।

নীতি ও আইনের দিকটা

পানি খাতে কয়েকটি নীতি ও আইনের নাম প্রায়ই আসে:

  • জাতীয় পানি নীতি, ১৯৯৯ — পানি খাতের প্রথম সমন্বিত নীতিমালা
  • বাংলাদেশ পানি আইন, ২০১৩ — পানি ব্যবহার, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার আইনি কাঠামো
  • বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ (ডেল্টা প্ল্যান) — দীর্ঘমেয়াদি পানি ও ব-দ্বীপ ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা

এই নীতিগুলো বাস্তবায়নের মাঠপর্যায়ের হাতিয়ার হলো বাপাউবো। নীতি ঠিক করে মন্ত্রণালয় ও WARPO, বাস্তবায়ন করে বাপাউবো।

রাষ্ট্রপতির আদেশ দিয়ে সংস্থা গঠনের ব্যাপারটা যদি ঘোলাটে লাগে, তাহলে রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও আদেশ-অধ্যাদেশের পার্থক্যটা সংবিধান অংশ থেকে একবার ঝালিয়ে নিয়ো। ১৯৭২ সালের প্রেক্ষাপটে অনেক সংস্থাই রাষ্ট্রপতির আদেশে গঠিত হয়েছিল, তাই ভিত্তিটা পরিষ্কার থাকলে অনেক প্রশ্ন একসাথে ধরা পড়ে।

যেসব ভুল সবচেয়ে বেশি হয়

পরীক্ষার খাতায় এই ভুলগুলোই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাড়ে:

ভুল ধারণা সঠিক তথ্য
কাপ্তাই বাঁধ বাপাউবোর কাপ্তাই কর্ণফুলী নদীতে, এটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের, বাপাউবোর নয়
ওয়াপদা ১৯৭২ সালে গঠিত ওয়াপদা গঠিত ১৯৫৯ সালে, ১৯৭২ সালে ভাঙা হয়
বাপাউবো নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন
ফারাক্কা পদ্মার ওপর ফারাক্কা গঙ্গার ওপর, ভারতের ভূখণ্ডে
অভিন্ন নদী ৫৪টি মোট ৫৭টি; ভারতের সাথে ৫৪টি
রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ৫৪ আদেশ নং ৫৯
ব্যারেজ ও ড্যাম একই ব্যারেজ উচ্চতা নিয়ন্ত্রণ করে, ড্যাম জলাধার বানায়

বিশেষ করে ৫৯ আর ৫৪ — এই দুই সংখ্যা পাশাপাশি থাকায় সবচেয়ে বেশি গোলমাল হয়। মনে রাখো: আদেশ ৫৯, ভারতের সাথে নদী ৫৪। আদেশের সংখ্যাটা বড়, নদীর সংখ্যাটা ছোট।

আরেকটি ফাঁদ — কাপ্তাই। কাপ্তাই বাঁধ কর্ণফুলী নদীতে এবং এটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র, তাই এর সাথে বাপাউবোর সম্পর্ক নেই। প্রশ্নে "বাপাউবোর নির্মিত বাঁধ কোনটি" থাকলে কাপ্তাই অপশনটি বাদ দিতে হবে।

পরীক্ষায় যেভাবে প্রশ্ন আসে

গত কয়েক বছরের ধরন দেখলে প্রশ্নগুলো মোটামুটি পাঁচ ছাঁচে আসে:

১. সরাসরি সাল — বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়? উত্তর: ১৯৭২।

২. আদেশ নম্বর — কোন আদেশে বাপাউবো গঠিত হয়? উত্তর: রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ৫৯, ১৯৭২।

৩. মন্ত্রণালয় শনাক্তকরণ — বাপাউবো কোন মন্ত্রণালয়ের অধীন? উত্তর: পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়।

৪. নেগেটিভ প্রশ্ন — নিচের কোনটি বাপাউবোর কাজ নয়? এখানে সাধারণত বিদ্যুৎ উৎপাদন বা নৌবন্দর ব্যবস্থাপনা অপশন হিসেবে থাকে।

৫. সম্পর্কিত তথ্য — অভিন্ন নদীর সংখ্যা, গঙ্গা চুক্তির সাল, JRC-র প্রতিষ্ঠাসাল, ফারাক্কার অবস্থান।

লিখিত পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে ভিন্নভাবে — "বাংলাদেশের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় বাপাউবোর ভূমিকা মূল্যায়ন করো" বা "অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন সমস্যা ও সমাধানের পথ" জাতীয় বিষয়ে। তখন শুধু সাল দিয়ে হবে না, কাজের ক্ষেত্রগুলো উদাহরণসহ লিখতে হবে।

সময় ধরে অনুশীলনের জন্য মডেল টেস্ট দিয়ে দেখো — চাপের মধ্যে ৫৯ আর ৫৪ গুলিয়ে ফেলছ কি না, সেটা তখনই ধরা পড়ে। আর বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতির জন্য প্রশ্নব্যাংকঅনুশীলন অংশ পাশাপাশি চালিয়ে যাও।

অন্য প্রতিষ্ঠানের সাথে মিলিয়ে পড়ো। বাংলাদেশ বিষয়াবলিতে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রশ্ন অনেক। আলাদা আলাদা মুখস্থ না করে গুচ্ছ করে পড়ো।

যেমন ১৯৭২ সালের গুচ্ছ:

  • বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড
  • বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড
  • যৌথ নদী কমিশন

তিনটিই ১৯৭২। একটি মনে পড়লে বাকি দুটিও আসবে।

আবার "পুরোনো সংস্থা ভেঙে নতুন সংস্থা" — এই ধরনটাও গুচ্ছ করে পড়া যায়। ওয়াপদা ভেঙে দুই বোর্ড, রেলওয়ের কাঠামোগত পরিবর্তন — এসব একই যুক্তিতে চলে। বাংলাদেশ রেলওয়ে নিয়ে লেখাটি পড়ে নিলে প্রতিষ্ঠান-ভিত্তিক প্রশ্নের ধরনটা আরও পরিষ্কার হবে।

আর যদি লিখিত পরীক্ষায় বাক্য গঠন বা বানানে দুর্বলতা থাকে, বাংলা ব্যাকরণ বইটি একবার দেখে নিয়ো — বাংলাদেশ বিষয়াবলির লিখিত উত্তরে ভাষার মানও নম্বরে প্রভাব ফেলে।

এক নজরে মনে রাখার তথ্য

শেষ মুহূর্তের রিভিশনের জন্য এই টেবিলটাই যথেষ্ট:

বিষয় তথ্য
প্রতিষ্ঠা ১৯৭২
আইনি ভিত্তি রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ৫৯, ১৯৭২
পূর্বসূরি সংস্থা ওয়াপদা (গঠিত ১৯৫৯)
একই আদেশে জন্ম নেওয়া সংস্থা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড
মন্ত্রণালয় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়
ইংরেজি নাম Bangladesh Water Development Board (BWDB)
সদর দপ্তর ওয়াপদা ভবন, মতিঝিল, ঢাকা
প্রধান কাজ বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ, নিষ্কাশন, নদীভাঙন রোধ, পোল্ডার, ড্রেজিং
পরিকল্পনা সংস্থা WARPO
যৌথ নদী কমিশন গঠন ১৯৭২
মোট অভিন্ন নদী ৫৭
ভারতের সাথে ৫৪
মিয়ানমারের সাথে
গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি ১৯৯৬, মেয়াদ ৩০ বছর
ফারাক্কা বাঁধ গঙ্গা নদী, ভারত, চালু ১৯৭৫
বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা সেচ প্রকল্প
কাপ্তাই বাঁধ কর্ণফুলী নদী (বিদ্যুৎ, বাপাউবোর নয়)

তিনটি জিনিস শেষবার মিলিয়ে নাও — সাল ১৯৭২, আদেশ ৫৯, মন্ত্রণালয় পানি সম্পদ। এই তিনটি ঠিক থাকলে বাপাউবো নিয়ে যেকোনো সরাসরি প্রশ্নে তুমি নিরাপদ। বাকিটা সংখ্যা ও ফাঁদ চেনার খেলা, আর সেটা অনুশীলনেই আসে।

Ah

Ahosan Habib

@ahosanhabib922

অচিনপুরের নির্মাতা। BCS ও চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে লেখেন — সিলেবাস, ব্যাকরণ ও পড়ার কৌশল।

পানি উন্নয়ন বোর্ডবাংলাদেশ বিষয়াবলিবিসিএসনদী

আরও পড়ো