রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি — সংবিধান অনুযায়ী পূর্ণ ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি কে নির্বাচন করেন, যোগ্যতা কী, মেয়াদ কত, অভিশংসন কীভাবে হয় — সংবিধানের অনুচ্ছেদ ধরে ধরে ব্যাখ্যা ও বিসিএস প্রশ্ন।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে সবচেয়ে বড় ভুল ধারণাটা হলো — অনেকে ভাবেন জনগণ ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে। আসলে তা নয়। সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ স্পষ্ট বলছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সংসদ-সদস্যদের ভোটে। এই একটা তথ্যই বিসিএস, ব্যাংক ও শিক্ষক নিবন্ধনে বারবার প্রশ্ন হয়ে আসে।
এই লেখায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতির পুরো ছবিটা সংবিধানের অনুচ্ছেদ ধরে সাজানো — কে নির্বাচন করেন, কার যোগ্যতা লাগে, মেয়াদ কত, পদ শূন্য হলে কী হয়, আর অভিশংসনের প্রক্রিয়াটা ঠিক কেমন। প্রতিটি তথ্যের সাথে অনুচ্ছেদ নম্বর দেওয়া আছে, কারণ পরীক্ষায় প্রশ্নটা প্রায়ই আসে "কোন অনুচ্ছেদে আছে" এই আকারে।
রাষ্ট্রপতি কে নির্বাচন করেন
সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী — "বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি থাকিবেন, যিনি আইন অনুযায়ী সংসদ-সদস্যগণ কর্তৃক নির্বাচিত হইবেন।"
অর্থাৎ ভোটার কেবল সংসদ সদস্যরা। সাধারণ জনগণ সরাসরি ভোট দেন না। এই পদ্ধতিকে বলে পরোক্ষ নির্বাচন — জনগণ সংসদ সদস্য নির্বাচন করেন, আর সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন।
লক্ষ করার বিষয়, অনুচ্ছেদে "আইন অনুযায়ী" কথাটা আছে। সেই আইনটি হলো রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১, আর নির্বাচন পরিচালনা করে নির্বাচন কমিশন। বাস্তবে একজনই প্রার্থী হলে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন — বাংলাদেশে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটাই ঘটেছে।
সংবিধানের মূল পাঠ পড়তে চাইলে সংবিধানের অনুচ্ছেদগুলো আমাদের সাইটে বাংলায় সাজানো আছে, প্রতিটি অনুচ্ছেদ আলাদা করে খোঁজা যায়।
রাষ্ট্রপতি হওয়ার যোগ্যতা কী
৪৮(৪) অনুচ্ছেদে তিনটি শর্ত দেওয়া আছে। কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হবেন না, যদি তিনি —
| শর্ত | ব্যাখ্যা |
|---|---|
| ক | পঁয়ত্রিশ বছরের কম বয়স্ক হন |
| খ | সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য না হন |
| গ | কখনও সংবিধানের অধীন অভিশংসন দ্বারা রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারিত হয়ে থাকেন |
এখানে ৩৫ বছর সংখ্যাটা মনে রাখা জরুরি — সংসদ সদস্যের জন্য লাগে ২৫ বছর, রাষ্ট্রপতির জন্য ৩৫। পরীক্ষায় এই দুটো সংখ্যা গুলিয়ে দেওয়ার প্রশ্ন খুব আসে।
দ্বিতীয় শর্তটি ৬৬ অনুচ্ছেদের দিকে নিয়ে যায়, যেখানে সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা বলা আছে। সংক্ষেপে — বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে, আদালত অপ্রকৃতিস্থ ঘোষণা করেননি, দেউলিয়া হয়ে দায়মুক্ত হননি এমন নন, বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব নেননি, এবং নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে দুই বছর বা তার বেশি কারাদণ্ড ভোগ করে মুক্তির পর পাঁচ বছর পার হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির মেয়াদ কত বছর
৫০ অনুচ্ছেদ এই প্রশ্নের উত্তর দেয়, আর এখানে চারটি আলাদা বিধান আছে যেগুলো প্রায়ই প্রশ্নে আসে:
- ৫০(১) — কার্যভার গ্রহণের তারিখ থেকে পাঁচ বছর মেয়াদ। তবে মেয়াদ শেষ হলেও উত্তরাধিকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি পদে বহাল থাকবেন।
- ৫০(২) — একাদিক্রমে হোক বা না হোক, দুই মেয়াদের বেশি কেউ রাষ্ট্রপতি থাকতে পারবেন না।
- ৫০(৩) — স্পিকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র দিয়ে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে পারবেন।
- ৫০(৪) — কার্যভারকালে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য নন; কোনো সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে কার্যভার গ্রহণের দিনে তাঁর সংসদীয় আসন শূন্য হবে।
শেষ বিধানটি যুক্তিসঙ্গত — একই ব্যক্তি একই সাথে আইনসভার সদস্য ও রাষ্ট্রপ্রধান থাকতে পারেন না।
নির্বাচন কখন অনুষ্ঠিত হয়
সময়সীমা আছে ১২৩ অনুচ্ছেদে, আর কারণভেদে দুই রকম:
| পদ শূন্য হওয়ার কারণ | নির্বাচনের সময়সীমা |
|---|---|
| মেয়াদ অবসান | মেয়াদ শেষের তারিখের আগের ৯০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে |
| মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণ | পদ শূন্য হওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে |
তবে ১২৩(১)-এ একটা গুরুত্বপূর্ণ শর্ত আছে। যে সংসদ রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচিত করেছে, সেই সংসদের মেয়াদকালেই যদি তাঁর কার্যকাল শেষ হয়, তাহলে সংসদের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে না। নতুন সংসদের প্রথম বৈঠকের দিন থেকে ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হবে।
পদ শূন্য থাকলে দায়িত্ব কে পালন করেন
৫৪ অনুচ্ছেদ — রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে, কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে, স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
এটা চলবে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত, অথবা রাষ্ট্রপতি পুনরায় কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত। খেয়াল করো, স্পিকার এখানে "ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি" হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন — তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন না।
রাষ্ট্রপতির অভিশংসন কীভাবে হয়
৫২ অনুচ্ছেদে অভিশংসনের পুরো প্রক্রিয়া বলা আছে। অভিযোগ হতে পারে দুটি কারণে — সংবিধান লঙ্ঘন অথবা গুরুতর অসদাচরণ।
ধাপগুলো:
- সংসদের মোট সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের স্বাক্ষরে অভিযোগের বিবরণ লিপিবদ্ধ করে একটি প্রস্তাবের নোটিশ স্পিকারের কাছে দিতে হবে।
- নোটিশ দেওয়ার দিন থেকে চৌদ্দ দিনের আগে বা ত্রিশ দিনের পরে প্রস্তাবটি আলোচিত হতে পারবে না। সংসদ অধিবেশনে না থাকলে স্পিকার অবিলম্বে সংসদ আহ্বান করবেন।
- অভিযোগ তদন্তের জন্য সংসদ কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা কর্তৃপক্ষের কাছে রাষ্ট্রপতির আচরণ গোচর করতে পারবে।
- অভিযোগ বিবেচনার সময় রাষ্ট্রপতির উপস্থিত থাকার ও প্রতিনিধি পাঠানোর অধিকার থাকবে।
- মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে অভিযোগ যথার্থ ঘোষণা করে প্রস্তাব গৃহীত হলে, সেই তারিখেই রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হবে।
তিনটি সংখ্যা এখানে গুরুত্বপূর্ণ — নোটিশে সংখ্যাগরিষ্ঠ স্বাক্ষর, আলোচনার জন্য ১৪–৩০ দিন, আর পাসের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ।
অসামর্থ্যের কারণে অপসারণ
অভিশংসন আর অসামর্থ্যজনিত অপসারণ দুটো আলাদা জিনিস, আর পরীক্ষায় এই দুটো গুলিয়ে দেওয়ার প্রশ্ন আসে।
৫৩ অনুচ্ছেদ বলছে, শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করা যাবে। এখানেও মোট সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের স্বাক্ষরে নোটিশ লাগে, কিন্তু পার্থক্য হলো এখানে একটি চিকিৎসা-পর্ষদ গঠন করতে হয়। স্পিকার রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ জানাবেন যেন তিনি দশ দিনের মধ্যে পর্ষদের কাছে পরীক্ষিত হতে উপস্থিত হন।
সহজ করে মনে রাখো — ৫২ = দোষের কারণে (অভিশংসন), ৫৩ = অক্ষমতার কারণে (চিকিৎসা পর্ষদ)।
রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও সীমা
নির্বাচন পদ্ধতির সাথে ক্ষমতার প্রশ্নটাও আসে, তাই তিনটি অনুচ্ছেদ জেনে রাখা দরকার:
৪৮(২) — রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অন্য সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান লাভ করবেন।
৪৮(৩) — এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করবেন, কেবল দুটি ক্ষেত্র ছাড়া:
- প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ (৫৬ অনুচ্ছেদের ৩ দফা)
- প্রধান বিচারপতি নিয়োগ (৯৫ অনুচ্ছেদের ১ দফা)
এই দুটি নিয়োগ ছাড়া বাকি সব দায়িত্বে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে চলেন। এ কারণেই বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে বলা হয় সাংবিধানিক বা নামমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান, আর প্রকৃত নির্বাহী ক্ষমতা থাকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে।
৪৯ — যেকোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা কর্তৃপক্ষের দেওয়া দণ্ড মার্জনা, বিলম্বন ও বিরাম মঞ্জুর করার এবং দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির থাকবে। একে বলে ক্ষমা প্রদর্শনের অধিকার।
৫১ — দায়িত্ব পালনকালে কৃত কাজের জন্য রাষ্ট্রপতিকে আদালতে জবাবদিহি করতে হবে না, এবং কার্যভারকালে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারী কার্যধারা দায়ের করা বা গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা যাবে না।
রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করেন কাদের
নির্বাচনের পাশাপাশি এই প্রশ্নটাও আসে — রাষ্ট্রপতি নিজে কাদের নিয়োগ দেন। ৫৬(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী, অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপ-মন্ত্রীদের নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি।
তবে এখানে একটা শর্ত আছে যা পরীক্ষায় খুব আসে — মন্ত্রীদের সংখ্যার অন্যূন নয়-দশমাংশ সংসদ-সদস্যদের মধ্য থেকে নিযুক্ত হবেন, আর অনধিক এক-দশমাংশ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের মধ্য থেকে মনোনীত হতে পারবেন। অর্থাৎ মন্ত্রিসভার সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ সংসদের বাইরের কেউ হতে পারেন — এদের বলা হয় টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী।
৫৬(৩) বলছে, যে সংসদ-সদস্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন বলে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রতীয়মান হবেন, তাঁকেই প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করবেন। এটাই সেই দুটি ক্ষেত্রের একটি যেখানে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই সিদ্ধান্ত নেন।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী — পার্থক্য কোথায়
দুটি পদের ক্ষমতা ও প্রক্রিয়া পাশাপাশি রাখলে দুটোই পরিষ্কার হয়ে যায়:
| বিষয় | রাষ্ট্রপতি | প্রধানমন্ত্রী |
|---|---|---|
| পদমর্যাদা | রাষ্ট্রপ্রধান | সরকারপ্রধান |
| কে নির্বাচন/নিয়োগ করেন | সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত | রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত |
| ন্যূনতম বয়স | ৩৫ বছর | ২৫ বছর (সংসদ সদস্য হিসেবে) |
| মেয়াদ | ৫ বছর, সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ | মেয়াদের সীমা নেই |
| পদত্যাগপত্র দেন | স্পিকারের কাছে | রাষ্ট্রপতির কাছে |
| নির্বাহী ক্ষমতা | নামমাত্র | প্রকৃত (৫৫(২) অনুচ্ছেদ) |
৫৫(২) অনুচ্ছেদ স্পষ্ট বলছে — "প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বা তাঁহার কর্তৃত্বে এই সংবিধান-অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রযুক্ত হইবে।" অথচ ৫৫(৪) অনুযায়ী সরকারের সব নির্বাহী ব্যবস্থা রাষ্ট্রপতির নামে গৃহীত হয়েছে বলে প্রকাশ করা হবে।
এই দুটো লাইন একসাথে পড়লেই বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থার চরিত্রটা বোঝা যায় — কাজ হয় রাষ্ট্রপতির নামে, কিন্তু ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর। ৫৫(৩) অনুযায়ী মন্ত্রিসভা যৌথভাবে দায়ী থাকে সংসদের কাছে, রাষ্ট্রপতির কাছে নয়।
সংসদীয় ও রাষ্ট্রপতি শাসনব্যবস্থার তফাত
বাংলাদেশ সংসদীয় শাসনব্যবস্থা অনুসরণ করে। এখানে রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান আলাদা ব্যক্তি, আর সরকার সংসদের কাছে দায়বদ্ধ।
এর বিপরীতে রাষ্ট্রপতি শাসনব্যবস্থায় (যেমন যুক্তরাষ্ট্র) রাষ্ট্রপতি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন, রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান একই ব্যক্তি, আর তিনি আইনসভার কাছে দায়বদ্ধ নন।
বাংলাদেশে অবশ্য সবসময় সংসদীয় ব্যবস্থা ছিল না। ১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি শাসনব্যবস্থা চালু হয়েছিল, আর ১৯৯১ সালের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় ব্যবস্থায় ফিরে আসা হয়। এই দুটি সংশোধনী নিয়ে প্রশ্ন প্রায়ই আসে, তাই সাল দুটি মনে রাখা দরকার।
যেসব ভুল সবচেয়ে বেশি হয়
এক, জনগণের ভোট মনে করা। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন সংসদ সদস্যদের ভোটে, জনগণের সরাসরি ভোটে নয়।
দুই, বয়স গুলিয়ে ফেলা। রাষ্ট্রপতি ৩৫, সংসদ সদস্য ২৫। দুটো আলাদা।
তিন, পদত্যাগপত্র কার কাছে। রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্র দেন স্পিকারের কাছে (৫০(৩)), প্রধানমন্ত্রীর কাছে নয়।
চার, অভিশংসনের ভোট। দুই-তৃতীয়াংশ লাগে মোট সদস্য-সংখ্যার, উপস্থিত সদস্যের নয় — এই পার্থক্যটা প্রশ্নে ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার হয়।
পাঁচ, ৫২ ও ৫৩ মিলিয়ে ফেলা। অভিশংসন ৫২, অসামর্থ্যজনিত অপসারণ ৫৩।
ছয়, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগপত্র। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগপত্র দেন রাষ্ট্রপতির কাছে (৫৭(১)), আর রাষ্ট্রপতি দেন স্পিকারের কাছে। উল্টো করে মনে রাখলে দুটোই ভুল হয়।
সাত, নির্বাহী ক্ষমতা কার। সরকারের কাজ রাষ্ট্রপতির নামে হয়, কিন্তু নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করেন প্রধানমন্ত্রী (৫৫(২))।
পরীক্ষায় যেভাবে প্রশ্ন আসে
সাধারণত তিন ধরনের প্রশ্ন হয়:
- অনুচ্ছেদ শনাক্ত — "রাষ্ট্রপতির অভিশংসন সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে আছে?" (উত্তর: ৫২)
- সংখ্যা — "রাষ্ট্রপতি হওয়ার ন্যূনতম বয়স কত?" (উত্তর: ৩৫ বছর)
- প্রক্রিয়া — "রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে দায়িত্ব পালন করেন কে?" (উত্তর: স্পিকার)
সংবিধান থেকে বিগত বিসিএসে ঠিক কোন প্রশ্নগুলো এসেছে তা দেখতে চাইলে সংবিধান বিষয়ের প্রশ্নব্যাংকে সবগুলো এক জায়গায় সাজানো আছে — একই প্রশ্ন কতবার এসেছে সেটাও দেখা যায়।
কোথা থেকে শুরু করবে
সংবিধান মুখস্থ করার বিষয় নয়, কাঠামো বোঝার বিষয়। যে ক্রমে এগোলে দ্রুত কাজ হয়:
- অনুচ্ছেদ ৪৮–৫৪ একসাথে পড়ো — পুরো রাষ্ট্রপতি অধ্যায় এই সাতটিতেই।
- সংখ্যাগুলো আলাদা করে লিখে রাখো — ৩৫, ৫ বছর, ২ মেয়াদ, ১৪–৩০ দিন, দুই-তৃতীয়াংশ, ৯০–৬০ দিন।
- মূল পাঠ পড়ো — সংবিধানের পূর্ণ পাঠ থেকে অনুচ্ছেদগুলো নিজে পড়লে ভাষাটা চেনা হয়ে যায়, আর প্রশ্নে উদ্ধৃতি এলে চিনতে পারবে।
- অনুশীলন করো — বাংলাদেশ বিষয়াবলিতে প্র্যাকটিস করলে প্রতিটি উত্তরের সাথে সাথেই ব্যাখ্যা পাবে।
- মক টেস্ট দাও — মক টেস্টে সময় ধরে অনুশীলন করলে বোঝা যায় চাপের মধ্যে কোন তথ্যগুলো মনে থাকছে না।
সংবিধানের অন্য অধ্যায়ের প্রস্তুতির জন্য প্রশ্ন ব্যাংক থেকে বিগত সালের প্রশ্ন দেখে নেওয়া সবচেয়ে কাজের — কোন অনুচ্ছেদ থেকে বেশি প্রশ্ন আসে, সেটা নিজেই বুঝে যাবে।
শেষ কথা
রাষ্ট্রপতি অধ্যায়টা সংবিধানের সবচেয়ে ছোট অথচ সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন আসা অংশগুলোর একটি। মাত্র সাতটি অনুচ্ছেদ, আর তাতে সংখ্যা আছে হাতেগোনা কয়েকটি। এক বসাতেই পড়ে ফেলা যায়।
শুধু একটা কথা মনে রেখো — সংখ্যাগুলো আর অনুচ্ছেদ নম্বরগুলো একসাথে মনে রাখো। পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে "কত" আর "কোন অনুচ্ছেদে" এই দুই আকারে, তাই একটা জানলেই অর্ধেক হয়, দুটোই জানলে পুরো নম্বর।
Ahosan Habib
@ahosanhabib922
অচিনপুরের নির্মাতা। BCS ও চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে লেখেন — সিলেবাস, ব্যাকরণ ও পড়ার কৌশল।