বাংলাদেশ ব্যাংক কবে প্রতিষ্ঠিত হয়? কাজ ও নোট ইস্যুর নিয়ম
বাংলাদেশ ব্যাংক কবে প্রতিষ্ঠিত, কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে কী কী কাজ করে, নোট ইস্যু কে করে, মুদ্রানীতি কী — পরীক্ষায় আসা সব তথ্য এক জায়গায়।
বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ে প্রশ্ন আসে প্রায় প্রতিটি চাকরির পরীক্ষায় — বিসিএস, ব্যাংক, শিক্ষক নিবন্ধন, সবখানে। কারণ এটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, আর অর্থনীতির যে অংশটুকু পরীক্ষায় আসে তার অনেকটাই এই প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে।
সবচেয়ে বেশি গুলিয়ে যায় দুটি জিনিস — কেন্দ্রীয় ব্যাংক আর বাণিজ্যিক ব্যাংকের পার্থক্য, আর কোন নোট কে ইস্যু করে। এই লেখায় প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে কাজ, ক্ষমতা, নোট ইস্যু ও মুদ্রানীতি — সব সাজানো আছে, সাথে পরীক্ষায় বারবার আসা তথ্যগুলো।
বাংলাদেশ ব্যাংক কী
বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (Central Bank)। সাধারণ মানুষ এখানে হিসাব খোলে না, ঋণ নেয় না — এটি ব্যাংকের ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাজ তিন শব্দে — নিয়ন্ত্রণ, নিয়ন্ত্রক ও শেষ আশ্রয়। এটি অন্য ব্যাংকগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে, মুদ্রা ব্যবস্থাপনা করে, আর সংকটে ব্যাংকগুলোর শেষ ভরসা (lender of last resort) হিসেবে কাজ করে।
প্রধান কার্যালয় ঢাকার মতিঝিলে, আর সারা দেশে কয়েকটি শাখা অফিস আছে।
কবে প্রতিষ্ঠিত হয়
স্বাধীনতার আগে এই অঞ্চলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাজ করত স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তান। স্বাধীনতার পর নতুন দেশের নিজস্ব কেন্দ্রীয় ব্যাংক দরকার হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ, ১৯৭২ (রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ১২৭) জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়, আর এটি কার্যকর ধরা হয় ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ থেকে।
এই তারিখটাই প্রশ্নের বিষয় — আদেশ জারি ১৯৭২ সালে, কিন্তু কার্যকারিতা ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে। দুটো আলাদা করে মনে রাখা দরকার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাজ কী কী
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্বগুলো আলাদা করে চিনলে প্রশ্নের উত্তর সহজ হয়:
| দায়িত্ব | ব্যাখ্যা |
|---|---|
| নোট ইস্যু | কাগজি মুদ্রা ছাপা ও প্রচলন |
| মুদ্রানীতি | সুদের হার ও অর্থ সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ |
| ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ | তফসিলি ব্যাংকের লাইসেন্স ও তদারকি |
| বৈদেশিক মুদ্রা | রিজার্ভ সংরক্ষণ ও বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা |
| সরকারের ব্যাংকার | সরকারের হিসাব রক্ষা ও ঋণ ব্যবস্থাপনা |
| শেষ আশ্রয়স্থল | সংকটে ব্যাংকগুলোকে ঋণ দেওয়া |
| পেমেন্ট সিস্টেম | আন্তঃব্যাংক লেনদেন নিষ্পত্তি |
"ব্যাংকের ব্যাংক" ও "সরকারের ব্যাংকার" — এই দুটি পরিভাষা প্রশ্নে সরাসরি আসে।
নোট ইস্যু — কোনটা কে করে
এটি সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞেস করা প্রশ্নগুলোর একটি, আর এখানেই সবচেয়ে বেশি ভুল হয়।
| নোট | কে ইস্যু করে | স্বাক্ষর থাকে |
|---|---|---|
| ১ ও ২ টাকা | অর্থ মন্ত্রণালয় | অর্থ সচিব |
| ৫ টাকা ও তার উপরে | বাংলাদেশ ব্যাংক | গভর্নর |
অর্থাৎ সব নোট বাংলাদেশ ব্যাংক ইস্যু করে না। ১ ও ২ টাকার নোট এবং ধাতব মুদ্রা ইস্যু করে সরকার, অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে। এই নোটগুলোকে বলা হয় সরকারি নোট, আর ৫ টাকা থেকে উপরেরগুলো ব্যাংক নোট।
প্রশ্ন প্রায়ই আসে এভাবে — "৫ টাকার নোটে কার স্বাক্ষর থাকে?" উত্তর: বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর।
মুদ্রানীতি কী
মুদ্রানীতি (Monetary Policy) হলো অর্থ সরবরাহ ও সুদের হার নিয়ন্ত্রণ করে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখার কৌশল। বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত মুদ্রানীতি ঘোষণা করে।
মূল হাতিয়ারগুলো:
- রেপো ও রিভার্স রেপো হার — বাংলাদেশ ব্যাংক ও অন্য ব্যাংকের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি ঋণের সুদহার
- সিআরআর (Cash Reserve Ratio) — ব্যাংকগুলোকে আমানতের যে অংশ নগদে বাংলাদেশ ব্যাংকে রাখতে হয়
- এসএলআর (Statutory Liquidity Ratio) — আমানতের যে অংশ তরল সম্পদে রাখতে হয়
- ব্যাংক রেট — কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মৌলিক সুদহার
সিআরআর ও এসএলআর বাড়ালে ব্যাংকের হাতে ঋণ দেওয়ার টাকা কমে, ফলে বাজারে অর্থ সরবরাহ কমে — মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের এটাই প্রধান উপায়। কমালে উল্টোটা ঘটে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের পার্থক্য
| বিষয় | কেন্দ্রীয় ব্যাংক | বাণিজ্যিক ব্যাংক |
|---|---|---|
| সংখ্যা | দেশে একটি | অনেকগুলো |
| মালিকানা | সরকারি | সরকারি ও বেসরকারি |
| উদ্দেশ্য | অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা | মুনাফা |
| গ্রাহক | সরকার ও ব্যাংক | সাধারণ মানুষ ও প্রতিষ্ঠান |
| নোট ইস্যু | করে | করে না |
| আমানত গ্রহণ | সাধারণের কাছ থেকে নয় | প্রধান কাজ |
এই টেবিলটাই "কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈশিষ্ট্য কোনটি নয়" ধরনের প্রশ্নের উত্তর দেয়।
ব্যাংক খাতের অন্যান্য প্রতিষ্ঠান
বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশাপাশি আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম প্রশ্নে আসে:
- রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক — সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী
- বিশেষায়িত ব্যাংক — কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক
- বিআইবিএম (Bangladesh Institute of Bank Management) — ব্যাংক কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান
- বিএসইসি (Bangladesh Securities and Exchange Commission) — পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক, বাংলাদেশ ব্যাংক নয়
শেষ পয়েন্টটা গুরুত্বপূর্ণ — শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রণ করে বিএসইসি, বাংলাদেশ ব্যাংক নয়। এই দুটো গুলিয়ে ফেলার প্রশ্ন আসে।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ
বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষণ করে। এই রিজার্ভ দিয়ে আমদানি ব্যয় মেটানো হয়, আর মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা হয়।
রিজার্ভের পরিমাণ সাধারণত মাপা হয় কত মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে সেই হিসাবে — তিন মাসের বেশি হলে সাধারণত নিরাপদ ধরা হয়।
রিজার্ভের সংখ্যা নিয়মিত বদলায়, তাই পরীক্ষার আগে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নেওয়া দরকার। কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স অংশে হালনাগাদ তথ্য পাবে।
গভর্নর ও পরিচালনা পর্ষদ
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী হলেন গভর্নর, যাঁকে নিয়োগ দেয় সরকার। তাঁর অধীনে থাকেন ডেপুটি গভর্নর ও অন্যান্য কর্মকর্তা।
নীতিনির্ধারণ করে পরিচালনা পর্ষদ (Board of Directors), যার সভাপতি গভর্নর।
গভর্নরের স্বাক্ষরই ৫ টাকা ও তার উপরের নোটে থাকে — এই সূত্রেই গভর্নরের নাম প্রশ্নে আসে। বর্তমান গভর্নর কে, সেটি বদলায়, তাই কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স অংশে দেখে নেওয়া ভালো।
ব্যাংক খাতের গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা
ব্যাংক ও বিসিএস দুই পরীক্ষাতেই এই শব্দগুলো আসে:
| পরিভাষা | অর্থ |
|---|---|
| তফসিলি ব্যাংক | বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকাভুক্ত ও অনুমোদিত ব্যাংক |
| খেলাপি ঋণ | নির্দিষ্ট সময়ে পরিশোধ না হওয়া ঋণ |
| মূল্যস্ফীতি | দ্রব্যমূল্যের সামগ্রিক বৃদ্ধি |
| বিনিময় হার | এক মুদ্রার বিপরীতে অন্য মুদ্রার দাম |
| ব্যালান্স অব পেমেন্ট | দেশের বৈদেশিক লেনদেনের হিসাব |
| রেমিট্যান্স | প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ |
খেলাপি ঋণ ও রেমিট্যান্স — এই দুটি নিয়ে সাম্প্রতিক প্রশ্ন সবচেয়ে বেশি আসে, কারণ দুটোই অর্থনীতির আলোচিত বিষয়।
মুদ্রা ও টাকার ইতিহাস
বাংলাদেশের মুদ্রার নাম টাকা, যার আন্তর্জাতিক কোড BDT আর প্রতীক ৳।
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ নিজস্ব মুদ্রা চালু করে। এর আগে পাকিস্তানি রুপি প্রচলিত ছিল। এক টাকা সমান ১০০ পয়সা।
টাকা ছাপানোর কাজ করে দ্য সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশন (বাংলাদেশ) লিমিটেড, যা গাজীপুরে অবস্থিত — সাধারণভাবে টাকশাল নামে পরিচিত। এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান।
খেয়াল করো — নোট ছাপায় টাকশাল, ইস্যু করে বাংলাদেশ ব্যাংক বা অর্থ মন্ত্রণালয়। ছাপানো আর ইস্যু করা এক জিনিস নয়।
ব্যাংক জবের প্রস্তুতিতে যা লাগে
বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেও নিয়োগ দেয় — সহকারী পরিচালক (এডি), অফিসার সহ বিভিন্ন পদে। এই পরীক্ষাগুলো নেয় ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি, যা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর নিয়োগ পরীক্ষা সমন্বিতভাবে পরিচালনা করে।
ব্যাংক জবের প্রশ্নের কাঠামো সাধারণত এরকম:
| অংশ | কী আসে |
|---|---|
| বাংলা | ব্যাকরণ, সাহিত্য, শুদ্ধ বানান |
| ইংরেজি | Grammar, Vocabulary, Comprehension |
| গণিত | পাটিগণিত, বীজগণিত, জ্যামিতি |
| সাধারণ জ্ঞান | বাংলাদেশ, আন্তর্জাতিক, সাম্প্রতিক |
| কম্পিউটার | মৌলিক ধারণা |
বিসিএসের সাথে বড় পার্থক্য দুটি — ব্যাংকে গণিতের ওজন বেশি, আর সময় কম থাকে, তাই দ্রুত সমাধানের কৌশল জানা জরুরি। গাণিতিক যুক্তিতে প্র্যাকটিস করলে গতি বাড়ে।
ইসলামী ব্যাংকিং ও বিশেষ তহবিল
বাংলাদেশ ব্যাংক প্রচলিত ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রমও তদারকি করে। ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোর জন্য আলাদা নীতিমালা আছে, আর সুদভিত্তিক নয় এমন পণ্যের অনুমোদন কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকেই আসে।
এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন পুনঃঅর্থায়ন তহবিল পরিচালনা করে — কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, নারী উদ্যোক্তা ও পরিবেশবান্ধব প্রকল্পের জন্য কম সুদে ঋণের ব্যবস্থা। এগুলোকে বলা হয় নীতি-নির্ধারিত ঋণ বা directed lending।
কৃষি ঋণ নীতিমালা প্রতি বছর বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষণা করে, যেখানে ব্যাংকগুলোর জন্য কৃষিতে ন্যূনতম ঋণ বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারিত থাকে।
যেসব ভুল সবচেয়ে বেশি হয়
এক, সব নোট বাংলাদেশ ব্যাংক ইস্যু করে ভাবা। ১ ও ২ টাকার নোট ইস্যু করে অর্থ মন্ত্রণালয়।
দুই, প্রতিষ্ঠার তারিখ। আদেশ জারি ১৯৭২, কার্যকর ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ থেকে।
তিন, শেয়ারবাজারের নিয়ন্ত্রক ভাবা। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণ করে বিএসইসি।
চার, সিআরআর ও এসএলআর গুলিয়ে ফেলা। সিআরআর নগদে রাখতে হয়, এসএলআর তরল সম্পদে।
পাঁচ, ছাপানো ও ইস্যু গুলিয়ে ফেলা। নোট ছাপায় টাকশাল (গাজীপুর), ইস্যু করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
ছয়, বিশেষায়িত ও বাণিজ্যিক ব্যাংক মেলানো। কৃষি ব্যাংক বিশেষায়িত, সোনালী বাণিজ্যিক।
পরীক্ষায় যেভাবে প্রশ্ন আসে
- প্রতিষ্ঠা — "বাংলাদেশ ব্যাংক কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?" (উত্তর: ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ থেকে কার্যকর, আদেশ ১৯৭২)
- নোট — "২ টাকার নোটে কার স্বাক্ষর থাকে?" (উত্তর: অর্থ সচিব)
- পরিভাষা — "ব্যাংকের ব্যাংক বলা হয় কাকে?" (উত্তর: কেন্দ্রীয় ব্যাংক)
- মুদ্রানীতি — "সিআরআর কী?" (উত্তর: নগদ জমার হার)
বিগত পরীক্ষায় এই ধরনের প্রশ্ন দেখতে বাংলাদেশ বিষয়াবলির প্রশ্নব্যাংকে বিষয় ধরে সাজানো আছে।
কোথা থেকে শুরু করবে
- কাজের তালিকাটা আগে বোঝো — সাতটি দায়িত্ব, প্রতিটি আলাদা।
- নোট ইস্যুর টেবিলটা মুখস্থ করো — সবচেয়ে বেশি আসা প্রশ্ন এখান থেকেই।
- কেন্দ্রীয় বনাম বাণিজ্যিক পার্থক্যের ছকটা মনে রাখো।
- অনুশীলন করো — বাংলাদেশ বিষয়াবলিতে প্র্যাকটিস করলে প্রতিটি উত্তরের সাথে ব্যাখ্যা পাবে।
- অন্য সংস্থাগুলোও পড়ো — বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও নির্বাচন কমিশন নিয়ে লেখা দুটিও একই ধারার।
ব্যাংক জবের প্রস্তুতি নিলে বাংলা ও ইংরেজিও লাগবে — বাংলা ব্যাকরণ ও English Grammar বই অধ্যায় ধরে সাজানো আছে।
শেষ কথা
বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ে পরীক্ষায় যা আসে তা মূলত তিনটি জায়গা থেকে — প্রতিষ্ঠার তথ্য, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাজ, আর নোট ইস্যু। তিনটিই সীমিত তথ্য, একবার গুছিয়ে নিলে বারবার কাজে লাগে।
মনে রাখার সহজ কথা — কেন্দ্রীয় ব্যাংক টাকা বানায় না, টাকার ব্যবস্থা করে। এই বাক্যটা ধরলে বেশিরভাগ ধারণাগত প্রশ্নের উত্তর নিজে থেকেই আসে।
আর যেসব তথ্য বদলায় — রিজার্ভের পরিমাণ, বর্তমান গভর্নর, সর্বশেষ মুদ্রানীতি, মূল্যস্ফীতির হার — সেগুলো পরীক্ষার কাছাকাছি সময়ে একবার মিলিয়ে নিয়ো। সাংবিধানিক বা কাঠামোগত তথ্য বছরের পর বছর একই থাকে, কিন্তু অর্থনীতির সংখ্যা প্রতি মাসেই বদলায়, আর প্রশ্নকর্তারা সাম্প্রতিক সংখ্যাই জিজ্ঞেস করেন।
Ahosan Habib
@ahosanhabib922
অচিনপুরের নির্মাতা। BCS ও চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে লেখেন — সিলেবাস, ব্যাকরণ ও পড়ার কৌশল।