নির্বাচন কমিশন কত সদস্য নিয়ে গঠিত? মেয়াদ ও দায়িত্ব
নির্বাচন কমিশন কীভাবে গঠিত হয়, কে নিয়োগ দেন, মেয়াদ কত, কী কী দায়িত্ব — সংবিধানের ১১৮ থেকে ১২৬ অনুচ্ছেদ ধরে ব্যাখ্যা ও পরীক্ষার প্রশ্ন।
নির্বাচন কমিশন নিয়ে পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে দুই ধরনের — একদিকে সাংবিধানিক তথ্য (কোন অনুচ্ছেদে, কতজন সদস্য, মেয়াদ কত), অন্যদিকে দায়িত্ব ও ক্ষমতা। দুটোই সংবিধানের সপ্তম ভাগে, অনুচ্ছেদ ১১৮ থেকে ১২৬-এর মধ্যে।
সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এই অংশটা ছোট — মাত্র নয়টি অনুচ্ছেদ, আর তাতে মনে রাখার মতো সংখ্যা হাতেগোনা কয়েকটি। এই লেখায় নির্বাচন কমিশনের গঠন, নিয়োগ, মেয়াদ, দায়িত্ব ও সাংবিধানিক সুরক্ষা — সব অনুচ্ছেদ ধরে সাজানো আছে।
নির্বাচন কমিশন কীভাবে গঠিত হয়
১১৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী — "প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক চারজন নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে" বাংলাদেশের একটি নির্বাচন কমিশন থাকবে।
"অনধিক চারজন" কথাটা গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ছাড়া সর্বোচ্চ চারজন কমিশনার থাকতে পারেন, মোট সর্বোচ্চ পাঁচজন। সংবিধান সর্বনিম্ন সংখ্যা বেঁধে দেয়নি।
নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি — তবে "উক্ত বিষয়ে প্রণীত কোন আইনের বিধানাবলী-সাপেক্ষে"। এই আইনটি হলো প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন, যার অধীনে একটি সার্চ কমিটি নাম সুপারিশ করে।
১১৮(২) — একাধিক কমিশনার থাকলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সভাপতি হিসেবে কাজ করবেন।
সংবিধানের মূল পাঠ পড়তে চাইলে সংবিধানের অনুচ্ছেদগুলো আমাদের সাইটে বাংলায় সাজানো আছে।
নির্বাচন কমিশনারের মেয়াদ কত
১১৮(৩) — কার্যভার গ্রহণের তারিখ থেকে পাঁচ বছর।
এর সাথে দুটি শর্ত আছে যা পরীক্ষায় প্রায়ই আসে:
| শর্ত | বিধান |
|---|---|
| প্রধান নির্বাচন কমিশনার | কর্মাবসানের পর প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগলাভের যোগ্য নন |
| অন্য নির্বাচন কমিশনার | পরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হতে পারবেন, তবে অন্য কোনোভাবে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নয় |
এই বিধানের উদ্দেশ্য পরিষ্কার — দায়িত্ব পালনের সময় যেন পরবর্তী চাকরির লোভে কেউ প্রভাবিত না হন। সাংবিধানিক পদগুলোতে এই ধরনের সুরক্ষা সাধারণ।
নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব কী কী
১১৯(১) অনুচ্ছেদে চারটি দায়িত্ব স্পষ্ট করে বলা আছে:
- রাষ্ট্রপতি পদের নির্বাচন অনুষ্ঠান করা
- সংসদ-সদস্যদের নির্বাচন অনুষ্ঠান করা
- সংসদে নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ করা
- রাষ্ট্রপতির পদ ও সংসদের নির্বাচনের জন্য ভোটার-তালিকা প্রস্তুত করা
এর সাথে ভোটার-তালিকা প্রস্তুতকরণের তত্ত্বাবধান, নির্দেশ ও নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বও কমিশনের উপর ন্যস্ত।
১১৯(২) বলছে, এর অতিরিক্ত যে দায়িত্ব সংবিধান বা অন্য কোনো আইনে নির্ধারিত হবে, কমিশন সেটাও পালন করবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো এই দফার অধীনেই আসে — সেগুলো সংবিধানে আলাদা করে বলা নেই, আইনে বলা আছে।
লক্ষ করো, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনও কমিশনের দায়িত্ব। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি কেমন তা নিয়ে বিস্তারিত আছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি লেখাটিতে।
ভোটার তালিকা নিয়ে যা জানা দরকার
দুটি অনুচ্ছেদ এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
১২১ অনুচ্ছেদ — প্রত্যেক আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকার একটি করে ভোটার-তালিকা থাকবে। আর স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা আছে: ধর্ম, জাত, বর্ণ ও নারী-পুরুষভেদের ভিত্তিতে আলাদা ভোটার-তালিকা করা যাবে না। এটি পৃথক নির্বাচকমণ্ডলীর বিরুদ্ধে সাংবিধানিক অবস্থান।
১২২ অনুচ্ছেদ — ভোটার হওয়ার যোগ্যতা। নির্বাচন হবে প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকার-ভিত্তিতে। ভোটার তালিকাভুক্ত হওয়ার শর্ত:
- বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে
- বয়স আঠারো বছরের কম নয়
- কোনো যোগ্য আদালত অপ্রকৃতিস্থ ঘোষণা করেননি
- ওই নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী হতে হবে
১৮ বছর সংখ্যাটা সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞেস করা হয়। সাথে মিলিয়ে মনে রাখো — ভোটার ১৮, সংসদ সদস্য ২৫, রাষ্ট্রপতি ৩৫।
নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক সুরক্ষা
একটি নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে কিনা, তা নির্ভর করে দুটি জিনিসের উপর — লোকবল আর সহযোগিতা। সংবিধান দুটোরই ব্যবস্থা রেখেছে।
১২০ অনুচ্ছেদ — দায়িত্ব পালনের জন্য যেরূপ কর্মচারীর প্রয়োজন হবে, নির্বাচন কমিশন অনুরোধ করলে রাষ্ট্রপতি সেইরূপ কর্মচারী প্রদানের ব্যবস্থা করবেন।
১২৬ অনুচ্ছেদ — এটি ছোট কিন্তু শক্তিশালী: "নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপালনে সহায়তা করা সকল নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কর্তব্য হইবে।"
অর্থাৎ নির্বাচনের সময় প্রশাসন, পুলিশ ও অন্যান্য সরকারি সংস্থা কমিশনকে সহায়তা করতে সাংবিধানিকভাবে বাধ্য। এক লাইনের এই অনুচ্ছেদটি নিয়ে প্রশ্ন আসে ঠিক এই কারণেই।
নির্বাচন কখন অনুষ্ঠিত হয়
১২৩ অনুচ্ছেদে সময়সীমা দেওয়া আছে:
| নির্বাচন | সময়সীমা |
|---|---|
| রাষ্ট্রপতি (মেয়াদ অবসান) | মেয়াদ শেষের আগের ৯০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে |
| রাষ্ট্রপতি (মৃত্যু/পদত্যাগ/অপসারণ) | পদ শূন্য হওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে |
| সংসদ (মেয়াদ-অবসানে ভেঙে গেলে) | ভেঙে যাওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে |
| সংসদ (অন্য কারণে ভেঙে গেলে) | ভেঙে যাওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে |
সংসদ নির্বাচনের দুটি ক্ষেত্রে পার্থক্যটা খেয়াল করো — মেয়াদ শেষে ভাঙলে নির্বাচন হয় ভাঙার আগে, অন্য কারণে ভাঙলে পরে। এই "আগে-পরে" নিয়েই প্রশ্ন হয়।
নির্বাচনের বৈধতা কে নির্ধারণ করে
১২৪ অনুচ্ছেদ সংসদকে ক্ষমতা দেয় নির্বাচন সম্পর্কিত বিধান প্রণয়নের। ১২৫ অনুচ্ছেদ বলছে নির্বাচনী আইন ও নির্বাচনের বৈধতা সম্পর্কে — নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ বা আসন বণ্টন সংক্রান্ত আইনের বৈধতা নিয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলা যাবে না, আর নির্বাচন সম্পর্কিত বিরোধ নিষ্পত্তি হবে আইনে নির্ধারিত পদ্ধতিতে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে।
এর অর্থ, নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পর তা নিয়ে সাধারণ আদালতে সরাসরি মামলা হয় না — যেতে হয় নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও মাঠপর্যায়
কমিশন নিজে পাঁচজনের বেশি নয়, কিন্তু নির্বাচন পরিচালনা করতে বিশাল জনবল লাগে। সেই কাজ করে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, যার প্রধান একজন সচিব।
মাঠপর্যায়ে কাঠামোটা এরকম:
| স্তর | কর্মকর্তা |
|---|---|
| আঞ্চলিক | আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা |
| জেলা | জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা |
| উপজেলা/থানা | উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা |
| নির্বাচনী এলাকা | রিটার্নিং কর্মকর্তা |
| ভোটকেন্দ্র | প্রিসাইডিং কর্মকর্তা |
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও প্রিসাইডিং কর্মকর্তা — এই দুটি পদ নিয়ে প্রশ্ন আসে। রিটার্নিং কর্মকর্তা একটি নির্বাচনী এলাকার পুরো নির্বাচন পরিচালনা করেন ও ফলাফল ঘোষণা করেন; প্রিসাইডিং কর্মকর্তা একটি ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকেন।
জাতীয় সংসদের আসন ও নির্বাচনী এলাকা
নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ কমিশনের দায়িত্ব (১১৯(১)(গ))। এই কাজকে বলা হয় সীমানা পুনর্নির্ধারণ (delimitation)।
জাতীয় সংসদে সাধারণ আসন ৩০০, আর এর অতিরিক্ত ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন — মোট ৩৫০। সংরক্ষিত আসনে নির্বাচন হয় সরাসরি জনগণের ভোটে নয়, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ভোটে, দলগুলোর আনুপাতিক হারে।
সংখ্যা তিনটি মনে রাখো — ৩০০ সাধারণ, ৫০ সংরক্ষিত, ৩৫০ মোট।
অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সাথে তুলনা
নির্বাচন কমিশন একা নয় — সংবিধান আরও কয়েকটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের কথা বলেছে। পাশাপাশি রাখলে সবগুলোই মনে থাকে:
| প্রতিষ্ঠান | অনুচ্ছেদ | মেয়াদ |
|---|---|---|
| নির্বাচন কমিশন | ১১৮–১২৬ | ৫ বছর |
| মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক | ১২৭–১৩২ | ৫ বছর বা ৬৫ বছর বয়স |
| সরকারি কর্ম কমিশন | ১৩৭–১৪১ | ৫ বছর বা ৬৫ বছর বয়স |
| অ্যাটর্নি-জেনারেল | ৬৪ | রাষ্ট্রপতির সন্তোষানুযায়ী |
| ন্যায়পাল | ৭৭ | আইনের দ্বারা নির্ধারিত |
খেয়াল করো, নির্বাচন কমিশনারের ক্ষেত্রে সংবিধানে বয়সসীমা নেই, কেবল পাঁচ বছর মেয়াদ। অথচ মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও সরকারি কর্ম কমিশনের ক্ষেত্রে "পাঁচ বছর বা ৬৫ বছর বয়স, যেটি আগে ঘটে" — এই পার্থক্যটা প্রশ্নে ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার হয়।
প্রার্থিতা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া
নির্বাচন কমিশন যে ধাপগুলো পরিচালনা করে, সেগুলো ক্রম অনুযায়ী জানা থাকলে প্রক্রিয়াভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর সহজ হয়:
- তফসিল ঘোষণা — কমিশন নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করে
- মনোনয়নপত্র জমা — প্রার্থীরা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেন
- বাছাই — যোগ্যতা ও কাগজপত্র যাচাই হয়
- প্রত্যাহার — নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রার্থিতা তুলে নেওয়া যায়
- প্রতীক বরাদ্দ — কমিশন প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রতীক দেয়
- প্রচারণা — আচরণবিধি মেনে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত
- ভোটগ্রহণ ও গণনা
- ফলাফল ঘোষণা ও গেজেট প্রকাশ
প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা আসে ৬৬ অনুচ্ছেদ থেকে — নাগরিকত্ব, ন্যূনতম ২৫ বছর বয়স, আর অযোগ্যতার তালিকায় না পড়া (অপ্রকৃতিস্থ ঘোষিত নন, দেউলিয়া নন, বিদেশি নাগরিকত্ব নেই, নৈতিক স্খলনজনিত দণ্ডের পর পাঁচ বছর পার হয়েছে)।
আচরণবিধি ও কমিশনের ক্ষমতা
নির্বাচনকালে কমিশন নির্বাচনী আচরণবিধি প্রয়োগ করে। এই বিধি লঙ্ঘন হলে কমিশন প্রার্থিতা বাতিল পর্যন্ত করতে পারে।
১২৬ অনুচ্ছেদের বলেই নির্বাচনকালীন সময়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা কার্যত কমিশনের নির্দেশে চলেন — বদলি, পদায়ন ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে কমিশনের ভূমিকা থাকে। এটি সাংবিধানিক সহায়তার বাধ্যবাধকতা থেকেই আসে।
যেসব ভুল সবচেয়ে বেশি হয়
এক, সদস্য সংখ্যা। সিইসি সহ সর্বোচ্চ পাঁচজন, অর্থাৎ সিইসি ছাড়া অনধিক চারজন। "পাঁচজন কমিশনার" বললে ভুল হয়।
দুই, মেয়াদে বয়সসীমা যোগ করা। নির্বাচন কমিশনারের ক্ষেত্রে সংবিধানে বয়সের কথা নেই — শুধু পাঁচ বছর।
তিন, ভোটার বয়স গুলিয়ে ফেলা। ভোটার ১৮, সংসদ সদস্য ২৫, রাষ্ট্রপতি ৩৫।
চার, সিইসির পরবর্তী চাকরি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার পরে প্রজাতন্ত্রের কর্মে যেতে পারেন না; অন্য কমিশনাররা কেবল সিইসি পদে যেতে পারেন।
পাঁচ, সংসদের আসন সংখ্যা। সাধারণ আসন ৩০০, সংরক্ষিত ৫০, মোট ৩৫০। "৩০০ আসনের সংসদ" বললে সংরক্ষিত আসন বাদ পড়ে।
ছয়, ১২৬ অনুচ্ছেদ ভুলে যাওয়া। এক লাইনের এই অনুচ্ছেদটি — নির্বাহী কর্তৃপক্ষের সহায়তার কর্তব্য — খুব বেশি প্রশ্নে আসে।
পরীক্ষায় যেভাবে প্রশ্ন আসে
- অনুচ্ছেদ শনাক্ত — "নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠার কথা কোন অনুচ্ছেদে?" (উত্তর: ১১৮)
- সংখ্যা — "নির্বাচন কমিশনারের মেয়াদ কত?" (উত্তর: ৫ বছর)
- দায়িত্ব — "নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ করে কে?" (উত্তর: নির্বাচন কমিশন)
- যোগ্যতা — "ভোটার হওয়ার ন্যূনতম বয়স?" (উত্তর: ১৮ বছর)
বিগত বিসিএসে সংবিধান থেকে কোন প্রশ্নগুলো এসেছে দেখতে সংবিধান বিষয়ের প্রশ্নব্যাংকে সব এক জায়গায় সাজানো আছে।
কোথা থেকে শুরু করবে
- ১১৮–১২৬ একসাথে পড়ো — পুরো নির্বাচন অংশ এই নয়টিতেই।
- সংখ্যাগুলো আলাদা লিখে রাখো — ৪ (অনধিক কমিশনার), ৫ বছর, ১৮ বছর, ৯০–৬০ দিন।
- মূল পাঠ পড়ো — সংবিধান থেকে নিজে পড়লে প্রশ্নে উদ্ধৃতি এলে চিনতে পারবে।
- অনুশীলন করো — বাংলাদেশ বিষয়াবলিতে প্র্যাকটিস করলে প্রতিটি উত্তরের সাথে ব্যাখ্যা পাবে।
- অন্য সংস্থাগুলোও পড়ো — বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড নিয়ে লেখাটিও দেখতে পারো, সরকারি সংস্থা নিয়ে প্রশ্ন প্রায় প্রতিটি পরীক্ষায় আসে।
শেষ কথা
নির্বাচন কমিশন অংশটা সংবিধানের সবচেয়ে সহজ অধ্যায়গুলোর একটি — নয়টি অনুচ্ছেদ, হাতেগোনা কয়েকটি সংখ্যা। এক বসাতেই শেষ করা যায়।
মনে রাখার সহজ সূত্র — ১১৮ গঠন, ১১৯ দায়িত্ব, ১২১-১২২ ভোটার তালিকা, ১২৩ সময়, ১২৬ সহায়তা। অনুচ্ছেদ নম্বরের সাথে বিষয়টা জুড়ে রাখলে দুই ধরনের প্রশ্নেরই উত্তর হয়ে যায়।
আর একটা কথা — নির্বাচন কমিশন নিয়ে প্রশ্ন প্রায়ই আসে সাম্প্রতিক ঘটনার সূত্র ধরে। কে বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার, সর্বশেষ কোন নির্বাচন হলো, ভোটার সংখ্যা কত — এসব বদলায়, তাই কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স অংশে চোখ রাখলে সাংবিধানিক তথ্যের সাথে সাম্প্রতিক তথ্যও গোছানো থাকবে।
Ahosan Habib
@ahosanhabib922
অচিনপুরের নির্মাতা। BCS ও চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে লেখেন — সিলেবাস, ব্যাকরণ ও পড়ার কৌশল।