বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট কয়টি বিভাগ নিয়ে গঠিত? বিচারক নিয়োগ ও ক্ষমতা
সুপ্রিম কোর্টের দুই বিভাগ, বিচারক নিয়োগের যোগ্যতা, অবসরের বয়স, রিট এখতিয়ার ও অপসারণ প্রক্রিয়া — সংবিধানের অনুচ্ছেদ ধরে ব্যাখ্যা।
বিচার বিভাগ থেকে যে প্রশ্নগুলো সবচেয়ে বেশি আসে, তার প্রায় সবই সুপ্রিম কোর্ট নিয়ে — কয়টি বিভাগ, বিচারক কে নিয়োগ দেন, অবসরের বয়স কত, রিট কয় প্রকার। সংবিধানের ষষ্ঠ ভাগে, অনুচ্ছেদ ৯৪ থেকে ১১৭-এর মধ্যে এসব বলা আছে।
এই লেখায় সুপ্রিম কোর্টের গঠন, বিচারক নিয়োগ, মেয়াদ, অপসারণ, দুই বিভাগের এখতিয়ার ও রিট — সব অনুচ্ছেদ ধরে সাজানো, সাথে পরীক্ষায় বারবার আসা তথ্যগুলো।
সুপ্রিম কোর্ট কয়টি বিভাগ নিয়ে গঠিত
৯৪(১) অনুচ্ছেদ — "বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট" নামে বাংলাদেশের একটি সর্বোচ্চ আদালত থাকবে, এবং আপীল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ নিয়ে তা গঠিত হবে।
অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্ট একটি প্রতিষ্ঠান, তার ভেতরে দুটি বিভাগ। অনেকে ভুল করে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টকে আলাদা দুই আদালত ভাবেন — তা নয়, হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্টেরই একটি বিভাগ।
৯৪(২) — প্রধান বিচারপতি (যিনি "বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি" নামে অভিহিত হবেন) এবং রাষ্ট্রপতি যত সংখ্যক বিচারক প্রয়োজন মনে করবেন, তাঁদের নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট গঠিত হবে। লক্ষ করো, বিচারকের সংখ্যা সংবিধানে নির্দিষ্ট করা নেই।
৯৪(৩) — প্রধান বিচারপতি ও আপীল বিভাগে নিযুক্ত বিচারকগণ কেবল আপীল বিভাগে, আর অন্যান্য বিচারক কেবল হাইকোর্ট বিভাগে আসন গ্রহণ করবেন।
সংবিধানের মূল পাঠ পড়তে চাইলে সংবিধানের অনুচ্ছেদগুলো বাংলায় সাজানো আছে।
বিচারক নিয়োগ কে দেন
৯৫(১) অনুচ্ছেদ — প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হবেন, আর প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ করে রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারককে নিয়োগ দেবেন।
এই পার্থক্যটা গুরুত্বপূর্ণ — প্রধান বিচারপতি নিয়োগে পরামর্শের কথা নেই, অন্য বিচারক নিয়োগে আছে। আর প্রধান বিচারপতি নিয়োগ সেই দুটি ক্ষেত্রের একটি যেখানে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই কাজ করেন (৪৮(৩) অনুচ্ছেদ)। এ নিয়ে বিস্তারিত আছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কীভাবে হয় লেখাটিতে।
বিচারক হওয়ার যোগ্যতা
৯৫(২) অনুচ্ছেদ — বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে, এবং নিচের যেকোনো একটি শর্ত পূরণ করতে হবে:
| শর্ত | ব্যাখ্যা |
|---|---|
| ক | সুপ্রিম কোর্টে অন্যূন দশ বছর অ্যাডভোকেট থাকা |
| খ | বাংলাদেশের সীমানার মধ্যে অন্যূন দশ বছর কোনো বিচার বিভাগীয় পদে থাকা |
| গ | আইনের দ্বারা নির্ধারিত অন্য কোনো যোগ্যতা থাকা |
১০ বছর সংখ্যাটাই মূল — আইনজীবী হিসেবে হোক বা বিচারক হিসেবে, দশ বছরের অভিজ্ঞতা লাগে।
বিচারকদের অবসরের বয়স কত
৯৬(১) অনুচ্ছেদ — কোনো বিচারক সাতষট্টি বছর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকবেন।
এই ৬৭ সংখ্যাটা অন্য সাংবিধানিক পদের সাথে মিলিয়ে মনে রাখা দরকার:
| পদ | বয়সসীমা |
|---|---|
| সুপ্রিম কোর্টের বিচারক | ৬৭ বছর |
| মহা হিসাব-নিরীক্ষক | ৬৫ বছর (বা ৫ বছর মেয়াদ) |
| সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য | ৬৫ বছর (বা ৫ বছর মেয়াদ) |
সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনা নিয়ে বিস্তারিত আছে মহা হিসাব-নিরীক্ষক কে নিয়োগ দেন লেখাটিতে।
বিচারক অপসারণ কীভাবে হয়
৯৬(২) অনুচ্ছেদ — প্রমাণিত অসদাচরণ বা অসামর্থ্যের কারণে, সংসদের মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতার সমর্থনে গৃহীত প্রস্তাবক্রমে রাষ্ট্রপতির আদেশ ছাড়া কোনো বিচারককে অপসারণ করা যাবে না।
দুটি শব্দ খেয়াল করো — প্রমাণিত অসদাচরণ, আর মোট সদস্য-সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ (উপস্থিত সদস্যের নয়)।
৯৬(৩) — প্রস্তাব সম্পর্কিত পদ্ধতি এবং তদন্ত ও প্রমাণের পদ্ধতি সংসদ আইনের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।
৯৬(৪) — বিচারক রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ করে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে পদত্যাগ করতে পারবেন।
এই কঠিন অপসারণ প্রক্রিয়াই বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ভিত্তি। আর এ কারণেই মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্যদের ক্ষেত্রেও "সুপ্রিম কোর্টের বিচারকের মতো" পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে।
হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতা ও রিট
১০২ অনুচ্ছেদ হাইকোর্ট বিভাগের সবচেয়ে আলোচিত ক্ষমতা দেয় — রিট এখতিয়ার।
১০২(১) অনুযায়ী, কোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আবেদনক্রমে সংবিধানের তৃতীয় ভাগে (মৌলিক অধিকার) অর্পিত অধিকার বলবৎ করার জন্য হাইকোর্ট বিভাগ যেকোনো ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষকে উপযুক্ত নির্দেশ বা আদেশ দিতে পারবেন।
রিট পাঁচ প্রকার, আর এই তালিকা পরীক্ষায় প্রায় নিশ্চিতভাবে আসে:
| রিট | কী করে |
|---|---|
| ম্যান্ডামাস | আইনগত দায়িত্ব পালনের নির্দেশ |
| প্রহিবিশন | নিম্ন আদালতকে কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ |
| সার্টিওরারি | নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত বাতিল |
| কোয়ো ওয়ারেন্টো | কোন অধিকারে পদে আছেন তা জানতে চাওয়া |
| হেবিয়াস কর্পাস | আটক ব্যক্তিকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ |
হেবিয়াস কর্পাস সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞেস করা হয় — এর আক্ষরিক অর্থ "সশরীরে হাজির করো", আর এটি অবৈধ আটকের বিরুদ্ধে প্রধান সুরক্ষা।
শর্ত একটাই — ১০২(২) অনুযায়ী, আইনের দ্বারা অন্য কোনো সমফলপ্রদ বিধান না থাকলেই কেবল হাইকোর্ট এই ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন।
আপীল বিভাগের এখতিয়ার
১০৩(১) অনুচ্ছেদ — হাইকোর্ট বিভাগের রায়, ডিক্রি, আদেশ বা দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীল শুনানি ও নিষ্পত্তির এখতিয়ার আপীল বিভাগের থাকবে।
১০৩(২) — তিনটি ক্ষেত্রে অধিকারবলে আপীল করা যাবে, অর্থাৎ অনুমতি লাগবে না:
- হাইকোর্ট বিভাগ সার্টিফিকেট দেবেন যে মামলায় সংবিধান-ব্যাখ্যার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জড়িত
- হাইকোর্ট বিভাগ মৃত্যুদণ্ড বহাল করেছেন, বা মৃত্যুদণ্ড/যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন
- আদালত অবমাননার জন্য কাউকে দণ্ড দিয়েছেন
সুপ্রিম কোর্টের অন্যান্য ক্ষমতা
১০৬ — উপদেষ্টামূলক এখতিয়ার। আইনের এমন কোনো প্রশ্ন উঠলে যা জনগুরুত্বসম্পন্ন, রাষ্ট্রপতি সেটি আপীল বিভাগের বিবেচনার জন্য পাঠাতে পারবেন, আর আপীল বিভাগ শুনানির পর রাষ্ট্রপতিকে মতামত জানাতে পারবেন। একে বলে অ্যাডভাইজরি জুরিসডিকশন।
১০৮ — কোর্ট অব রেকর্ড। সুপ্রিম কোর্ট একটি "কোর্ট অব রেকর্ড" হবেন, আর অবমাননার জন্য তদন্ত ও দণ্ডাদেশ দেওয়ার ক্ষমতা রাখবেন। "কোর্ট অব রেকর্ড" মানে এর রায় স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত হয় এবং নজির হিসেবে গণ্য হয়।
১০৯ — অধস্তন আদালতের উপর নিয়ন্ত্রণ। হাইকোর্ট বিভাগের অধস্তন সকল আদালত ও ট্রাইব্যুনালের উপর তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ-ক্ষমতা থাকবে।
বিচার বিভাগের কাঠামো
সুপ্রিম কোর্টের নিচে অধস্তন আদালতের স্তর আছে, যা দুই ধারায় ভাগ:
| ধারা | আদালত |
|---|---|
| ফৌজদারি | দায়রা জজ আদালত, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ম্যাজিস্ট্রেট আদালত |
| দেওয়ানি | জেলা জজ আদালত, যুগ্ম জেলা জজ, সহকারী জজ আদালত |
সহকারী জজ পদে নিয়োগ হয় বিচার বিভাগীয় সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে, সরকারি কর্ম কমিশনের মাধ্যমে নয় — এই পার্থক্যটা প্রশ্নে আসে।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
সংবিধান বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা রাখার কথা বলেছে। ২২ অনুচ্ছেদ রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির অংশ হিসেবে বলে — রাষ্ট্র নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ নিশ্চিত করবেন।
বাস্তবে অধস্তন আদালতকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করা হয় ২০০৭ সালে। এর আগে ম্যাজিস্ট্রেটরা প্রশাসন ক্যাডারের অধীন ছিলেন; পৃথকীকরণের পর বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আলাদা হয়ে যান।
দুটি পদ আলাদা করে চেনা দরকার:
| পদ | কাজ | কার অধীন |
|---|---|---|
| বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট | ফৌজদারি মামলার বিচার | বিচার বিভাগ |
| নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট | মোবাইল কোর্ট, আইনশৃঙ্খলা | প্রশাসন |
২০০৭ সালটি ও এই পার্থক্যটি প্রশ্নে নিয়মিত আসে।
আদালত অবমাননা ও নজির
১০৮ অনুচ্ছেদ সুপ্রিম কোর্টকে "কোর্ট অব রেকর্ড" করেছে। এর দুটি অর্থ:
প্রথমত, আদালতের কার্যক্রম ও রায় স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত থাকে এবং সেগুলো ভবিষ্যতে নজির (precedent) হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আপীল বিভাগের ঘোষিত আইন হাইকোর্ট বিভাগ ও সকল অধস্তন আদালতের জন্য মানা বাধ্যতামূলক, আর হাইকোর্ট বিভাগের ঘোষিত আইন অধস্তন আদালতের জন্য।
দ্বিতীয়ত, আদালত অবমাননার জন্য তদন্তের আদেশ ও দণ্ডাদেশ দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। আদালতের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা বা আদেশ অমান্য করা অবমাননার শামিল।
১০৪ অনুচ্ছেদ আপীল বিভাগকে দেয় সম্পূর্ণ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষমতা — বিচারাধীন কোনো মামলায় প্রয়োজনীয় যেকোনো আদেশ দেওয়ার এখতিয়ার। এটি ব্যতিক্রমী ক্ষমতা, যা সাধারণ আইনের সীমার বাইরেও প্রয়োগ করা যায়।
যেসব ভুল সবচেয়ে বেশি হয়
এক, হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টকে আলাদা ভাবা। হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্টেরই একটি বিভাগ।
দুই, বিচারকের সংখ্যা মুখস্থ করা। সংবিধানে সংখ্যা নেই — রাষ্ট্রপতি প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়োগ দেন।
তিন, অবসরের বয়স গুলিয়ে ফেলা। বিচারক ৬৭, সিএজি ও পিএসসি ৬৫।
চার, রিটের সংখ্যা ও নাম। পাঁচটি — ম্যান্ডামাস, প্রহিবিশন, সার্টিওরারি, কোয়ো ওয়ারেন্টো, হেবিয়াস কর্পাস।
পাঁচ, অপসারণের ভোট। দুই-তৃতীয়াংশ লাগে মোট সদস্য-সংখ্যার, উপস্থিতের নয়।
ছয়, উপদেষ্টামূলক মতামত কোন বিভাগ দেয়। আপীল বিভাগ, হাইকোর্ট বিভাগ নয়।
সুপ্রিম কোর্টের আসন ও কার্যক্রম
১০০ অনুচ্ছেদ — সুপ্রিম কোর্টের স্থায়ী আসন রাজধানীতে, তবে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে প্রধান বিচারপতি অন্যত্র হাইকোর্ট বিভাগের অধিবেশন বসাতে পারেন।
১০৭ অনুচ্ছেদ — সুপ্রিম কোর্টের বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা আছে। আদালতের কার্যপদ্ধতি ও কর্মচারীদের নিয়ম কোর্ট নিজেই তৈরি করে, সরকার নয়। এটি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার আরেকটি স্তম্ভ।
১১৬ ও ১১৬ক অনুচ্ছেদ অধস্তন আদালত সম্পর্কিত। ১১৬ক বলছে — বিচারকর্মে নিযুক্ত ব্যক্তিরা ও ম্যাজিস্ট্রেটরা বিচারকার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকবেন। এক লাইনের এই অনুচ্ছেদটি বিচারিক স্বাধীনতার সরাসরি ঘোষণা।
অ্যাটর্নি-জেনারেল ও আইন কর্মকর্তা
সুপ্রিম কোর্টের সাথে যুক্ত আরেকটি সাংবিধানিক পদ অ্যাটর্নি-জেনারেল (৬৪ অনুচ্ছেদ)। তিনি রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা।
| বিষয় | বিধান |
|---|---|
| যোগ্যতা | সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হওয়ার যোগ্য |
| নিয়োগ | রাষ্ট্রপতি |
| মেয়াদ | রাষ্ট্রপতির সন্তোষানুযায়ী |
| বিশেষ অধিকার | বাংলাদেশের সকল আদালতে বক্তব্য পেশ |
খেয়াল করো — অ্যাটর্নি-জেনারেলের কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ নেই, তিনি রাষ্ট্রপতির সন্তোষানুযায়ী পদে থাকেন। বিচারকদের ৬৭ বছরের সুরক্ষার সাথে এর পার্থক্য প্রশ্নে আসে।
পরীক্ষায় যেভাবে প্রশ্ন আসে
- গঠন — "সুপ্রিম কোর্ট কয়টি বিভাগ নিয়ে গঠিত?" (উত্তর: দুটি)
- অনুচ্ছেদ — "সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠার কথা কোন অনুচ্ছেদে?" (উত্তর: ৯৪)
- যোগ্যতা — "সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হতে কত বছরের অভিজ্ঞতা লাগে?" (উত্তর: ১০ বছর)
- বয়স — "বিচারকদের অবসরের বয়স কত?" (উত্তর: ৬৭ বছর)
- রিট — "কোন রিটের অর্থ সশরীরে হাজির করা?" (উত্তর: হেবিয়াস কর্পাস)
বিগত বিসিএসে সংবিধান থেকে আসা প্রশ্ন দেখতে সংবিধান বিষয়ের প্রশ্নব্যাংকে সব সাজানো আছে।
কোথা থেকে শুরু করবে
- ৯৪–৯৬ আগে পড়ো — গঠন, নিয়োগ, মেয়াদ; এই তিনটিতেই বেশিরভাগ প্রশ্ন।
- রিটের পাঁচটি নাম ও অর্থ মুখস্থ করো — সবচেয়ে নিশ্চিত প্রশ্ন।
- সংখ্যা আলাদা লিখে রাখো — ২ বিভাগ, ১০ বছর, ৬৭ বছর, দুই-তৃতীয়াংশ।
- মূল পাঠ পড়ো — সংবিধান থেকে নিজে পড়লে প্রশ্নে উদ্ধৃতি চিনতে পারবে।
- অনুশীলন করো — বাংলাদেশ বিষয়াবলিতে প্র্যাকটিস করলে সাথে সাথে ব্যাখ্যা পাবে।
শেষ কথা
বিচার বিভাগ অংশটা দেখতে জটিল লাগলেও পরীক্ষায় যা আসে তা সীমিত — গঠন, নিয়োগ, বয়স, রিট। চারটি জায়গা ধরলেই এই অধ্যায় থেকে নম্বর নিশ্চিত।
মনে রাখার সূত্র — ৯৪ গঠন, ৯৫ নিয়োগ, ৯৬ মেয়াদ ও অপসারণ, ১০২ রিট, ১০৩ আপীল, ১০৬ উপদেশ।
Ahosan Habib
@ahosanhabib922
অচিনপুরের নির্মাতা। BCS ও চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে লেখেন — সিলেবাস, ব্যাকরণ ও পড়ার কৌশল।