ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের কাজ কী কী?

২ আগস্ট, ২০২৬১১ মিনিট পড়া

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর কোন বিভাগের অধীন, আগুনের ত্রিভুজ, আগুনের শ্রেণি, কোন আগুনে কোন অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র — পরীক্ষার প্রস্তুতির নোট।

শহরের কোনো ভবনে আগুন লেগেছে — এই খবরটা ছড়ানোর কয়েক মিনিটের মধ্যেই সাইরেন বাজিয়ে যে গাড়িগুলো ছুটে যায়, তাদের পেছনে দাঁড়িয়ে আছে একটি পুরো সরকারি প্রতিষ্ঠান। তার নাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর।

তুমি যদি বিসিএস বা ব্যাংক-নিয়োগের প্রস্তুতি নাও, তাহলে এই অধিদপ্তরটি তোমার জন্য দুই দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। এক, বাংলাদেশ বিষয়াবলির প্রতিষ্ঠান-অংশে এটি নিয়মিত আসে। দুই, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিজ্ঞানের একটি অংশ — আগুন নেভানোর পদার্থবিজ্ঞান — যা সাধারণ বিজ্ঞানের প্রশ্নেও আলাদা করে আসে। দুই জায়গা থেকে নম্বর তোলার সুযোগ।

ফায়ার সার্ভিস কোন মন্ত্রণালয় ও কোন বিভাগের অধীন

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন। আর মন্ত্রণালয়ের ভেতরে এটি পড়ে সুরক্ষা সেবা বিভাগে

অনেকে ধরে নেয় আগুন-দুর্যোগের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে এটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন হবে। সেটি ভুল। দুর্যোগে এই অধিদপ্তর কাজ করে ঠিকই, কিন্তু প্রশাসনিকভাবে এটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সংস্থা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগ — যেখানে সবচেয়ে বেশি গুলিয়ে যায়

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দুটি বিভাগে বিভক্ত, আর কোন সংস্থা কোন বিভাগে — এটিই এই অধ্যায়ের সবচেয়ে বড় ফাঁদ।

বিভাগ অধীনস্থ সংস্থা
জননিরাপত্তা বিভাগ বাংলাদেশ পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, কোস্ট গার্ড
সুরক্ষা সেবা বিভাগ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, কারা অধিদপ্তর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর

সহজ সূত্র — জননিরাপত্তা বিভাগে আছে সেই সংস্থাগুলো, যাদের কাজ আইনশৃঙ্খলা ও সীমান্ত-উপকূল পাহারা। সুরক্ষা সেবা বিভাগে আছে সেবা, ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণধর্মী সংস্থাগুলো।

এই টেবিলের চার-চারটি সারি পরীক্ষায় আলাদা আলাদা প্রশ্ন হয়ে আসতে পারে। বাংলাদেশ বিষয়াবলির প্রশ্নব্যাংক থেকে ধরে ধরে মিলিয়ে নাও।

নামের দুই অংশ — ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স

প্রতিষ্ঠানটির নামের দুটি অংশ, দুটির মানেও আলাদা।

ফায়ার সার্ভিস অংশটি দৈনন্দিন কাজের — আগুন নেভানো, উদ্ধার, অ্যাম্বুলেন্স সেবা।

সিভিল ডিফেন্স অংশটি বৃহত্তর — বেসামরিক জনগণকে বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষার প্রস্তুতি। যুদ্ধ, বড় দুর্ঘটনা বা বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগে সাধারণ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া, আশ্রয় ব্যবস্থা, সচেতনতা ও স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ — এসব সিভিল ডিফেন্সের ভাবনার ভেতরে পড়ে।

তাই নামটা যতটা "আগুন" নিয়ে, ততটাই "প্রস্তুতি" নিয়ে। প্রশ্নে যদি জিজ্ঞেস করা হয় সিভিল ডিফেন্স মানে কী, উত্তর হবে বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা ও দুর্যোগ-প্রস্তুতি।

অধিদপ্তরের প্রধান কাজগুলো

  • অগ্নিনির্বাপণ — যেকোনো ধরনের অগ্নিকাণ্ডে সাড়া দেওয়া ও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা।
  • উদ্ধার কার্যক্রম — ভবনধস, সড়ক দুর্ঘটনা, পানিতে ডুবে যাওয়া, লিফটে আটকা পড়াসহ নানা পরিস্থিতিতে উদ্ধার।
  • অ্যাম্বুলেন্স সেবা — আহত ও অসুস্থ মানুষকে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া।
  • ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা ছাড়পত্র — নির্মাণাধীন ও বিদ্যমান ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা করে ছাড়পত্র দেওয়া।
  • দুর্যোগে উদ্ধার তৎপরতা — ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প বা বন্যার পর অনুসন্ধান ও উদ্ধারে অংশ নেওয়া।
  • প্রশিক্ষণ ও মহড়া — স্কুল, কারখানা, অফিস ও আবাসিক এলাকায় অগ্নিনিরাপত্তা মহড়া ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম।
  • স্বেচ্ছাসেবক গড়ে তোলা — সিভিল ডিফেন্সের অংশ হিসেবে প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক দল তৈরি।

লক্ষ করো, তালিকায় "আইনশৃঙ্খলা রক্ষা" নেই, "অপরাধ তদন্ত" নেই। ওগুলো বাংলাদেশ পুলিশের কাজ। ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার ও সুরক্ষার প্রতিষ্ঠান, বলপ্রয়োগের নয়।

জরুরি সেবা ৯৯৯ কীভাবে যুক্ত

বাংলাদেশে জাতীয় জরুরি সেবার নম্বর ৯৯৯। এই এক নম্বরে ফোন করলেই পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স — তিন ধরনের সাহায্যই চাওয়া যায়।

জরুরি সেবা ৯৯৯ আসলে একটি সমন্বয়কারী প্ল্যাটফর্ম। কল আসার পর প্রয়োজন অনুযায়ী সেটি সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে পাঠানো হয়। আগুন বা উদ্ধারের ঘটনা হলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের নিকটতম স্টেশনে বার্তা যায়।

এই তিন সংখ্যা মনে রাখা শুধু পরীক্ষার জন্য নয় — বাস্তব জীবনেও কাজে লাগে।

আগুনের ত্রিভুজ — অগ্নিনির্বাপণের মূল বিজ্ঞান

আগুন জ্বলতে তিনটি জিনিস একসঙ্গে লাগে। এই তিনটিকে একসঙ্গে বলা হয় আগুনের ত্রিভুজ

উপাদান ব্যাখ্যা
জ্বালানি যা পুড়বে — কাঠ, কাগজ, কাপড়, তেল, গ্যাস
অক্সিজেন দহনের জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাস, বাতাস থেকে আসে
তাপ দহন শুরু ও চালু রাখার জন্য প্রয়োজনীয় উত্তাপ

অগ্নিনির্বাপণের পুরো বিজ্ঞানটা এক বাক্যে বলা যায় — এই ত্রিভুজের যেকোনো একটি বাহু সরিয়ে দাও, আগুন নিভে যাবে

সেই সরানোর তিনটি পদ্ধতি:

পদ্ধতি যা করা হয় উদাহরণ
কুলিং তাপ সরানো পানি ছিটিয়ে তাপমাত্রা নামানো
স্মাদারিং অক্সিজেন আটকানো ভেজা কম্বল বা ফোম দিয়ে ঢেকে দেওয়া
স্টারভেশন জ্বালানি সরানো গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ করা

রান্নাঘরে তেলে আগুন লাগলে ভেজা কাপড় চাপা দেওয়ার পরামর্শ কেন দেওয়া হয়? কারণ ওটি স্মাদারিং — অক্সিজেন বন্ধ করে দেওয়া। পানি ঢাললে উল্টো বিপদ, কারণ গরম তেলে পানি পড়লে তা ছিটকে আগুন ছড়ায়।

আগুনের শ্রেণিবিভাগ

সব আগুন এক নয়, তাই সব আগুনে একই যন্ত্র চলে না। জ্বালানির ধরন অনুযায়ী আগুনকে শ্রেণিতে ভাগ করা হয়।

শ্রেণি জ্বালানির ধরন উদাহরণ
শ্রেণি এ কঠিন দাহ্য পদার্থ কাঠ, কাগজ, কাপড়, প্লাস্টিক
শ্রেণি বি দাহ্য তরল পেট্রোল, ডিজেল, রং, দ্রাবক
শ্রেণি সি দাহ্য গ্যাস এলপিজি, প্রাকৃতিক গ্যাস
শ্রেণি ডি দাহ্য ধাতু ম্যাগনেসিয়াম, সোডিয়াম
বৈদ্যুতিক আগুন বিদ্যুৎ-সংযুক্ত সরঞ্জাম তার, সুইচবোর্ড, যন্ত্রপাতি
রান্নার তেলের আগুন ভোজ্যতেল ও চর্বি ডুবো তেলে ভাজার পাত্র

এই শ্রেণিবিভাগ মনে রাখলে পরের টেবিলটা এমনিতেই বুঝে যাবে।

অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের ধরন ও কোন আগুনে কোনটি

অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র প্রধানত চার ধরনের। এদের ভেতরের উপাদান আলাদা, কাজের নীতিও আলাদা।

যন্ত্র কীভাবে কাজ করে যেসব আগুনে চলে যেখানে চলবে না
পানি তাপ শুষে নেয় (কুলিং) শ্রেণি এ বৈদ্যুতিক ও তেলের আগুন
ফোম পৃষ্ঠ ঢেকে অক্সিজেন আটকায় শ্রেণি এ ও বি বৈদ্যুতিক আগুন
কার্বন ডাই-অক্সাইড অক্সিজেন সরিয়ে দেয়, অবশিষ্ট রাখে না বৈদ্যুতিক ও শ্রেণি বি খোলা জায়গায় কার্যকারিতা কম
ড্রাই পাউডার রাসায়নিক বিক্রিয়া থামায় ও ঢেকে দেয় শ্রেণি এ, বি, সি ও বৈদ্যুতিক সংবেদনশীল যন্ত্রপাতিতে ক্ষতি করতে পারে

দুটি নিয়ম মাথায় গেঁথে নাও।

এক — বৈদ্যুতিক আগুনে কখনো পানি নয়। পানি বিদ্যুৎ পরিবাহী, তাই পানি দিলে নেভানোর বদলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। সেখানে কার্বন ডাই-অক্সাইড বা ড্রাই পাউডার ব্যবহার করতে হয়।

দুই — কম্পিউটার সার্ভার বা দামি ইলেকট্রনিক যন্ত্রের ঘরে কার্বন ডাই-অক্সাইড যন্ত্র রাখা হয়, কারণ এটি কোনো অবশিষ্ট রেখে যায় না।

এই দুটি নিয়ম থেকেই সাধারণ বিজ্ঞানের এমসিকিউ তৈরি হয়। অনুশীলন অংশে গিয়ে এ ধরনের প্রশ্ন খুঁজে দেখো।

ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা ও ছাড়পত্র

বড় ভবন, কারখানা, হাসপাতাল বা বাণিজ্যিক স্থাপনা তৈরির সময় অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখতেই হয়। সেই ব্যবস্থা পরীক্ষা করে ছাড়পত্র দেয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর।

যেসব বিষয় দেখা হয়:

  • জরুরি বহির্গমন পথ ও সিঁড়ি আছে কি না, এবং তা খোলা ও ব্যবহারযোগ্য কি না।
  • পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র আছে কি না এবং সেগুলো সচল কি না।
  • ফায়ার অ্যালার্ম ও ধোঁয়া শনাক্তকারী যন্ত্র বসানো আছে কি না।
  • ভবনে ফায়ার হাইড্রেন্ট ও পানির উৎস আছে কি না।
  • দমকল গাড়ি ঢোকার মতো পথ ভবনের চারপাশে আছে কি না।

বড় অগ্নিকাণ্ডের পর আলোচনায় বারবার এই ছাড়পত্রের প্রসঙ্গ আসে — কারণ অনেক ভবনে কাগজে ব্যবস্থা থাকে, বাস্তবে থাকে না।

তাই ছাড়পত্র দেওয়াই শেষ কথা নয়। পরিদর্শন, পুনঃপরীক্ষা এবং নিয়ম না মানলে ব্যবস্থা নেওয়া — এই ধারাবাহিকতাটাই আসল সুরক্ষা তৈরি করে। ঘন বসতির শহরে সরু গলি, বহুতল ভবন আর অনিয়ন্ত্রিত বৈদ্যুতিক সংযোগ মিলে ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়, তাই নগর-পরিকল্পনার আলোচনায় অগ্নিনিরাপত্তা এখন আলাদা অধ্যায়।

দুর্যোগে উদ্ধার ও অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়

বড় দুর্যোগে ফায়ার সার্ভিস একা কাজ করে না। ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড় বা বড় ভবনধসে একাধিক সংস্থা একসঙ্গে নামে।

পরিস্থিতি ফায়ার সার্ভিসের ভূমিকা সঙ্গে যারা থাকে
ভবনধস অনুসন্ধান ও উদ্ধার সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবক
ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস উদ্ধার ও আশ্রয়ে সরানো বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, স্থানীয় প্রশাসন
সড়ক দুর্ঘটনা আটকে পড়া ব্যক্তিকে বের করা, অ্যাম্বুলেন্স পুলিশ, হাসপাতাল
শিল্পকারখানায় আগুন অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার কারখানা কর্তৃপক্ষ, প্রশাসন

এই সমন্বয়ের ধারণাটা লিখিত উত্তরে টানলে উত্তর অনেক বেশি পূর্ণ দেখায়।

দরকারি পরিভাষা

পরিভাষা ব্যাখ্যা
ফায়ার হাইড্রেন্ট রাস্তায় বা ভবনে বসানো পানির সংযোগমুখ
ফায়ার এক্সিট আগুন লাগলে বের হওয়ার নির্ধারিত পথ
ফায়ার ড্রিল আগুন লাগলে কী করতে হবে তার মহড়া
ফ্ল্যাশ পয়েন্ট যে তাপমাত্রায় কোনো তরল দাহ্য বাষ্প ছাড়ে
দহনবিন্দু যে তাপমাত্রায় পদার্থ জ্বলতে শুরু করে
স্মোক ডিটেক্টর ধোঁয়া শনাক্ত করে সতর্কসংকেত দেওয়ার যন্ত্র

যেসব ভুল সবচেয়ে বেশি হয়

ভুল ১ — অধিদপ্তরটিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন ভাবা। এটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন।

ভুল ২ — জননিরাপত্তা বিভাগে ফেলে দেওয়া। এটি সুরক্ষা সেবা বিভাগের অধীন, পুলিশ ও বিজিবির সঙ্গে এক ঘরে নয়।

ভুল ৩ — আগুনের ত্রিভুজের উপাদান ভুল লেখা। উপাদান তিনটি — জ্বালানি, অক্সিজেন ও তাপ। "ধোঁয়া" বা "বাতাস" নয়।

ভুল ৪ — বৈদ্যুতিক আগুনে পানির যন্ত্র বেছে নেওয়া। সেখানে কার্বন ডাই-অক্সাইড বা ড্রাই পাউডার।

ভুল ৫ — সিভিল ডিফেন্সকে শুধু আগুনের কাজ ভাবা। সিভিল ডিফেন্স মানে বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা ও দুর্যোগ-প্রস্তুতি, যা আগুনের চেয়ে বড় পরিসর।

ভুল ৬ — স্টেশনের সংখ্যা বা জনবল মুখস্থ করা। এসব বদলায়, তাই সংখ্যার বদলে কাঠামো ও নীতিটা শেখো। সর্বশেষ তথ্য দরকার হলে সাম্প্রতিক বিষয়াবলি দেখো।

পরীক্ষায় যেভাবে প্রশ্ন আসে

  • ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর কোন মন্ত্রণালয়ের অধীন? — স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
  • কোন বিভাগের অধীন? — সুরক্ষা সেবা বিভাগ।
  • জাতীয় জরুরি সেবার নম্বর কত? — ৯৯৯।
  • আগুনের ত্রিভুজের উপাদান কী কী? — জ্বালানি, অক্সিজেন ও তাপ।
  • বৈদ্যুতিক আগুনে কোন অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার করা হয়? — কার্বন ডাই-অক্সাইড বা ড্রাই পাউডার।
  • দাহ্য তরলের আগুনকে কোন শ্রেণিতে ফেলা হয়? — শ্রেণি বি।
  • অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ করে আগুন নেভানোর পদ্ধতিকে কী বলে? — স্মাদারিং।

লিখিত পরীক্ষায় আসে ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন — "নগর এলাকায় অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিরোধে করণীয়" বা "দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ভূমিকা"। এমন উত্তরে ছাড়পত্র, মহড়া, স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ আর আন্তঃসংস্থা সমন্বয় — এই চারটি বিষয় থাকলে উত্তর পূর্ণ হয়।

নিয়মিত ঝালাই করে নিতে বাংলাদেশ বিষয়াবলির অনুশীলন করো, আর সময় ধরে মক পরীক্ষা দিয়ে দেখো কতটা ধরে রাখতে পারছ।

এক নজরে মনে রাখার তথ্য

প্রশ্ন উত্তর
মন্ত্রণালয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
বিভাগ সুরক্ষা সেবা বিভাগ
মূল কাজ অগ্নিনির্বাপণ, উদ্ধার, অ্যাম্বুলেন্স
প্রশাসনিক কাজ ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা ছাড়পত্র
জরুরি নম্বর ৯৯৯
আগুনের ত্রিভুজ জ্বালানি, অক্সিজেন, তাপ
নেভানোর পদ্ধতি কুলিং, স্মাদারিং, স্টারভেশন
যন্ত্রের ধরন পানি, ফোম, কার্বন ডাই-অক্সাইড, ড্রাই পাউডার
সিভিল ডিফেন্স মানে বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা ও দুর্যোগ-প্রস্তুতি

শেষ কথাটা সহজ — এই অধিদপ্তরকে মনে রাখো "সাড়া দেওয়ার প্রতিষ্ঠান" হিসেবে। বিপদ ঘটার পর যারা প্রথম পৌঁছায়, তারাই ফায়ার সার্ভিস; আর বিপদ ঘটার আগে যারা প্রস্তুতি নেওয়ায়, তারাই সিভিল ডিফেন্স। এক প্রতিষ্ঠান, দুই ভূমিকা।

প্রস্তুতি গোছাতে বিষয়ভিত্তিক প্রশ্নব্যাংক ঘেঁটে দেখো।

Ah

Ahosan Habib

@ahosanhabib922

অচিনপুরের নির্মাতা। BCS ও চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে লেখেন — সিলেবাস, ব্যাকরণ ও পড়ার কৌশল।

বাংলাদেশ বিষয়াবলিবিসিএসপ্রতিষ্ঠানদুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

আরও পড়ো