পাসপোর্ট অধিদপ্তর কোন মন্ত্রণালয়ের অধীন? পাসপোর্ট কয় ধরনের?
পাসপোর্ট অধিদপ্তর কোন বিভাগের অধীন, পাসপোর্ট কত ধরনের, এমআরপি ও ই-পাসপোর্ট কবে চালু হয় — বিসিএস ও চাকরির পরীক্ষার জন্য গোছানো নোট।
বাংলাদেশে পাসপোর্ট দেয় যে প্রতিষ্ঠান, তার পুরো নাম বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর — ইংরেজিতে Department of Immigration and Passports, সংক্ষেপে DIP। নামের প্রথম শব্দটাই অনেকে বাদ দিয়ে ফেলে, অথচ পরীক্ষায় ঠিক ওই "বহিরাগমন" শব্দটা ধরেই প্রশ্ন হয়।
আর দ্বিতীয় ফাঁদটা আরও নিষ্ঠুর: এই অধিদপ্তর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ঠিকই, কিন্তু কোন বিভাগের অধীন? পুলিশ যেখানে থাকে, পাসপোর্ট সেখানে থাকে না। নিচে ধাপে ধাপে সবটা সাজানো হলো, প্রতিটা অংশের শেষে বলে দেওয়া আছে ঠিক কোন তথ্যটা প্রশ্নে আসে।
বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর কী ধরনের প্রতিষ্ঠান
এটি সরকারের একটি অধিদপ্তর (Directorate/Department) — অর্থাৎ মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা একটি নির্বাহী দপ্তর। এটি কোনো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয়, স্বায়ত্তশাসিত কমিশনও নয়। মন্ত্রণালয় নীতি ঠিক করে, আর অধিদপ্তর সেই নীতি মাঠে বাস্তবায়ন করে।
নামের দুইটা অংশ, দুইটাই আলাদা কাজ বোঝায়:
- বহিরাগমন (Immigration) — কে দেশে ঢুকছে, কে দেশ ছাড়ছে, সেটির নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি।
- পাসপোর্ট — বাংলাদেশি নাগরিকদের ভ্রমণ দলিল ইস্যু ও নবায়ন।
তাই "পাসপোর্ট অফিস" বললেই কাজটা অর্ধেক বলা হয়। প্রতিষ্ঠানটি একই সঙ্গে বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন ডেস্কও চালায়।
মনে রাখার সূত্র: পাসপোর্ট বাইরে যাওয়ার অনুমতিপত্র নয়, পরিচয়পত্র। পাসপোর্ট বলে তুমি কোন দেশের নাগরিক; আর কোনো দেশে ঢোকার অনুমতি দেয় সেই দেশের ভিসা। এই দুইটা আলাদা জিনিস — এটাই এই টপিকের ভিত্তি।
পাসপোর্ট অধিদপ্তর কোন মন্ত্রণালয়ের অধীন
উত্তর হলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কিন্তু প্রশ্ন যদি এক ধাপ গভীরে যায়, তখন উত্তর হবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দুইটি বিভাগে ভাগ করা:
| বিভাগ | অধীনে যা যা পড়ে |
|---|---|
| জননিরাপত্তা বিভাগ | পুলিশ, র্যাব, বর্ডার গার্ড, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী |
| সুরক্ষা সেবা বিভাগ | বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, কারা অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর |
খেয়াল করো, দুইটা বিভাগই একই মন্ত্রণালয়ের ভেতরে। তাই "স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়" উত্তরটা ভুল নয়, কিন্তু অসম্পূর্ণ। প্রশ্নে যদি "কোন বিভাগের অধীন" লেখা থাকে, তখন সুরক্ষা সেবা বিভাগ না লিখলে নম্বর কাটা যাবে।
মন্ত্রণালয় ও বিভাগের এই কাঠামোটা বাংলাদেশ বিষয়াবলির অনেক প্রশ্নের ভিত্তি। পুরো অধ্যায়টা ঝালিয়ে নিতে বাংলাদেশ বিষয়াবলির প্রশ্নব্যাংক দেখে নিতে পারো।
অধিদপ্তরের প্রধান কাজ কী কী
কাজগুলো চারটি ভাগে মনে রাখলে সহজ হয়:
১. পাসপোর্ট ইস্যু ও নবায়ন — নতুন পাসপোর্ট দেওয়া, মেয়াদ শেষ হলে নবায়ন করা, হারানো পাসপোর্টের বিপরীতে নতুন দলিল দেওয়া।
২. ভিসা ইস্যু — এখানে ভুল হয় সবচেয়ে বেশি। এই অধিদপ্তর বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশিদের ভিসা ও ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর কাজ করে। বাংলাদেশিদের বিদেশ যাওয়ার ভিসা দেয় সংশ্লিষ্ট বিদেশি দূতাবাস, এই অধিদপ্তর নয়।
৩. ইমিগ্রেশন নিয়ন্ত্রণ — বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে যাত্রীদের আগমন-বহির্গমন যাচাই, পাসপোর্টে সিল দেওয়া, নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ব্যক্তিদের যাত্রা ঠেকানো।
৪. নো-ভিসা-রিকোয়ার্ড সিল — বিদেশি পাসপোর্টধারী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের জন্য বিশেষ সিল, যেটির কথা আলাদা করে নিচে বলা আছে।
বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন ডেস্ক আর এয়ারলাইন্সের চেক-ইন কাউন্টার এক জিনিস নয় — একটা সরকারি নিয়ন্ত্রণ, আরেকটা পরিবহন সেবা। এই পার্থক্যটা পরিষ্কার করতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স নিয়ে লেখাটি পড়ে নিলে ছবিটা সম্পূর্ণ হবে।
পাসপোর্ট কয় ধরনের ও কোনটির মলাট কী রঙের
বাংলাদেশে পাসপোর্ট তিন ধরনের। রঙ দিয়ে মনে রাখাই সবচেয়ে সহজ, কারণ প্রশ্ন প্রায়ই রঙ ধরেই আসে।
| ধরন | মলাটের রং | কার জন্য |
|---|---|---|
| সাধারণ পাসপোর্ট | সবুজ | সাধারণ নাগরিক |
| অফিসিয়াল পাসপোর্ট | নীল | সরকারি কাজে বিদেশগামী কর্মকর্তা-কর্মচারী |
| কূটনৈতিক পাসপোর্ট | লাল | কূটনীতিক ও উচ্চপদস্থ ব্যক্তি |
মনে রাখার কৌশল: সবুজ সবার, কারণ সবুজ আমাদের পতাকার রং আর সাধারণ নাগরিকই সংখ্যাগরিষ্ঠ। নীল অফিসের, কারণ সরকারি কাজের সঙ্গে নীলের সম্পর্ক। লাল সবচেয়ে ওপরে, কারণ লাল মানে সর্বোচ্চ মর্যাদা — কূটনৈতিক পাসপোর্ট।
প্রশ্ন উল্টো করেও আসে: "লাল মলাটের পাসপোর্ট কারা পান?" কিংবা "অফিসিয়াল পাসপোর্টের রং কী?" তাই ছকটা দুই দিক থেকেই মুখস্থ রাখো।
হাতে লেখা থেকে ই-পাসপোর্ট: প্রযুক্তির তিন ধাপ
বাংলাদেশের পাসপোর্ট তিনটি প্রজন্ম পার করেছে। এই ধারাবাহিকতা আর সালগুলো প্রায় প্রতি বছরই কোনো না কোনো পরীক্ষায় আসে।
| ধাপ | ধরন | চালুর সাল |
|---|---|---|
| প্রথম | হাতে লেখা পাসপোর্ট | পুরোনো ব্যবস্থা |
| দ্বিতীয় | মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) | ২০১০ |
| তৃতীয় | ই-পাসপোর্ট | ২০২০ |
মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট বা এমআরপি চালু হয় ২০১০ সালে। এতে পাতার নিচে যন্ত্রে পড়া যায় এমন সাংকেতিক লাইন থাকে, ফলে ইমিগ্রেশনে দ্রুত যাচাই সম্ভব হয়।
ই-পাসপোর্ট চালু হয় ২০২০ সালে। এখানে সবচেয়ে বড় তথ্যটি হলো — বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ, যে ই-পাসপোর্ট চালু করে। এই এক লাইনটাই সবচেয়ে বেশি প্রশ্নে আসে, তাই আলাদা করে দাগিয়ে রাখো।
দুইটা সালের মাঝে ব্যবধান ঠিক এক দশক — ২০১০ থেকে ২০২০। এভাবে ধরলে আর গুলিয়ে যাবে না।
ই-পাসপোর্ট ও ই-গেট কীভাবে কাজ করে
ই-পাসপোর্টের ভেতরে থাকে একটি ইলেকট্রনিক চিপ। সেই চিপে সংরক্ষিত থাকে পাসপোর্টধারীর ছবি, আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশের মতো বায়োমেট্রিক তথ্য। ফলে দলিলটি নকল করা কঠিন, আর পরিচয় যাচাই হয় যন্ত্রেই।
এর সঙ্গে যুক্ত ব্যবস্থাটির নাম ই-গেট। বিমানবন্দরে ই-গেটে পাসপোর্ট রেখে দাঁড়ালে যন্ত্র নিজেই চিপ পড়ে, মুখ বা আঙুলের ছাপ মিলিয়ে দেখে, তারপর দরজা খুলে দেয় — কর্মকর্তার সামনে লাইনে দাঁড়ানোর দরকার কমে যায়।
পার্থক্যটা এক লাইনে ধরো:
- এমআরপি — তথ্য ছাপা থাকে পাতায়, যন্ত্র সেটি পড়ে।
- ই-পাসপোর্ট — তথ্য থাকে চিপে, যন্ত্র সেটি পড়ে এবং বায়োমেট্রিক মিলিয়ে দেখে।
প্রশ্নে "ই-পাসপোর্টে কী থাকে?" জিজ্ঞেস করলে উত্তর চিপ; "ই-গেট কী?" জিজ্ঞেস করলে উত্তর স্বয়ংক্রিয় ইমিগ্রেশন যাচাইয়ের ফটক।
ভিসা কত ধরনের হয়
ভিসা মানে কোনো দেশে প্রবেশের অনুমতি। উদ্দেশ্য অনুযায়ী ভিসার ধরন আলাদা হয়। বাংলাদেশে বিদেশিদের জন্য যেসব ধরন সাধারণত দেখা যায়:
| ভিসার ধরন | উদ্দেশ্য |
|---|---|
| ট্যুরিস্ট ভিসা | ভ্রমণ ও বেড়ানো |
| বিজনেস ভিসা | ব্যবসা ও বাণিজ্যিক কাজ |
| ওয়ার্ক বা এমপ্লয়মেন্ট ভিসা | চাকরি বা কর্মসংস্থান |
| স্টুডেন্ট ভিসা | পড়াশোনা |
| মেডিকেল ভিসা | চিকিৎসা |
| ট্রানজিট ভিসা | তৃতীয় দেশে যাওয়ার পথে স্বল্প যাত্রাবিরতি |
| অন-অ্যারাইভাল ভিসা | নির্দিষ্ট শর্তে বন্দরে পৌঁছে নেওয়া ভিসা |
আরেকটি শব্দ প্রায়ই আসে — ভিসা-মুক্ত ভ্রমণ, অর্থাৎ আগে থেকে ভিসা না নিয়েই কোনো দেশে যাওয়ার সুযোগ। বাংলাদেশি পাসপোর্ট দিয়ে কতটি দেশে ভিসা ছাড়া যাওয়া যায় বা বিশ্বে পাসপোর্টটির অবস্থান কত — এই সংখ্যাগুলো প্রতি বছর বদলায়, তাই মুখস্থ পুরোনো সংখ্যা লিখতে যেয়ো না। পরীক্ষার আগে হালনাগাদ তথ্য দেখে নাও সাম্প্রতিক সাধারণ জ্ঞান অংশ থেকে। পাসপোর্টের ফি আর ডেলিভারির সময়ও একই কারণে পরিবর্তনশীল — সেগুলোও ওখান থেকেই মিলিয়ে নেবে।
নো-ভিসা-রিকোয়ার্ড সিল কী
এটি বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের একটি বিশেষ সেবা, যা নিয়ে প্রশ্নে ভালোই ধাঁধা তৈরি করা যায়।
যাঁরা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কিন্তু এখন বিদেশি পাসপোর্টধারী, তাঁদের বাংলাদেশে আসতে সাধারণভাবে ভিসা লাগত। এই সমস্যার সমাধান হিসেবে তাঁদের বিদেশি পাসপোর্টে দেওয়া হয় নো-ভিসা-রিকোয়ার্ড (No Visa Required) সিল। এই সিল থাকলে আলাদা ভিসা ছাড়াই বাংলাদেশে আসা-যাওয়া করা যায়।
সহজ করে বললে — এটি ভিসা নয়, বরং ভিসা লাগবে না এই মর্মে দেওয়া একটি স্বীকৃতি। প্রশ্নে "নো-ভিসা-রিকোয়ার্ড সিল কারা পান?" এলে উত্তর: বিদেশি পাসপোর্টধারী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।
নাগরিকত্ব সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে
পাসপোর্ট দেওয়া হয় নাগরিককে। তাই নাগরিকত্বের সাংবিধানিক ভিত্তিটা জানা থাকতেই হবে।
| বিষয় | সংবিধানের অবস্থান |
|---|---|
| নাগরিকত্ব | অনুচ্ছেদ ৬ |
| মৌলিক অধিকার | তৃতীয় ভাগ, অনুচ্ছেদ ২৬ থেকে ৪৭ক |
| চলাফেরার স্বাধীনতা ও দেশত্যাগের অধিকার | অনুচ্ছেদ ৩৬ |
অনুচ্ছেদ ৬ বলে, বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইনের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে এবং নাগরিকরা বাংলাদেশি বলে পরিচিত হবেন। এই "বাংলাদেশি" শব্দটি নিয়েই বহু প্রশ্ন হয়েছে, কারণ জাতি হিসেবে "বাঙালি" আর নাগরিকত্ব হিসেবে "বাংলাদেশি" — দুইটা এক নয়।
সংখ্যাটা মনে রাখার কৌশল: নাগরিকত্ব ৬, চলাফেরা ৩৬ — শেষে দুইটাতেই ছয়। এভাবে জোড়া বেঁধে রাখলে হলে গিয়ে আর হাতড়াতে হবে না।
সংবিধানের অনুচ্ছেদগুলো একসঙ্গে ঝালিয়ে নিতে সংবিধান অংশটি দেখে নাও, আর অনুশীলনের জন্য আছে সংবিধানের প্রশ্নব্যাংক।
অনুচ্ছেদ ৩৬ ও দেশত্যাগের অধিকার
পাসপোর্টের সঙ্গে সংবিধানের সবচেয়ে সরাসরি সংযোগ এখানেই। অনুচ্ছেদ ৩৬ মৌলিক অধিকার হিসেবে নিশ্চিত করে — প্রত্যেক নাগরিকের চলাফেরার স্বাধীনতা, বাংলাদেশের সর্বত্র অবাধ গমনাগমন, বসবাস এবং বাংলাদেশ ত্যাগ ও পুনঃপ্রবেশের অধিকার আছে।
তবে এই অধিকার নিরঙ্কুশ নয়। জনস্বার্থে আইনের দ্বারা যুক্তিসংগত বিধিনিষেধ আরোপ করা যায়। এ কারণেই আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলে বা নির্দিষ্ট আইনি বাধা থাকলে কারও বিদেশযাত্রা আটকে দেওয়া যায়।
পরীক্ষায় প্রশ্নটা ঘুরিয়ে আসে এভাবে: "দেশত্যাগের অধিকার সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে?" — উত্তর ৩৬। কিংবা "পাসপোর্টের সঙ্গে সম্পর্কিত মৌলিক অধিকার কোনটি?" — উত্তরও একই।
পুলিশ ভেরিফিকেশন কে করে
পাসপোর্টের আবেদনের পর ঠিকানা ও পরিচয় যাচাইয়ের জন্য যে তদন্ত হয়, সেটি সাধারণত করে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (SB)। এখানে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারটি হলো — কাজটি করে পুলিশ, কিন্তু পাসপোর্ট ইস্যু করে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর। দুইটা আলাদা প্রতিষ্ঠান, আলাদা বিভাগের অধীনে, অথচ একই প্রক্রিয়ায় যুক্ত।
স্পেশাল ব্রাঞ্চ বাংলাদেশ পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিট, যার কাজ গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই। পুলিশের অন্যান্য ইউনিট আর তাদের কাজের ভাগাভাগি বুঝতে বাংলাদেশ পুলিশ নিয়ে লেখাটি পড়ে নাও — সেখানে জননিরাপত্তা বিভাগের কাঠামোটাও পরিষ্কার হয়ে যাবে, আর তখন পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অবস্থানটা আরও ভালো বোঝা যাবে।
ভুলের ফাঁদ: সুরক্ষা সেবা বিভাগ নাকি জননিরাপত্তা বিভাগ
এই সেকশনটা মনোযোগ দিয়ে পড়ো, কারণ এখান থেকেই সবচেয়ে বেশি নম্বর হারায় পরীক্ষার্থীরা।
দুইটা প্রতিষ্ঠানই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন, কিন্তু বিভাগ আলাদা:
- বাংলাদেশ পুলিশ → জননিরাপত্তা বিভাগ
- বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর → সুরক্ষা সেবা বিভাগ
মনে রাখার সূত্র: পুলিশের কাজ জনগণের নিরাপত্তা দেওয়া, তাই জননিরাপত্তা। আর পাসপোর্ট-কারাগার-ফায়ার সার্ভিস হলো নাগরিককে দেওয়া সেবা, তাই সুরক্ষা সেবা। শব্দের ভেতরেই উত্তর লুকিয়ে আছে।
আরও কয়েকটি চেনা ফাঁদ একসঙ্গে:
| যেটা অনেকে ভাবে | আসল তথ্য |
|---|---|
| পাসপোর্ট অধিদপ্তর জননিরাপত্তা বিভাগের অধীন | না, সুরক্ষা সেবা বিভাগের অধীন |
| প্রতিষ্ঠানের নাম শুধু "পাসপোর্ট অধিদপ্তর" | পুরো নাম বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর |
| এই অধিদপ্তর বাংলাদেশিদের বিদেশ যাওয়ার ভিসা দেয় | না, বিদেশিদের বাংলাদেশে অবস্থানের ভিসা দেয় |
| পাসপোর্ট চার ধরনের | তিন ধরনের |
| কূটনৈতিক পাসপোর্টের রং নীল | লাল; নীল হলো অফিসিয়াল পাসপোর্ট |
| এমআরপি চালু হয় ২০২০ সালে | এমআরপি ২০১০, ই-পাসপোর্ট ২০২০ |
| পুলিশ ভেরিফিকেশন করে থানার সাধারণ পুলিশ | সাধারণত করে স্পেশাল ব্রাঞ্চ |
| ভিসা ও পাসপোর্ট একই জিনিস | পাসপোর্ট পরিচয়পত্র, ভিসা প্রবেশের অনুমতি |
এই আটটা লাইন নির্ভুল থাকলে এই টপিক থেকে তোমার নম্বর হারানোর সম্ভাবনা প্রায় শূন্য।
পরীক্ষায় যেভাবে প্রশ্ন আসে
সাধারণত পাঁচ ধরনে প্রশ্ন হয়:
১. অধীনতা-ভিত্তিক — "বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর কোন বিভাগের অধীন?" → সুরক্ষা সেবা বিভাগ। ২. ধরন-ভিত্তিক — "বাংলাদেশে পাসপোর্ট কত প্রকার?" → তিন প্রকার। ৩. রং-ভিত্তিক — "কূটনৈতিক পাসপোর্টের মলাটের রং কী?" → লাল। ৪. সাল-ভিত্তিক — "বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট চালু হয় কত সালে?" → ২০২০। ৫. সংযোগ-ভিত্তিক — "দেশত্যাগের অধিকার সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে?" → ৩৬।
একটু ঘুরিয়ে করা নমুনা দুইটি:
- "দক্ষিণ এশিয়ার কোন দেশ প্রথম ই-পাসপোর্ট চালু করে?" — উত্তর বাংলাদেশ।
- "নিচের কোনটি সুরক্ষা সেবা বিভাগের অধীন নয়?" — অপশনে কারা অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস, পাসপোর্ট অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ পুলিশ থাকলে উত্তর শেষেরটি।
সময় ধরে এই ধরনের প্রশ্ন অনুশীলন করতে মক টেস্ট দাও, বিষয়ভিত্তিক ঝালাইয়ের জন্য আছে বাংলাদেশ বিষয়াবলির অনুশীলন, আর সব বিষয় একসঙ্গে চাইলে অনুশীলন অংশ ও পুরো প্রশ্নব্যাংক ঘুরে দেখো।
এক নজরে মনে রাখার তথ্য
| প্রশ্ন | উত্তর |
|---|---|
| পুরো নাম | বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর |
| ইংরেজি নাম | Department of Immigration and Passports (DIP) |
| মন্ত্রণালয় | স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় |
| বিভাগ | সুরক্ষা সেবা বিভাগ |
| পুলিশ কোন বিভাগে | জননিরাপত্তা বিভাগ |
| প্রধান কাজ | পাসপোর্ট ইস্যু ও নবায়ন, ভিসা ইস্যু, ইমিগ্রেশন নিয়ন্ত্রণ |
| পাসপোর্টের ধরন | তিনটি — সাধারণ, অফিসিয়াল, কূটনৈতিক |
| সাধারণ পাসপোর্ট | সবুজ মলাট |
| অফিসিয়াল পাসপোর্ট | নীল মলাট |
| কূটনৈতিক পাসপোর্ট | লাল মলাট |
| এমআরপি চালু | ২০১০ সালে |
| ই-পাসপোর্ট চালু | ২০২০ সালে |
| দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম ই-পাসপোর্ট | বাংলাদেশ |
| ই-পাসপোর্টে থাকে | ইলেকট্রনিক চিপ ও বায়োমেট্রিক তথ্য |
| স্বয়ংক্রিয় ইমিগ্রেশন ফটক | ই-গেট |
| বিশেষ সিল | নো-ভিসা-রিকোয়ার্ড |
| পুলিশ ভেরিফিকেশন | স্পেশাল ব্রাঞ্চ |
| নাগরিকত্ব | সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬ |
| মৌলিক অধিকার | অনুচ্ছেদ ২৬ থেকে ৪৭ক |
| দেশত্যাগের অধিকার | অনুচ্ছেদ ৩৬ |
শেষ পরামর্শটা ছোট: এই টেবিলটা একবার নিজের হাতে লিখে ফেলো, তারপর টেবিল না দেখে আবার লেখো। যে ঘরগুলো ফাঁকা থেকে যাবে, ঠিক সেগুলোই পরীক্ষার হলে তোমাকে ভোগাত।
Ahosan Habib
@ahosanhabib922
অচিনপুরের নির্মাতা। BCS ও চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে লেখেন — সিলেবাস, ব্যাকরণ ও পড়ার কৌশল।