মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাজ ও অধীন সংস্থা কোনগুলো?

২ আগস্ট, ২০২৬১৩ মিনিট পড়া

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব, জামুকার ভূমিকা, বীরত্বসূচক খেতাব, মুজিবনগর সরকার ও জাতীয় স্মৃতিসৌধ নিয়ে পরীক্ষামুখী গোছানো আলোচনা।

বাংলাদেশ বিষয়াবলির যে অধ্যায় থেকে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন আসে, সেটি মুক্তিযুদ্ধ। আর এই অধ্যায়ের প্রাতিষ্ঠানিক দিকটি সামলায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

এখানে তোমার সুবিধা হলো, তথ্যগুলো স্থির। সেক্টর কয়টি ছিল, খেতাব কয় ধরনের, স্মৃতিসৌধের স্থপতি কে — এসব বদলায় না। একবার ভালো করে মুখস্থ করলে সারা জীবন কাজে লাগে।

তাই এই লেখায় দুটি জিনিস একসঙ্গে পাবে — মন্ত্রণালয়ের কাঠামো ও কাজ, এবং মুক্তিযুদ্ধ-সংক্রান্ত সেই তথ্যগুলো যা পরীক্ষায় বারবার ঘুরে আসে।

এই মন্ত্রণালয়ের মূল দায়িত্ব

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাজকে চারটি ভাগে সাজানো যায়।

প্রথমত, মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ। ভাতা, চিকিৎসা সহায়তা, আবাসন ও অন্যান্য সুবিধা-সংক্রান্ত কর্মসূচি পরিচালনা করা।

দ্বিতীয়ত, মুক্তিযোদ্ধার তালিকা সংরক্ষণ ও যাচাই। কে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা, সেই তালিকা হালনাগাদ ও নির্ভুল রাখা এই মন্ত্রণালয়ের সবচেয়ে সংবেদনশীল দায়িত্ব।

তৃতীয়ত, স্মৃতিসৌধ, স্মারক ও বধ্যভূমি সংরক্ষণ এবং সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ।

চতুর্থত, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ ও প্রচার — দলিল সংগ্রহ, প্রকাশনা এবং প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা।

প্রশাসনিক কাঠামো

প্রশাসনিক নিয়ম অন্য সব মন্ত্রণালয়ের মতোই। রাজনৈতিক প্রধান মন্ত্রী, প্রশাসনিক প্রধান সচিব, দাপ্তরিক অবস্থান বাংলাদেশ সচিবালয়।

স্তর ভূমিকা
মন্ত্রণালয় নীতি প্রণয়ন, বাজেট ও সামগ্রিক তদারকি
কাউন্সিল মুক্তিযোদ্ধা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ও যাচাই
জাদুঘর ও স্মারক ইতিহাস সংরক্ষণ ও প্রদর্শন
মাঠপর্যায়ের কার্যালয় ভাতা ও সেবা বিতরণের ব্যবস্থাপনা

মন্ত্রণালয় নীতি করে, অধীন সংস্থা তা বাস্তবায়ন করে — এই সাধারণ সূত্রটি এখানেও খাটে।

অধীন দপ্তর ও সংস্থা

সংস্থা সংক্ষেপ প্রধান কাজ
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল জামুকা মুক্তিযোদ্ধার তালিকা যাচাই, সনদ ও সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম মুক্তিযুদ্ধের নিদর্শন সংরক্ষণ ও প্রদর্শন
স্মৃতিসৌধ ও স্মারক ব্যবস্থাপনা জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও বধ্যভূমির রক্ষণাবেক্ষণ

জামুকার পুরো নাম মনে রাখো — জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল। সংক্ষেপ ও পূর্ণরূপ দুটোই প্রশ্নে আসে।

জামুকা কী করে

জামুকা এই মন্ত্রণালয়ের সবচেয়ে আলোচিত সংস্থা। এর কাজ মূলত যাচাই ও সিদ্ধান্তমূলক।

কে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন, কোন আবেদন গ্রহণযোগ্য, তালিকায় কার নাম থাকবে বা বাদ যাবে — এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত এই কাউন্সিলের মাধ্যমেই আসে।

এখানে একটি পার্থক্য ধরো। মন্ত্রণালয় নীতি ও বাজেট দেখে, আর জামুকা নির্দিষ্টভাবে মুক্তিযোদ্ধা-সংক্রান্ত যাচাই ও সিদ্ধান্তের কাজ করে। প্রশ্নে "কোন সংস্থা মুক্তিযোদ্ধার তালিকা যাচাই করে" এলে উত্তর জামুকা, মন্ত্রণালয় নয়।

মুক্তিযুদ্ধের সময়কাল ও সেক্টর

এবার নিরাপদ ঐতিহাসিক তথ্যের অংশ। এগুলো সরাসরি নম্বর।

বিষয় তথ্য
মুক্তিযুদ্ধ শুরু ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ
মুক্তিযুদ্ধ শেষ ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর
মোট সেক্টর ১১টি

সেক্টরের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন প্রায় প্রতিটি নিয়োগ পরীক্ষায় আসে। ১১টি — এটি নিয়ে দ্বিধা রাখা যাবে না।

সময়কাল মনে রাখার সহজ উপায় — ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস দিয়ে শুরু, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস দিয়ে শেষ। দুই প্রান্তে দুটি জাতীয় দিবস।

সেক্টর নিয়ে একটি বাড়তি তথ্য আলাদা করে দাগিয়ে রাখো — ১০ নম্বর সেক্টর ছিল নৌ-কমান্ডোদের, এবং এই সেক্টরের নির্দিষ্ট কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিলেন না। বাকি সেক্টরগুলোর নির্দিষ্ট কমান্ডার থাকলেও ১০ নম্বর ছিল ব্যতিক্রম। প্রশ্নে "কোন সেক্টরের নির্দিষ্ট কমান্ডার ছিল না" জানতে চাইলে উত্তর ১০ নম্বর সেক্টর।

তিনটি ব্রিগেড ফোর্স

সেক্টরভিত্তিক কাঠামোর পাশাপাশি নিয়মিত বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে গঠিত হয় তিনটি ব্রিগেড ফোর্স। তিনটি নামই প্রশ্নে আসে, তাই একসঙ্গে মনে রাখো।

ব্রিগেড ফোর্স পরিচয়
জেড ফোর্স মুক্তিযুদ্ধকালে গঠিত প্রথম ব্রিগেড আকারের বাহিনী
এস ফোর্স নিয়মিত বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে গঠিত ব্রিগেড ফোর্স
কে ফোর্স নিয়মিত বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে গঠিত ব্রিগেড ফোর্স

মনে রাখার সহজ কৌশল — জেড, এস, কে — তিনটি ইংরেজি অক্ষর ধরে একসঙ্গে মুখস্থ করো। প্রশ্নে সাধারণত জানতে চাওয়া হয় ব্রিগেড ফোর্স কয়টি ছিল, আর নামগুলো কী কী। উত্তর — তিনটি, এবং জেড ফোর্স, এস ফোর্স ও কে ফোর্স।

সেক্টর আর ব্রিগেড ফোর্স দুটি আলাদা ধারণা। সেক্টর হলো ভৌগোলিক ভাগ, আর ব্রিগেড ফোর্স হলো সংগঠিত সামরিক ইউনিট। এই পার্থক্যটি গুলিয়ে ফেললে দুই ধরনের প্রশ্নেই ভুল হয়।

ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ

মুক্তিযুদ্ধ অধ্যায়ের সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত অ-সামরিক তথ্যগুলোর একটি এই ভাষণ।

বিষয় তথ্য
ভাষণের দিন ৭ মার্চ
তৎকালীন স্থানের নাম রেসকোর্স ময়দান
বর্তমান নাম সোহরাওয়ার্দী উদ্যান
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ইউনেস্কোর মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত

স্থানের নাম নিয়ে ফাঁদ তৈরি হয় বেশি। ভাষণটি হয়েছিল রেসকোর্স ময়দানে, যা এখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নামে পরিচিত। দুটি নামই এক জায়গার — একটি তৎকালীন, অন্যটি বর্তমান।

মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড পরিভাষাটিও আলাদা করে মনে রাখো। এটি ইউনেস্কোর একটি নথিভুক্তি কর্মসূচি, যেখানে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য ঐতিহ্য সংরক্ষিত হয়। বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকার সঙ্গে এটি এক নয় — বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান-সংক্রান্ত, আর মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড দলিল-সংক্রান্ত। এই পার্থক্যটিই প্রশ্নে বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য রাষ্ট্রীয় সেবা

মন্ত্রণালয়ের কল্যাণমূলক কাজগুলো কী কী, তা লিখিত পরীক্ষা ও ভাইভায় জিজ্ঞেস করা হয়। ধরনগুলো টেবিলে সাজিয়ে নাও।

সেবার ধরন কী থাকে
সম্মানী ভাতা স্বীকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নিয়মিত ভাতা
আবাসন বীর নিবাসসহ আবাসন সহায়তা কর্মসূচি
চিকিৎসা চিকিৎসা সহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ
সনদ ও পরিচয়পত্র যাচাই শেষে সনদ ও পরিচয়পত্র প্রদান
স্মৃতি সংরক্ষণ স্মৃতিসৌধ, বধ্যভূমি ও স্মারক রক্ষণাবেক্ষণ
ইতিহাস সংরক্ষণ দলিল সংগ্রহ, প্রকাশনা ও প্রদর্শনী

এখানে দায়িত্ব বণ্টনটি খেয়াল করো। তালিকা যাচাই ও স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত জামুকার, আর ভাতা, আবাসন ও অন্যান্য সেবা পরিচালনার সামগ্রিক দায়িত্ব মন্ত্রণালয়ের। প্রশ্নে কোন শব্দটি আছে — "যাচাই" না "সেবা" — সেটি দেখেই উত্তর বেছে নাও।

ভাতার পরিমাণ বা সুবিধার হার সময়ে সময়ে বদলায়, তাই কোনো অঙ্ক মুখস্থ করতে যেও না। সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের জন্য সাম্প্রতিক বিষয়াবলি অংশে চোখ রাখো।

মুক্তিযুদ্ধের সংক্ষিপ্ত সময়রেখা

তারিখগুলো আলাদা আলাদা মুখস্থ করার চেয়ে একটি ক্রমে সাজিয়ে নিলে মনে থাকে বেশি।

তারিখ ঘটনা
৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণ
২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস, মুক্তিযুদ্ধের সূচনা
১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের শপথ
১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস
১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস, মুক্তিযুদ্ধের সমাপ্তি

এই পাঁচটি তারিখ ক্রমানুসারে মনে রাখলে মুক্তিযুদ্ধের পুরো কাঠামো মাথায় গেঁথে যায়। মার্চে সূচনা, এপ্রিলে সরকার গঠন, ডিসেম্বরে সমাপ্তি — এই তিন ধাপই যথেষ্ট।

মুজিবনগর সরকার

মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল। শপথ অনুষ্ঠান হয় মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায়, যা পরে মুজিবনগর নামে পরিচিত হয়।

বিষয় তথ্য
গঠনের তারিখ ১৭ এপ্রিল ১৯৭১
স্থান মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা
পরবর্তী নাম মুজিবনগর

এই একটি টেবিল থেকেই একাধিক প্রশ্ন হতে পারে — তারিখ, জেলা, পুরোনো নাম, নতুন নাম। চারটিই আলাদা করে মনে রাখো।

মুজিবনগর সরকারের গুরুত্ব হলো, এটিই মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার — যার অধীনে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়। রাষ্ট্রগঠনের ধারাবাহিকতা বুঝতে সংবিধান অংশটিও মিলিয়ে পড়ো।

বীরত্বসূচক খেতাব

বীরত্বসূচক খেতাব চারটি। ক্রম ও সংখ্যাসহ মনে রাখো।

খেতাব অবস্থান বিশেষ তথ্য
বীরশ্রেষ্ঠ সর্বোচ্চ ৭ জন
বীরউত্তম দ্বিতীয়
বীরবিক্রম তৃতীয়
বীরপ্রতীক চতুর্থ

বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন — এই সংখ্যাটি সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞেস করা হয়। বাকি তিনটি খেতাবের ক্রম নিয়েও প্রশ্ন আসে, তাই উপরের ক্রমটি সাজিয়ে মুখস্থ করো।

মনে রাখার কৌশল — শ্রেষ্ঠ সবার উপরে, তারপর উত্তম, তারপর বিক্রম, শেষে প্রতীক।

জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও স্থপতি

বিষয় তথ্য
জাতীয় স্মৃতিসৌধের অবস্থান সাভার
স্থপতি সৈয়দ মাইনুল হোসেন

স্থপতির নামটি প্রশ্নে খুব আসে, আর অনেকে গুলিয়ে ফেলে। সৈয়দ মাইনুল হোসেন — নামটি আলাদা করে দাগিয়ে রাখো।

স্মৃতিসৌধ, বধ্যভূমি ও স্মারক সংরক্ষণের দায়িত্ব যেহেতু মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের, তাই এই তথ্যগুলো এই অধ্যায়ের সঙ্গেই পড়া সবচেয়ে কার্যকর।

গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দিবস

দিবস তারিখ
স্বাধীনতা দিবস ২৬ মার্চ
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ১৪ ডিসেম্বর
বিজয় দিবস ১৬ ডিসেম্বর

ডিসেম্বরের দুটি দিবস পাশাপাশি — ১৪ ও ১৬। এই দুটি গুলিয়ে ফেলা সবচেয়ে সাধারণ ভুল। ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস।

যেসব ভুল সবচেয়ে বেশি হয়

ভুল ধারণা সঠিক তথ্য
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ১৬ ডিসেম্বর ১৪ ডিসেম্বর
বিজয় দিবস ১৪ ডিসেম্বর ১৬ ডিসেম্বর
সেক্টর ছিল ১২টি ১১টি
বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব পেয়েছেন ১১ জন ৭ জন
খেতাবের ক্রমে বীরবিক্রম দ্বিতীয় দ্বিতীয় বীরউত্তম
মুজিবনগর সরকার গঠিত ২৬ মার্চ ১৭ এপ্রিল ১৯৭১
স্মৃতিসৌধ ঢাকায় সাভারে
মুক্তিযোদ্ধার তালিকা যাচাই মন্ত্রণালয় নিজে করে করে জামুকা
ব্রিগেড ফোর্স ছিল চারটি তিনটি — জেড, এস ও কে ফোর্স
১০ নম্বর সেক্টরের নির্দিষ্ট কমান্ডার ছিলেন ছিলেন না, এটি ছিল নৌ-কমান্ডো সেক্টর
৭ মার্চের ভাষণ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নামের জায়গায় তৎকালীন নাম রেসকোর্স ময়দান
৭ মার্চের ভাষণ বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টারে

সেক্টরের সংখ্যা নিয়ে ভুলটি বিশেষভাবে খেয়াল করো। ১১ সংখ্যাটি অনেক জায়গায় আসে বলে প্রার্থীরা সংখ্যাগুলো এলোমেলো করে ফেলে।

পড়া চালিয়ে যাও

এই অধ্যায়টি পড়ার সবচেয়ে ভালো কৌশল হলো তারিখ, সংখ্যা ও নাম আলাদা তিনটি তালিকায় ভাগ করে ফেলা। তারপর প্রতিদিন অল্প সময়ে সেই তিনটি তালিকা চোখ বুলিয়ে যাওয়া।

অন্য মন্ত্রণালয়ের কাঠামো মিলিয়ে পড়লে অধীন সংস্থা মনে রাখা আরও সহজ হয়। দেখে নাও কৃষি মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় নিয়ে লেখাগুলো।

সামগ্রিক প্রস্তুতি সাজাতে ব্যাংক ও চাকরির প্রস্তুতি অংশে যাও এবং নিয়মিত অনুশীলন করো। এই অধ্যায়ের তথ্য স্থির বলেই এখান থেকে নম্বর হারানো সবচেয়ে বড় ক্ষতি।

পরীক্ষায় যেভাবে প্রশ্ন আসে

প্রথম ধরন — সরাসরি সংখ্যা ও তারিখ। সেক্টর কয়টি, বীরশ্রেষ্ঠ কতজন, মুজিবনগর সরকার কবে গঠিত, বিজয় দিবস কবে। এগুলো মুখস্থ থাকলেই নম্বর।

দ্বিতীয় ধরন — নাম ও স্থান। জাতীয় স্মৃতিসৌধের স্থপতি কে, বৈদ্যনাথতলা কোন জেলায়, স্মৃতিসৌধ কোথায় অবস্থিত।

তৃতীয় ধরন — প্রাতিষ্ঠানিক প্রশ্ন। জামুকার পূর্ণরূপ কী, এটি কোন মন্ত্রণালয়ের অধীন, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা-সংক্রান্ত দায়িত্ব কার।

চতুর্থ ধরন — ব্যাখ্যামূলক। মুজিবনগর সরকারের গুরুত্ব, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণে রাষ্ট্রের ভূমিকা — এগুলো লিখিত পরীক্ষা ও ভাইভায় আসে।

নমুনা প্রশ্ন কয়েকটি একসঙ্গে দেখে নাও।

প্রশ্ন উত্তর
মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর ছিল কয়টি? ১১টি
কোন সেক্টর ছিল নৌ-কমান্ডোদের? ১০ নম্বর
ব্রিগেড ফোর্স কয়টি ও কী কী? তিনটি — জেড, এস, কে ফোর্স
৭ মার্চের ভাষণ কোথায় হয়েছিল? রেসকোর্স ময়দান, বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান
ভাষণটি ইউনেস্কোর কোন তালিকায়? মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড
জাতীয় স্মৃতিসৌধের স্থপতি কে? সৈয়দ মাইনুল হোসেন
মুজিবনগর সরকার কবে গঠিত হয়? ১৭ এপ্রিল ১৯৭১
জামুকার পূর্ণরূপ কী? জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল

চর্চা করতে বাংলাদেশ বিষয়াবলি অংশ ধরে এগোও, বাংলাদেশ বিষয়াবলি অনুশীলন অংশে প্রশ্ন সমাধান করো এবং মক টেস্ট দিয়ে নিজেকে যাচাই করো।

এক নজরে মনে রাখার তথ্য

বিষয় মনে রাখার কথা
রাজনৈতিক প্রধান মন্ত্রী
প্রশাসনিক প্রধান সচিব
দাপ্তরিক অবস্থান বাংলাদেশ সচিবালয়
প্রধান অধীন সংস্থা জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল বা জামুকা
মুক্তিযুদ্ধ শুরু ২৬ মার্চ ১৯৭১
মুক্তিযুদ্ধ শেষ ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১
সেক্টর সংখ্যা ১১টি
নৌ-কমান্ডো সেক্টর ১০ নম্বর, নির্দিষ্ট কমান্ডারবিহীন
ব্রিগেড ফোর্স তিনটি — জেড, এস, কে ফোর্স
ঐতিহাসিক ভাষণের দিন ৭ মার্চ
ভাষণের স্থান রেসকোর্স ময়দান, বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান
ইউনেস্কো স্বীকৃতি মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড
মুজিবনগর সরকার গঠন ১৭ এপ্রিল ১৯৭১
শপথের স্থান মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা
খেতাব সংখ্যা চারটি
সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ, ৭ জন
খেতাবের ক্রম বীরশ্রেষ্ঠ, বীরউত্তম, বীরবিক্রম, বীরপ্রতীক
জাতীয় স্মৃতিসৌধ সাভার
স্থপতি সৈয়দ মাইনুল হোসেন
স্বাধীনতা দিবস ২৬ মার্চ
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ১৪ ডিসেম্বর
বিজয় দিবস ১৬ ডিসেম্বর

মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা, ভাতার পরিমাণ বা তালিকা-সংক্রান্ত সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন এলে সেগুলো এখান থেকে নয়, সাম্প্রতিক বিষয়াবলি অংশ থেকে হালনাগাদ করে নাও। এসব তথ্য সময়ের সঙ্গে বদলায়, কিন্তু উপরের টেবিলের ঐতিহাসিক তথ্যগুলো স্থির। স্থির তথ্য থেকে নম্বর হারানোই সবচেয়ে বড় ক্ষতি — তাই এই টেবিলটি নিয়মিত চোখ বুলিয়ে যাও।

Ah

Ahosan Habib

@ahosanhabib922

অচিনপুরের নির্মাতা। BCS ও চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে লেখেন — সিলেবাস, ব্যাকরণ ও পড়ার কৌশল।

মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রণালয়বিসিএসবাংলাদেশ বিষয়াবলি

আরও পড়ো