পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় কী কাজ করে?

২ আগস্ট, ২০২৬১৩ মিনিট পড়া

পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন অধিদপ্তরের কাজ, পরিবেশ ছাড়পত্র, ইআইএ, রামসার সাইট, সুন্দরবন এবং জলবায়ু আলোচনার মূল ধারণা পরীক্ষামুখীভাবে সাজানো।

নামটি লম্বা, আর কাজের পরিধিও লম্বা। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় একদিকে কারখানার ছাড়পত্র দেয়, আরেক দিকে সুন্দরবনের বাঘ রক্ষার কথা ভাবে, আবার আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের অবস্থানও তুলে ধরে।

পরীক্ষার্থী হিসেবে তোমার জন্য এই অধ্যায়টি দ্বিগুণ লাভজনক। কারণ এখান থেকে বাংলাদেশ বিষয়াবলিতেও প্রশ্ন আসে, আবার ভূগোল ও পরিবেশ অংশেও আসে। একবার পড়লে দুই জায়গায় কাজে লাগে।

নিচে কাঠামো, অধীন সংস্থা, মূল ধারণা আর প্রচলিত ভুলগুলো সাজিয়ে দিচ্ছি।

এই মন্ত্রণালয়ের মূল দায়িত্ব

কাজগুলোকে তিন ভাগে ভাবো — পরিবেশ, বন এবং জলবায়ু।

পরিবেশের দিকে আছে দূষণ নিয়ন্ত্রণ, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ছাড়পত্র দেওয়া, পরিবেশগত মান নির্ধারণ এবং পরিবেশ আইন প্রয়োগ।

বনের দিকে আছে বনভূমি সংরক্ষণ, বনায়ন কর্মসূচি, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, সংরক্ষিত এলাকা ও অভয়ারণ্য ব্যবস্থাপনা এবং বনজ সম্পদের টেকসই ব্যবহার।

জলবায়ুর দিকে আছে আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় অংশগ্রহণ, অভিযোজন ও প্রশমন কর্মসূচি এবং জলবায়ু-সংক্রান্ত তহবিল ব্যবস্থাপনা।

প্রশাসনিক কাঠামো

চেনা নিয়মটিই এখানেও। রাজনৈতিক প্রধান মন্ত্রী, প্রশাসনিক প্রধান সচিব, দাপ্তরিক ঠিকানা বাংলাদেশ সচিবালয়।

স্তর ভূমিকা
মন্ত্রণালয় নীতি, আইন, আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিত্ব
অধিদপ্তর মাঠপর্যায়ে আইন প্রয়োগ ও ব্যবস্থাপনা
গবেষণা প্রতিষ্ঠান কারিগরি গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়ন
ট্রাস্ট নির্দিষ্ট তহবিল থেকে প্রকল্প অর্থায়ন

মন্ত্রণালয় নীতি বানায়, অধিদপ্তর সেটি মাঠে প্রয়োগ করে — এই সূত্রটি ধরে রাখলে প্রশ্ন যত ঘোরানোই হোক, তুমি বুঝে ফেলবে কার নাম বসবে।

অধীন দপ্তর ও সংস্থা

মূল টেবিলটি এখানে। ছোট তালিকা, কিন্তু প্রশ্ন আসে বেশি।

সংস্থা ধরন প্রধান কাজ
পরিবেশ অধিদপ্তর অধিদপ্তর দূষণ নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশ ছাড়পত্র, পরিবেশ আইন প্রয়োগ
বন অধিদপ্তর অধিদপ্তর বন ব্যবস্থাপনা, বনায়ন, বন্যপ্রাণী ও সংরক্ষিত এলাকা
বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট গবেষণা প্রতিষ্ঠান বনজ সম্পদ ও বনায়ন প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা
জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ট্রাস্ট জলবায়ু-সংক্রান্ত প্রকল্পে অর্থায়ন

এক লাইনে ধরো — একজন দূষণ ঠেকায়, একজন বন দেখে, একজন গবেষণা করে, একজন টাকা জোগায়।

পরিবেশ অধিদপ্তর ও পরিবেশ ছাড়পত্র

পরিবেশ অধিদপ্তরের সবচেয়ে পরিচিত কাজ পরিবেশ ছাড়পত্র দেওয়া। কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা প্রকল্প চালু করতে হলে আগে দেখাতে হয় যে সেটি পরিবেশের জন্য গ্রহণযোগ্য মাত্রার মধ্যে থাকবে।

এই বিবেচনার জন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিবেশগত ঝুঁকি অনুযায়ী চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়।

শ্রেণি ঝুঁকির মাত্রা ধারণা
সবুজ সবচেয়ে কম পরিবেশে প্রভাব নগণ্য
হলুদ মাঝারি কিছু শর্তসাপেক্ষ
কমলা বেশি কড়া শর্ত ও নিয়মিত তদারকি
লাল সর্বোচ্চ সবচেয়ে কঠোর প্রক্রিয়া, ইআইএ প্রয়োজন

ক্রমটি মনে রাখো — সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল। ট্রাফিক সিগন্যালের মতো ভাবলে সহজ হয়, সবুজে ঝামেলা কম, লালে সবচেয়ে বেশি।

এই অধিদপ্তরের বিস্তারিত কাজ পড়তে দেখো পরিবেশ অধিদপ্তর নিয়ে আলাদা লেখাটি।

ইআইএ ও ইটিপি — দুটি জরুরি সংক্ষেপ

ইআইএ মানে পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ। কোনো প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাতাস, পানি, মাটি, জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় জনজীবনের ওপর কী প্রভাব পড়বে, তা আগেই বিশ্লেষণ করে দেখাই ইআইএ।

ইটিপি মানে বর্জ্য পরিশোধনাগার। কারখানার তরল বর্জ্য সরাসরি নদী-খালে না ফেলে আগে পরিশোধন করার ব্যবস্থা।

সংক্ষেপ পূর্ণ ধারণা কখন লাগে
ইআইএ পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ প্রকল্প শুরুর আগে বিশ্লেষণ
ইটিপি বর্জ্য পরিশোধনাগার কারখানা চালু থাকা অবস্থায়

পার্থক্যটি সময়ের। ইআইএ হয় আগে, কাগজে-কলমে বিশ্লেষণ হিসেবে। ইটিপি থাকে পরে, বাস্তব যন্ত্র হিসেবে। এই পার্থক্য প্রশ্নে ধরানো হয়।

বন অধিদপ্তর ও সুন্দরবন

বন অধিদপ্তরের হাতে দেশের সংরক্ষিত বন, জাতীয় উদ্যান, অভয়ারণ্য ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের দায়িত্ব। সামাজিক বনায়ন, উপকূলীয় বনায়ন ও বন্যপ্রাণী অপরাধ দমনও এর কাজ।

সুন্দরবন এই মন্ত্রণালয়ের সবচেয়ে আলোচিত সম্পদ। এটি বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন এবং একই সঙ্গে ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য।

বিষয় তথ্য
সুন্দরবনের পরিচয় বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য
রামসার সাইট সুন্দরবন এবং টাঙ্গুয়ার হাওর

রামসার সাইট মানে আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি হিসেবে স্বীকৃত এলাকা। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সুন্দরবন ও টাঙ্গুয়ার হাওর — এই দুটি নাম মনে রাখো, কারণ প্রশ্নে সরাসরি আসে।

বন অধিদপ্তরের কাঠামো ও কাজ বিস্তারিত জানতে দেখো বন অধিদপ্তর নিয়ে লেখাটি।

জলবায়ু আলোচনার মূল শব্দগুলো

জলবায়ু অংশে কিছু নির্দিষ্ট নাম ঘুরেফিরে আসে। এগুলো একসঙ্গে দেখে নাও।

নাম পরিচয়
ইউএনএফসিসিসি জলবায়ু পরিবর্তন-সংক্রান্ত জাতিসংঘ কাঠামো সনদ
কপ সম্মেলন ইউএনএফসিসিসির পক্ষগুলোর বার্ষিক সম্মেলন
প্যারিস চুক্তি বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি সীমিত রাখার আন্তর্জাতিক চুক্তি
অভিযোজন পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া
প্রশমন গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো

অভিযোজন ও প্রশমনের পার্থক্যটি খুব গুরুত্বপূর্ণ, তাই আলাদা করে বলি।

প্রশমন মানে সমস্যার উৎসে হাত দেওয়া — নিঃসরণ কমানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে যাওয়া, বনায়ন বাড়ানো। এটি বৈশ্বিক দায়, আর মূল দায় শিল্পোন্নত দেশগুলোর।

অভিযোজন মানে যে পরিবর্তন ইতিমধ্যেই ঘটছে, তার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া — লবণসহিষ্ণু ফসল, উঁচু বাঁধ, আশ্রয়কেন্দ্র, খাবার পানির বিকল্প উৎস।

বাংলাদেশের মতো ভাটির বদ্বীপে অভিযোজনের গুরুত্ব বেশি, কারণ নিঃসরণে আমাদের অংশ কম হলেও ক্ষতির ঝুঁকি বেশি।

বাংলাদেশ কেন জলবায়ু ঝুঁকিতে

বাংলাদেশ জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা শীর্ষ দেশগুলোর একটি। কারণগুলো ভৌগোলিক।

ঝুঁকি প্রভাব
লবণাক্ততা উপকূলে ফসল ও খাবার পানির সংকট
জলোচ্ছ্বাস ঘূর্ণিঝড়ে উপকূলীয় প্লাবন ও প্রাণহানি
নদীভাঙন ভিটেমাটি ও কৃষিজমি হারানো, বাস্তুচ্যুতি
অনিয়মিত বৃষ্টিপাত কৃষি মৌসুম ও সেচের হিসাব এলোমেলো

এই ঝুঁকিগুলোর সঙ্গে পানি ব্যবস্থাপনার সরাসরি যোগ আছে। বাঁধ, পোল্ডার ও নদী ব্যবস্থাপনার দিকটি বুঝতে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় লেখাটি পড়ে নাও।

আর ফসল উৎপাদনে জলবায়ুর প্রভাব বুঝতে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য সরবরাহে এর প্রভাব বুঝতে খাদ্য মন্ত্রণালয় লেখাগুলো কাজে লাগবে।

গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও স্বীকৃতি

বিষয় তথ্য
বিশ্ব পরিবেশ দিবস ৫ জুন
বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন
ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন
রামসার সাইট সুন্দরবন, টাঙ্গুয়ার হাওর

বিশ্ব পরিবেশ দিবসের তারিখটি প্রায় প্রতিটি নিয়োগ পরীক্ষায় কোনো না কোনোভাবে আসে। ৫ জুন — এটি ভুল কোরো না।

গবেষণা ও সংগ্রহের দুই প্রতিষ্ঠান

অধিদপ্তরের বাইরে আরও দুটি প্রতিষ্ঠানের নাম প্রশ্নে আসে, আর দুটিই তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত বলে অনেকে ছেড়ে দেয়।

প্রতিষ্ঠান অবস্থান কাজ
বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম বনজ প্রজাতি, চারা ও কাঠপ্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা
বাংলাদেশ জাতীয় হার্বেরিয়াম ঢাকা উদ্ভিদের নমুনা সংরক্ষণ ও শনাক্তকরণ

হার্বেরিয়াম মানে শুকনো উদ্ভিদ-নমুনার সংগ্রহশালা। কোন গাছ কোন প্রজাতির, কোথায় জন্মায় — এসব বৈজ্ঞানিকভাবে নথিভুক্ত করা এর কাজ।

বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের অবস্থানটি আলাদা করে মনে রাখো — চট্টগ্রাম। এই ধরনের "প্রতিষ্ঠান বনাম শহর" মিলানো প্রশ্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় নিয়মিত আসে।

বাংলাদেশের বনের ধরন

বন শুধু সুন্দরবন নয়। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী কয়েক ধরনের বন আছে, আর প্রতিটির নিজস্ব নাম ও এলাকা আছে।

বনের ধরন প্রধান এলাকা বৈশিষ্ট্য
ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন লবণাক্ত জোয়ারভাটার বন, শ্বাসমূল থাকে
পাহাড়ি বা চিরসবুজ বন চট্টগ্রাম, পার্বত্য অঞ্চল, সিলেট উঁচু ভূমির ঘন চিরসবুজ ও মিশ্র বন
শালবন মধুপুর, ভাওয়াল সমতলের পর্ণমোচী শালগাছপ্রধান বন
উপকূলীয় বনায়ন উপকূলীয় চর ও নতুন জেগে ওঠা ভূমি ঝড় ও জলোচ্ছ্বাস ঠেকাতে সবুজ বেষ্টনী
সামাজিক বনায়ন রাস্তা, বাঁধ ও প্রতিষ্ঠানের ধার জনগণের অংশগ্রহণে গাছ লাগানো ও লভ্যাংশ ভাগ

সবচেয়ে সহজ শনাক্তকরণ সূত্র — লবণাক্ত পানি মানে ম্যানগ্রোভ, পাহাড় মানে চিরসবুজ, মধুপুর বা ভাওয়াল মানে শালবন।

সামাজিক বনায়ন ও উপকূলীয় বনায়নকে গুলিয়ে ফেলা যাবে না। একটি জনগণের অংশীদারিত্বভিত্তিক কর্মসূচি, অন্যটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকায় সুরক্ষা-বেষ্টনী তৈরির কাজ।

সুন্দরবনের সবচেয়ে বিখ্যাত অধিবাসী রয়েল বেঙ্গল টাইগার, যা আমাদের জাতীয় পশুও।

জাতীয় প্রতীকগুলো

পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য অধ্যায়ের সঙ্গে এই তালিকাটি একসঙ্গে পড়ে ফেলা লাভজনক, কারণ প্রশ্ন আসে বিনা ব্যতিক্রমে।

শ্রেণি জাতীয় প্রতীক
জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগার
জাতীয় পাখি দোয়েল
জাতীয় গাছ আম গাছ
জাতীয় ফুল শাপলা
জাতীয় ফল কাঁঠাল

পাঁচটি নাম, পাঁচ সেকেন্ডের কাজ — কিন্তু পরীক্ষার হলে এক নম্বর নিশ্চিত। বিশেষ করে জাতীয় গাছ নিয়ে অনেকে দ্বিধায় পড়ে; উত্তর আম গাছ।

ছাড়পত্রের শ্রেণিবিন্যাস নিয়ে একটি সতর্কতা

শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিবিন্যাস নিয়ে দুই রকম তালিকা প্রচলিত আছে, আর এখানেই বেশিরভাগ বিভ্রান্তি।

কোথায় পাবে শ্রেণিক্রম
পুরোনো বিধিমালাভিত্তিক বই ও নোট সবুজ, কমলা-ক, কমলা-খ, লাল
হালনাগাদ বিধিমালা সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল

দুটোতেই শুরু সবুজ দিয়ে আর শেষ লাল দিয়ে — সেটি বদলায়নি। বদলেছে মাঝের দুটি ধাপের নাম। প্রশ্নে "কমলা-ক" বা "কমলা-খ" অপশনে থাকলে বুঝবে সেটি পুরোনো বিধিমালা ধরে করা।

সবচেয়ে নিরাপদ কৌশল — সবুজ সবচেয়ে কম ঝুঁকির, লাল সর্বোচ্চ ঝুঁকির এবং ইআইএ লাগে লাল শ্রেণিতে; এই তিনটি কথা সব তালিকাতেই সত্য।

গ্রিনহাউস গ্যাস ও ওজোন স্তর

জলবায়ু অংশে দুটি আলাদা সমস্যা মিলিয়ে ফেলা খুব সাধারণ ভুল। গ্রিনহাউস প্রভাব এক জিনিস, ওজোন স্তর ক্ষয় আরেক জিনিস।

বিষয় মূল গ্যাস সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক দলিল
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড কিয়োটো প্রটোকল, প্যারিস চুক্তি
ওজোন স্তর ক্ষয় ওজোন-ক্ষয়কারী রাসায়নিক মন্ট্রিল প্রটোকল

কিয়োটো প্রটোকল ও প্যারিস চুক্তি — দুটোই ইউএনএফসিসিসির কাঠামোর ভেতরে হওয়া চুক্তি, আর দুটোই নিঃসরণ কমানোর সঙ্গে সম্পর্কিত। মন্ট্রিল প্রটোকল সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়, সেটি ওজোন স্তর রক্ষার চুক্তি।

সহজ সূত্র — মন্ট্রিল মানে ওজোন, কিয়োটো ও প্যারিস মানে জলবায়ু।

গুরুত্বপূর্ণ আরও তিনটি দিবস

দিবস তারিখ
বিশ্ব পরিবেশ দিবস ৫ জুন
বিশ্ব ওজোন দিবস ১৬ সেপ্টেম্বর
ধরিত্রী দিবস ২২ এপ্রিল

তিনটি তারিখ একসঙ্গে মনে রাখার কৌশল — এপ্রিলে ধরিত্রী, জুনে পরিবেশ, সেপ্টেম্বরে ওজোন। মাসের ক্রম ধরে সাজালে আর উল্টে যাবে না।

যেসব ভুল সবচেয়ে বেশি হয়

ভুল ধারণা সঠিক তথ্য
পরিবেশ ছাড়পত্র মন্ত্রণালয় নিজে দেয় দেয় পরিবেশ অধিদপ্তর
ইআইএ আর ইটিপি একই জিনিস ইআইএ পূর্ব-বিশ্লেষণ, ইটিপি পরিশোধন যন্ত্র
শিল্পশ্রেণির ক্রম লাল থেকে শুরু ক্রম সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল
অভিযোজন ও প্রশমন একই অর্থ একটি মানিয়ে নেওয়া, অন্যটি নিঃসরণ কমানো
রামসার সাইট মানে বিশ্ব ঐতিহ্য রামসার জলাভূমির স্বীকৃতি, আলাদা বিষয়
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ পরিবেশ অধিদপ্তরের কাজ এটি বন অধিদপ্তরের এখতিয়ার
দুর্যোগে ত্রাণ এই মন্ত্রণালয় দেয় ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আলাদা মন্ত্রণালয়ের

শেষ দুটি সারি বিশেষভাবে দেখো। দূষণ ও বন — দুটি আলাদা অধিদপ্তরের এলাকা, আর দুর্যোগকালীন ত্রাণ পুরোপুরি আলাদা মন্ত্রণালয়ের কাজ। দুর্যোগের প্রাতিষ্ঠানিক দিকটি জানতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর লেখাটি দেখো।

পরীক্ষায় যেভাবে প্রশ্ন আসে

প্রথম ধরন — সরাসরি তথ্য। বিশ্ব পরিবেশ দিবস কবে, রামসার সাইট কোনগুলো, সুন্দরবনের স্বীকৃতি কী।

দ্বিতীয় ধরন — কোন সংস্থা কোন কাজ করে। ছাড়পত্র কে দেয়, অভয়ারণ্য কে দেখে, জলবায়ু প্রকল্পে অর্থায়ন কে করে।

তৃতীয় ধরন — সংক্ষেপের অর্থ। ইআইএ, ইটিপি, ইউএনএফসিসিসি, কপ — এই চারটি প্রায় নিশ্চিতভাবেই কোথাও না কোথাও আসে।

চতুর্থ ধরন — ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন। জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের ঝুঁকি ও করণীয়, কিংবা অভিযোজন ও প্রশমনের পার্থক্য — এগুলো লিখিত পরীক্ষা ও ভাইভার প্রিয় বিষয়।

চর্চার জন্য ভূগোল ও পরিবেশ অংশ ধরে এগোও, বাংলাদেশ বিষয়াবলি মিলিয়ে পড়ো এবং অনুশীলন অংশে প্রশ্ন সমাধান করো। সময় ধরে পরখ করতে মক টেস্ট দাও।

এক নজরে মনে রাখার তথ্য

বিষয় মনে রাখার কথা
রাজনৈতিক প্রধান মন্ত্রী
প্রশাসনিক প্রধান সচিব
দাপ্তরিক অবস্থান বাংলাদেশ সচিবালয়
দূষণ ও ছাড়পত্র পরিবেশ অধিদপ্তর
বন ও বন্যপ্রাণী বন অধিদপ্তর
বনজ গবেষণা বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট
জলবায়ু অর্থায়ন জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট
শিল্পশ্রেণি সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল
প্রকল্পপূর্ব বিশ্লেষণ ইআইএ
বর্জ্য পরিশোধন ইটিপি
বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন
রামসার সাইট সুন্দরবন, টাঙ্গুয়ার হাওর
বিশ্ব পরিবেশ দিবস ৫ জুন
জলবায়ু চুক্তি প্যারিস চুক্তি
জলবায়ু কাঠামো সনদ ইউএনএফসিসিসি

বনভূমির শতকরা হিসাব, নিঃসরণের পরিমাণ বা সাম্প্রতিক কপ সম্মেলনের সিদ্ধান্ত দরকার হলে সেগুলো সাম্প্রতিক বিষয়াবলি অংশ থেকে হালনাগাদ করে নাও। এই সংখ্যাগুলো বদলায়, তাই পুরোনো নোট থেকে মুখস্থ করা বিপজ্জনক।

এই মন্ত্রণালয়ের অধ্যায়টি ভালোভাবে বসাতে চাইলে তিনটি ভাগ আলাদা করে মনে রাখো — দূষণ, বন, জলবায়ু। প্রতিটি ভাগের আলাদা প্রতিষ্ঠান আছে, আলাদা পরিভাষা আছে।

সম্পর্কিত অধ্যায়ে যেতে দেখো মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং রাষ্ট্রকাঠামোর ভিত্তি বুঝতে সংবিধান অংশ। সামগ্রিক প্রস্তুতি গুছিয়ে নিতে ব্যাংক ও চাকরির প্রস্তুতি অংশে যাও এবং নিয়মিত বাংলাদেশ বিষয়াবলি অনুশীলন করো।

Ah

Ahosan Habib

@ahosanhabib922

অচিনপুরের নির্মাতা। BCS ও চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে লেখেন — সিলেবাস, ব্যাকরণ ও পড়ার কৌশল।

পরিবেশবনজলবায়ুবাংলাদেশ বিষয়াবলি

আরও পড়ো