আমদানি ও রপ্তানি অধিদপ্তর কীভাবে আইআরসি ও ইআরসি দেয়?
আমদানি ও রপ্তানি অধিদপ্তরের কাজ, আইআরসি ও ইআরসি সনদ, আমদানি নীতি আদেশ এবং ইপিবি ও কাস্টমসের সঙ্গে পার্থক্য — বিসিএস ও চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি।
বাংলাদেশ থেকে একটি চালান বিদেশে যাওয়ার আগে, কিংবা বিদেশ থেকে একটি চালান দেশে ঢোকার আগে অন্তত তিনটি সরকারি সংস্থার সঙ্গে ব্যবসায়ীর দেখা হয়।
একটি সনদ দেয়, একটি বাজার খুঁজে দেয়, আর একটি শুল্ক আদায় করে। পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি ভুল হয় ঠিক এই তিনজনের কাজ গুলিয়ে ফেলে।
তুমি যদি এই ভাগটা একবার পরিষ্কার করে নাও, তাহলে বাণিজ্য অধ্যায়ের একটা বড় অংশ তোমার হাতের মুঠোয়।
আমদানি ও রপ্তানি অধিদপ্তর আসলে কী
আমদানি ও রপ্তানি অধিদপ্তর হলো দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রক দপ্তর। প্রচলিত সংক্ষিপ্ত নাম সিসিআইএন্ডই।
এই দপ্তরের প্রধান কর্মকর্তাকে বলা হয় প্রধান নিয়ন্ত্রক। ঢাকার প্রধান কার্যালয়ের বাইরে বিভাগীয় ও আঞ্চলিক কার্যালয়ের মাধ্যমে দেশজুড়ে এর কাজ চলে।
এক কথায় বললে, কে আমদানি করতে পারবে, কে রপ্তানি করতে পারবে, কোন পণ্য আনা-নেওয়া যাবে আর কোনটি যাবে না — এই সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব এই দপ্তরের।
লক্ষ করো, দপ্তরটি নিজে ব্যবসা করে না, পণ্য কেনে না, শুল্কও আদায় করে না। সে নিবন্ধন দেয়, নীতি প্রয়োগ করে এবং নজরদারি করে।
কোন মন্ত্রণালয়ের অধীন
আমদানি ও রপ্তানি অধিদপ্তর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন। এটি অর্থ মন্ত্রণালয় বা শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন নয়।
এই তথ্যটি নিয়ে প্রশ্ন এলে বিকল্পে প্রায়ই অর্থ মন্ত্রণালয় বসানো থাকে, কারণ শুল্কের সঙ্গে সম্পর্ক আছে ভেবে অনেকে বিভ্রান্ত হয়।
| সংস্থা | অধীনস্থ মন্ত্রণালয়/কার্যালয় |
|---|---|
| আমদানি ও রপ্তানি অধিদপ্তর | বাণিজ্য মন্ত্রণালয় |
| রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো | বাণিজ্য মন্ত্রণালয় |
| জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর | বাণিজ্য মন্ত্রণালয় |
| জাতীয় রাজস্ব বোর্ড | অর্থ মন্ত্রণালয় |
| বেপজা | প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় |
| বেজা | প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় |
মনে রাখার সূত্র — সনদ, নীতি ও বাণিজ্য প্রসার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে; শুল্ক ও কর অর্থ মন্ত্রণালয়ে; শিল্পাঞ্চল ও বিনিয়োগ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে।
আইআরসি ও ইআরসি — দুটি প্রধান সনদ
এই দপ্তরের সবচেয়ে বেশি পরিচিত কাজ দুটি সনদ দেওয়া ও নবায়ন করা।
আইআরসি মানে আমদানি নিবন্ধন সনদ। বিদেশ থেকে বাণিজ্যিকভাবে পণ্য আনতে হলে আমদানিকারককে এই সনদ নিতে হয়।
ইআরসি মানে রপ্তানি নিবন্ধন সনদ। বিদেশে পণ্য পাঠাতে হলে রপ্তানিকারককে এই সনদ নিতে হয়।
| সনদ | পূর্ণ নাম | কার লাগে |
|---|---|---|
| আইআরসি | আমদানি নিবন্ধন সনদ | আমদানিকারক |
| ইআরসি | রপ্তানি নিবন্ধন সনদ | রপ্তানিকারক |
সনদ পেতে সাধারণত ট্রেড লাইসেন্স, কর শনাক্তকরণ নম্বর, ব্যাংক সচ্ছলতার প্রত্যয়ন ও সংশ্লিষ্ট চেম্বার বা বাণিজ্য সংগঠনের সদস্যপদ লাগে।
সনদ একবার নিলেই চিরকালের জন্য নয় — নির্দিষ্ট সময় পরপর নবায়ন করতে হয়। নবায়ন না করলে সনদ অকার্যকর হয়ে যায়, আর তখন চালান ছাড়ানোয় জটিলতা তৈরি হয়।
আমদানিকারকের ধরন ও ইনডেন্টিং ফার্ম নিবন্ধন
আমদানিকারক প্রধানত দুই ধরনের হয়, আর এই ভাগটা পরীক্ষায় আসে।
বাণিজ্যিক আমদানিকারক — যিনি পণ্য এনে সরাসরি বাজারে বিক্রি করেন। যেমন কেউ বিদেশ থেকে যন্ত্রাংশ এনে দেশের বাজারে বিক্রি করলেন।
শিল্প আমদানিকারক — যিনি নিজের কারখানার জন্য কাঁচামাল বা যন্ত্রপাতি আনেন, বিক্রির জন্য নয়। যেমন একটি পোশাক কারখানা সুতা ও কাপড় আমদানি করল।
| ধরন | উদ্দেশ্য | পণ্যের গন্তব্য |
|---|---|---|
| বাণিজ্যিক আমদানিকারক | পুনঃবিক্রয় | সরাসরি বাজারে |
| শিল্প আমদানিকারক | নিজস্ব উৎপাদন | নিজের কারখানায় |
এই দপ্তর ইনডেন্টিং ফার্মের নিবন্ধনও দেয়। ইনডেন্টিং ফার্ম হলো সেই মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান, যারা বিদেশি বিক্রেতা ও দেশি ক্রেতার মধ্যে যোগাযোগ ঘটিয়ে দেয় এবং কমিশন পায়।
ইনডেন্টিং ফার্ম নিজে পণ্য কেনে না, নিজের নামে চালানও আনে না — সে কেবল সংযোগ তৈরি করে দেয়। এই পার্থক্যটা প্রশ্নে ঘুরিয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়।
আমদানি নীতি আদেশ ও রপ্তানি নীতি
সরকার নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আমদানি নীতি আদেশ এবং রপ্তানি নীতি প্রণয়ন করে। এই নীতিতে বলা থাকে কোন পণ্য আনা যাবে, কী শর্তে যাবে, কোনটি একেবারেই যাবে না।
নীতি তৈরি করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, আর মাঠপর্যায়ে সেটি বাস্তবায়ন করে আমদানি ও রপ্তানি অধিদপ্তর। এই ভাগটা খেয়াল রাখো — নীতি প্রণয়ন এক কাজ, নীতি প্রয়োগ আরেক কাজ।
রপ্তানি নীতিতে সাধারণত থাকে অগ্রাধিকার খাতের তালিকা, রপ্তানি বহুমুখীকরণের লক্ষ্য এবং রপ্তানিকারকদের জন্য প্রণোদনার কাঠামো।
আমদানি নীতিতে থাকে পণ্যের শ্রেণিবিভাগ, নিষিদ্ধ ও নিয়ন্ত্রিত পণ্যের তালিকা, আমদানির শর্ত এবং কোন ক্ষেত্রে কোন সংস্থার ছাড়পত্র লাগবে তার নির্দেশনা।
নিষিদ্ধ ও নিয়ন্ত্রিত পণ্য
আমদানি নীতিতে পণ্য মোটামুটি তিন ভাগে ভাগ করা হয়। ভাগগুলো টেবিলে দেখে নাও।
| শ্রেণি | মানে | উদাহরণধর্মী ব্যাখ্যা |
|---|---|---|
| মুক্ত পণ্য | সাধারণ নিয়মে আমদানিযোগ্য | বাড়তি ছাড়পত্র লাগে না |
| নিয়ন্ত্রিত পণ্য | শর্তসাপেক্ষে আমদানিযোগ্য | সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র লাগে |
| নিষিদ্ধ পণ্য | আমদানি করা যায় না | জনস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা বা নৈতিকতার কারণে |
নিয়ন্ত্রিত পণ্যের ক্ষেত্রে অন্য দপ্তরের ছাড়পত্র লাগতে পারে — যেমন ওষুধের জন্য ওষুধ প্রশাসন, খাদ্যের জন্য নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, উদ্ভিদজাত পণ্যের জন্য উদ্ভিদ সংগনিরোধ ব্যবস্থা।
নিষিদ্ধ তালিকার পেছনের যুক্তিগুলো লিখিত পরীক্ষায় কাজে লাগে — জনস্বাস্থ্য রক্ষা, পরিবেশ সুরক্ষা, দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা, নিরাপত্তা এবং সামাজিক ও ধর্মীয় বিবেচনা।
অধিদপ্তর, ইপিবি ও কাস্টমস — সবচেয়ে বড় ফাঁদ
এবার সেই টেবিলটা, যেটি এই অধ্যায়ের প্রাণ। তিনটি সংস্থার কাজ আলাদা, অথচ তিনটিই আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে জড়িত।
| সংস্থা | মূল কাজ | অধীনস্থ |
|---|---|---|
| আমদানি ও রপ্তানি অধিদপ্তর | নিবন্ধন সনদ দেয় ও নীতি প্রয়োগ করে | বাণিজ্য মন্ত্রণালয় |
| রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো | রপ্তানি প্রচার ও বাজার সহায়তা দেয় | বাণিজ্য মন্ত্রণালয় |
| কাস্টমস | শুল্ক ও কর আদায় করে, চালান খালাস দেয় | জাতীয় রাজস্ব বোর্ড |
তিনটি ক্রিয়াপদ মুখস্থ করে ফেলো — অধিদপ্তর সনদ দেয়, ইপিবি প্রচার করে, কাস্টমস শুল্ক আদায় করে। প্রশ্ন যেভাবেই ঘোরানো হোক, এই তিন শব্দে উত্তর মিলে যাবে।
একজন রপ্তানিকারকের যাত্রাপথ ধরে ভাবলে ব্যাপারটা আরও পরিষ্কার হয়। প্রথমে সে অধিদপ্তর থেকে ইআরসি নেয়, তারপর ইপিবির মেলা ও বাজার তথ্যের সাহায্যে ক্রেতা খোঁজে, ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণপত্রের ব্যবস্থা করে, আর সবশেষে বন্দরে কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা সেরে চালান জাহাজে তোলে।
রপ্তানি প্রসারের দিকটি বিস্তারিত জানতে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো নিয়ে লেখাটি পড়ে নাও, আর শুল্ক-কর কাঠামো বুঝতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড নিয়ে লেখাটি দেখো।
আরেকটি ভাগ মাথায় রাখো। ইপিজেডের ভেতরের রপ্তানিমুখী কারখানা দেখে বেপজা, আর অর্থনৈতিক অঞ্চলের দায়িত্বে বেজা — এরা কেউই আমদানি বা রপ্তানির নিবন্ধন সনদ দেয় না।
যে পরিভাষাগুলো জানতেই হবে
আমদানি-রপ্তানি অধ্যায়ে কিছু পারিভাষিক শব্দ ঘুরেফিরে আসে। এগুলো না জানলে প্রশ্ন পড়েই ধাক্কা লাগবে।
এলসি বা ঋণপত্র — ক্রেতার ব্যাংক বিক্রেতাকে যে লিখিত নিশ্চয়তা দেয় যে শর্ত পূরণ হলে টাকা পরিশোধ করা হবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিশ্বাসের সংকট মেটানোর প্রধান হাতিয়ার এটি।
প্রোফর্মা ইনভয়েস — বিক্রেতার দেওয়া প্রাথমিক চালানপত্র, যেখানে পণ্যের বিবরণ, পরিমাণ ও দাম লেখা থাকে। এটি চূড়ান্ত বিল নয়, বরং ঋণপত্র খোলার ভিত্তি।
বিল অব লেডিং — জাহাজ কোম্পানির দেওয়া পণ্য পরিবহনের দলিল। এটি একই সঙ্গে প্রাপ্তিস্বীকারপত্র, পরিবহন চুক্তি এবং পণ্যের মালিকানার দলিল হিসেবে কাজ করে।
এইচএস কোড — পণ্যের আন্তর্জাতিক শ্রেণিবিন্যাস সংখ্যা। প্রতিটি পণ্যের জন্য নির্দিষ্ট কোড থাকে, আর সেই কোড দেখেই শুল্কের হার নির্ধারিত হয়। কোড ভুল হলে শুল্ক হিসাবও ভুল হয়।
| পরিভাষা | সহজ অর্থ |
|---|---|
| এলসি বা ঋণপত্র | ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধের নিশ্চয়তা |
| প্রোফর্মা ইনভয়েস | দাম ও পণ্যের প্রাথমিক বিবরণপত্র |
| বিল অব লেডিং | জাহাজে পণ্য তোলার দলিল |
| এইচএস কোড | পণ্যের আন্তর্জাতিক শ্রেণিবিন্যাস কোড |
ঋণপত্রের পুরো প্রক্রিয়া ব্যাংকের মাধ্যমে চলে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত নিয়ম এখানে জড়িয়ে থাকে। সেই দিকটা বুঝতে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ে লেখাটি পড়ে নাও।
ইনকোটার্মস — এফওবি ও সিআইএফ
ইনকোটার্মস হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ব্যবহৃত প্রমিত শর্তাবলি, যা ঠিক করে দেয় পরিবহনের কোন পর্যায় পর্যন্ত খরচ ও ঝুঁকি কার।
দুটি শর্ত সবচেয়ে বেশি আসে।
এফওবি — বিক্রেতা পণ্য জাহাজে তুলে দেওয়া পর্যন্ত খরচ ও দায়িত্ব বহন করেন। এরপরের সমুদ্র ভাড়া ও বিমা ক্রেতার।
সিআইএফ — পণ্যের দাম, বিমা ও জাহাজ ভাড়া তিনটিই বিক্রেতার হিসাবের মধ্যে ধরা থাকে, অর্থাৎ গন্তব্য বন্দর পর্যন্ত ব্যবস্থা বিক্রেতাই করেন।
| শর্ত | খরচ কার | সংক্ষেপে |
|---|---|---|
| এফওবি | জাহাজে তোলা পর্যন্ত বিক্রেতার | এরপর সব ক্রেতার |
| সিআইএফ | গন্তব্য বন্দর পর্যন্ত বিক্রেতার | দাম, বিমা ও ভাড়া একসঙ্গে |
মনে রাখার সহজ উপায় — সিআইএফে বিক্রেতার দায়িত্ব বেশি, তাই দামও বেশি দেখায়। রপ্তানির পরিসংখ্যান সাধারণত এফওবি ভিত্তিতে আর আমদানির পরিসংখ্যান সিআইএফ ভিত্তিতে হিসাব করা হয়।
জাহাজ ও বন্দরের আনুষ্ঠানিকতার দিকটি বুঝতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নিয়ে লেখাটি পড়লে ছবিটা সম্পূর্ণ হবে।
শুল্কমুক্ত সুবিধা, কোটা ও অ্যান্টি-ডাম্পিং
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে কয়েকটি ধারণা বারবার ফেরে। এগুলোও ছোট করে বুঝে রাখো।
শুল্কমুক্ত সুবিধা — কোনো দেশ অন্য দেশের পণ্যে শুল্ক না বসিয়ে বাজারে ঢোকার সুযোগ দিলে সেটিকে শুল্কমুক্ত সুবিধা বলে। উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশের রপ্তানির জন্য এটি বড় সহায়ক।
কোটা — নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি পণ্য আমদানি বা রপ্তানি না করার সীমা। এটি পরিমাণগত নিয়ন্ত্রণ, শুল্কের মতো দামভিত্তিক নয়।
অ্যান্টি-ডাম্পিং — কোনো দেশ যদি উৎপাদন খরচের চেয়েও কম দামে পণ্য পাঠিয়ে অন্য দেশের বাজার দখল করতে চায়, তখন আমদানিকারক দেশ বাড়তি শুল্ক বসিয়ে নিজের শিল্প রক্ষা করে। এই ব্যবস্থাকেই অ্যান্টি-ডাম্পিং বলা হয়।
| ধারণা | কাজ করে যেভাবে |
|---|---|
| শুল্কমুক্ত সুবিধা | শুল্ক ছাড় দিয়ে বাজারে প্রবেশ সহজ করে |
| কোটা | পরিমাণে সীমা টেনে দেয় |
| অ্যান্টি-ডাম্পিং | অস্বাভাবিক কম দামের বিরুদ্ধে বাড়তি শুল্ক বসায় |
তিনটির মধ্যে পার্থক্য এক লাইনে — শুল্কমুক্ত সুবিধা দরজা খুলে দেয়, কোটা দরজা আধখোলা রাখে, অ্যান্টি-ডাম্পিং অসৎ প্রতিযোগিতার বিরুদ্ধে ঢাল ধরে।
যেসব ভুল সবচেয়ে বেশি হয়
| ভুল ধারণা | সঠিক তথ্য |
|---|---|
| অধিদপ্তরটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন | বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন |
| এই দপ্তর আমদানি শুল্ক আদায় করে | শুল্ক আদায় করে কাস্টমস |
| রপ্তানি মেলা ও প্রচার এই দপ্তরের কাজ | প্রচারের কাজ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর |
| আইআরসি ও ইআরসি একই সনদ | আইআরসি আমদানির, ইআরসি রপ্তানির |
| সনদ একবার নিলেই চলে | নির্দিষ্ট সময় পরপর নবায়ন লাগে |
| আমদানি নীতি আদেশ এই দপ্তর প্রণয়ন করে | প্রণয়ন করে মন্ত্রণালয়, প্রয়োগ করে অধিদপ্তর |
| ইনডেন্টিং ফার্ম নিজে আমদানি করে | সে কেবল মধ্যস্থতা করে, কমিশন পায় |
| ইপিজেডের রপ্তানি সনদ বেপজা দেয় | নিবন্ধন সনদ দেয় আমদানি ও রপ্তানি অধিদপ্তর |
| সিআইএফ মানে ক্রেতার সব খরচ | সিআইএফে দাম, বিমা ও ভাড়া বিক্রেতার |
সবচেয়ে বেশি ভুল হয় তালিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারিতে। এই দুটি একবার গেঁথে নিলে অর্ধেক ফাঁদ কেটে যায়।
পরীক্ষায় যেভাবে প্রশ্ন আসে
অধীনস্থতার প্রশ্ন — "আমদানি ও রপ্তানি অধিদপ্তর কোন মন্ত্রণালয়ের অধীন?" উত্তর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
সনদ সংক্রান্ত প্রশ্ন — "আইআরসি কী?" উত্তর আমদানি নিবন্ধন সনদ। "ইআরসি কে দেয়?" উত্তর আমদানি ও রপ্তানি অধিদপ্তর।
কাজ ভাগের প্রশ্ন — "রপ্তানি নিবন্ধন সনদ প্রদানকারী সংস্থা কোনটি?" এখানে বিকল্পে ইপিবি থাকলেও উত্তর অধিদপ্তরই।
পরিভাষার প্রশ্ন — "বিল অব লেডিং কে ইস্যু করে?" উত্তর জাহাজ বা পরিবহন কোম্পানি। "এইচএস কোড কী নির্দেশ করে?" উত্তর পণ্যের আন্তর্জাতিক শ্রেণিবিন্যাস।
ইনকোটার্মসের প্রশ্ন — "সিআইএফ-এর পূর্ণরূপে কোন তিনটি বিষয় আছে?" উত্তর পণ্যমূল্য, বিমা ও জাহাজ ভাড়া।
ধারণাভিত্তিক প্রশ্ন — "অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক কেন আরোপ করা হয়?" উত্তর অস্বাভাবিক কম দামের আমদানি থেকে দেশীয় শিল্প রক্ষা করতে।
লিখিত প্রশ্ন — "আমদানি নীতি আদেশের উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব" কিংবা "রপ্তানি বহুমুখীকরণে সরকারি সংস্থাগুলোর ভূমিকা" ধরনের প্রশ্ন আসে।
এই ধরনের প্রশ্নে হাত পাকাতে বাংলাদেশ বিষয়াবলির অনুশীলন পাতা নিয়মিত ব্যবহার করো, আর বিষয়ভিত্তিক পড়ার জন্য ব্যাংক প্রস্তুতির পাতা দেখে নাও।
প্রস্তুতির কৌশল
এই অধ্যায় পড়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো একটি চালানের যাত্রা কল্পনা করা। সনদ, ক্রেতা, ঋণপত্র, জাহাজ, শুল্ক — এই ক্রমে ভাবলে প্রতিটি সংস্থার জায়গা আপনাআপনি বসে যায়।
দ্বিতীয়ত, সংক্ষিপ্ত রূপগুলো আলাদা একটি পাতায় লিখে রাখো — আইআরসি, ইআরসি, এলসি, এফওবি, সিআইএফ, এইচএস কোড। এগুলো থেকে সরাসরি এক নম্বরের প্রশ্ন আসে।
তৃতীয়ত, তিন সংস্থার ক্রিয়াপদ তিনটি বারবার আওড়াও — সনদ দেয়, প্রচার করে, শুল্ক আদায় করে।
রপ্তানি আয়, আমদানি ব্যয় বা বাণিজ্য ঘাটতির অঙ্ক মুখস্থ করতে যেয়ো না, এসব প্রতি বছর বদলায়। পরীক্ষার আগে সাম্প্রতিক প্রসঙ্গের পাতা থেকে হালনাগাদ তথ্য দেখে নিলেই যথেষ্ট।
সময় ধরে নিজের প্রস্তুতি যাচাই করতে মক টেস্ট দাও, আর ভুল হওয়া প্রশ্নগুলো আলাদা খাতায় টুকে রাখো।
এক নজরে মনে রাখার তথ্য
| প্রশ্ন | উত্তর |
|---|---|
| পূর্ণ নাম | আমদানি ও রপ্তানি অধিদপ্তর |
| সংক্ষিপ্ত নাম | সিসিআইএন্ডই |
| অধীনস্থ | বাণিজ্য মন্ত্রণালয় |
| প্রধান কর্মকর্তা | প্রধান নিয়ন্ত্রক |
| প্রধান সনদ | আইআরসি ও ইআরসি |
| আইআরসি | আমদানি নিবন্ধন সনদ |
| ইআরসি | রপ্তানি নিবন্ধন সনদ |
| আমদানিকারকের ধরন | বাণিজ্যিক ও শিল্প |
| অন্য নিবন্ধন | ইনডেন্টিং ফার্ম |
| নীতি বাস্তবায়ন | আমদানি নীতি আদেশ ও রপ্তানি নীতি |
| শুল্ক আদায় | কাস্টমস, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীন |
| রপ্তানি প্রচার | রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো |
| ইপিজেড পরিচালনা | বেপজা |
| অর্থনৈতিক অঞ্চল | বেজা |
গোটা অধ্যায়ের সার এক বাক্যে — আমদানি ও রপ্তানি অধিদপ্তর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন থেকে আইআরসি ও ইআরসি দেয় এবং আমদানি নীতি আদেশ প্রয়োগ করে; প্রচার করে ইপিবি, আর শুল্ক আদায় করে কাস্টমস।
এই একটি বাক্য মনে থাকলে বাণিজ্য অধ্যায়ের সবচেয়ে বড় ফাঁদটি তোমাকে আর ছুঁতে পারবে না। প্রস্তুতি এগিয়ে নিতে ব্যাংক প্রস্তুতির পাতা ও সাধারণ অনুশীলন পাতা ব্যবহার করতে থাকো।
Ahosan Habib
@ahosanhabib922
অচিনপুরের নির্মাতা। BCS ও চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে লেখেন — সিলেবাস, ব্যাকরণ ও পড়ার কৌশল।