চট্টগ্রাম বন্দর কোন নদীর তীরে? দেশের সব বন্দরের তালিকা

২ আগস্ট, ২০২৬১১ মিনিট পড়া

চট্টগ্রাম বন্দর কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর। বিসিএস ও চাকরির পরীক্ষার জন্য সমুদ্রবন্দর, নদীবন্দর ও স্থলবন্দরের পূর্ণ তালিকা।

বাংলাদেশ বিষয়াবলি অংশে বন্দর একটি নিশ্চিত মার্ক তোলার জায়গা। কারণ এখানে ব্যাখ্যা লাগে না, লাগে কেবল সঠিক তালিকা মনে রাখা — কোন বন্দর কোন নদীর তীরে, কোন জেলায়, কোন কর্তৃপক্ষের অধীনে।

তুমি যদি একবার এই কাঠামোটা মাথায় বসিয়ে ফেলতে পারো, তাহলে বন্দর থেকে আসা প্রশ্ন তোমার আর কখনো ভুল হবে না। এই লেখায় আমরা ঠিক সেই কাঠামোটাই সাজিয়ে দেব।

চট্টগ্রাম বন্দর কোন নদীর তীরে অবস্থিত

সবচেয়ে বেশি আসা প্রশ্নটি দিয়েই শুরু করি। চট্টগ্রাম বন্দর কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত।

এই একটি বাক্য তোমাকে অন্তত এক নম্বর এনে দিতে পারে। কর্ণফুলী নদীর মোহনার কাছাকাছি অংশে বন্দরটি গড়ে উঠেছে, যেখান দিয়ে সমুদ্রগামী জাহাজ নদীপথে ঢুকে জেটিতে ভিড়তে পারে।

মনে রাখার কৌশল — "চট্টগ্রাম" শব্দের সঙ্গে "কর্ণফুলী" জোড়া বাঁধো। দুটোই বাংলা বর্ণমালার কণ্ঠ্য ধ্বনি দিয়ে শুরু নয়, কিন্তু দুটোই চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচয়। এই জোড়াটি ভাঙা যাবে না।

চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্ব কেন এত বেশি

চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের প্রধান ও বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর। দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের সিংহভাগ এই বন্দর দিয়েই সম্পন্ন হয়।

এর মানে হলো, তোমার ঘরে আসা বিদেশি পণ্য থেকে শুরু করে দেশের তৈরি পোশাক যা বিদেশে যাচ্ছে — তার বড় অংশ কর্ণফুলীর পাড় ছুঁয়ে গেছে। তাই একে অনেক সময় "দেশের অর্থনীতির প্রবেশদ্বার" বলা হয়।

পরীক্ষায় প্রশ্ন আসতে পারে এভাবে: "বাংলাদেশের বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর কোনটি?" উত্তর — চট্টগ্রাম। আবার "দেশের আমদানি-রপ্তানির অধিকাংশ কোন বন্দর দিয়ে হয়?" উত্তরও একই।

বন্দরের বর্তমান কনটেইনার হ্যান্ডলিং, জাহাজ আগমনের সংখ্যা বা রাজস্ব আদায়ের হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রতি বছর বদলায়। এসব সংখ্যা মুখস্থ করার আগে /current-affairs থেকে সাম্প্রতিক তথ্য মিলিয়ে নিয়ো।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কবে গঠিত হয়

বন্দর পরিচালনার জন্য আলাদা সংস্থা আছে — চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ

এটি গঠিত হয় ১৯৭৬ সালে। এটি একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, যা নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে।

সালটি খেয়াল করো — ১৯৭৬। স্বাধীনতার পর দেশ পুনর্গঠনের সময়ে বন্দর ব্যবস্থাপনাকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছিল। প্রশ্ন প্রায়ই আসে "চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কোন মন্ত্রণালয়ের অধীন?" — উত্তর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, শিল্প বা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নয়।

বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর কয়টি ও কোথায়

এই তালিকাটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে সমুদ্রবন্দর তিনটি।

বন্দর অবস্থান (নদী/চ্যানেল) জেলা পরিচিতি
চট্টগ্রাম বন্দর কর্ণফুলী নদী চট্টগ্রাম প্রধান ও বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর
মোংলা বন্দর পশুর নদী বাগেরহাট দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর
পায়রা বন্দর রাবনাবাদ চ্যানেল পটুয়াখালী তৃতীয় সমুদ্রবন্দর, ২০১৩ সালে অনুমোদিত

তিনটি বন্দরেরই আলাদা কর্তৃপক্ষ রয়েছে — চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তিনটিই নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন।

এই টেবিলটা একবার খাতায় নিজের হাতে লিখে ফেলো। নদীর নাম আর জেলার নাম মিলিয়ে ফেলার ভুলটা সবচেয়ে বেশি হয় — মোংলা বাগেরহাটে, পায়রা পটুয়াখালীতে।

মোংলা ও পায়রা বন্দর সম্পর্কে যা জানা দরকার

মোংলা বন্দর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর। এটি পশুর নদীর তীরে, বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত।

সুন্দরবনের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে মোংলা বন্দরের সঙ্গে পরিবেশ বিষয়ক প্রশ্নও জড়িয়ে যায়। ভূগোল ও পরিবেশ অংশে সুন্দরবন, পশুর নদী ও মোংলা একসঙ্গে পড়লে দুই বিষয়ের প্রস্তুতি একসঙ্গে হয়ে যায় — /bank/subject/geography-environment-and-digester-management থেকে এই অধ্যায়টি ঝালিয়ে নিয়ো।

মনে রাখার কৌশল: খুলনা বিভাগের সমুদ্রবন্দর মানেই মোংলা, আর মোংলার নদী মানেই পশুর। জেলা জিজ্ঞাসা করলে উত্তর বাগেরহাট, বিভাগ জিজ্ঞাসা করলে খুলনা — এই দুটোকে আলাদা রাখো।

মোংলা বন্দর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিল্প ও বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ। চট্টগ্রামের ওপর চাপ কমানোর ক্ষেত্রেও এর ভূমিকা আলোচনায় আসে।

পায়রা বন্দর দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর। এটি পটুয়াখালী জেলার রাবনাবাদ চ্যানেলে অবস্থিত এবং ২০১৩ সালে অনুমোদিত হয়।

নতুন বন্দর হওয়ায় পায়রা নিয়ে প্রশ্ন আসার হার বেড়েছে। বিশেষ করে "সর্বশেষ ঘোষিত সমুদ্রবন্দর কোনটি?" বা "রাবনাবাদ চ্যানেল কোন বন্দরের সঙ্গে সম্পর্কিত?" — এই দুটি ধরন খুব সাধারণ।

লক্ষ করো, পায়রার ক্ষেত্রে "নদী" না বলে "চ্যানেল" বলা হয়। এই সূক্ষ্ম পার্থক্যটাই অনেক সময় বিকল্প উত্তরে ফাঁদ হিসেবে রাখা হয়।

তিনটি সমুদ্রবন্দরের ক্রম মনে রাখতে একটি সহজ সূত্র ব্যবহার করতে পারো — উত্তর থেকে দক্ষিণে নয়, বরং প্রতিষ্ঠার পুরনো থেকে নতুন ক্রমে: চট্টগ্রাম, মোংলা, পায়রা। প্রশ্নে "প্রথম", "দ্বিতীয়", "তৃতীয়" শব্দগুলো এলে এই ক্রমই কাজে লাগবে।

মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর

মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মিত হচ্ছে কক্সবাজার জেলার মহেশখালীতে। বর্তমানে এর নির্মাণকাজ চলছে।

গভীর সমুদ্রবন্দর মানে এমন বন্দর যেখানে অনেক বড় ও ভারী জাহাজ সরাসরি ভিড়তে পারে, ছোট জাহাজে পণ্য নামিয়ে আনতে হয় না।

এই প্রকল্পের অগ্রগতি, চালু হওয়ার সময় বা কারিগরি বিবরণ নিয়ে অনেক পরস্পরবিরোধী তথ্য প্রচলিত আছে। তাই এখানে কোনো সংখ্যা বা তারিখ মুখস্থ না করে, পরীক্ষার আগে /current-affairs থেকে হালনাগাদ অবস্থা দেখে নেওয়াই নিরাপদ।

তোমার জন্য নিশ্চিত তথ্য দুটি — জেলা কক্সবাজার, উপজেলা মহেশখালী। এই দুটিই ধরে রাখো।

সমুদ্রবন্দর, নদীবন্দর ও স্থলবন্দরের পার্থক্য

অনেকে এই তিন ধরনের বন্দর গুলিয়ে ফেলে। পার্থক্যটা আসলে সহজ — কে চলাচল করে আর কে পরিচালনা করে, এই দুটি প্রশ্নের উত্তরেই পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে যায়।

ধরন কী চলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা উদাহরণ
সমুদ্রবন্দর সমুদ্রগামী বড় জাহাজ সংশ্লিষ্ট বন্দর কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম, মোংলা, পায়রা
নদীবন্দর অভ্যন্তরীণ নৌযান, লঞ্চ, কার্গো বিআইডব্লিউটিএ সদরঘাট, নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল
স্থলবন্দর সড়কপথে সীমান্ত পারাপারের পণ্যবাহী যান বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ বেনাপোল, বুড়িমারী, হিলি

সমুদ্রবন্দর আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের সঙ্গে যুক্ত। নদীবন্দর দেশের ভেতরের নৌপথ সামলায়। আর স্থলবন্দর প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সড়কপথে বাণিজ্যের দরজা।

তিনটির নিয়ন্ত্রক সংস্থা তিন রকম — এই জায়গাটাতেই পরীক্ষার প্রশ্ন সবচেয়ে বেশি ফাঁদ পাতে।

আরেকটি পার্থক্য খেয়াল করো। সমুদ্রবন্দরের সংখ্যা নির্দিষ্ট ও কম, তাই তা মুখস্থ করা সহজ। কিন্তু নদীবন্দর ও স্থলবন্দরের সংখ্যা সময়ের সঙ্গে বাড়ে, কারণ সরকার নতুন বন্দর ঘোষণা করতে পারে।

তাই সমুদ্রবন্দরের ক্ষেত্রে সংখ্যা নিয়ে নিশ্চিত থাকতে পারো, আর নদীবন্দর বা স্থলবন্দরের মোট সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন এলে হালনাগাদ তালিকা মিলিয়ে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

নদীবন্দর ও বিআইডব্লিউটিএ

দেশের নদীবন্দর ও অভ্যন্তরীণ নৌপথ দেখাশোনা করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ, সংক্ষেপে বিআইডব্লিউটিএ

নদীপথের নাব্যতা রক্ষা, ড্রেজিং, নৌপথের সংকেত ব্যবস্থা, লঞ্চঘাট ব্যবস্থাপনা — এসবই এই সংস্থার কাজ।

ঢাকার প্রধান নদীবন্দর সদরঘাট। বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত এই বন্দর থেকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিপুলসংখ্যক যাত্রী নৌপথে যাতায়াত করে।

নদীমাতৃক দেশ হিসেবে বাংলাদেশে নৌপথের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে প্রশ্নে প্রায়ই বিআইডব্লিউটিএ-র নাম চলে আসে। সংক্ষিপ্ত রূপের পূর্ণরূপ জানতে চাওয়া হয় — তাই বানানসহ মনে রাখো।

সদরঘাট ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর, বরিশাল, খুলনা ও আশুগঞ্জ দেশের পরিচিত নদীবন্দর। এগুলোর নাম চেনা থাকলে "নিচের কোনটি নদীবন্দর নয়" ধরনের প্রশ্নে তুমি সহজেই ভুল বিকল্পটি বাদ দিতে পারবে।

একটি বিষয় গুলিয়ে ফেলো না — সদরঘাট নদীবন্দর, সমুদ্রবন্দর নয়। ঢাকায় কোনো সমুদ্রবন্দর নেই, কারণ ঢাকা সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত নয়।

স্থলবন্দরের পূর্ণ তালিকা

স্থলবন্দর দেখাশোনা করে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ।

দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল, যা যশোর জেলায় অবস্থিত। এর ঠিক বিপরীত পাশে ভারতের পেট্রাপোল স্থলবন্দর।

স্থলবন্দর জেলা
বেনাপোল (বৃহত্তম) যশোর
বুড়িমারী লালমনিরহাট
হিলি দিনাজপুর
সোনামসজিদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ
আখাউড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া
তামাবিল সিলেট
টেকনাফ কক্সবাজার

এই টেবিলটা মুখস্থ করার সহজ উপায় আছে। জেলার নাম ধরে ভাগ করো — উত্তরাঞ্চলে বুড়িমারী, হিলি ও সোনামসজিদ; পূর্বাঞ্চলে আখাউড়া ও তামাবিল; দক্ষিণে টেকনাফ; আর পশ্চিমে বেনাপোল।

বেনাপোল-পেট্রাপোল জুটিটি আলাদাভাবে মনে রাখো। "বেনাপোল" আর "পেট্রাপোল" — দুটোরই শেষে "পোল", এই মিলটাই মনে রাখার চাবি।

বন্দরের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য প্রতিষ্ঠান

পণ্য বন্দরে নামার পর আমদানি শুল্ক আদায়ের দায়িত্ব বন্দর কর্তৃপক্ষের নয়। এই কাজ করে কাস্টম হাউস, যা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীন প্রতিষ্ঠান।

অর্থাৎ একটি বন্দরে দুই ধরনের কর্তৃত্ব একসঙ্গে কাজ করে — বন্দর পরিচালনার দায়িত্বে বন্দর কর্তৃপক্ষ, আর রাজস্ব আদায়ের দায়িত্বে কাস্টম হাউস।

এই বিভাজনটি বুঝলে অনেক জটিল প্রশ্নের উত্তর সহজ হয়ে যায়। রাজস্ব প্রশাসন নিয়ে বিস্তারিত জানতে /blog/jatiyo-rajossho-board-nbr লেখাটি পড়ে নিতে পারো — সেখানে এনবিআর-এর কাঠামো ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করা আছে।

বন্দর যেমন অবকাঠামো, জাহাজ তেমনি বাহন। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় জাহাজ চলাচল সংস্থা হলো বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন।

এটিও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান, যা সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে যুক্ত।

পরীক্ষায় প্রায়ই রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থাগুলো একসঙ্গে জিজ্ঞাসা করা হয় — আকাশপথে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, রেলপথে বাংলাদেশ রেলওয়ে, আর সমুদ্রপথে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন।

এই তিনটি একসঙ্গে পড়লে স্মৃতিতে ভালো বসে। বিস্তারিত জানতে দেখো /blog/bangladesh-railway এবং /blog/biman-bangladesh-airlines

আরও একটি বিষয় মাথায় রাখো। বন্দর কেবল পণ্য ওঠানামার জায়গা নয় — এর সঙ্গে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ, নাবিকদের প্রশিক্ষণ, সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের নজরদারি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাও যুক্ত। এই পুরো ব্যবস্থার ছাতা হলো নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।

তাই কোনো প্রশ্নে যদি জিজ্ঞাসা করা হয় "অমুক বন্দর সংস্থাটি কোন মন্ত্রণালয়ের অধীন", তুমি নিরাপদে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় বলতে পারো — চট্টগ্রাম, মোংলা কিংবা পায়রা, তিনটির ক্ষেত্রেই উত্তর একই।

পরীক্ষায় যেভাবে প্রশ্ন আসে

বন্দর অধ্যায় থেকে প্রশ্নের ধরন মোটামুটি নির্দিষ্ট। কয়েকটি নমুনা দেখে নাও।

চট্টগ্রাম বন্দর কোন নদীর তীরে অবস্থিত? — কর্ণফুলী নদী।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কত সালে গঠিত হয়? — ১৯৭৬ সালে।

বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর কোনটি? — মোংলা বন্দর।

পায়রা বন্দর কোন জেলায়? — পটুয়াখালী।

বাংলাদেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর কোনটি? — বেনাপোল।

বেনাপোলের বিপরীতে ভারতের কোন স্থলবন্দর? — পেট্রাপোল।

সোনামসজিদ স্থলবন্দর কোন জেলায়? — চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

অভ্যন্তরীণ নৌপথ দেখাশোনা করে কোন সংস্থা? — বিআইডব্লিউটিএ।

এই ধরনের প্রশ্ন সমাধান করে হাত পাকাতে /practice/bangladesh-affairs অংশে বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন সমাধান করো। সময় ধরে অনুশীলনের জন্য /mock থেকে পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা দিতে পারো।

যে ভুলগুলো সবচেয়ে বেশি হয়

প্রথম ভুল — মোংলা বন্দরকে খুলনা জেলায় বলা। এটি বাগেরহাট জেলায়।

দ্বিতীয় ভুল — পায়রা বন্দরকে বরিশাল জেলায় ভাবা। এটি পটুয়াখালী জেলায়।

তৃতীয় ভুল — মাতারবাড়িকে সমুদ্রবন্দরের তালিকায় গুনে ফেলা। বাংলাদেশে কার্যকর সমুদ্রবন্দর তিনটি; মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণাধীন।

চতুর্থ ভুল — নদীবন্দর ও স্থলবন্দরের নিয়ন্ত্রক সংস্থা গুলিয়ে ফেলা। নদীবন্দর বিআইডব্লিউটিএ-র, স্থলবন্দর বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের।

পঞ্চম ভুল — বন্দরের শুল্ক আদায়ের কাজ বন্দর কর্তৃপক্ষের বলে ধরে নেওয়া। এটি কাস্টম হাউসের কাজ।

প্রস্তুতির পরিকল্পনা

বন্দর অধ্যায়টি একদিনেই শেষ করা সম্ভব, যদি পড়ার ক্রমটা ঠিক রাখো।

প্রথমে তিনটি সমুদ্রবন্দরের টেবিল মুখস্থ করো — নাম, নদী, জেলা, ক্রম। এটিই সবচেয়ে বেশি নম্বর দেয়।

এরপর স্থলবন্দরের টেবিল ধরো। সাতটি নাম আর জেলা — এর বেশি লাগবে না।

তৃতীয় ধাপে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো আলাদা করে লিখে ফেলো: নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিএ, বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন।

চতুর্থ ধাপে প্রশ্ন সমাধান। বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতির পুরো কাঠামো পাবে /bank/subject/bangladesh-affairs অংশে। আর সব বিষয়ের প্রশ্নব্যাংক এক জায়গায় দেখতে /bank পাতাটি ঘুরে এসো।

শেষ ধাপে সাম্প্রতিক তথ্য। বন্দর সম্প্রসারণ, নতুন টার্মিনাল, চুক্তি — এসব খবর নিয়মিত বদলায়, তাই /current-affairs নিয়মিত দেখা অভ্যাস করো।

সংক্ষিপ্ত পুনরাবৃত্তি

একনজরে মূল তথ্যগুলো আরেকবার দেখে নাও।

চট্টগ্রাম বন্দর — কর্ণফুলী নদী, দেশের প্রধান ও বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর, আমদানি-রপ্তানির সিংহভাগ এখান দিয়ে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ — গঠিত ১৯৭৬ সালে, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন।

সমুদ্রবন্দর তিনটি — চট্টগ্রাম, মোংলা (পশুর নদী, বাগেরহাট), পায়রা (রাবনাবাদ চ্যানেল, পটুয়াখালী, ২০১৩)।

মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর — কক্সবাজারের মহেশখালী, নির্মাণকাজ চলছে।

নদীবন্দর — বিআইডব্লিউটিএ; ঢাকার প্রধান নদীবন্দর সদরঘাট।

স্থলবন্দর — বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ; বৃহত্তম বেনাপোল (যশোর), বিপরীতে ভারতের পেট্রাপোল।

শুল্ক আদায় — কাস্টম হাউস, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীন। রাষ্ট্রীয় জাহাজ চলাচল সংস্থা — বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন।

এই তালিকাটুকু নিজের নোটবুকে তুলে রাখো। পরীক্ষার আগের রাতে এক মিনিটে চোখ বুলিয়ে নিলেই বন্দর অধ্যায় তোমার হাতের মুঠোয়। এবার /practice অংশে গিয়ে যাচাই করে নাও, কতটুকু সত্যিই মনে আছে।

Ah

Ahosan Habib

@ahosanhabib922

অচিনপুরের নির্মাতা। BCS ও চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে লেখেন — সিলেবাস, ব্যাকরণ ও পড়ার কৌশল।

চট্টগ্রাম বন্দরসমুদ্রবন্দরবিসিএসবাংলাদেশ বিষয়াবলি

আরও পড়ো