পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড কোন মন্ত্রণালয়ের অধীন? প্রতিষ্ঠা ও কাজ

২ আগস্ট, ২০২৬১৩ মিনিট পড়া

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড কবে ও কোন আইনে প্রতিষ্ঠিত, কোন মন্ত্রণালয়ের অধীন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কীভাবে চলে — পরীক্ষার্থীর জন্য গোছানো নোট ও টেবিল।

তিনটা তথ্য আগে মাথায় গেঁথে নাও, কারণ পরীক্ষায় ঘুরেফিরে এগুলোই আসে — পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৭ সালে, এটি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের অধীন, আর মাঠপর্যায়ে কাজটা করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাধ্যমে।

এই তিনটার বাইরে আরেকটা লাইন মনে রাখলে বেশিরভাগ প্রশ্নে আটকাবে না — গ্রাহক সংখ্যার হিসাবে বিআরইবি দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা, উৎপাদন সংস্থা নয়। এই "বিতরণ বনাম উৎপাদন" গোলমালটাই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটে।

নিচে পুরো কাঠামোটা ধাপে ধাপে সাজানো আছে — প্রতিষ্ঠা, মন্ত্রণালয়, সমিতির মডেল, বিদ্যুৎ খাতের তিন স্তর, আর শেষে ভুলের তালিকা ও রিভিশন টেবিল।

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড কবে প্রতিষ্ঠিত হয়

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৭ সালে, Rural Electrification Board Ordinance, 1977 — এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে। ইংরেজি নাম Bangladesh Rural Electrification Board, সংক্ষেপে বিআরইবি (BREB)

প্রতিষ্ঠার পেছনের কারণটা বোঝা দরকার, কারণ ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নে এটাই চায়। স্বাধীনতার পর দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা মূলত শহরকেন্দ্রিক ছিল। গ্রামে সংযোগ পৌঁছাত না, কারণ ছড়ানো-ছিটানো বসতিতে লাইন টানার খরচ বেশি, অথচ গ্রাহকপ্রতি বিদ্যুৎ ব্যবহার কম।

তাই বাণিজ্যিক হিসাবে গ্রামে বিদ্যুৎ দেওয়া "লাভজনক" ছিল না। এই ফাঁকটা পূরণ করতেই আলাদা একটি সংস্থা দরকার হলো, যার একমাত্র লক্ষ্য হবে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া

মনে রাখার সহজ সূত্র — নামেই উত্তর আছে। "পল্লী" মানে গ্রাম, "বিদ্যুতায়ন" মানে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া। অর্থাৎ সংস্থাটির কাজ গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছানো, বিদ্যুৎ উৎপাদন করা নয়।

প্রশ্ন উত্তর
প্রতিষ্ঠা সাল ১৯৭৭
প্রতিষ্ঠাকারী আইন Rural Electrification Board Ordinance, 1977
সংক্ষিপ্ত নাম বিআরইবি / BREB
মূল উদ্দেশ্য গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া
খাত বিতরণ (Distribution)
প্রধান কার্যালয় ঢাকা

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড কোন মন্ত্রণালয়ের অধীন

এটি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন। তবে এখানে একটা সূক্ষ্ম ব্যাপার আছে, যেটা ভালো প্রশ্নকর্তারা ধরেন।

এই মন্ত্রণালয়ের দুটি আলাদা বিভাগ — বিদ্যুৎ বিভাগ এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড পড়ে বিদ্যুৎ বিভাগের অধীনে।

তাই প্রশ্নে যদি "কোন বিভাগের অধীন" জানতে চায়, উত্তর মন্ত্রণালয়ের নাম নয় — উত্তর হবে বিদ্যুৎ বিভাগ। অপশনে দুটোই থাকলে সবচেয়ে নির্দিষ্টটা বেছে নিয়ো।

একই মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেশের প্রায় সব বিদ্যুৎ সংস্থাই পড়ে। মন্ত্রণালয় ও বিভাগভিত্তিক এই ধরনের প্রশ্ন প্রশাসনিক কাঠামোর অংশ, তাই বাংলাদেশ বিষয়াবলি অধ্যায়ের প্রশ্নব্যাংক থেকে একসাথে কয়েকটা সংস্থার মন্ত্রণালয় মিলিয়ে পড়ে ফেললে অনেকটা সময় বাঁচে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কী

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি — সংক্ষেপে পবিস — হলো সেই স্থানীয় সংস্থা, যেটি নির্দিষ্ট এলাকায় সরাসরি বিদ্যুৎ বিতরণ করে, মিটার বসায়, বিল করে, লাইন রক্ষণাবেক্ষণ করে।

বিআরইবি নিজে ঘরে ঘরে গিয়ে বিল দেয় না। বিআরইবি নীতি ঠিক করে, পরিকল্পনা করে, তহবিল ও কারিগরি সহায়তা দেয় এবং সমিতিগুলোকে তত্ত্বাবধান করে। বাস্তব সেবাটা দেয় সমিতি।

গ্রাহকরাই সমিতির সদস্য — এটাই মডেলটার মূল কথা। সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত পরিচালনা বোর্ড থাকে, যারা সমিতির সিদ্ধান্তে অংশ নেয়। অর্থাৎ কাঠামোটা সমবায় ধাঁচের

সম্পর্কটা এক লাইনে ধরলে — বিআরইবি হলো অভিভাবক সংস্থা, পবিস হলো মাঠে কাজ করা হাত।

দিক বিআরইবি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (পবিস)
ধরন জাতীয় পর্যায়ের সরকারি সংস্থা স্থানীয় সমবায় ধাঁচের সংস্থা
কাজ নীতি, পরিকল্পনা, তহবিল, তত্ত্বাবধান সরাসরি বিতরণ, সংযোগ, বিলিং
পরিধি সারা দেশ নির্দিষ্ট এলাকা
সদস্য/গ্রাহক সরাসরি গ্রাহক নেই গ্রাহকরাই সদস্য

সমিতির সংখ্যা, মোট গ্রাহক সংখ্যা আর বিতরণ লাইনের দৈর্ঘ্য — এই তিনটা সংখ্যা প্রতি বছর বদলায় এবং বাড়ছে। তাই মুখস্থ পুরোনো সংখ্যা লিখে ফেলা ঝুঁকিপূর্ণ; পরীক্ষার আগে সাম্প্রতিক তথ্যের পাতা থেকে হালনাগাদ সংখ্যাটা দেখে নিয়ো।

সমবায় মডেলটা কোথা থেকে এসেছে

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ধারণাটা মৌলিকভাবে বাংলাদেশের নিজস্ব উদ্ভাবন নয়। এটি নেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রামীণ বিদ্যুতায়ন সমবায় ব্যবস্থার অনুকরণে।

যুক্তরাষ্ট্রেও একসময় একই সমস্যা ছিল — শহরে বিদ্যুৎ, গ্রামে নেই। সমাধান হিসেবে গ্রাহকদের নিজেদের মালিকানায় সমবায় গড়ে তোলা হয়, যারা নিজেরাই লাইন টেনে বিদ্যুৎ বিতরণ করে।

এই মডেলের সুবিধা কয়েকটা:

  • গ্রাহক নিজেই সদস্য, তাই সেবার প্রতি দায়বদ্ধতা তৈরি হয়
  • স্থানীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়, ঢাকায় ফাইল পাঠাতে হয় না
  • সিস্টেম লস ও বিল আদায়ে স্থানীয় জবাবদিহি কাজ করে
  • লাভ-ক্ষতি স্থানীয় এলাকাতেই ঘোরে

পরীক্ষায় প্রায়ই জানতে চায় "পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কোন দেশের মডেল অনুসরণে গঠিত" — উত্তর যুক্তরাষ্ট্র। এই একটা লাইন অনেকে বাদ দিয়ে পড়ে, আর ঠিক এখানেই প্রশ্নটা এসে যায়।

বিদ্যুৎ খাতের তিন ধাপ: উৎপাদন, সঞ্চালন, বিতরণ

বিআরইবি কোথায় বসে আছে সেটা বুঝতে হলে পুরো বিদ্যুৎ খাতের ছককাটা কাঠামোটা লাগবে। বিদ্যুৎ গ্রাহকের ঘর পর্যন্ত পৌঁছায় তিন ধাপে।

উৎপাদন (Generation) — কেন্দ্রে বিদ্যুৎ তৈরি হয়। এখানে প্রধান ভূমিকা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের, পাশাপাশি বেসরকারি উৎপাদনকারীরাও আছে।

সঞ্চালন (Transmission) — উচ্চ ভোল্টেজে জাতীয় গ্রিডের মাধ্যমে বিদ্যুৎ দূরদূরান্তে পাঠানো হয়। এই কাজ করে পিজিসিবি, যা গঠিত হয় ১৯৯৬ সালে

বিতরণ (Distribution) — ভোল্টেজ নামিয়ে গ্রাহকের ঘরে পৌঁছে দেওয়া হয়। এখানেই বিআরইবি ও অন্যান্য বিতরণ সংস্থার কাজ।

ধাপ কাজ দায়িত্বে
উৎপাদন বিদ্যুৎ তৈরি বিপিডিবি ও অন্যান্য উৎপাদনকারী
সঞ্চালন জাতীয় গ্রিডে পরিবহন পিজিসিবি (১৯৯৬)
বিতরণ গ্রাহকের কাছে সরবরাহ বিআরইবি, ডিপিডিসি, ডেসকো, নেসকো, ওজোপাডিকো
নিয়ন্ত্রণ লাইসেন্স ও ট্যারিফ বিইআরসি

উৎপাদনের দিকটা আলাদা করে গোছানো আছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড নিয়ে লেখাটিতে — বিআরইবি পড়ার পর ওটা পড়লে পুরো খাতের ছবিটা এক জায়গায় দাঁড়িয়ে যাবে, আর দুটো সংস্থা গুলিয়ে ফেলার ঝুঁকিও থাকবে না।

বিতরণ সংস্থাগুলো কে কোথায় কাজ করে

বিতরণ সংস্থা একাধিক, আর এলাকাভিত্তিক ভাগটা প্রশ্নে আসে। মোটা দাগে এভাবে মনে রাখো।

সংস্থা কাজের এলাকা (মোটা দাগে)
বিআরইবি (সমিতির মাধ্যমে) সারা দেশের গ্রামাঞ্চল
ডিপিডিসি ঢাকার একাংশ ও আশপাশ
ডেসকো ঢাকার একাংশ
নেসকো দেশের উত্তরাঞ্চল
ওজোপাডিকো দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল

নামগুলোর পূর্ণরূপ ধরে মনে রাখলে এলাকাও মনে থাকে — নেসকোর নামে "নর্দান" আছে, তাই উত্তরাঞ্চল; ওজোপাডিকোর নামে "ওয়েস্ট জোন" আছে, তাই পশ্চিমাঞ্চল। এভাবে সূত্র ধরে মনে রাখলে অপশন দেখে বিভ্রান্ত হবে না।

এই ধরনের এলাকাভিত্তিক ম্যাচিং প্রশ্ন বারবার অনুশীলন করলেই পাকা হয়। বাংলাদেশ বিষয়াবলির অনুশীলন সেট থেকে কয়েক রাউন্ড দিলে নামগুলো আর গুলিয়ে যাবে না।

বিআরইবি কেন দেশের বৃহত্তম বিতরণ সংস্থা

উত্তরটা ভূগোলে। বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ গ্রামে থাকে, আর গ্রামাঞ্চলের বিতরণ দায়িত্ব বিআরইবির।

ঢাকার সংস্থাগুলোর এলাকা ছোট, গ্রাহক ঘন — কিন্তু সংখ্যায় কম। বিআরইবির এলাকা সারা দেশজুড়ে ছড়ানো, গ্রাহক পাতলা — কিন্তু সংখ্যায় বিশাল।

তাই গ্রাহক সংখ্যার দিক থেকে বিআরইবি দেশের বৃহত্তম বিতরণ সংস্থা। এই "গ্রাহক সংখ্যার দিক থেকে" শব্দগুচ্ছটা গুরুত্বপূর্ণ — বৃহত্তম বলতে সব দিক থেকে বৃহত্তম বোঝানো হচ্ছে না।

আরেকটা কারণ বিতরণ লাইনের দৈর্ঘ্য। গ্রামে বসতি ছড়ানো বলে অল্প গ্রাহকের জন্যও লম্বা লাইন টানতে হয়, ফলে নেটওয়ার্কের বিস্তারও সবচেয়ে বড়।

শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা

২০২২ সালে দেশে শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়। সালটা মনে রাখো, কারণ সাম্প্রতিক ঘটনার প্রশ্নে এটি নিয়মিত আসে।

তবে "শতভাগ বিদ্যুতায়ন" কথাটার মানে বুঝে রাখা দরকার। এর অর্থ দেশের সব এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগের আওতা পৌঁছেছে — এর অর্থ এই নয় যে সারাক্ষণ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ থাকে বা প্রতিটি ঘরে সংযোগ নেওয়া হয়ে গেছে।

এই অর্জনে বিআরইবির ভূমিকাই সবচেয়ে বড়, কারণ যে এলাকাগুলোতে সংযোগ বাকি ছিল সেগুলোর প্রায় সবই গ্রামাঞ্চল।

এমন সাল-নির্ভর প্রশ্নের প্রস্তুতির জন্য সাম্প্রতিক তথ্যের অংশটা নিয়মিত চোখ বুলিয়ে রাখো, কারণ এই ধরনের তথ্যে হালনাগাদ থাকাটাই আসল সুবিধা।

বিআরইবির দায়িত্ব ও কাজ কী কী

বিআরইবির কাজগুলো এক জায়গায় সাজালে ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নের উত্তর তৈরি হয়ে যায়:

  • গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার পরিকল্পনা ও সম্প্রসারণ
  • পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি গঠন, নিবন্ধন ও তত্ত্বাবধান
  • সমিতির জন্য তহবিল ও কারিগরি সহায়তার ব্যবস্থা
  • বিতরণ লাইন ও সাবস্টেশন নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের তদারকি
  • সেচ, ক্ষুদ্র শিল্প ও গ্রামীণ উদ্যোগে বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করা
  • সমিতির জনবলের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন
  • সিস্টেম লস কমানো ও সেবার মান তদারকি

শেষ দুটো পয়েন্ট অনেকে বাদ দেয়, অথচ লিখিত পরীক্ষায় "বিআরইবির কার্যাবলি লিখুন" এলে তালিকা যত বিস্তৃত হয় নম্বর তত ভালো আসে।

আরেকটা দিক খেয়াল রেখো — গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছানোর ফল শুধু ঘরে আলো নয়। সেচ পাম্প চালু হওয়া, ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে ওঠা, রাতে পড়াশোনার সুযোগ — এসব অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব ব্যাখ্যামূলক উত্তরে যোগ করলে লেখা পূর্ণতা পায়।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিইআরসির ভূমিকা

বিদ্যুৎ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিইআরসি (BERC) — বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। এটি উৎপাদন, সঞ্চালন বা বিতরণ কোনোটাই করে না।

বিইআরসির কাজ নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি — লাইসেন্স দেওয়া, ট্যারিফ বা দাম নির্ধারণসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত, সেবার মান তদারকি এবং বিরোধ নিষ্পত্তি।

তাই "বিদ্যুতের দাম কে নির্ধারণ করে" ধরনের প্রশ্নে উত্তর বিআরইবি নয়, বিপিডিবিও নয় — নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকাটা আলাদা করে মনে রাখো।

সংস্থাটি গঠনের সাল ও আইনের নাম নিয়ে প্রশ্ন এলে হালনাগাদ সূত্র দেখে নিশ্চিত হয়ে নিয়ো — আন্দাজে সাল লিখে দেওয়ার চেয়ে ভূমিকাটা পরিষ্কার জানা বেশি কাজে দেয়।

যেসব ভুল সবচেয়ে বেশি হয়

এই অধ্যায়ে ভুলগুলো খুব নির্দিষ্ট। একবার দেখে নিলে অনেক নম্বর বেঁচে যায়।

ভুল ধারণা সঠিক তথ্য
বিআরইবি বিদ্যুৎ উৎপাদন করে বিআরইবি বিতরণ সংস্থা, উৎপাদন করে না
বিআরইবি আর বিপিডিবি একই দুটি আলাদা সংস্থা, কাজও আলাদা
বিআরইবি ও পবিস একই সংস্থা বিআরইবি জাতীয় বোর্ড, পবিস স্থানীয় সমিতি
এটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের অধীন
প্রতিষ্ঠা সাল ১৯৭২ প্রতিষ্ঠা সাল ১৯৭৭
সমবায় মডেলটি ভারতের অনুকরণে মডেলটি যুক্তরাষ্ট্রের অনুকরণে
সঞ্চালনের কাজও বিআরইবি করে সঞ্চালন করে পিজিসিবি

"পল্লী" শব্দটা দেখে অনেকে ধরে নেয় সংস্থাটি পল্লী উন্নয়ন বা স্থানীয় সরকারের অধীন। এই ফাঁদটা খুব সাধারণ — নামের প্রথম শব্দ দেখে মন্ত্রণালয় আন্দাজ করতে যেয়ো না।

প্রতিষ্ঠা সালের ক্ষেত্রেও সাবধান। অপশনে ১৯৭২, ১৯৭৩, ১৯৭৭, ১৯৭৮ — এভাবে কাছাকাছি সাল দিয়ে বিভ্রান্ত করা হয়। ১৯৭৭, এটাই আঁকড়ে ধরো।

পরীক্ষায় যেভাবে প্রশ্ন আসে

প্রশ্নের ধরনগুলো মোটামুটি নির্দিষ্ট। কোন ধরনে কী উত্তর, নিচে সাজানো।

প্রশ্নের ধরন উদাহরণ উত্তরের সূত্র
প্রতিষ্ঠা সাল পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড কবে প্রতিষ্ঠিত হয়? ১৯৭৭
মন্ত্রণালয় এটি কোন বিভাগের অধীন? বিদ্যুৎ বিভাগ
কাজের ধরন এটি কোন খাতের সংস্থা? বিতরণ
মডেল পবিস কোন দেশের মডেল অনুসরণে? যুক্তরাষ্ট্র
তুলনা বৃহত্তম বিতরণ সংস্থা কোনটি? বিআরইবি (গ্রাহক সংখ্যায়)
সাম্প্রতিক শতভাগ বিদ্যুতায়ন ঘোষণা কবে? ২০২২
খাত কাঠামো সঞ্চালনের দায়িত্বে কে? পিজিসিবি (১৯৯৬)
ব্যাখ্যামূলক বিআরইবির কার্যাবলি লিখুন দায়িত্বের তালিকা

প্রিলির জন্য উপরের ছয় লাইনই যথেষ্ট। লিখিত পরীক্ষায় এর সঙ্গে সমবায় মডেলের ব্যাখ্যা ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রভাব যোগ করতে হয়।

সংস্থাভিত্তিক প্রশ্ন আসলে একই ছাঁচে ঘোরে — প্রতিষ্ঠা সাল, মন্ত্রণালয়, প্রধান কাজ, বিশেষ বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশ রেলওয়ে নিয়ে লেখাটিতেও একই ছক ধরে এগোনো হয়েছে, তাই একটার পড়ার ধরন শিখে গেলে বাকিগুলো দ্রুত হয়ে যায়।

সময় মেপে পুরো অধ্যায় যাচাই করতে চাইলে মক টেস্টে বসে যাও — চাপের মধ্যে কোন তথ্যটা মনে থাকছে না, সেটা তখনই ধরা পড়ে।

পড়ার সময় যে ভুলটা কৌশলগত

এই অধ্যায়ে অনেকে সংখ্যা মুখস্থ করতে গিয়ে সময় নষ্ট করে — কয়টি সমিতি, কত গ্রাহক, কত কিলোমিটার লাইন। এই সংখ্যাগুলো প্রতি বছর বদলায়, আর বদলায় বলেই প্রশ্নকর্তারা সাধারণত এড়িয়ে চলেন।

তার বদলে যেগুলো স্থির, সেগুলোতে জোর দাও — প্রতিষ্ঠা সাল, আইনের নাম, মন্ত্রণালয় ও বিভাগ, খাতের ধরন, সমবায় মডেলের উৎস। এগুলো বদলায় না, তাই এখান থেকেই প্রশ্ন আসে।

আরেকটা কৌশল — একই সঙ্গে তিনটা সংস্থা পড়ে ফেলো। বিআরইবি, বিপিডিবি আর পিজিসিবি একসাথে পড়লে কে কী করে সেই বিভ্রান্তিটা গোড়াতেই মুছে যায়।

শব্দের বানানও খেয়াল রেখো। "বিদ্যুতায়ন" বানানটা লিখিত পরীক্ষায় অনেকে ভুল করে। এমন যুক্তাক্ষর ও তদ্ভব-তৎসম শব্দের বানান আলাদা করে ঝালিয়ে নিতে বাংলা ব্যাকরণের বইটা কাজে লাগবে।

এক নজরে মনে রাখার তথ্য

বিষয় তথ্য
প্রতিষ্ঠা ১৯৭৭
আইন Rural Electrification Board Ordinance, 1977
মন্ত্রণালয় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়
বিভাগ বিদ্যুৎ বিভাগ
খাত বিতরণ
মাঠপর্যায়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (পবিস)
সমিতির মডেল সমবায় ধাঁচ, যুক্তরাষ্ট্রের অনুকরণে
অবস্থান গ্রাহক সংখ্যায় বৃহত্তম বিতরণ সংস্থা
শতভাগ বিদ্যুতায়ন ঘোষণা ২০২২
সঞ্চালন সংস্থা পিজিসিবি (১৯৯৬)
অন্য বিতরণ সংস্থা ডিপিডিসি, ডেসকো, নেসকো, ওজোপাডিকো
নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিইআরসি

এই টেবিলটা পরীক্ষার আগের রাতে একবার চোখ বুলিয়ে নিলেই যথেষ্ট। ১৯৭৭, বিদ্যুৎ বিভাগ, বিতরণ, পবিস, যুক্তরাষ্ট্র, ২০২২ — এই ছয়টা শব্দে পুরো অধ্যায়ের সারমর্ম ধরা আছে।

পড়া শেষে সঙ্গে সঙ্গে যাচাই করে নিয়ো, কারণ পড়ার পরপর প্রশ্ন সমাধান করলে তথ্য অনেক বেশি দিন টেকে। প্রশ্নব্যাংকে সংস্থাভিত্তিক প্রশ্নগুলো একসঙ্গে পাবে, আর অনুশীলন অংশে অধ্যায় ধরে ধরে ঝালিয়ে নিতে পারবে।

Ah

Ahosan Habib

@ahosanhabib922

অচিনপুরের নির্মাতা। BCS ও চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে লেখেন — সিলেবাস, ব্যাকরণ ও পড়ার কৌশল।

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডবিদ্যুৎবিসিএসবাংলাদেশ বিষয়াবলি

আরও পড়ো