রেলপথ মন্ত্রণালয় কীভাবে আলাদা হলো, অধীনে কী কী আছে?

২ আগস্ট, ২০২৬১৩ মিনিট পড়া

রেলপথ মন্ত্রণালয় ২০১১ সালে গঠন, বাংলাদেশ রেলওয়ের দুই অঞ্চল, গেজের ধরন, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও কমলাপুর — বিসিএস প্রস্তুতির গোছানো নোট।

বাংলাদেশ বিষয়াবলিতে রেল একটা মজার অধ্যায় — তথ্য কম, কিন্তু প্রশ্ন আসে নিয়মিত। আর যে কয়টা তথ্য আসে, সেগুলো এতই নির্দিষ্ট যে জানা থাকলে পুরো নম্বর, না জানলে শূন্য।

এই লেখায় তুমি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের গঠন, বাংলাদেশ রেলওয়ের অঞ্চল ভাগ, গেজ ব্যবস্থা আর পরীক্ষায় বারবার ঘুরে আসা তথ্যগুলো একসঙ্গে পাবে।

রেলপথ মন্ত্রণালয় কেন আলাদা হলো

রেল আগে কখনো স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় ছিল না। রেল পরিচালিত হতো যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে, সড়কের সঙ্গে একই ছাদের নিচে।

রেলখাতকে আলাদা গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন থেকে ২০১১ সালে রেলপথ মন্ত্রণালয় আলাদা মন্ত্রণালয় হিসেবে গঠিত হয়। এই সালটি পরীক্ষায় সরাসরি জিজ্ঞেস করা হয় — মনে রাখো, দুই হাজার এগারো।

আলাদা হওয়ার পর সড়ক সংক্রান্ত কাজ থেকে গেছে /blog/sorok-poribohon-setu-montronaloy লেখায় বর্ণিত সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে, আর রেল সংক্রান্ত সবকিছু চলে এসেছে এই নতুন মন্ত্রণালয়ে।

মন্ত্রণালয়ের কাঠামো

অন্য মন্ত্রণালয়ের মতোই এখানে রাজনৈতিক প্রধান মন্ত্রী এবং প্রশাসনিক প্রধান সচিব। মন্ত্রণালয়ের দপ্তর বাংলাদেশ সচিবালয়ে।

স্তর পরিচয় কাজ
রেলপথ মন্ত্রণালয় নীতিনির্ধারণী একক, সচিবালয়ে নীতি, বাজেট, আইন, প্রকল্প অনুমোদন
বাংলাদেশ রেলওয়ে বাস্তবায়নকারী সংস্থা, রেল ভবনে ট্রেন পরিচালনা, লাইন ও স্টেশন ব্যবস্থাপনা

মনে রাখার সূত্র — মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেয়, রেলওয়ে ট্রেন চালায়। এই দুইয়ের নাম আলাদা করে চেনা জরুরি, কারণ প্রশ্নে দুটোকেই অপশনে রাখা হয়।

অধীন দপ্তর ও সংস্থা

এই মন্ত্রণালয়ের অধীন কাঠামো তুলনামূলকভাবে সহজ, কারণ প্রধান সংস্থা একটিই।

সংস্থা ধরন প্রধান কার্যালয় প্রশাসনিক প্রধান
বাংলাদেশ রেলওয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত পরিবহন সংস্থা রেল ভবন, ঢাকা মহাপরিচালক

এখানে দুটি তথ্য সরাসরি প্রশ্নে আসে — বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান কার্যালয় রেল ভবন, ঢাকা; এবং এর প্রশাসনিক প্রধানের পদবি মহাপরিচালক। মহাপরিচালক শব্দটি খেয়াল করো, চেয়ারম্যান বা সচিব নয়।

মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ইউনিট ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানও থাকে, তবে পরীক্ষার দৃষ্টিকোণ থেকে মূল উত্তর সবসময় বাংলাদেশ রেলওয়ে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে: দুই অঞ্চল

এটি এই অধ্যায়ের সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত তথ্য। বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রশাসনিকভাবে দুটি অঞ্চলে বিভক্ত।

অঞ্চল সদর দপ্তর ভৌগোলিক অবস্থান
পূর্বাঞ্চল চট্টগ্রাম যমুনা নদীর পূর্ব দিক
পশ্চিমাঞ্চল রাজশাহী যমুনা নদীর পশ্চিম দিক

পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল — এই ভাগটি হয়েছে যমুনা নদী ধরে। নদীটাই সীমারেখা, এটা মনে রাখলে কোন জেলা কোন অঞ্চলে পড়বে সেটাও যুক্তি দিয়ে বের করতে পারবে।

সহজ সূত্র: পূর্ব দিকে চট্টগ্রাম, পশ্চিম দিকে রাজশাহী। ঢাকা যমুনার পূর্বে, তাই ঢাকা পড়ে পূর্বাঞ্চলে। এই ছোট যুক্তিটাই অনেক প্রশ্নে কাজে লাগে।

গেজ ব্যবস্থা: তিন রকম রেললাইন

রেললাইনের দুই পাটির মধ্যেকার দূরত্বকে বলে গেজ। বাংলাদেশে তিন রকম গেজ আছে, আর এটাই আমাদের রেল ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় কারিগরি জটিলতা।

গেজ প্রস্থ পরিচয়
ব্রডগেজ ১৬৭৬ মিলিমিটার চওড়া লাইন, বেশি ধারণক্ষমতা
মিটারগেজ ১০০০ মিলিমিটার সরু লাইন, এক মিটার প্রস্থ
ডুয়েলগেজ দুই ধরনের একসঙ্গে একই লাইনে ব্রড ও মিটার উভয় ট্রেন চলে

ব্রডগেজ ও মিটারগেজ নিয়ে প্রশ্নে সংখ্যাটা সরাসরি চাওয়া হয়। মিটারগেজ মানে এক হাজার মিলিমিটার, অর্থাৎ ঠিক এক মিটার — নামেই উত্তর লুকিয়ে আছে। ব্রডগেজের মাপ ১৬৭৬ মিলিমিটার।

ডুয়েলগেজ ব্যবস্থার সুবিধা হলো, একই ট্র্যাকে দুই ধরনের ট্রেনই চালানো যায়, ফলে গেজ বদলের ঝামেলা কমে। বড় নতুন প্রকল্পগুলোতে ডুয়েলগেজ ব্যবহারের প্রবণতা বেশি।

এই অঞ্চলে রেলের সূচনা

উপমহাদেশে রেল আসার পর বর্তমান বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রথম রেল চালু হয় ১৮৬২ সালে, দর্শনা–জগতি পথে।

এই তথ্যটি প্রায় প্রতিটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি বইয়ে থাকে, এবং প্রশ্নেও আসে বারবার। সাল ১৮৬২, পথ দর্শনা থেকে জগতি। দর্শনা চুয়াডাঙ্গা জেলায়, আর জগতি কুষ্টিয়ায় — অর্থাৎ প্রথম রেলপথ ছিল দেশের পশ্চিম অংশে।

মনে রাখার কৌশল — প্রথম রেল পশ্চিমাঞ্চলে, আর পশ্চিমাঞ্চলের সদর দপ্তর রাজশাহী। দুটো তথ্য একসঙ্গে বাঁধা পড়ে যায়।

হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও গুরুত্বপূর্ণ রেলসেতু

রেল অধ্যায়ে সেতু সংক্রান্ত প্রশ্ন আসে নিয়মিত।

সেতু নদী অবস্থান বৈশিষ্ট্য
হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পদ্মা পাকশী, পাবনা রেলসেতু
বঙ্গবন্ধু সেতু যমুনা সিরাজগঞ্জ–টাঙ্গাইল বহুমুখী, সড়ক ও রেল
পদ্মা সেতু পদ্মা মাওয়া–জাজিরা বহুমুখী, সড়ক ও রেল

হার্ডিঞ্জ ব্রিজ নিয়ে দুটো ভুল খুব হয় — কেউ ভাবে এটি যমুনার উপর, কেউ ভাবে এটি সড়কসেতু। সঠিক তথ্য: হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পাকশীতে পদ্মা নদীর উপর নির্মিত রেলসেতু।

বঙ্গবন্ধু সেতু ও পদ্মা সেতু বহুমুখী, অর্থাৎ সড়ক ও রেল দুই-ই যায়। তবে সেতু দুটির নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রশাসনিক দায়িত্ব সেতু বিভাগের, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের নয় — বিস্তারিত /blog/bangladesh-setu-kortripokkho লেখায়।

কমলাপুর রেলস্টেশন ও প্রধান স্টেশনগুলো

ঢাকার প্রধান রেলস্টেশন কমলাপুর রেলস্টেশন, যার আনুষ্ঠানিক নাম ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন। দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত ও বড় স্টেশন এটি, স্থাপত্যশৈলীর কারণেও পরিচিত।

স্টেশন শহর তাৎপর্য
কমলাপুর ঢাকা রাজধানীর প্রধান স্টেশন
চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম পূর্বাঞ্চলের সদর দপ্তর শহর
রাজশাহী রাজশাহী পশ্চিমাঞ্চলের সদর দপ্তর শহর
পাকশী পাবনা হার্ডিঞ্জ ব্রিজ সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ রেল জংশন এলাকা
দর্শনা চুয়াডাঙ্গা এ অঞ্চলে প্রথম রেলপথের সূচনাস্থল

রেল বনাম মেট্রোরেল: কার অধীনে কে

একটা প্রশ্ন খুব ঘোরে — ঢাকার মেট্রোরেল কি বাংলাদেশ রেলওয়ের?

উত্তর: না। মেট্রোরেল পরিচালনা করে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড, যা সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অধীন। অর্থাৎ রেললাইনে চললেও মেট্রোরেল রেলপথ মন্ত্রণালয়ের নয়।

বিষয় বাংলাদেশ রেলওয়ে ঢাকা মেট্রোরেল
মন্ত্রণালয় রেলপথ মন্ত্রণালয় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়
পরিচালক সংস্থা বাংলাদেশ রেলওয়ে ডিএমটিসিএল
সেবার ধরন আন্তঃনগর ও লোকাল ট্রেন, মালবাহী নগরকেন্দ্রিক দ্রুতগতির গণপরিবহন

এই ধরনের "দেখতে এক, কিন্তু অধীনস্থতা আলাদা" প্রশ্নই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রার্থী ছাঁকার কাজ করে। বাংলাদেশ রেলওয়ের অভ্যন্তরীণ বিভাগ ও কার্যক্রম নিয়ে আলাদা বিস্তারিত পাবে /blog/bangladesh-railway লেখায়।

রেলওয়ের কাজের ক্ষেত্র

বাংলাদেশ রেলওয়ে শুধু যাত্রী পরিবহন করে না। কাজের পরিধি বোঝা থাকলে লিখিত পরীক্ষায় সুবিধা হয়।

  • আন্তঃনগর, মেইল ও লোকাল ট্রেন পরিচালনা
  • পণ্য ও কনটেইনার পরিবহন, বিশেষত বন্দরকেন্দ্রিক
  • রেললাইন, সেতু ও সিগন্যাল ব্যবস্থার নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ
  • স্টেশন ব্যবস্থাপনা ও টিকিট ব্যবস্থা পরিচালনা
  • আন্তঃদেশীয় রেল সংযোগ পরিচালনা
  • নিজস্ব কারখানায় ইঞ্জিন ও কোচ মেরামত

রেলের যাত্রীসংখ্যা, আয় বা নতুন রুট চালুর মতো তথ্য প্রতিবছর বদলায়। সেসব সাম্প্রতিক তথ্যের জন্য /current-affairs অংশে চোখ রাখো।

নাম বদলের ধারা

রেলের প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ রেলওয়ে নামটি নতুন, কিন্তু সংস্থাটি পুরোনো। রাজনৈতিক পট বদলের সঙ্গে সঙ্গে নামও বদলেছে।

সময়পর্ব নাম
ব্রিটিশ আমল ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে
পাকিস্তান আমল পাকিস্তান ইস্টার্ন রেলওয়ে
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ রেলওয়ে, ১৯৭২ সাল থেকে

তিনটি ধাপ ক্রম ধরে মনে রাখো। প্রশ্নে অনেক সময় শুধু "পাকিস্তান ইস্টার্ন রেলওয়ে কোন সংস্থার পূর্বনাম" এভাবেই জানতে চাওয়া হয়।

আর প্রথম রেলপথটি চালু করেছিল ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে, লাইনটি ছিল ব্রডগেজ। অর্থাৎ দর্শনা–জগতি প্রসঙ্গে গেজের কথা জিজ্ঞেস করলে উত্তর ব্রডগেজ।

কোন অঞ্চলে কোন গেজ

গেজের মাপ মুখস্থ করা সহজ, কিন্তু কোন অঞ্চলে কোনটির প্রাধান্য — সেটি অনেকে জানে না।

অঞ্চল প্রধান গেজ সঙ্গে যুক্ত তথ্য
পশ্চিমাঞ্চল ব্রডগেজের প্রাধান্য সদর দপ্তর রাজশাহী
পূর্বাঞ্চল মিটারগেজের প্রাধান্য সদর দপ্তর চট্টগ্রাম

দুই অঞ্চলে দুই গেজ থাকার কারণেই সরাসরি ট্রেন চালাতে সমস্যা হয়, আর সে কারণেই নতুন প্রকল্পে ডুয়েলগেজ বসানো হয়। লিখিত উত্তরে এই যুক্তিটি লিখলে গেজ-বৈচিত্র্যের সমস্যা ব্যাখ্যা করা সহজ হয়।

রেলওয়ের কারখানা ও বড় জংশন

রেলওয়ে নিজের ইঞ্জিন ও কোচ নিজেই মেরামত করে। কারখানার নাম ও জেলা মিলিয়ে প্রশ্ন আসে।

প্রতিষ্ঠান জেলা কাজ
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা নীলফামারী কোচ ও ওয়াগন নির্মাণ ও মেরামত
কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা, পার্বতীপুর দিনাজপুর ইঞ্জিন বা লোকোমোটিভ মেরামত

সহজ ভাগ — সৈয়দপুরে কোচ ও ওয়াগন, পার্বতীপুরে ইঞ্জিন। দুটোই উত্তরাঞ্চলে, অর্থাৎ পশ্চিমাঞ্চলীয় রেলের এলাকায়।

জংশনের ক্ষেত্রে ঈশ্বরদীর নাম আলাদা করে মনে রাখো। এটি দেশের একটি বড় ও গুরুত্বপূর্ণ রেল জংশন, আর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ সংলগ্ন পাকশীও এই এলাকাতেই।

হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নির্মাণকাল ১৯১৫ সাল — সেতুর নাম, নদী ও সালের এই তিনটি তথ্য একসঙ্গে গেঁথে রাখো।

আন্তর্জাতিক ট্রেন

প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে চলা ট্রেনগুলোর নাম ও রুট প্রায় প্রতিটি প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষায় আসে।

ট্রেন রুট
মৈত্রী এক্সপ্রেস ঢাকা–কলকাতা
বন্ধন এক্সপ্রেস খুলনা–কলকাতা
মিতালী এক্সপ্রেস ঢাকা–নিউ জলপাইগুড়ি

তিনটি নামই বন্ধুত্ববাচক শব্দ, তাই নাম আর রুট মিলিয়ে ফেলা সহজ। কৌশল করে ধরো — বন্ধন শুরু হয় খুলনা থেকে, বাকি দুটি ঢাকা থেকে; আর ঢাকা থেকে ছাড়া দুটির মধ্যে মিতালী যায় নিউ জলপাইগুড়ি।

রেলের প্রাথমিক পরিভাষা

কারিগরি শব্দগুলোর অর্থ জানা থাকলে ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নে সুবিধা পাবে।

শব্দ অর্থ
লোকোমোটিভ ট্রেনের ইঞ্জিন, যা টেনে নিয়ে চলে
কোচ যাত্রীবাহী বগি
ওয়াগন পণ্যবাহী বগি
সিঙ্গেল লাইন একটি লাইনে উভয় দিকের ট্রেন চলে
ডাবল লাইন প্রতিটি দিকের জন্য আলাদা লাইন
লেভেল ক্রসিং সড়ক ও রেললাইনের সমতল সংযোগস্থল
সিগন্যাল ও ইন্টারলকিং ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণের সংকেত ব্যবস্থা

কোচ ও ওয়াগনের পার্থক্যটি সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞাসিত — কোচে মানুষ, ওয়াগনে মাল।

সিঙ্গেল লাইনের সীমাবদ্ধতাও বোঝা দরকার। একটিমাত্র লাইনে দুই দিকের ট্রেন চললে একটিকে স্টেশনে দাঁড়িয়ে অন্যটিকে পথ ছাড়তে হয়, ফলে সময় বেশি লাগে। ডাবল লাইন করলে এই বিলম্ব কমে — লিখিত পরীক্ষায় রেলের সমস্যা ব্যাখ্যা করতে এই যুক্তিটি কাজে লাগে।

রেলওয়ে পুলিশ বনাম আরএনবি

এটি এই অধ্যায়ের সবচেয়ে সূক্ষ্ম ফাঁদ। রেলের নিরাপত্তায় দুটি আলাদা বাহিনী কাজ করে, আর দুটির অধীনস্থতা ভিন্ন।

বাহিনী অধীনস্থতা কাজের ধরন
রেলওয়ে পুলিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মামলা ও তদন্ত
রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী বা আরএনবি বাংলাদেশ রেলওয়ের নিজস্ব রেলের সম্পদ ও স্থাপনার নিরাপত্তা

নামে দুটোই রেলের, কিন্তু রেলওয়ে পুলিশ পুলিশ বাহিনীর অংশ, তাই তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন। আরএনবি রেলওয়ের নিজস্ব বাহিনী, তারা রেললাইন, স্টেশন ও মালামাল পাহারা দেয়।

প্রশ্নে "রেলওয়ে পুলিশ কোন মন্ত্রণালয়ের অধীন" জিজ্ঞেস করলে অনেকে অভ্যাসবশত রেলপথ মন্ত্রণালয় লিখে ফেলে। উত্তর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

যেসব ভুল সবচেয়ে বেশি হয়

  • রেলপথ মন্ত্রণালয়ের গঠনের সাল ভুলে যাওয়া। সঠিক উত্তর ২০১১ সাল; এর আগে রেল ছিল যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীন।
  • দুই অঞ্চলের সদর দপ্তর উল্টে ফেলা। পূর্বাঞ্চল চট্টগ্রাম, পশ্চিমাঞ্চল রাজশাহী।
  • অঞ্চল ভাগের নদী ভুল বলা। ভাগ হয়েছে যমুনা নদী ধরে, পদ্মা নয়।
  • গেজের মাপ গুলিয়ে ফেলা। মিটারগেজ ১০০০ মিমি, ব্রডগেজ ১৬৭৬ মিমি।
  • হার্ডিঞ্জ ব্রিজকে যমুনার উপর ভাবা। এটি পাকশীতে পদ্মা নদীর উপর।
  • মেট্রোরেলকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ভাবা। মেট্রোরেল ডিএমটিসিএলের অধীন।
  • রেলওয়ের প্রধানকে চেয়ারম্যান বলা। পদবি মহাপরিচালক।

পরীক্ষায় যেভাবে প্রশ্ন আসে

প্রশ্নের ধরন নমুনা উত্তরের সূত্র
গঠনভিত্তিক রেলপথ মন্ত্রণালয় কত সালে গঠিত হয়? ২০১১
অঞ্চলভিত্তিক রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের সদর দপ্তর কোথায়? চট্টগ্রাম
ভূগোলভিত্তিক দুই অঞ্চল কোন নদী দিয়ে ভাগ? যমুনা
কারিগরি মিটারগেজের প্রস্থ কত? ১০০০ মিমি
ইতিহাসভিত্তিক এ অঞ্চলে প্রথম রেল কোন পথে? দর্শনা–জগতি, ১৮৬২
স্থাপনাভিত্তিক হার্ডিঞ্জ ব্রিজ কোন নদীর উপর? পদ্মা, পাকশীতে
পদবিভিত্তিক বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রশাসনিক প্রধান কে? মহাপরিচালক

লিখিত পরীক্ষায় প্রশ্ন আসতে পারে রেলখাতের সম্ভাবনা ও সমস্যা নিয়ে। তখন গেজ-বৈচিত্র্য, লাইনের একমুখিতা, রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি — এই কাঠামোগত দিকগুলো তুলে ধরলে উত্তর শক্ত হয়।

প্রস্তুতি যাচাই করতে /practice/bangladesh-affairs অংশে প্রশ্ন দাও, পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষার অনুশীলনের জন্য /mock, আর ব্যাংক প্রার্থীদের বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতির জন্য /bank/subject/bangladesh-affairs দেখো।

এক নজরে মনে রাখার তথ্য

প্রশ্ন উত্তর
আলাদা মন্ত্রণালয় হয় ২০১১ সালে
আগে ছিল কোন মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়
প্রধান সংস্থা বাংলাদেশ রেলওয়ে
রেলওয়ের প্রধান কার্যালয় রেল ভবন, ঢাকা
প্রশাসনিক প্রধান মহাপরিচালক
অঞ্চল সংখ্যা দুটি
পূর্বাঞ্চলের সদর দপ্তর চট্টগ্রাম
পশ্চিমাঞ্চলের সদর দপ্তর রাজশাহী
অঞ্চল ভাগের সীমারেখা যমুনা নদী
গেজ কয় ধরনের তিন — ব্রডগেজ, মিটারগেজ, ডুয়েলগেজ
ব্রডগেজ ও মিটারগেজের মাপ ১৬৭৬ মিমি ও ১০০০ মিমি
প্রথম রেলপথ দর্শনা–জগতি, ১৮৬২
হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পাকশী, পদ্মা নদী
প্রধান স্টেশন কমলাপুর রেলস্টেশন

রেল অধ্যায়টা ছোট, তাই একদিনেই গুছিয়ে ফেলা যায়। এরপর একই পদ্ধতিতে /blog/bidyut-jalani-khanij-montronaloy, /blog/srom-kormosongsthan-montronaloy ও /blog/probashi-kollan-montronaloy লেখাগুলো পড়ে নাও। রাষ্ট্রকাঠামো সংক্রান্ত প্রশ্নের ভিত্তি শক্ত করতে /constitution অংশটিও রাখো তালিকায়।

Ah

Ahosan Habib

@ahosanhabib922

অচিনপুরের নির্মাতা। BCS ও চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে লেখেন — সিলেবাস, ব্যাকরণ ও পড়ার কৌশল।

মন্ত্রণালয়বাংলাদেশ রেলওয়েবিসিএসযোগাযোগ

আরও পড়ো