শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আসলে কোন কাজগুলো করে?

২ আগস্ট, ২০২৬১৩ মিনিট পড়া

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন শ্রম অধিদপ্তর, ডিআইএফই, শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল, ন্যূনতম মজুরি বোর্ড, আইএলও ও সংবিধানের ধারা নিয়ে নোট।

শ্রম অধ্যায়টি অন্যরকম। এখানে শুধু সংস্থার নাম নয়, সংবিধানের অনুচ্ছেদ, আন্তর্জাতিক সংস্থা, দিবস — সব মিলিয়ে প্রশ্ন আসে। ফলে একটু গুছিয়ে পড়লে একসঙ্গে অনেক জায়গার নম্বর নিশ্চিত হয়ে যায়।

এই লেখায় তুমি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কাঠামো, অধীন প্রতিষ্ঠান, সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ আর আন্তর্জাতিক দিকটা একসঙ্গে ধরবে।

মন্ত্রণালয়টির পরিচয়

দেশের শ্রমিকদের অধিকার, কর্মপরিবেশের নিরাপত্তা, মজুরি, শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত নীতির কেন্দ্রবিন্দু হলো শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

অন্য মন্ত্রণালয়ের মতোই এটি বাংলাদেশ সচিবালয়ে অবস্থিত। রাজনৈতিক প্রধান মন্ত্রী, প্রশাসনিক প্রধান সচিব। মন্ত্রণালয় নীতি ও আইন তৈরি করে; মাঠপর্যায়ে আইন প্রয়োগ, পরিদর্শন ও নিবন্ধনের কাজ করে অধীনস্থ দপ্তরগুলো।

এই বিভাজনটি অন্য মন্ত্রণালয়ের বেলাতেও একইরকম — যেমন /blog/sorok-poribohon-setu-montronaloy লেখায় দেখানো হয়েছে, নীতি মন্ত্রণালয়ের আর বাস্তবায়ন অধিদপ্তরের।

অধীন দপ্তর ও সংস্থার তালিকা

প্রতিষ্ঠান ধরন মূল কাজ
শ্রম অধিদপ্তর অধিদপ্তর ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন, শিল্প বিরোধ নিষ্পত্তিতে সহায়তা, শ্রমিক কল্যাণ কার্যক্রম
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই) অধিদপ্তর কারখানা ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা পরিদর্শন, শ্রম আইন প্রয়োগ তদারকি
শ্রম আদালত বিচারিক প্রতিষ্ঠান শ্রম আইনের অধীনে বিরোধ ও অভিযোগের বিচার
শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল বিচারিক প্রতিষ্ঠান শ্রম আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল নিষ্পত্তি
ন্যূনতম মজুরি বোর্ড বোর্ড খাতভিত্তিক ন্যূনতম মজুরি সুপারিশ ও নির্ধারণ প্রক্রিয়া
শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন ফাউন্ডেশন দুর্ঘটনা, চিকিৎসা ও মৃত্যুজনিত ক্ষেত্রে শ্রমিক ও পরিবারকে সহায়তা

এই নামগুলো আর তাদের কাজ — এটুকু নিখুঁত থাকলে এই মন্ত্রণালয় থেকে আসা বেশিরভাগ প্রশ্নের উত্তর হাতের মুঠোয়।

শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন নামটি অপেক্ষাকৃত কম আলোচিত, কিন্তু প্রশ্নে আসে। এর কাজ কল্যাণমূলক — কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা, অসুস্থতা বা মৃত্যুর ঘটনায় শ্রমিক ও তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়ানো। মনে রাখার সূত্র — নামের ভেতরেই "কল্যাণ" আছে, তাই কাজও কল্যাণমূলক, পরিদর্শন বা বিচার নয়।

শ্রম অধিদপ্তর কী করে

শ্রম অধিদপ্তরের কাজ মূলত সম্পর্ক ও নিবন্ধনকেন্দ্রিক। কারখানার ভেতরের যন্ত্রপাতি বা সিঁড়ি নিরাপদ কিনা — সেটা দেখা এর কাজ নয়।

  • ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন ও তালিকাভুক্তি
  • শ্রমিক ও মালিকপক্ষের বিরোধ মীমাংসায় মধ্যস্থতা
  • শিল্প সম্পর্ক উন্নয়নে কার্যক্রম
  • শ্রমিক কল্যাণ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি
  • শ্রম পরিসংখ্যান সংগ্রহ ও সংরক্ষণে সহায়তা

ডিআইএফই কী করে

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, সংক্ষেপে ডিআইএফই, কাজ করে সরেজমিন পরিদর্শন নিয়ে।

  • কারখানা ও প্রতিষ্ঠানের অগ্নিনিরাপত্তা, কাঠামোগত ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা পরিদর্শন
  • শ্রম আইন অনুযায়ী কর্মঘণ্টা, ছুটি ও সুবিধা পালন হচ্ছে কিনা তদারকি
  • শিশুশ্রম প্রতিরোধে পরিদর্শন
  • আইন লঙ্ঘনে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ ও মামলা দায়ের
তুলনা শ্রম অধিদপ্তর ডিআইএফই
মূল ভূমিকা সম্পর্ক ও নিবন্ধন পরিদর্শন ও প্রয়োগ
চিহ্নিত কাজ ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন কারখানা নিরাপত্তা পরিদর্শন
মনে রাখার সূত্র কাগজ ও সম্পর্ক পরিদর্শকের চোখ

দুটি অধিদপ্তরকে গুলিয়ে ফেলা এই অধ্যায়ের সবচেয়ে সাধারণ ভুল। প্রশ্নে "নিবন্ধন" শব্দ থাকলে উত্তর শ্রম অধিদপ্তর, "পরিদর্শন" শব্দ থাকলে ডিআইএফই।

শ্রম আদালত ও শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল

শ্রমিক-মালিক বিরোধ আদালতেও যায়। শ্রম আদালতে মামলা নিষ্পত্তি হয়, আর সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল যায় শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে।

স্তর কাজ
শ্রম আদালত শ্রম আইনের অধীনে বিরোধ ও অভিযোগের বিচার
শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল শ্রম আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল নিষ্পত্তি

আপিল শব্দটি মনে রাখলেই স্তরক্রম পরিষ্কার — নিচে আদালত, উপরে ট্রাইব্যুনাল।

ন্যূনতম মজুরি বোর্ড

ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের কাজ খাতভিত্তিক সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া পরিচালনা করা। বোর্ড শ্রমিক ও মালিক উভয় পক্ষের প্রতিনিধি নিয়ে আলোচনার ভিত্তিতে সুপারিশ প্রস্তুত করে, পরে তা সরকারিভাবে ঘোষিত হয়।

গুরুত্বপূর্ণ কথা — মজুরি একটি খাতের জন্য একরকম, অন্য খাতের জন্য আরেকরকম। আর সময়ে সময়ে তা পুনর্নির্ধারিত হয়। তাই কোনো নির্দিষ্ট অঙ্ক মুখস্থ করার আগে /current-affairs অংশ থেকে সর্বশেষ ঘোষণাটি মিলিয়ে নিও।

বাংলাদেশ শ্রম আইন ও বিধিমালা

দেশে শ্রমিকদের অধিকার, কর্মঘণ্টা, ছুটি, নিরাপত্তা, ক্ষতিপূরণ ও ট্রেড ইউনিয়ন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ন্ত্রিত হয় বাংলাদেশ শ্রম আইন দ্বারা। এই আইনের অধীনে বিধিমালাও রয়েছে, যেখানে প্রয়োগের খুঁটিনাটি বলা আছে।

আইনটির আওতায় যেসব বিষয় পড়ে:

  • নিয়োগ ও চাকরির শর্ত
  • কর্মঘণ্টা, বিশ্রাম ও ছুটি
  • মজুরি পরিশোধ পদ্ধতি
  • কারখানার স্বাস্থ্য, স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপত্তা
  • দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ
  • ট্রেড ইউনিয়ন ও শিল্প সম্পর্ক
  • শিশু ও কিশোর শ্রম সংক্রান্ত বিধিনিষেধ

ট্রেড ইউনিয়ন ও যৌথ দরকষাকষি

শ্রম অধ্যায়ের সবচেয়ে ধারণাগত অংশ এটি। শ্রমিকেরা এককভাবে দাবি জানালে তার ওজন কম, কিন্তু সংগঠিতভাবে জানালে তা আলোচনার টেবিলে পৌঁছায়। সেই সংগঠনই ট্রেড ইউনিয়ন।

ধারণা ব্যাখ্যা
ট্রেড ইউনিয়ন শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষায় গঠিত নিবন্ধিত সংগঠন
নিবন্ধন নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে শ্রম অধিদপ্তরে নিবন্ধন
সিবিএ যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি, অর্থাৎ মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনার স্বীকৃত পক্ষ
যৌথ দরকষাকষি মজুরি, সুবিধা ও কর্মশর্ত নিয়ে সম্মিলিত আলোচনা
শিল্প বিরোধ মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে দাবি বা শর্ত নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ

সিবিএ সংক্ষেপটি প্রশ্নে সরাসরি আসে। এর অর্থ যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি — একাধিক ইউনিয়ন থাকলে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় যে সংগঠন আলোচনার আনুষ্ঠানিক অধিকার পায়, সেটিই সিবিএ।

বিরোধ মীমাংসার ধাপগুলোও ধারাবাহিক — প্রথমে দুই পক্ষের নিজেদের আলোচনা, তারপর সরকারি মধ্যস্থতা, তারপরও না হলে বিষয়টি শ্রম আদালতে যায়। এই ধাপক্রম মনে রাখলে "শিল্প বিরোধ নিষ্পত্তির প্রথম ধাপ কী" জাতীয় প্রশ্নে ভুল হবে না।

শিশুশ্রম ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ

শ্রম আইনের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ শিশুশ্রম। এখানে দুটি আলাদা ধারণা আছে, আর সেগুলো গুলিয়ে ফেলাই সাধারণ ভুল।

ধারণা ব্যাখ্যা
শিশুশ্রম নির্ধারিত বয়সের নিচে শিশুকে কাজে নিয়োগ
কিশোর শ্রমিক নির্দিষ্ট বয়সসীমার মধ্যে শর্তসাপেক্ষে কাজের অনুমতি
ঝুঁকিপূর্ণ কাজ স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা বা নৈতিকতার জন্য ক্ষতিকর বলে চিহ্নিত কাজ
তালিকাভুক্তি সরকার ঝুঁকিপূর্ণ কাজের তালিকা ঘোষণা করে
তদারকি ডিআইএফইর পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রয়োগ

মূল কথাটি এই — শিশুশ্রম নিষিদ্ধ, আর ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশু-কিশোর কাউকেই নিয়োগ করা যায় না। শিশুশ্রম নিরসন কেবল আইন প্রয়োগের বিষয় নয়, শিক্ষা ও দারিদ্র্যের সঙ্গেও যুক্ত — তাই লিখিত উত্তরে আইন, পরিদর্শন ও সামাজিক সুরক্ষা তিনটিকেই একসঙ্গে আনতে হয়।

সামাজিক সুরক্ষার দিকটি বুঝতে /blog/somajkollan-montronaloy লেখাটি পাশাপাশি পড়ে নাও।

কারখানা নিরাপত্তা ও সংস্কার উদ্যোগ

কর্মপরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন এলে নিরাপত্তার তিনটি স্তম্ভ মনে রাখো।

স্তম্ভ কী দেখা হয়
অগ্নিনিরাপত্তা বহির্গমন পথ, অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা, মহড়া
কাঠামোগত নিরাপত্তা ভবনের ভার বহনক্ষমতা ও নকশার নিরাপত্তা
বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা তারের বিন্যাস, লোড ব্যবস্থাপনা, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ

পোশাকশিল্পে বড় দুর্ঘটনার পর কারখানা পরিদর্শনে দুটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ আলোচনায় আসে — অ্যাকর্ডঅ্যালায়েন্স। দুটিই ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে গঠিত পরিদর্শন ও সংস্কার কাঠামো, যেগুলোর কাজ ছিল কারখানার অগ্নি, কাঠামোগত ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা যাচাই করে সংস্কারের সুপারিশ করা।

এখানে ফাঁদটি ধরো — অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স রাষ্ট্রীয় সংস্থা নয়। দেশের ভেতরে আইনগত পরিদর্শনের দায়িত্ব ডিআইএফইর, আর এই দুটি ছিল বাইরের ক্রেতাদের উদ্যোগ। প্রশ্নে "সরকারি পরিদর্শন সংস্থা কোনটি" জানতে চাইলে উত্তর ডিআইএফই।

সংবিধানে শ্রম সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ

এই অংশটি পরীক্ষায় বারবার আসে, কারণ এখানে বাংলাদেশ বিষয়াবলি আর সংবিধান একসঙ্গে মিলে যায়।

অনুচ্ছেদ বিষয় কোন অংশে
১৪ কৃষক ও শ্রমিকের মুক্তি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি
২০ অধিকার ও কর্তব্যরূপে কর্ম রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি
৩৪ জবরদস্তি শ্রম নিষিদ্ধ মৌলিক অধিকার

সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন আসে ৩৪ অনুচ্ছেদ নিয়ে — জবরদস্তি শ্রম নিষিদ্ধ, এবং এটি মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। মূলনীতি আর মৌলিক অধিকারের পার্থক্যটাই এখানে ফাঁদ: ১৪ ও ২০ মূলনীতি, ৩৪ মৌলিক অধিকার।

মূলনীতি আদালতে বলবৎযোগ্য নয়, কিন্তু মৌলিক অধিকার বলবৎযোগ্য — এই মৌলিক পার্থক্যসহ পুরো আলোচনা পাবে /constitution অংশে।

আইএলও ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট

শ্রম বিষয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংস্থা হলো আইএলও, অর্থাৎ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা।

বিষয় তথ্য
পূর্ণরূপ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (International Labour Organization)
সদর দপ্তর জেনেভা, সুইজারল্যান্ড
বাংলাদেশ সদস্য রাষ্ট্র
বৈশিষ্ট্য সরকার, মালিক ও শ্রমিক — ত্রিপক্ষীয় কাঠামো
কাজ শ্রম মানদণ্ড ও কনভেনশন প্রণয়ন, কারিগরি সহায়তা

আইএলওর সদর দপ্তর জেনেভা — এটি সরাসরি প্রশ্নে আসে। আর সংস্থাটির ত্রিপক্ষীয় কাঠামো, অর্থাৎ সরকারের পাশাপাশি মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিরও অংশগ্রহণ, এটিই এর সবচেয়ে আলাদা বৈশিষ্ট্য।

গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও ঘটনা

বিষয় তথ্য
মে দিবস ১ মে, আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস
রানা প্লাজা ধস সাভারে ভবনধসের ভয়াবহ দুর্ঘটনা, এরপর কারখানা নিরাপত্তায় বড় পরিবর্তন আসে

মে দিবস প্রতিবছর ১ মে পালিত হয়। শ্রমিকদের আট ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবির আন্দোলনের স্মরণে এই দিনটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।

দিনটির উৎস যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর হে মার্কেট আন্দোলন। আট ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে শ্রমিকদের সেই আন্দোলন ও তার রক্তক্ষয়ী পরিণতির স্মরণেই দিনটি আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে পালিত হয়।

প্রশ্ন উত্তর
মে দিবস কবে ১ মে
দিবসটির উৎস শিকাগোর হে মার্কেট আন্দোলন
মূল দাবি আট ঘণ্টা কর্মদিবস

তিনটি তথ্যই আলাদা করে প্রশ্নে আসে — তারিখ, শহর ও দাবি। শুধু তারিখ মুখস্থ রাখলে অর্ধেক প্রস্তুতি হয়।

রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর পোশাকশিল্পে কাঠামোগত, অগ্নি ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা পরিদর্শনে বড় ধরনের সংস্কার আসে, পরিদর্শন ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো হয় এবং শ্রম আইনে সংশোধনী আনা হয়। লিখিত পরীক্ষায় কর্মপরিবেশ সংক্রান্ত প্রশ্নে এই প্রেক্ষাপটটি উল্লেখ করা যায়।

যেসব ভুল সবচেয়ে বেশি হয়

  • শ্রম অধিদপ্তর আর ডিআইএফই গুলিয়ে ফেলা। নিবন্ধন বনাম পরিদর্শন।
  • শ্রম আদালত ও শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালকে এক ভাবা। ট্রাইব্যুনাল আপিল শোনে।
  • ৩৪ অনুচ্ছেদকে মূলনীতির অংশ ভাবা। এটি মৌলিক অধিকার।
  • ১৪ ও ২০ অনুচ্ছেদকে মৌলিক অধিকার ভাবা। এ দুটি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।
  • আইএলওর সদর দপ্তর ভুল বলা। সঠিক উত্তর জেনেভা।
  • মে দিবসের তারিখ গুলিয়ে ফেলা। ১ মে।
  • বিদেশে কর্মী পাঠানোর কাজ এই মন্ত্রণালয়ের ভাবা। সেটি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কাজ — বিস্তারিত /blog/probashi-kollan-montronaloy লেখায়।
  • নির্দিষ্ট মজুরির অঙ্ক মুখস্থ করা। এটি খাতভেদে ভিন্ন ও পরিবর্তনশীল।
  • সিবিএর অর্থ ভুল করা। এটি যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি।
  • অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সকে সরকারি সংস্থা ভাবা। এ দুটি ক্রেতাদের উদ্যোগ, সরকারি পরিদর্শন সংস্থা ডিআইএফই।
  • আইএলওকে দ্বিপক্ষীয় সংগঠন ভাবা। এটি ত্রিপক্ষীয় — সরকার, মালিক ও শ্রমিক।
  • মে দিবসের উৎস ভুল বলা। উৎস শিকাগোর হে মার্কেট আন্দোলন।

পরীক্ষায় যেভাবে প্রশ্ন আসে

প্রশ্নের ধরন নমুনা উত্তরের সূত্র
সংস্থাভিত্তিক ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন কে করে? শ্রম অধিদপ্তর
কাজভিত্তিক কারখানা পরিদর্শনের দায়িত্বে কোন অধিদপ্তর? ডিআইএফই
সংবিধানভিত্তিক জবরদস্তি শ্রম নিষিদ্ধ কোন অনুচ্ছেদে? ৩৪ অনুচ্ছেদ
আন্তর্জাতিক আইএলওর সদর দপ্তর কোথায়? জেনেভা
দিবসভিত্তিক মে দিবস কবে? ১ মে
কাঠামোভিত্তিক ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে কোন প্রতিষ্ঠান? ন্যূনতম মজুরি বোর্ড
বিচারভিত্তিক শ্রম আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল কোথায়? শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল
পরিভাষাভিত্তিক সিবিএ বলতে কী বোঝায়? যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি
আন্তর্জাতিক আইএলওর কাঠামো কেমন? ত্রিপক্ষীয়
দিবসভিত্তিক মে দিবসের উৎস কোথায়? শিকাগোর হে মার্কেট আন্দোলন
কল্যাণভিত্তিক দুর্ঘটনায় শ্রমিক পরিবারকে সহায়তা কোন প্রতিষ্ঠান? শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন

লিখিত পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে শ্রম অধিকার, কর্মপরিবেশ কিংবা শিল্প সম্পর্ক নিয়ে। উত্তরে মন্ত্রণালয়ের কাঠামো, আইন, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ও আইএলওর ভূমিকা — এই চারটি স্তরে সাজালে উত্তর গোছানো হয়।

প্রস্তুতি ঝালাই করতে /practice/bangladesh-affairs অংশে প্রশ্ন দাও এবং /mock অংশে সময় ধরে পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা দাও। ব্যাংক নিয়োগ প্রার্থীরা /bank/subject/bangladesh-affairs অংশ থেকে বিষয়ভিত্তিক অনুশীলন করতে পারো; ব্যাংকিং কাঠামোর প্রশ্নের জন্য /blog/bangladesh-bank-kendriyo-bank লেখাটিও দেখে নিও।

এক নজরে মনে রাখার তথ্য

প্রশ্ন উত্তর
মন্ত্রণালয়ের অবস্থান বাংলাদেশ সচিবালয়
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রধান মন্ত্রী ও সচিব
ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন শ্রম অধিদপ্তর
কারখানা নিরাপত্তা পরিদর্শন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর
ডিআইএফইর মূল কাজ পরিদর্শন ও শ্রম আইন প্রয়োগ তদারকি
আপিল নিষ্পত্তি শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল
মজুরি নির্ধারণ ন্যূনতম মজুরি বোর্ড
প্রধান আইন বাংলাদেশ শ্রম আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা
জবরদস্তি শ্রম নিষিদ্ধ সংবিধানের ৩৪ অনুচ্ছেদ, মৌলিক অধিকার
কৃষক-শ্রমিকের মুক্তি ১৪ অনুচ্ছেদ, মূলনীতি
কর্মের অধিকার ২০ অনুচ্ছেদ, মূলনীতি
শ্রমিক ও পরিবারের কল্যাণ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন
যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি সিবিএ
আন্তর্জাতিক সংস্থা আইএলও, সদর দপ্তর জেনেভা
আইএলওর কাঠামো ত্রিপক্ষীয় — সরকার, মালিক, শ্রমিক
শ্রমিক দিবস ১ মে
মে দিবসের উৎস শিকাগোর হে মার্কেট আন্দোলন
ক্রেতাদের নিরাপত্তা উদ্যোগ অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স

একই ছকে অন্য মন্ত্রণালয়গুলোও গুছিয়ে ফেলো — /blog/relpoth-montronaloy/blog/bidyut-jalani-khanij-montronaloy লেখা দুটি দিয়ে শুরু করতে পারো। নিয়মিত প্রশ্ন অনুশীলনের অভ্যাস গড়তে /practice অংশটিকে দৈনন্দিন রুটিনে রাখো।

Ah

Ahosan Habib

@ahosanhabib922

অচিনপুরের নির্মাতা। BCS ও চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে লেখেন — সিলেবাস, ব্যাকরণ ও পড়ার কৌশল।

মন্ত্রণালয়শ্রম আইনবিসিএসবাংলাদেশ বিষয়াবলি

আরও পড়ো