বিএসইসি কী কাজ করে? পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণ ও ডিএসই-সিএসই

২ আগস্ট, ২০২৬১৩ মিনিট পড়া

বিএসইসি প্রতিষ্ঠা, কাজ, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণ, ডিএসই-সিএসই, শেয়ার-বন্ড-মিউচুয়াল ফান্ড ও আইপিও — বিসিএস ও ব্যাংক পরীক্ষার জন্য সহজ বাংলা নোট।

তুমি যদি বিসিএস, ব্যাংক কিংবা যেকোনো সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নাও, তাহলে একটা কথা মাথায় গেঁথে নাও — বাংলাদেশের আর্থিক খাতে সব কিছুর নিয়ন্ত্রক বাংলাদেশ ব্যাংক নয়। ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক, আর পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণ করে সম্পূর্ণ আলাদা একটি সংস্থা — বিএসইসি।

এই একটি পার্থক্য না জানার কারণে প্রতি বছর হাজার হাজার প্রার্থী নম্বর হারায়। নিচে বিএসইসি, শেয়ারবাজার এবং পুঁজিবাজারের মৌলিক পরিভাষাগুলো এমনভাবে সাজানো হলো, যেন পরীক্ষার হলে তোমার এক সেকেন্ডও দ্বিধা না হয়।

বিএসইসি আসলে কী

বিএসইসি-র পূর্ণরূপ হলো বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন। ইংরেজিতে Bangladesh Securities and Exchange Commission, সংক্ষেপে BSEC।

এটি বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের একমাত্র নিয়ন্ত্রক সংস্থা। অর্থাৎ দেশে যত শেয়ার, বন্ড, মিউচুয়াল ফান্ড বেচাকেনা হয়, যত কোম্পানি বাজার থেকে টাকা তোলে — সবকিছুর ওপর নজরদারি ও অনুমোদনের ক্ষমতা এই কমিশনের হাতে।

মনে রাখার সহজ উপায়: ব্যাংকে টাকা রাখলে সেটা বাংলাদেশ ব্যাংকের এলাকা; শেয়ার কিনলে সেটা বিএসইসি-র এলাকা।

প্রতিষ্ঠা ও নাম বদলের ইতিহাস

এই অংশ থেকে সাল ধরে প্রশ্ন আসে, তাই ভালো করে দেখে নাও।

ঘটনা সাল মন্তব্য
সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন প্রতিষ্ঠা ১৯৯৩ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন অ্যাক্ট, ১৯৯৩ অনুযায়ী
নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ২০১২ তখন থেকেই "বিএসইসি" নামে পরিচিত
স্টক এক্সচেঞ্জের ডিমিউচুয়ালাইজেশন ২০১৩ মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা আলাদা করা হয়

খেয়াল করো — ১৯৯৩ সালে যখন প্রতিষ্ঠা হয় তখন নামের শুরুতে "বাংলাদেশ" শব্দটি ছিল না। "বাংলাদেশ" যুক্ত হয়েছে ২০১২ সালে। প্রশ্নে যদি জিজ্ঞেস করে "বিএসইসি কত সালে প্রতিষ্ঠিত?" — উত্তর ১৯৯৩। আর যদি জিজ্ঞেস করে "কত সালে বর্তমান নাম হয়?" — উত্তর ২০১২।

বিএসইসি সংবিধিবদ্ধ, সাংবিধানিক নয়

এটি একটি সংবিধিবদ্ধ (statutory) নিয়ন্ত্রক সংস্থা। অর্থাৎ সংসদে পাস হওয়া একটি আইনের মাধ্যমে এর জন্ম, সংবিধানের কোনো অনুচ্ছেদ দিয়ে নয়।

সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বলতে বোঝায় সেগুলো, যাদের কথা সরাসরি সংবিধানে লেখা আছে — যেমন নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্ম কমিশন, মহা হিসাব-নিরীক্ষক। বিএসইসি সেই তালিকায় পড়ে না।

প্রশাসনিকভাবে বিএসইসি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সাথে সম্পর্কিত। এই বিভাগটির নাম ভালো করে মনে রাখো, কারণ ব্যাংক-বীমা-পুঁজিবাজার সংক্রান্ত প্রশ্নে এটি বারবার আসে।

বিএসইসি-র প্রধান কাজগুলো

কাজ ব্যাখ্যা
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন বাজার সুশৃঙ্খল রাখা এবং বড় করা
আইপিও অনুমোদন কোনো কোম্পানি জনগণের কাছে শেয়ার ছাড়তে চাইলে অনুমতি দেওয়া
লাইসেন্স প্রদান ব্রোকার, ডিলার, মার্চেন্ট ব্যাংক, সম্পদ ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেওয়া
কারসাজি প্রতিরোধ কৃত্রিমভাবে দাম ওঠানো-নামানো ঠেকানো
ইনসাইডার ট্রেডিং প্রতিরোধ গোপন তথ্য কাজে লাগিয়ে মুনাফা করা বন্ধ করা
বিনিয়োগকারীর স্বার্থ রক্ষা সাধারণ বিনিয়োগকারীকে প্রতারণা থেকে বাঁচানো

ইনসাইডার ট্রেডিং ব্যাপারটা একটু বুঝিয়ে বলি। ধরো একটি কোম্পানির পরিচালক আগেই জেনে গেলেন যে আগামী সপ্তাহে বিশাল মুনাফার ঘোষণা আসবে। তিনি ঘোষণার আগেই চুপচাপ প্রচুর শেয়ার কিনে রাখলেন। এটাই ইনসাইডার ট্রেডিং — আইনত অপরাধ, এবং এটি ঠেকানো বিএসইসি-র দায়িত্ব।

সবচেয়ে বেশি ভুল হওয়া প্রশ্ন: বাংলাদেশ ব্যাংক বনাম বিএসইসি

এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই টেবিলটা মুখস্থ করে ফেলো।

বিষয় বাংলাদেশ ব্যাংক বিএসইসি
কী নিয়ন্ত্রণ করে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজার
কারা এর অধীনে তফসিলি ব্যাংক, নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান স্টক এক্সচেঞ্জ, ব্রোকার, তালিকাভুক্ত কোম্পানি
মুদ্রানীতি প্রণয়ন হ্যাঁ না
নোট ইস্যু হ্যাঁ না
আইপিও অনুমোদন না হ্যাঁ
প্রধান কর্মকর্তার পদ গভর্নর চেয়ারম্যান
ধরন কেন্দ্রীয় ব্যাংক পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক

দুটি সংস্থার কাজ কখনো কখনো ছুঁয়ে যায় — যেমন কোনো ব্যাংক যদি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়, তখন সেই ব্যাংকের ব্যাংকিং কার্যক্রম দেখে বাংলাদেশ ব্যাংক, আর তার শেয়ার লেনদেন দেখে বিএসইসি। বিভ্রান্তি এড়াতে "কোন কাজটি নিয়ে প্রশ্ন" সেটা আগে ঠিক করো।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাজ আলাদা করে ঝালিয়ে নিতে পড়ো বাংলাদেশ ব্যাংক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা — এই দুটি লেখা একসাথে পড়লে গুলিয়ে ফেলার ঝুঁকি প্রায় শূন্যে নামে।

আর্থিক খাতের চার নিয়ন্ত্রক এক নজরে

প্রশ্নকর্তারা প্রায়ই চারটি সংস্থা মিলিয়ে বিভ্রান্তিকর অপশন দেন। তাই পুরো ছবিটা দেখে নাও।

খাত নিয়ন্ত্রক সংস্থা
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংক
পুঁজিবাজার বিএসইসি
বীমা আইডিআরএ
ক্ষুদ্রঋণ এমআরএ (মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি)

এমআরএ-র পূর্ণরূপ Microcredit Regulatory Authority — গ্রামীণ ব্যাংক-ধাঁচের প্রতিষ্ঠান বাদ দিয়ে বাকি এনজিও-ভিত্তিক ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রক। আর আইডিআরএ মানে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ।

রাজস্ব ও দুর্নীতিবিরোধী সংস্থার নিয়ন্ত্রণকাঠামো নিয়ে আলাদা প্রস্তুতির জন্য দেখে নাও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং দুর্নীতি দমন কমিশন সংক্রান্ত লেখা দুটি।

দেশের দুটি স্টক এক্সচেঞ্জ

বাংলাদেশে স্টক এক্সচেঞ্জ আছে দুটি — ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ।

এক্সচেঞ্জ সংক্ষেপ প্রতিষ্ঠা প্রতিষ্ঠাকালীন নাম
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ডিএসই ১৯৫৪ ইস্ট পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জ অ্যাসোসিয়েশন
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ সিএসই ১৯৯৫ চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ

লক্ষ করো, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের জন্ম নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনেক আগে — ১৯৫৪ সালে, দেশ স্বাধীন হওয়ারও আগে। প্রথমে এর নাম ছিল ইস্ট পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জ অ্যাসোসিয়েশন। পরে নাম বদলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ হয়।

আর সিএসই প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৫ সালে, অর্থাৎ বিএসইসি প্রতিষ্ঠার দুই বছর পর। এই ক্রমটা মনে রাখো: ডিএসই (১৯৫৪) → কমিশন (১৯৯৩) → সিএসই (১৯৯৫) → ডিমিউচুয়ালাইজেশন (২০১৩)।

এবার ডিমিউচুয়ালাইজেশন শব্দটা দেখো — শোনায় কঠিন, কিন্তু ধারণাটা সহজ।

আগে স্টক এক্সচেঞ্জের মালিক ছিলেন ব্রোকাররাই, আবার পরিচালনাও করতেন তাঁরাই। ফলে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হতো — যিনি খেলোয়াড়, তিনিই রেফারি।

২০১৩ সালে ডিমিউচুয়ালাইজেশনের মাধ্যমে মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা আলাদা করা হয়। এখন এক্সচেঞ্জের মালিকানা শেয়ারহোল্ডারদের, আর পরিচালনার দায়িত্ব আলাদা পেশাদার ব্যবস্থাপনার হাতে।

পরীক্ষায় এক লাইনে উত্তর: ডিমিউচুয়ালাইজেশন হলো স্টক এক্সচেঞ্জের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনাকে পৃথক করার প্রক্রিয়া, যা বাংলাদেশে হয় ২০১৩ সালে।

পুঁজিবাজারের মৌলিক পণ্য: শেয়ার, বন্ড, মিউচুয়াল ফান্ড

পণ্য সহজ অর্থ তুমি কী হও
শেয়ার কোম্পানির মালিকানার ক্ষুদ্র অংশ আংশিক মালিক
বন্ড নির্দিষ্ট মেয়াদে সুদসহ ফেরতযোগ্য ঋণপত্র ঋণদাতা
ডিবেঞ্চার কোম্পানির ইস্যু করা ঋণপত্র, সাধারণত জামানতবিহীন ঋণদাতা
মিউচুয়াল ফান্ড বহু বিনিয়োগকারীর টাকা একত্র করে পেশাদার ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ ইউনিটহোল্ডার

শেয়ার আর বন্ডের পার্থক্যটা গেঁথে নাও। শেয়ার কিনলে তুমি কোম্পানির মালিকানার ভাগ পাও — কোম্পানি লাভ করলে লভ্যাংশ পাবে, লোকসান করলে কিছুই না পেতে পারো। আর বন্ড কিনলে তুমি ঋণ দাও — কোম্পানি লাভ করুক বা না করুক, নির্দিষ্ট সময় পর নির্দিষ্ট সুদসহ টাকা ফেরত পাওয়ার কথা।

মিউচুয়াল ফান্ড নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ পথ, কারণ এখানে টাকা এক জায়গায় না রেখে অনেক কোম্পানিতে ছড়িয়ে বিনিয়োগ করা হয়। এই ছড়িয়ে দেওয়াকে বলে ঝুঁকি বিন্যাস বা ডাইভারসিফিকেশন।

আইপিও ও বুক বিল্ডিং

আইপিও-র পূর্ণরূপ Initial Public Offering, বাংলায় প্রাথমিক গণপ্রস্তাব।

কোনো কোম্পানি যখন প্রথমবারের মতো সাধারণ জনগণের কাছে শেয়ার বিক্রি করে বাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করে, সেটাই আইপিও। এর জন্য বিএসইসি-র অনুমোদন বাধ্যতামূলক।

শেয়ারের দাম ঠিক করার দুটি পদ্ধতি আছে।

পদ্ধতি কীভাবে দাম ঠিক হয়
ফিক্সড প্রাইস কোম্পানি ও ইস্যু ব্যবস্থাপক আগেই একটি নির্দিষ্ট দাম ঘোষণা করে
বুক বিল্ডিং যোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের দরপ্রস্তাবের ভিত্তিতে কাট-অফ প্রাইস নির্ধারিত হয়

বুক বিল্ডিং সংক্ষেপে মনে রাখো — এটি নিলামের ধাঁচে দাম আবিষ্কারের পদ্ধতি।

আইপিও প্রসঙ্গ এলেই আসে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বাজারের পার্থক্য।

বিষয় প্রাথমিক বাজার মাধ্যমিক বাজার
কী ঘটে নতুন শেয়ার প্রথমবার ইস্যু হয় আগে ইস্যু হওয়া শেয়ার হাতবদল হয়
টাকা কার কাছে যায় সরাসরি কোম্পানির কাছে এক বিনিয়োগকারী থেকে আরেকজনের কাছে
উদাহরণ আইপিও ডিএসই বা সিএসই-তে দৈনিক লেনদেন

একটি বাক্যে ধরে রাখো: আইপিও মানে প্রাথমিক বাজার, আর স্টক এক্সচেঞ্জে দৈনন্দিন কেনাবেচা মানে মাধ্যমিক বাজার। কোম্পানি টাকা পায় কেবল প্রাথমিক বাজার থেকে।

সূচক, লভ্যাংশ ও বাজার মূলধন

সূচক বা ইনডেক্স হলো বাজারের সামগ্রিক গতিপ্রকৃতি মাপার একটি সংখ্যাসূচক নির্দেশক। বাছাই করা কোম্পানির শেয়ারদর মিলিয়ে এটি হিসাব করা হয়। সূচক বাড়া মানে সামগ্রিকভাবে দাম বেড়েছে, কমা মানে উল্টোটা।

লভ্যাংশ বা ডিভিডেন্ড হলো কোম্পানির মুনাফার সেই অংশ, যা শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এটি দুই ধরনের হতে পারে।

ধরন কী পাওয়া যায়
নগদ লভ্যাংশ সরাসরি টাকা
স্টক লভ্যাংশ অতিরিক্ত শেয়ার (বোনাস শেয়ার)

বাজার মূলধন বা মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন মানে কোনো কোম্পানির মোট শেয়ারসংখ্যাকে বর্তমান বাজারদর দিয়ে গুণ করলে যা পাওয়া যায়। পুরো বাজারের সব তালিকাভুক্ত কোম্পানির যোগফলকে বলে বাজারের মোট মূলধন।

একটা সতর্কতা: সূচকের মান, বাজার মূলধনের অঙ্ক কিংবা তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা — এগুলো প্রতিদিন বদলায়। তাই মুখস্থ করার চেষ্টা কোরো না; পরীক্ষার আগে হালনাগাদ তথ্যের জন্য দেখে নাও কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স অংশটি।

সার্কিট ব্রেকার, সিডিবিএল ও বিও অ্যাকাউন্ট

এই তিনটি পরিভাষা লিখিত ও ভাইভা — দুই জায়গাতেই কাজে লাগে।

পরিভাষা ব্যাখ্যা
সার্কিট ব্রেকার একদিনে শেয়ারদর সর্বোচ্চ কত শতাংশ ওঠানামা করতে পারবে তার সীমা, যা আতঙ্কজনক ধস ঠেকায়
সিডিবিএল কেন্দ্রীয় ডিপোজিটরি, যেখানে শেয়ার কাগজের বদলে ইলেকট্রনিক রূপে সংরক্ষিত থাকে
বিও অ্যাকাউন্ট Beneficiary Owner অ্যাকাউন্ট, শেয়ার রাখার ইলেকট্রনিক হিসাব

সিডিবিএল-এর পূর্ণরূপ Central Depository Bangladesh Limited। এর কল্যাণেই আজ শেয়ারের কাগুজে সার্টিফিকেট বহন করতে হয় না।

আর বিও অ্যাকাউন্ট ছাড়া কেউ শেয়ারবাজারে লেনদেন করতে পারে না — এটিকে ভাবতে পারো শেয়ার রাখার ব্যাংক হিসাব হিসেবে। ব্যাংক হিসাবে থাকে টাকা, বিও হিসাবে থাকে শেয়ার।

পুঁজিবাজার কেন দরকার

অনেকে ভাবে শেয়ারবাজার মানে কেবল ফাটকাবাজি। বাস্তবে অর্থনীতিতে এর সুনির্দিষ্ট ভূমিকা আছে।

ভূমিকা ব্যাখ্যা
দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহ কারখানা বা অবকাঠামোর জন্য বড় অঙ্কের টাকা জোগাড়
ব্যাংকনির্ভরতা কমানো সব বিনিয়োগ ঋণনির্ভর না হয়ে মালিকানানির্ভরও হয়
সঞ্চয়কে বিনিয়োগে রূপান্তর ছড়ানো-ছিটানো সঞ্চয় উৎপাদনশীল খাতে যায়
স্বচ্ছতা বৃদ্ধি তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে নিয়মিত হিসাব প্রকাশ করতে হয়

মনে রেখো, ব্যাংক দেয় ঋণ — যা ফেরত দিতে হয় সুদসহ। পুঁজিবাজার দেয় মূলধন — যার বদলে দিতে হয় মালিকানার অংশ। এই মৌলিক পার্থক্য অনেক বর্ণনামূলক প্রশ্নের ভালো উত্তর তৈরি করে দেয়।

পরীক্ষায় কীভাবে প্রশ্ন আসে

প্রশ্ন উত্তর
পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কোনটি বিএসইসি
সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন প্রতিষ্ঠিত হয় কত সালে ১৯৯৩
কত সালে নাম হয় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ২০১২
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠিত হয় কত সালে ১৯৫৪
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠিত হয় কত সালে ১৯৯৫
ডিমিউচুয়ালাইজেশন হয় কত সালে ২০১৩
আইপিও-র পূর্ণরূপ কী Initial Public Offering, প্রাথমিক গণপ্রস্তাব
বীমার নিয়ন্ত্রক কে আইডিআরএ
ক্ষুদ্রঋণের নিয়ন্ত্রক কে এমআরএ
শেয়ার সংরক্ষণের কেন্দ্রীয় ডিপোজিটরি কোনটি সিডিবিএল

এই দশটি লাইন যদি নির্ভুলভাবে মনে থাকে, তাহলে বিএসইসি-সংক্রান্ত প্রশ্নে ভুল করার সম্ভাবনা খুবই কম।

মনে রাখার কৌশল ও প্রস্তুতির পরামর্শ

সাল মনে রাখার জন্য একটি ছোট গল্প বানাও: বাজার আগে (১৯৫৪), পুলিশ পরে (১৯৯৩), দ্বিতীয় বাজার তার পরে (১৯৯৫), আর সংস্কার সবার শেষে (২০১২ ও ২০১৩)।

নিয়ন্ত্রক মনে রাখার জন্য চার আঙুলের কৌশল ব্যবহার করো — ব্যাংক, পুঁজিবাজার, বীমা, ক্ষুদ্রঋণ; বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসি, আইডিআরএ, এমআরএ। প্রতিদিন একবার আঙুল গুনে বলো, এক সপ্তাহেই স্থায়ী হয়ে যাবে।

পড়া শেষে সাথে সাথে ঝালাই করা সবচেয়ে কার্যকর। বাংলাদেশ বিষয়াবলির অধ্যায়ভিত্তিক নোট পাবে বাংলাদেশ বিষয়াবলি অংশে, আর প্রশ্ন ধরে অনুশীলনের জন্য যাও বাংলাদেশ বিষয়াবলি প্র্যাকটিস পাতায়।

ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষার প্রার্থী হলে ব্যাংক প্রস্তুতি অংশটি ধরে এগোও, কারণ ব্যাংকের পরীক্ষায় পুঁজিবাজার থেকে প্রায় প্রতিবারই প্রশ্ন থাকে। লভ্যাংশের হার, বাজার মূলধনের হিসাব কিংবা শতকরার অঙ্ক ঝালিয়ে নিতে কাজে দেবে গাণিতিক যুক্তি অনুশীলন।

সব বিষয় একসাথে মিলিয়ে সময় ধরে পরীক্ষা দিতে চাইলে মক টেস্ট দাও — কোন জায়গায় দুর্বলতা রয়ে গেছে, সেটা নিজে থেকেই ধরা পড়বে। আর বিষয়ভিত্তিক সব অনুশীলন এক জায়গায় পাবে প্র্যাকটিস অংশে।

শেষ করার আগে একটি কথা মাথায় রাখো। বিএসইসি নিয়ে প্রশ্ন আসলে খুব কঠিন কিছু নয় — বরং এটি সেই অল্প কয়েকটি বিষয়ের একটি, যেখানে অল্প পড়াশোনায় নিশ্চিত নম্বর পাওয়া যায়।

শর্ত একটাই: এলাকা গুলিয়ে ফেলা যাবে না। ব্যাংক মানে বাংলাদেশ ব্যাংক, পুঁজিবাজার মানে বিএসইসি, বীমা মানে আইডিআরএ, ক্ষুদ্রঋণ মানে এমআরএ। এই চারটি সীমারেখা পরিষ্কার থাকলে বাকি তথ্যগুলো এমনিতেই জায়গামতো বসে যাবে।

আর পরিভাষাগুলো — শেয়ার, বন্ড, মিউচুয়াল ফান্ড, আইপিও, সূচক, বিও অ্যাকাউন্ট — মুখস্থ না করে অর্থ বুঝে নাও। বুঝে নিলে ভাইভাতেও ব্যাখ্যা করে বলতে পারবে, যা পরীক্ষকের ওপর আলাদা ছাপ ফেলে।

Ah

Ahosan Habib

@ahosanhabib922

অচিনপুরের নির্মাতা। BCS ও চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে লেখেন — সিলেবাস, ব্যাকরণ ও পড়ার কৌশল।

বিএসইসিপুঁজিবাজারশেয়ারবাজারবিসিএস

আরও পড়ো