স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কোন বিভাগের অধীন এবং কী কী কাজ করে?

২ আগস্ট, ২০২৬১২ মিনিট পড়া

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনস্থ বিভাগ, দায়িত্ব, প্রশাসনিক স্তর ও আইইডিসিআরসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিসিএস ও চাকরির পরীক্ষার জন্য গোছানো পাঠ।

স্বাস্থ্য খাতের প্রতিষ্ঠান নিয়ে প্রশ্ন এলে বেশিরভাগ পরীক্ষার্থী একটা জায়গায় আটকে যায় — কোন প্রতিষ্ঠান কোন মন্ত্রণালয়ের, আর কোন বিভাগের। নাম মুখস্থ থাকে, কিন্তু কাঠামোটা মাথায় বসে না। ফলে এক লাইনের প্রশ্নেও নম্বর হারাতে হয়।

এই লেখায় তুমি কাঠামোটাই আগে দাঁড় করাবে, তারপর কাজের তালিকায় যাবে। এই ক্রমটা উল্টে ফেললে মনে রাখা কঠিন হয়ে যায়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আসলে কী

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হলো বাংলাদেশে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনার কেন্দ্রীয় নির্বাহী প্রতিষ্ঠান। ইংরেজি সংক্ষেপে একে বলা হয় ডিজিএইচএস (Directorate General of Health Services)।

এখানে একটা পরিভাষার পার্থক্য পরিষ্কার করে নাও। মন্ত্রণালয় নীতি নির্ধারণ করে, আর অধিদপ্তর সেই নীতি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করে। অধিদপ্তর মন্ত্রণালয়ের চেয়ে ছোট নয় — বরং ভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান। মন্ত্রণালয়ের কাজ সিদ্ধান্ত, অধিদপ্তরের কাজ সম্পাদন।

তাই "স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একটি মন্ত্রণালয়" — এই বাক্যটি ভুল। এটি একটি অধিদপ্তর, যা একটি বিভাগের অধীন, আর সেই বিভাগ একটি মন্ত্রণালয়ের অংশ।

মন্ত্রণালয় ও দুই বিভাগের কাঠামো

বাংলাদেশে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত মূল মন্ত্রণালয়টির নাম স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুটি বিভাগ আছে।

বিভাগ মূল দায়িত্বের ধরন
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ চিকিৎসাসেবা, হাসপাতাল, রোগ নিয়ন্ত্রণ, ওষুধ নিয়ন্ত্রণ
স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ স্বাস্থ্য শিক্ষা, নার্সিং শিক্ষা, পরিবার পরিকল্পনা ও পরিবার কল্যাণ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পড়ে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অধীনে। এই এক লাইনটি ভালো করে গেঁথে নাও, কারণ পরীক্ষায় প্রশ্নটা প্রায়ই এভাবেই আসে।

পাশাপাশি মনে রাখো, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের নয় — সেটি স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অধীন। দুই অধিদপ্তর একই মন্ত্রণালয়ের, কিন্তু ভিন্ন বিভাগের। বিস্তারিত পাবে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের আলাদা লেখায়

এক নজরে অধীনতার শৃঙ্খল

মনে রাখার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো উপর থেকে নিচে একটা সরলরেখা টানা।

ধাপ নাম
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর
জেলা পর্যায় (সিভিল সার্জন)
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র
কমিউনিটি ক্লিনিক

এই আটটি ধাপ যদি ক্রমানুসারে বলতে পারো, তাহলে কাঠামো নিয়ে যেকোনো প্রশ্নের উত্তর তুমি বের করে ফেলতে পারবে।

ধাপগুলোর একটা যুক্তি আছে। উপরের দিকে নীতি ও তদারকি, নিচের দিকে সরাসরি সেবা। যত নিচে নামবে, প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা তত বাড়বে, কিন্তু প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের পরিধি তত ছোট হবে। এই নিয়মটা মাথায় রাখলে কোন স্তরে কোন কাজ হয়, সেটা অনুমান করা সহজ হয়ে যায়। প্রশ্নে যদি অচেনা কোনো পদ বা প্রতিষ্ঠানের নামও আসে, তুমি তার সম্ভাব্য স্তর ধরে ফেলতে পারবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রধান কাজ

কাজগুলোকে কয়েকটি ভাগে সাজিয়ে নিলে মুখস্থ করার বদলে বোঝা যায়।

কাজের ক্ষেত্র ব্যাখ্যা
হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিচালনা ও তদারকি
স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনা প্রাথমিক থেকে তৃতীয় স্তরের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা
রোগ নিয়ন্ত্রণ সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ
টিকাদান কর্মসূচি ইপিআই পরিচালনা ও তদারকি
স্বাস্থ্য তথ্য ব্যবস্থাপনা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ
জনবল ব্যবস্থাপনা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পদায়ন ও তদারকি

এই ছয়টি ক্ষেত্র একসঙ্গে ধরলে বোঝা যায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাজের কেন্দ্রে আছে সেবা প্রদান ও রোগ প্রতিরোধ। নিয়ন্ত্রক সংস্থার মতো লাইসেন্স দেওয়া বা অনুমোদন দেওয়া এর প্রধান কাজ নয়, বরং সেবাটি মানুষের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করাই মূল দায়িত্ব।

স্বাস্থ্য তথ্য ব্যবস্থাপনার অংশটি নতুন পরীক্ষার্থীরা প্রায়ই এড়িয়ে যায়। অথচ কোন এলাকায় কোন রোগ বাড়ছে, কোথায় জনবল কম, কোন হাসপাতালে চাপ বেশি — এই তথ্য ছাড়া পরিকল্পনা করা যায় না। তাই তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণকে অধিদপ্তরের একটি স্বতন্ত্র কাজ হিসেবে মনে রেখো।

লক্ষ করো, ওষুধের নিবন্ধন বা দাম নির্ধারণ এই তালিকায় নেই। ওই কাজটি করে আলাদা একটি অধিদপ্তর — বিস্তারিত আছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের লেখায়

ইপিআই বা সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি

ইপিআই মানে Expanded Programme on Immunization, বাংলায় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি। শিশুদের নির্দিষ্ট কিছু প্রতিরোধযোগ্য রোগের বিরুদ্ধে টিকা দেওয়াই এর মূল কাজ।

এই কর্মসূচি পরিচালনার দায়িত্ব স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের। মাঠপর্যায়ে টিকাদান কেন্দ্র, স্বাস্থ্যকর্মী ও কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে কাজটি হয়।

টিকা কীভাবে কাজ করে, অ্যান্টিবডি কী, সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় অনাক্রম্যতার পার্থক্য কী — এসব বিজ্ঞানভিত্তিক প্রশ্ন সাধারণ বিজ্ঞান অংশে আসে। ওই ধরনের প্রশ্নের অনুশীলনের জন্য দেখো সাধারণ বিজ্ঞানের প্রশ্নব্যাংক

কর্মসূচির হালনাগাদ সংখ্যা বা হার নিয়ে প্রশ্ন এলে সেটা বদলায় প্রতি বছর। তাই সংখ্যা মুখস্থ না করে কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স অংশ থেকে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিও।

আইইডিসিআরের ভূমিকা

আইইডিসিআর (IEDCR) হলো রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান। সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব শনাক্ত করা, নমুনা পরীক্ষা করা, রোগের বিস্তার নিয়ে গবেষণা করা — এগুলো এই প্রতিষ্ঠানের কাজ।

মহামারি বা নতুন কোনো রোগের প্রাদুর্ভাবের সময় এই প্রতিষ্ঠানের নাম বারবার সংবাদে আসে। তাই পরীক্ষায়ও প্রশ্ন আসার সম্ভাবনা বেশি।

মনে রাখো, আইইডিসিআর কোনো আলাদা মন্ত্রণালয়ের প্রতিষ্ঠান নয়। এটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে সম্পর্কিত রোগতত্ত্ব ও রোগ নিয়ন্ত্রণের প্রতিষ্ঠান।

রোগতত্ত্ব বা এপিডেমিওলজি হলো জনগোষ্ঠীর মধ্যে রোগ কীভাবে ছড়ায়, কারা আক্রান্ত হয়, কেন হয় — এসব নিয়ে অধ্যয়ন। একজন চিকিৎসক একজন রোগীকে দেখেন, একজন রোগতত্ত্ববিদ পুরো জনগোষ্ঠীকে দেখেন। এই পার্থক্যটা বোঝা থাকলে ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নে সুবিধা হয়।

নিচের চারটি পরিভাষা প্রায় প্রতি বছর কোনো না কোনো পরীক্ষায় আসে। শব্দগুলো কাছাকাছি, কিন্তু বিস্তারের পরিধি আলাদা।

পরিভাষা সহজ অর্থ
এন্ডেমিক নির্দিষ্ট এলাকায় নিয়মিত থাকা রোগ
এপিডেমিক নির্দিষ্ট এলাকায় হঠাৎ ব্যাপক বিস্তার
প্যানডেমিক একাধিক দেশ বা মহাদেশজুড়ে বিস্তার
আউটব্রেক নির্দিষ্ট সময়ে হঠাৎ রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়া

কমিউনিটি ক্লিনিক কেন গুরুত্বপূর্ণ

কমিউনিটি ক্লিনিক হলো তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার একক। গ্রামের মানুষ যেন হাসপাতালে না গিয়েই প্রাথমিক সেবা পায়, সেটাই এর উদ্দেশ্য।

এখানে সাধারণত প্রাথমিক চিকিৎসা, প্রাথমিক ওষুধ, টিকাদান, মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবার প্রাথমিক ধাপ এবং স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়া হয়।

পরীক্ষায় প্রশ্নটা প্রায়ই এভাবে আসে — "তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার একক কোনটি?" উত্তর: কমিউনিটি ক্লিনিক। এটি সরাসরি মনে রাখো।

কমিউনিটি ক্লিনিকের ধারণাটির পেছনের যুক্তিও বোঝা দরকার। গ্রামের একজন মানুষকে যদি সামান্য জ্বর বা প্রাথমিক পরামর্শের জন্যও উপজেলা সদরে যেতে হয়, তাহলে যাতায়াতের খরচ ও সময়ের কারণে অনেকে চিকিৎসাই নেন না। সেবাকেন্দ্রটি বাড়ির কাছে থাকলে সেই বাধা কমে। এই যুক্তিটি ব্যাখ্যামূলক বা লিখিত প্রশ্নে কাজে লাগে।

সিভিল সার্জনের পদটি বোঝো

জেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য প্রশাসনের প্রধান কর্মকর্তাকে বলা হয় সিভিল সার্জন। জেলার সরকারি স্বাস্থ্যসেবা তদারকি, উপজেলা পর্যায়ের কার্যক্রম সমন্বয় এবং জেলা প্রশাসনের সঙ্গে স্বাস্থ্য বিষয়ে যোগাযোগ — এসব তাঁর দায়িত্বে পড়ে।

উপজেলা পর্যায়ে মূল প্রতিষ্ঠান হলো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ইউনিয়ন পর্যায়ে আছে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র

নামটি খেয়াল করো — ইউনিয়ন পর্যায়ের কেন্দ্রটির নামে "স্বাস্থ্য" ও "পরিবার কল্যাণ" দুটোই আছে। কারণ এই স্তরে দুই ধরনের সেবা একসঙ্গে দেওয়া হয়।

অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলো না

স্বাস্থ্য খাতের নামগুলো কাছাকাছি হওয়ায় বিভ্রান্তি হয় বেশি। নিচের টেবিলটা মুখস্থ না করে বারবার পড়ো।

প্রতিষ্ঠান অধীনতা মূল কাজ
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা, রোগ নিয়ন্ত্রণ
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ওষুধ নিয়ন্ত্রণ ও নিবন্ধন
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ জন্মনিয়ন্ত্রণ, প্রজনন স্বাস্থ্য
নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ নার্সিং শিক্ষা ও জনবল
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর স্থানীয় সরকার বিভাগ নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন

শেষ সারিটা সবচেয়ে বেশি ভুল হয়। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নয়। কারণটা বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা আছে এই লেখায়

চিকিৎসায় তেজস্ক্রিয় প্রযুক্তির যোগসূত্র

আধুনিক চিকিৎসায় রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়। ক্যানসার চিকিৎসায় রেডিওথেরাপি, থাইরয়েড পরীক্ষায় তেজস্ক্রিয় আয়োডিন — এসব উদাহরণ পরীক্ষায় আসে।

এই প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান নিয়ে পড়তে চাইলে দেখো পরমাণু শক্তি কমিশন নিয়ে লেখাটি। স্বাস্থ্যসেবা আর পরমাণু প্রযুক্তির এই সংযোগ থেকে মিশ্র প্রশ্ন তৈরি হয়।

যেসব ভুল সবচেয়ে বেশি হয়

নিচের ভুলগুলো প্রতি বছর অসংখ্য পরীক্ষার্থী করে। তুমি এগুলো আলাদা করে চিহ্নিত করে রাখো।

প্রথম ভুল: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অধীন ভাবা। এটি স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অধীন।

দ্বিতীয় ভুল: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আর মন্ত্রণালয়কে এক করে ফেলা। মন্ত্রণালয় নীতি ঠিক করে, অধিদপ্তর বাস্তবায়ন করে।

তৃতীয় ভুল: ওষুধের নিবন্ধন বা দাম নির্ধারণকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাজ ভাবা। ওটা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কাজ।

চতুর্থ ভুল: পরিবার পরিকল্পনার কাজকেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাজ ধরে নেওয়া। দুটি আলাদা অধিদপ্তর, আলাদা বিভাগ।

পঞ্চম ভুল: জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ভাবা। এটি স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন।

ষষ্ঠ ভুল: আইইডিসিআরকে চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী হাসপাতাল ভাবা। এটি মূলত রোগতত্ত্ব ও রোগ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।

সপ্তম ভুল: প্রশাসনিক স্তরের ক্রম উল্টে বলা। জেলার পরেই উপজেলা, তারপর ইউনিয়ন, সবশেষে কমিউনিটি ক্লিনিক।

পরীক্ষায় যেভাবে প্রশ্ন আসে

প্রশ্নের ধরন মোটামুটি নির্দিষ্ট। ধরনগুলো চিনে রাখলে প্রস্তুতি সহজ হয়।

প্রশ্নের ধরন নমুনা
অধীনতা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কোন বিভাগের অধীন?
সংক্ষিপ্ত রূপ ডিজিএইচএস–এর পূর্ণরূপ কী?
কাজ শনাক্তকরণ নিচের কোনটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাজ নয়?
প্রশাসনিক স্তর জেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য প্রশাসনের প্রধান কে?
তৃণমূল একক তৃণমূলে স্বাস্থ্যসেবার একক কোনটি?
সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান রোগতত্ত্ব ও রোগ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে কোন প্রতিষ্ঠান?
কর্মসূচি ইপিআই কোন ধরনের কর্মসূচি?

"নিচের কোনটি নয়" ধরনের প্রশ্নে সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটা যায়। কারণ তাড়াহুড়োয় "নয়" শব্দটা চোখ এড়িয়ে যায়। প্রশ্ন পড়ার সময় নেতিবাচক শব্দে দাগ দাও।

এই ধরনের প্রশ্নে সময় ধরে অনুশীলন করতে চাইলে মক টেস্ট দাও। ভুলের ধরন ধরা পড়বে দ্রুত।

প্রস্তুতির কৌশল

প্রথমে কাঠামো, তারপর কাজ, তারপর নাম — এই ক্রমে পড়ো। কাঠামো ছাড়া নাম মুখস্থ করলে দুই দিনেই ভুলে যাবে।

একটা কাগজে মন্ত্রণালয় থেকে কমিউনিটি ক্লিনিক পর্যন্ত পুরো শৃঙ্খলটা নিজে হাতে এঁকে ফেলো। হাতে লেখার সময় মস্তিষ্ক যেভাবে তথ্য ধরে রাখে, পড়ার সময় সেভাবে রাখে না।

এরপর অধ্যায়ভিত্তিক প্রশ্ন ধরে অনুশীলন করো। বাংলাদেশ বিষয়াবলির প্রাতিষ্ঠানিক অংশটি গোছানো আছে এই প্রশ্নব্যাংকে, আর পুরো প্রশ্নব্যাংক দেখতে যাও এখানে

লিখিত অনুশীলনের জন্য দেখো বাংলাদেশ বিষয়াবলির অনুশীলন অংশ। রোগ, টিকা ও অনাক্রম্যতা সংক্রান্ত অংশের জন্য দেখো সাধারণ বিজ্ঞানের অনুশীলন

সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাঠামো নিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লেখা হলো বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো — কারণ স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জাতীয় তথ্য সংগ্রহে ওই প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা আছে।

এক নজরে মনে রাখার তথ্য

বিষয় তথ্য
পূর্ণ নাম স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
ইংরেজি সংক্ষেপ ডিজিএইচএস
মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়
বিভাগ স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ
মন্ত্রণালয়ের বিভাগ সংখ্যা ২টি
জেলা পর্যায়ের প্রধান সিভিল সার্জন
উপজেলা পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র
তৃণমূল একক কমিউনিটি ক্লিনিক
টিকাদান কর্মসূচি ইপিআই
রোগতত্ত্ব প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআর
যেটি এর কাজ নয় ওষুধ নিবন্ধন, পরিবার পরিকল্পনা, পানি সরবরাহ

শেষ কথা একটাই — নাম নয়, কাঠামো মনে রাখো। কাঠামো মনে থাকলে নাম আপনাআপনি জায়গামতো বসে যাবে। আর যেকোনো সংখ্যা বা হালনাগাদ তথ্যের জন্য পরীক্ষার আগে কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স একবার চোখ বুলিয়ে নিও।

নার্সিং ও ধাত্রীসেবা সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান নিয়ে পড়তে চাইলে পরের ধাপে যাও এই লেখায়

Ah

Ahosan Habib

@ahosanhabib922

অচিনপুরের নির্মাতা। BCS ও চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে লেখেন — সিলেবাস, ব্যাকরণ ও পড়ার কৌশল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরবাংলাদেশ বিষয়াবলিবিসিএস প্রস্তুতিসরকারি প্রতিষ্ঠান

আরও পড়ো