পরিসংখ্যান ব্যুরো কবে প্রতিষ্ঠিত হয়? বিবিএস-এর কাজ ও শুমারি

২ আগস্ট, ২০২৬১২ মিনিট পড়া

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো কবে প্রতিষ্ঠিত, কোন মন্ত্রণালয়ের অধীন, আদমশুমারি কত বছর পরপর হয় — বিসিএস ও চাকরির পরীক্ষার জন্য বিবিএস-এর পূর্ণ নোট।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৪ সালে, আর এটি চলে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধীনে। আদমশুমারি সাধারণত হয় ১০ বছর পরপর, আর বাংলাদেশের প্রথম আদমশুমারিও হয় ১৯৭৪ সালে। এই চারটি তথ্য মুখস্থ থাকলে বিবিএস থেকে আসা প্রশ্নের বড় অংশ তুমি এমনিতেই পেরে যাবে।

তবে পরীক্ষায় শুধু সাল জিজ্ঞেস করে না। জিজ্ঞেস করে বিবিএস কোন কোন শুমারি করে, মূল্যস্ফীতি কে হিসাব করে, জিডিপির প্রাথমিক হিসাব কোথা থেকে আসে। এই লেখায় প্রতিটা ধরে ধরে দেখব।

একটা কথা শুরুতেই বলে রাখি — এই অধ্যায়ে যত সংখ্যা আছে (জনসংখ্যা, সাক্ষরতার হার, মাথাপিছু আয়, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার), তার প্রায় সবই প্রতি বছর বদলায়। তাই এখানে ইচ্ছে করেই সেই সংখ্যাগুলো লিখিনি। কোন সূচক কী মাপে সেটা এখানে শিখে নাও, আর সর্বশেষ সংখ্যা মিলিয়ে নাও সাম্প্রতিক তথ্যের পাতা থেকে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো আসলে কী

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (সংক্ষেপে বিবিএস, ইংরেজিতে Bangladesh Bureau of Statistics — BBS) হলো দেশের জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা। সরকারি যেকোনো সংখ্যা — কত মানুষ, কত ঘর, কত জমিতে ধান, কত মানুষ বেকার — এই সবের সরকারি উৎস বিবিএস।

সহজভাবে ভাবো — বিবিএস হলো রাষ্ট্রের হিসাবরক্ষক। সরকার যখন কোনো পরিকল্পনা করে, বাজেট বানায়, বা কোনো নীতির ফল মাপতে চায়, তখন সেই সংখ্যাগুলো বিবিএস সরবরাহ করে।

এই কারণেই বিবিএসকে বলা হয় দেশের একক সরকারি পরিসংখ্যান কর্তৃপক্ষ। বেসরকারি সংস্থা বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানও জরিপ করে, কিন্তু সরকারিভাবে স্বীকৃত সংখ্যা আসে বিবিএস থেকে।

পরিসংখ্যান ব্যুরো কবে প্রতিষ্ঠিত হয়

বিবিএস প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৪ সালে। স্বাধীনতার পর দেশে পরিসংখ্যানের কাজ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল কয়েকটি আলাদা সংস্থার হাতে। কেউ কৃষির হিসাব রাখত, কেউ শিল্পের, কেউ জনসংখ্যার।

এতে দুটো সমস্যা হচ্ছিল। এক, একই বিষয়ে দুই সংস্থার সংখ্যা মিলত না। দুই, কাজের অপ্রয়োজনীয় পুনরাবৃত্তি হচ্ছিল। তাই সেই পৃথক সংস্থাগুলো একীভূত করে একটি কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান বানানো হলো — বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।

এখানে একটা সুন্দর মিল আছে, মনে রাখতে সুবিধা হবে — বিবিএস প্রতিষ্ঠা আর প্রথম আদমশুমারি, দুটোই ১৯৭৪ সালে। প্রতিষ্ঠার বছরেই সংস্থাটি তার সবচেয়ে বড় কাজটি করে ফেলে।

পরিসংখ্যান ব্যুরো কোন মন্ত্রণালয়ের অধীন

এই প্রশ্নটা পরীক্ষায় খুব আসে, আর অনেকেই এখানে ভুল করে। উত্তরটা দুই ধাপের:

স্তর নাম
মন্ত্রণালয় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়
বিভাগ পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ
সংস্থা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)

অর্থাৎ বিবিএস সরাসরি মন্ত্রণালয়ের অধীনে নয় — মাঝখানে একটি বিভাগ আছে। ইংরেজিতে এই বিভাগের নাম Statistics and Informatics Division, সংক্ষেপে SID।

প্রশ্নে যদি বলা হয় "বিবিএস কোন মন্ত্রণালয়ের অধীন", উত্তর — পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। আর যদি বলা হয় "কোন বিভাগের অধীন", উত্তর — পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ। প্রশ্নটা মন দিয়ে পড়ো, দুটো আলাদা উত্তর।

একটা ভুল ধারণা এখানেই ভেঙে নাও — বিবিএস অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন নয়। রাজস্ব ও কর সংক্রান্ত সংস্থাগুলো অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পড়ে, যেমন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। সেটির কাঠামো আলাদা করে দেখে নাও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড নিয়ে লেখাটিতে — দুটো গুলিয়ে ফেলার প্রবণতা খুব বেশি।

বিবিএস ঠিক কী কী কাজ করে

বিবিএসের কাজকে চার ভাগে ভাগ করলে মনে রাখা সহজ হয়:

১. শুমারি পরিচালনা — জনশুমারি, কৃষি শুমারি, অর্থনৈতিক শুমারি।

২. জরিপ পরিচালনা — খানা জরিপ, শ্রমশক্তি জরিপ, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সংক্রান্ত জরিপ।

৩. সূচক নির্ণয় — ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই), মূল্যস্ফীতির হার, মজুরি হার সূচক, শিল্প উৎপাদন সূচক।

৪. জাতীয় হিসাব প্রণয়ন — জিডিপি প্রাক্কলন, মাথাপিছু আয়ের হিসাব, খাতভিত্তিক উৎপাদনের হিসাব।

এর বাইরেও বিবিএস ভৌগোলিক তথ্য ব্যবস্থাপনা করে, ম্যাপিং করে, আর বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের চাহিদা অনুযায়ী বিশেষ জরিপ চালায়। বাংলাদেশ বিষয়াবলির অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এগুলো একসাথে পড়তে চাইলে বাংলাদেশ বিষয়াবলির প্রশ্নব্যাংক থেকে গোটা অধ্যায়টা এক জায়গায় পাবে।

আদমশুমারি কত বছর পরপর হয়

আদমশুমারি সাধারণত ১০ বছর পরপর হয় — এটাই আন্তর্জাতিক রীতি, বাংলাদেশও এটাই অনুসরণ করে। ইংরেজিতে এই ১০ বছরের চক্রকে বলে decennial census।

বাংলাদেশের প্রথম আদমশুমারি হয় ১৯৭৪ সালে। এরপর মোটামুটি প্রতি দশকে একটি করে শুমারি হয়েছে। তবে "সাধারণত" শব্দটা মনে রেখো — বাস্তবে দু-এক বছর আগে-পিছে হয়েছে, বিশেষ করে দ্বিতীয় শুমারিটি ১০ বছরের আগেই হয়ে গিয়েছিল।

এখানে আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য — সর্বশেষ শুমারির নাম বদলেছে। আগে বলা হতো "আদমশুমারি ও গৃহগণনা", এখন বলা হয় "জনশুমারি ও গৃহগণনা"

কেন বদলাল? "আদম" শব্দটির সঙ্গে পুরুষবাচক অর্থের সংযোগ আছে, আর শুমারিতে সব লিঙ্গের মানুষ গণনা করা হয়। তাই লিঙ্গ-নিরপেক্ষ শব্দ হিসেবে "জনশুমারি" ব্যবহার শুরু হয়েছে। প্রশ্নে যদি সর্বশেষ শুমারির কথা আসে, "জনশুমারি ও গৃহগণনা" লেখাটাই সঠিক।

শুমারি আর জরিপের পার্থক্য কী

এই দুটো এক জিনিস নয়, আর পার্থক্যটা পরীক্ষায় সরাসরি জিজ্ঞেস করা হয়।

বিষয় শুমারি (Census) জরিপ (Survey)
কাকে গণনা করে সবাইকে, একজনও বাদ নয় নির্বাচিত নমুনা
সময়ের ব্যবধান দীর্ঘ (সাধারণত ১০ বছর) ঘনঘন, কখনো বছরে একাধিকবার
খরচ অনেক বেশি তুলনামূলক কম
ফলাফলের বিস্তার ইউনিয়ন-ওয়ার্ড পর্যন্ত সাধারণত জাতীয়/বিভাগীয় স্তরে
উদাহরণ জনশুমারি, কৃষি শুমারি খানা জরিপ, শ্রমশক্তি জরিপ

মনে রাখার সহজ সূত্র — শুমারি মানে গোটা জনগোষ্ঠী, জরিপ মানে নমুনা। শুমারিতে কেউ বাদ পড়ে না, জরিপে সবাইকে ধরা হয় না, বরং একটি প্রতিনিধিত্বশীল অংশ থেকে সিদ্ধান্তে আসা হয়।

বিবিএস কোন কোন শুমারি পরিচালনা করে

বিবিএসের হাতে মূলত তিনটি বড় শুমারি:

শুমারি কী গণনা করে
জনশুমারি ও গৃহগণনা মানুষ ও বসতবাড়ি
কৃষি শুমারি কৃষি খানা, জমি, ফসল, গবাদিপশু
অর্থনৈতিক শুমারি ব্যবসা ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান

জনশুমারি ও গৃহগণনা সবচেয়ে বড় ও ব্যয়বহুল। এখান থেকে আসে মোট জনসংখ্যা, জনসংখ্যার ঘনত্ব, নারী-পুরুষের অনুপাত, সাক্ষরতার হার, খানার আকার — এই সব মৌলিক সংখ্যা।

কৃষি শুমারি ঠিক করে দেয় দেশে কতগুলো কৃষি খানা আছে, কত জমি চাষের আওতায়, কত পরিবার ভূমিহীন। কৃষিনীতি ও ভর্তুকির পরিকল্পনা এই তথ্যের উপর দাঁড়ায়।

অর্থনৈতিক শুমারি দেশের সব অর্থনৈতিক ইউনিট গণনা করে — ছোট দোকান থেকে বড় কারখানা পর্যন্ত। কত মানুষ কোথায় কাজ করে, কোন খাতে কতগুলো প্রতিষ্ঠান — এসব এখান থেকে আসে।

খানা জরিপ ও শ্রমশক্তি জরিপ কী মাপে

জরিপগুলোর মধ্যে দুটো পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি আসে।

খানা আয় ও ব্যয় জরিপ (Household Income and Expenditure Survey) — এখান থেকে বের হয় দারিদ্র্যের হার, আয়বৈষম্য, খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত ব্যয়ের অনুপাত। দেশে দরিদ্র মানুষের হার নিয়ে যত সংখ্যা তুমি খবরে দেখো, তার উৎস মূলত এই জরিপ।

শ্রমশক্তি জরিপ (Labour Force Survey) — এখান থেকে বের হয় বেকারত্বের হার, শ্রমশক্তির আকার, কৃষি-শিল্প-সেবা খাতে কর্মসংস্থানের বণ্টন, আর অনানুষ্ঠানিক খাতে কত মানুষ কাজ করে।

এর পাশাপাশি বিবিএস একটি নমুনাভিত্তিক জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন ব্যবস্থা চালায়, যেখান থেকে জন্মহার, মৃত্যুহার, শিশুমৃত্যুর হার আর গড় আয়ু বের হয়। এই সূচকগুলো প্রতি বছর হালনাগাদ হয়, তাই সর্বশেষ মান দেখে নাও সাম্প্রতিক তথ্যের পাতা থেকে — পুরনো নোটের সংখ্যা ধরে পরীক্ষা দিতে যেয়ো না।

মূল্যস্ফীতি ও ভোক্তা মূল্যসূচক কীভাবে বের হয়

দেশের মূল্যস্ফীতির হার বিবিএস নির্ণয় করে — এটা মনে রাখা জরুরি, কারণ অনেকে ভাবে এই কাজ কেন্দ্রীয় ব্যাংক করে।

পদ্ধতিটা এমন। বিবিএস একটি নির্দিষ্ট পণ্য ও সেবার তালিকা ঠিক করে, যাকে বলে বাস্কেট। এই বাস্কেটে চাল-ডাল-তেল থেকে শুরু করে বাড়িভাড়া, যাতায়াত, চিকিৎসা — সবই থাকে। প্রতিটি পণ্যের ওজন (weight) নির্ধারিত হয় খানা জরিপের ব্যয়ের ধরন দেখে।

এরপর সারা দেশ থেকে নিয়মিত দাম সংগ্রহ করে একটি ভিত্তি বছরের সঙ্গে তুলনা করা হয়। এভাবেই তৈরি হয় ভোক্তা মূল্যসূচক বা সিপিআই (Consumer Price Index)। এই সূচকের শতকরা পরিবর্তনই মূল্যস্ফীতির হার।

এখানে দায়িত্বের ভাগটা পরিষ্কার করে নাও:

কাজ কে করে
মূল্যস্ফীতি মাপা ও প্রকাশ করা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নীতি নেওয়া বাংলাদেশ ব্যাংক

অর্থাৎ বিবিএস মাপে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করে। মুদ্রানীতি দিয়ে মূল্যস্ফীতি কীভাবে সামলানো হয় সেটা বুঝতে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ে লেখাটা পড়ে নাও — দুই প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা পাশাপাশি রাখলে আর গুলিয়ে যাবে না।

জিডিপি প্রাক্কলন ও অর্থবছরের হিসাব

দেশের জিডিপির প্রাক্কলন বিবিএস করে। মোট দেশজ উৎপাদন, প্রবৃদ্ধির হার, মাথাপিছু আয় — এই সব জাতীয় হিসাব বিবিএসের জাতীয় হিসাব শাখা থেকে আসে।

জিডিপির হিসাব দুই ধাপে প্রকাশিত হয়। প্রথমে আসে সাময়িক হিসাব (provisional), যা অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই আংশিক তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। পরে সম্পূর্ণ তথ্য এলে আসে চূড়ান্ত হিসাব (final)। এই কারণেই এক বছরের প্রবৃদ্ধির সংখ্যা পরে বদলে যেতে দেখো।

বাংলাদেশের অর্থবছর শুরু ১ জুলাই, শেষ ৩০ জুন। এটি নিজেই একটি স্বতন্ত্র পরীক্ষার প্রশ্ন, আর জিডিপি-সংক্রান্ত সব হিসাব এই অর্থবছর ধরেই প্রকাশিত হয়।

জিডিপি, প্রবৃদ্ধি, মাথাপিছু আয় — এই সংখ্যাগুলো প্রতি বছর বদলায়, তাই এখানে কোনো নির্দিষ্ট মান লিখলাম না। শতকরা হার, প্রবৃদ্ধি আর অনুপাতের অঙ্ক কষার হাত মজবুত করতে গাণিতিক যুক্তির অনুশীলন থেকে চর্চা করে নাও — অর্থনীতির প্রশ্নে এই দক্ষতাটাই কাজে লাগে।

পরিসংখ্যান আইন বিবিএসকে কী ক্ষমতা দেয়

বিবিএস চলে একটি পরিসংখ্যান আইনের (Statistics Act) অধীনে। এই আইন তিনটি বড় জিনিস নিশ্চিত করে:

  • তথ্য সংগ্রহের আইনি ক্ষমতা — বিবিএস চাইলে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান তথ্য দিতে বাধ্য।
  • তথ্যের গোপনীয়তা — কোনো ব্যক্তির দেওয়া তথ্য আলাদাভাবে প্রকাশ করা যায় না, শুধু সমষ্টিগত পরিসংখ্যান প্রকাশ হয়।
  • সরকারি পরিসংখ্যানের একক কর্তৃত্ব — সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশে বিবিএসের ভূমিকা কেন্দ্রীয়।

গোপনীয়তার বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ। শুমারিতে তোমার আয় বা সম্পদের তথ্য নেওয়া হলেও সেটি কর আদায় বা কোনো তদন্তে ব্যবহার করা যায় না — এই সুরক্ষা না থাকলে মানুষ সত্যি তথ্য দিত না, আর গোটা পরিসংখ্যানই অকেজো হয়ে যেত।

যেসব ভুল সবচেয়ে বেশি হয়

এই অধ্যায়ে পরীক্ষার্থীরা যে ভুলগুলো বারবার করে:

ভুল ধারণা সঠিক তথ্য
বিবিএস অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীন
মূল্যস্ফীতি বাংলাদেশ ব্যাংক হিসাব করে বিবিএস হিসাব করে, ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করে
শুমারি ও জরিপ একই জিনিস শুমারি পূর্ণগণনা, জরিপ নমুনাভিত্তিক
সর্বশেষ শুমারির নাম "আদমশুমারি" নাম এখন "জনশুমারি ও গৃহগণনা"
জিডিপির সংখ্যা একবারেই চূড়ান্ত আগে সাময়িক, পরে চূড়ান্ত হিসাব
আদমশুমারি প্রতি ৫ বছরে হয় সাধারণত ১০ বছর পরপর
বিবিএস স্বাধীনতার পরপরই ১৯৭১-এ প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠিত ১৯৭৪ সালে

সবচেয়ে বেশি নম্বর হারায় মানুষ প্রথম দুটোতে। মন্ত্রণালয়ের নামটা আর মূল্যস্ফীতির দায়িত্বটা আলাদা করে দাগিয়ে রাখো।

পরীক্ষায় যেভাবে প্রশ্ন আসে

বিসিএস প্রিলি, ব্যাংক ও অন্যান্য নিয়োগ পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে প্রশ্ন সাধারণত এই ছাঁচগুলোতে আসে:

  • সাল-ভিত্তিক — "বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?" বা "বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি কত সালে হয়?"
  • কাঠামো-ভিত্তিক — "বিবিএস কোন মন্ত্রণালয়ের অধীন?"
  • দায়িত্ব-ভিত্তিক — "মূল্যস্ফীতির হার নির্ণয় করে কোন প্রতিষ্ঠান?" বা "জিডিপি প্রাক্কলন করে কে?"
  • ব্যবধান-ভিত্তিক — "আদমশুমারি কত বছর পরপর অনুষ্ঠিত হয়?"
  • সংজ্ঞা-ভিত্তিক — "সিপিআই কী?" বা "শুমারি ও জরিপের পার্থক্য কী?"
  • অর্থবছর-ভিত্তিক — "বাংলাদেশের অর্থবছর কোনটি?"

তথ্য পড়ার পর সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োগ করে দেখা দরকার, নইলে মনে থাকে না। বাংলাদেশ বিষয়াবলির প্রশ্নে হাত পাকাতে বাংলাদেশ বিষয়াবলির অনুশীলনী কাজে লাগাও, আর নির্দিষ্ট বিষয় বেছে পড়তে চাইলে অনুশীলনের পাতা থেকে অধ্যায় বেছে নাও।

সময় বেঁধে পুরো প্রস্তুতি যাচাই করতে চাইলে মডেল টেস্ট থেকে একটি পূর্ণ পরীক্ষা দিয়ে ফেলো। আর আগের বছরগুলোতে ঠিক কীভাবে প্রশ্ন এসেছে দেখতে পুরো প্রশ্নব্যাংক কাজে দেবে।

এক নজরে মনে রাখার তথ্য

প্রশ্ন উত্তর
পূর্ণরূপ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS)
প্রতিষ্ঠা ১৯৭৪ সাল
কীভাবে গঠিত কয়েকটি পৃথক পরিসংখ্যান সংস্থা একীভূত করে
মন্ত্রণালয় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়
বিভাগ পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ
প্রথম আদমশুমারি ১৯৭৪ সাল
শুমারির ব্যবধান সাধারণত ১০ বছর
সর্বশেষ শুমারির নাম জনশুমারি ও গৃহগণনা
মূল্যস্ফীতি নির্ণয় বিবিএস
জিডিপি প্রাক্কলন বিবিএস
অর্থবছর ১ জুলাই – ৩০ জুন
আইনি ভিত্তি পরিসংখ্যান আইন

এই টেবিলটা পরীক্ষার আগের রাতে একবার চোখ বুলিয়ে নিলেই যথেষ্ট। আর যে সংখ্যাগুলো ইচ্ছে করে এখানে রাখিনি — জনসংখ্যা, সাক্ষরতার হার, দারিদ্র্যের হার, মাথাপিছু আয় — সেগুলো পরীক্ষার কাছাকাছি সময়ে সাম্প্রতিক তথ্যের পাতা থেকে সর্বশেষ মান দেখে মুখস্থ করো। দুই বছরের পুরনো সংখ্যা লিখে আসা আর ফাঁকা রেখে আসা পরীক্ষার খাতায় প্রায় একই ফল দেয়।

Ah

Ahosan Habib

@ahosanhabib922

অচিনপুরের নির্মাতা। BCS ও চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে লেখেন — সিলেবাস, ব্যাকরণ ও পড়ার কৌশল।

পরিসংখ্যান ব্যুরোআদমশুমারিবিসিএসবাংলাদেশ বিষয়াবলি

আরও পড়ো