বাংলা ব্যাকরণ — সূচিঅধ্যায় ১৯ / ২১

অধ্যায় ১৯

বিরাম চিহ্ন (যতিচিহ্ন)

বাক্যের অর্থ স্পষ্ট করতে এবং পাঠে বিরতি বোঝাতে যে চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, তাকে বিরাম বা যতিচিহ্ন বলে।

যতিচিহ্ন ও বিরতিকাল

সহজ করে বুঝি

যতিচিহ্ন আসলে পাঠকের জন্য থামার সংকেত — কোথায় কতক্ষণ দম নেব, তার ট্রাফিক সিগন্যাল।

সহজ মাপ: কমা = ১ বলার সময়, দাঁড়ি = ১ সেকেন্ড, আর জিজ্ঞাসা/বিস্ময় দাঁড়ির সমান। থামার দৈর্ঘ্য দিয়ে চিহ্নগুলো সাজালে বিরতিকালের প্রশ্ন আর কঠিন লাগে না।

প্রধান চিহ্ন

  • কমা (,) — বিরতি ১ (এক) বলার সময়
  • সেমিকোলন (;) — বিরতি ১ বলার দ্বিগুণ
  • দাঁড়ি/পূর্ণচ্ছেদ (।) — বিরতি ১ বলতে যে সময়, তার দ্বিগুণ
  • প্রশ্নচিহ্ন (?) ও বিস্ময়চিহ্ন (!) — এক (১) বলার সময়
  • কোলন (:) ও ড্যাশ (—) — এক (১) বলার সময়

যতিচিহ্ন ও বিরতিকাল (চার্ট)

কোন চিহ্নে কতক্ষণ থামব
চিহ্ননামবিরতিকাল
,কমা১ (বলার) বলতে যে সময়
;সেমিকোলন১ বলার দ্বিগুণ সময়
:কোলন১ সেকেন্ড
।দাঁড়ি (পূর্ণচ্ছেদ)১ সেকেন্ড
?প্রশ্নচিহ্ন১ সেকেন্ড
!বিস্ময়চিহ্ন১ সেকেন্ড
—ড্যাশ১ সেকেন্ড
-হাইফেনথামার প্রয়োজন নেই
“ ”উদ্ধৃতি চিহ্নথামা নেই
( )বন্ধনীথামা নেই

মূল সূত্র: কমা < সেমিকোলন < দাঁড়ি — যত বড় থামা, তত বড় চিহ্ন।

নিজে চেষ্টা করো

কমা (,) ও দাঁড়ি (।)-তে থামার সময়ের পার্থক্য কী?

পরীক্ষার ফাঁদ

  • দাঁড়ির বিরতি কমার দ্বিগুণ।
  • বাংলায় পূর্ণচ্ছেদ চিহ্ন ‘।’ (দাঁড়ি)।

মনে রাখার কৌশল

  • কমা < সেমিকোলন < দাঁড়ি — বিরতিকাল ক্রমে বাড়ে।

সারসংক্ষেপ · এক নজরে রিভিশন

  • ১.যতিচিহ্ন = থামার সংকেত; থামার দৈর্ঘ্য দিয়ে চেনো।
  • ২.কমা = ১ বলার সময়; সেমিকোলন = ১ বলার দ্বিগুণ; দাঁড়ি/প্রশ্ন/বিস্ময় = ১ সেকেন্ড।
  • ৩.কোলন, ড্যাশ, হাইফেন, উদ্ধৃতি চিহ্নের কাজ আলাদা।