অধ্যায় ২০
ছন্দ ও অলংকার
কবিতার সুশৃঙ্খল ধ্বনিপ্রবাহকে ছন্দ, আর ভাষার সৌন্দর্যবর্ধক উপায়কে অলংকার বলে।
ছন্দ
সহজ করে বুঝি
কবিতা কানে ভালো লাগে কারণ তার ভেতরে একটা তাল আছে — সেই তালের নামই ছন্দ। মাত্রা গুনে গুনে সেই তাল তৈরি হয়।
তিন ভাইকে চেনার চাবি অক্ষর/মাত্রা গোনায়: স্বরবৃত্ত (ছড়ার দুলুনি), মাত্রাবৃত্ত (মাঝারি), অক্ষরবৃত্ত (গম্ভীর)। রুদ্ধ অক্ষরের মাত্রা কীভাবে গুনছি — সেটাই তিনটাকে আলাদা করে।
তিন প্রধান ছন্দ
- অক্ষরবৃত্ত (তানপ্রধান) — মাত্রা গণনায় রুদ্ধদল ২, মুক্তদল ১
- মাত্রাবৃত্ত (কলাবৃত্ত) — প্রতিটি দল যত মাত্রা তত গোনা
- স্বরবৃত্ত (দলবৃত্ত/ছড়ার ছন্দ) — প্রতিটি দল ১ মাত্রা
নিজে চেষ্টা করো
বাংলা ছন্দ প্রধানত কয় প্রকার ও কী কী?
অলংকার
সহজ করে বুঝি
অলংকার মানে ভাষার গয়না — কথাকে সুন্দর ও জোরালো করার সাজ। দুই রকম: শব্দের সাজ (শব্দালংকার), অর্থের সাজ (অর্থালংকার)।
‘মুখ চাঁদের মতো’ = উপমা, ‘মুখ যেন চাঁদ’ও উপমা, কিন্তু ‘মুখ-চাঁদ’ একাকার হলে রূপক। তুলনাটা কতটা গাঢ় — সেটা দেখেই উপমা/রূপক/উৎপ্রেক্ষা আলাদা করা যায়।
শব্দালংকার
- অনুপ্রাস — একই ব্যঞ্জনের পুনরাবৃত্তি
- যমক — একই শব্দ ভিন্ন অর্থে
- শ্লেষ — এক শব্দে একাধিক অর্থ
অর্থালংকার
- উপমা — সাদৃশ্য (মুখ যেন চাঁদ)
- রূপক — অভেদ কল্পনা (মুখ-চন্দ্র)
- উৎপ্রেক্ষা — সম্ভাবনা কল্পনা (যেন/বুঝি)
নিজে চেষ্টা করো
উপমা ও রূপকের পার্থক্য কী?
পরীক্ষার ফাঁদ
- উপমায় ‘যেন/মতো’ থাকে; রূপকে অভেদ কল্পনা (উপমান-উপমেয় এক)।
মনে রাখার কৌশল
- ছন্দ ৩: অক্ষরবৃত্ত-মাত্রাবৃত্ত-স্বরবৃত্ত।
- অলংকার: শব্দালংকার ও অর্থালংকার।
সারসংক্ষেপ · এক নজরে রিভিশন
- ১.ছন্দ ৩: স্বরবৃত্ত (ছড়ার দুলুনি), মাত্রাবৃত্ত (মাঝারি), অক্ষরবৃত্ত (গম্ভীর)।
- ২.অলংকার ২: শব্দালংকার (অনুপ্রাস, যমক) ও অর্থালংকার (উপমা, রূপক, উৎপ্রেক্ষা)।
- ৩.উপমায় তুলনা; রূপকে অভেদ; উৎপ্রেক্ষায় সম্ভাবনা/সংশয় (যেন)।