বাংলা ব্যাকরণ — সূচিঅধ্যায় ২০ / ২১

অধ্যায় ২০

ছন্দ ও অলংকার

কবিতার সুশৃঙ্খল ধ্বনিপ্রবাহকে ছন্দ, আর ভাষার সৌন্দর্যবর্ধক উপায়কে অলংকার বলে।

ছন্দ

সহজ করে বুঝি

কবিতা কানে ভালো লাগে কারণ তার ভেতরে একটা তাল আছে — সেই তালের নামই ছন্দ। মাত্রা গুনে গুনে সেই তাল তৈরি হয়।

তিন ভাইকে চেনার চাবি অক্ষর/মাত্রা গোনায়: স্বরবৃত্ত (ছড়ার দুলুনি), মাত্রাবৃত্ত (মাঝারি), অক্ষরবৃত্ত (গম্ভীর)। রুদ্ধ অক্ষরের মাত্রা কীভাবে গুনছি — সেটাই তিনটাকে আলাদা করে।

তিন প্রধান ছন্দ

  • অক্ষরবৃত্ত (তানপ্রধান) — মাত্রা গণনায় রুদ্ধদল ২, মুক্তদল ১
  • মাত্রাবৃত্ত (কলাবৃত্ত) — প্রতিটি দল যত মাত্রা তত গোনা
  • স্বরবৃত্ত (দলবৃত্ত/ছড়ার ছন্দ) — প্রতিটি দল ১ মাত্রা

নিজে চেষ্টা করো

বাংলা ছন্দ প্রধানত কয় প্রকার ও কী কী?

অলংকার

সহজ করে বুঝি

অলংকার মানে ভাষার গয়না — কথাকে সুন্দর ও জোরালো করার সাজ। দুই রকম: শব্দের সাজ (শব্দালংকার), অর্থের সাজ (অর্থালংকার)।

‘মুখ চাঁদের মতো’ = উপমা, ‘মুখ যেন চাঁদ’ও উপমা, কিন্তু ‘মুখ-চাঁদ’ একাকার হলে রূপক। তুলনাটা কতটা গাঢ় — সেটা দেখেই উপমা/রূপক/উৎপ্রেক্ষা আলাদা করা যায়।

শব্দালংকার

  • অনুপ্রাস — একই ব্যঞ্জনের পুনরাবৃত্তি
  • যমক — একই শব্দ ভিন্ন অর্থে
  • শ্লেষ — এক শব্দে একাধিক অর্থ

অর্থালংকার

  • উপমা — সাদৃশ্য (মুখ যেন চাঁদ)
  • রূপক — অভেদ কল্পনা (মুখ-চন্দ্র)
  • উৎপ্রেক্ষা — সম্ভাবনা কল্পনা (যেন/বুঝি)

নিজে চেষ্টা করো

উপমা ও রূপকের পার্থক্য কী?

পরীক্ষার ফাঁদ

  • উপমায় ‘যেন/মতো’ থাকে; রূপকে অভেদ কল্পনা (উপমান-উপমেয় এক)।

মনে রাখার কৌশল

  • ছন্দ ৩: অক্ষরবৃত্ত-মাত্রাবৃত্ত-স্বরবৃত্ত।
  • অলংকার: শব্দালংকার ও অর্থালংকার।

সারসংক্ষেপ · এক নজরে রিভিশন

  • ১.ছন্দ ৩: স্বরবৃত্ত (ছড়ার দুলুনি), মাত্রাবৃত্ত (মাঝারি), অক্ষরবৃত্ত (গম্ভীর)।
  • ২.অলংকার ২: শব্দালংকার (অনুপ্রাস, যমক) ও অর্থালংকার (উপমা, রূপক, উৎপ্রেক্ষা)।
  • ৩.উপমায় তুলনা; রূপকে অভেদ; উৎপ্রেক্ষায় সম্ভাবনা/সংশয় (যেন)।