স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কতটি বিভাগে বিভক্ত?

২ আগস্ট, ২০২৬১১ মিনিট পড়া

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগ, অধীন অধিদপ্তর, স্বাস্থ্যসেবার স্তর ও পরীক্ষার ফাঁদ — বিসিএস ও চাকরির প্রস্তুতির জন্য গোছানো নোট।

স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন এলে অনেকেই ভাবে, দেশের যেকোনো স্বাস্থ্যসংক্রান্ত দপ্তর নিশ্চয়ই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন। এই সরল ধারণাটাই সবচেয়ে বড় ফাঁদ।

কিছু দপ্তরের নামে "স্বাস্থ্য" শব্দটি থাকলেও সেগুলো অন্য মন্ত্রণালয়ের অধীন। এই লেখায় সেই সীমারেখা স্পষ্ট করে দেখানো হবে, সঙ্গে থাকবে পুরো কাঠামোর গোছানো ছক।

এই মন্ত্রণালয়ের কাজের পরিধি

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় দেশের চিকিৎসাসেবা, জনস্বাস্থ্য, চিকিৎসা শিক্ষা এবং পরিবার পরিকল্পনা সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণ করে।

কোন নীতিতে হাসপাতাল চলবে, চিকিৎসা শিক্ষা কীভাবে পরিচালিত হবে, ওষুধের অনুমোদন কীভাবে হবে, পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি কেমন হবে — সব এখান থেকেই ঠিক হয়।

এখানেও সেই চেনা নিয়ম খাটে। মন্ত্রণালয় নীতি করে, অধিদপ্তর বাস্তবায়ন করে। রাজনৈতিক প্রধান মন্ত্রী, প্রশাসনিক প্রধান সচিব, আর দাপ্তরিক ঠিকানা বাংলাদেশ সচিবালয়।

দুই বিভাগের বিভাজন

এই মন্ত্রণালয় দুটি বিভাগে বিভক্ত। এই দুই নাম না জানলে অধীন দপ্তর মেলানো যাবে না।

প্রথমটি স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ। দ্বিতীয়টি স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ।

বিভাগ মূল দায়িত্বের এলাকা
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ চিকিৎসাসেবা, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা, ওষুধ নিয়ন্ত্রণ
স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ চিকিৎসা ও নার্সিং শিক্ষা, পরিবার পরিকল্পনা

নাম দেখেই কাজ ধরার অভ্যাস করো। যেখানে "সেবা" শব্দ আছে, সেখানে রোগীকে সরাসরি সেবা দেওয়ার দিকটা। আর যেখানে "শিক্ষা" ও "পরিবার কল্যাণ" আছে, সেখানে প্রশিক্ষণ, শিক্ষা ও পরিবার পরিকল্পনার দিকটা।

কোন বিভাগের অধীনে কোন দপ্তর

এবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছক। কোন অধিদপ্তর কোন বিভাগের অধীন, সেটাই প্রশ্নের কেন্দ্রবিন্দু।

বিভাগ অধীন অধিদপ্তর
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর
স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর

লক্ষ্য করো, ওষুধসংক্রান্ত দপ্তরটি সেবা বিভাগের সঙ্গে আছে, আর নার্সিং ও চিকিৎসা শিক্ষা সংক্রান্ত দপ্তরগুলো শিক্ষা বিভাগের সঙ্গে।

এই বিন্যাসটা যুক্তিসংগত। ওষুধ সরাসরি রোগীর চিকিৎসার অংশ, আর নার্সিং ও চিকিৎসা শিক্ষা জনবল তৈরির অংশ।

নার্সিং ও স্বাস্থ্য শিক্ষার দিকটি

চিকিৎসাসেবা দিতে হলে দক্ষ জনবল লাগে, আর সেই জনবল তৈরির দায়িত্ব আলাদা দুটি অধিদপ্তরের ওপর।

নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর নার্স ও মিডওয়াইফদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও পেশাগত বিষয়গুলো দেখে। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর চিকিৎসা শিক্ষা সংক্রান্ত প্রাতিষ্ঠানিক দিকগুলোর তদারকি করে।

দুটোই স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অধীন। এখানে খেয়াল রাখার বিষয় হলো, শিক্ষা সংক্রান্ত হলেও এই অধিদপ্তরগুলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন নয়।

কেন নয়, সেই যুক্তিটাও সহজ। চিকিৎসা ও নার্সিং শিক্ষা সরাসরি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার জনবল তৈরির সঙ্গে যুক্ত, তাই এগুলো স্বাস্থ্যখাতের ভেতরেই রাখা হয়েছে।

সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামো কীভাবে সাজানো, তা মিলিয়ে দেখতে চাইলে /blog/shikkha-montronaloy লেখাটি পড়ে নিও।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কী করে

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এই মন্ত্রণালয়ের প্রধান বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান। হাসপাতাল পরিচালনা, রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি, টিকাদান কার্যক্রম, স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত মাঠপর্যায়ের ব্যবস্থাপনা — সবই এর আওতায়।

কোনো রোগের প্রাদুর্ভাব হলে বা জাতীয় পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মসূচি চালু হলে বাস্তবায়নের দায়িত্ব এই অধিদপ্তরের ওপরই পড়ে।

এই অধিদপ্তরের গঠন ও কাজ নিয়ে বিস্তারিত জানতে /blog/shastho-odhidoptor লেখাটি দেখে নিতে পারো।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ভূমিকা

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর দেশের ওষুধ খাতের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান। ওষুধ উৎপাদন, আমদানি, বিপণন ও মান নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত অনুমোদনের কাজ এখানে হয়।

একটি ওষুধ বাজারে আসতে পারবে কি না, কোনো ওষুধের নিবন্ধন থাকবে কি না — এসব সিদ্ধান্ত এই অধিদপ্তরের।

এর কাজ কেবল কাগুজে অনুমোদনে সীমাবদ্ধ নয়। নকল বা মানহীন ওষুধের বিরুদ্ধে তদারকিও এর দায়িত্বের অংশ। বিস্তারিত পড়ো /blog/oushud-proshason-odhidoptor লেখায়।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনা, মা ও শিশুস্বাস্থ্য এবং প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে।

মাঠপর্যায়ে এর নিজস্ব কর্মীবাহিনী আছে, যাঁরা গ্রামে গিয়ে সেবা ও পরামর্শ পৌঁছে দেন। ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোও এই কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত।

পরিবার পরিকল্পনা কেন আলাদা গুরুত্ব পায়, সেটিও ভেবে দেখো। জনসংখ্যার আকার ও বৃদ্ধির হার সরাসরি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের ওপর চাপ ফেলে। তাই এটিকে নিছক স্বাস্থ্যসেবা না ভেবে উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হয়।

মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবাও এই ধারার সঙ্গে যুক্ত। গর্ভকালীন সেবা, নিরাপদ প্রসব ও প্রসব-পরবর্তী সেবা এই কাঠামোর ভেতর দিয়েই মাঠপর্যায়ে পৌঁছায়।

খেয়াল রাখো, এটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীন নয়। দুটি আলাদা অধিদপ্তর এবং দুটি আলাদা বিভাগের অধীন। বিস্তারিত আলোচনা আছে /blog/poribar-porikolpona-odhidoptor লেখায়।

আইইডিসিআর ও বিএমডিসি

এই দুটি নাম পরীক্ষায় খুব আসে, আর দুটির কাজ একেবারে আলাদা।

আইইডিসিআর রোগতত্ত্ব ও রোগ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত কাজ করে। কোনো রোগ কীভাবে ছড়াচ্ছে, তার উৎস কী, প্রতিরোধে কী করা দরকার — এই ধরনের অনুসন্ধান ও গবেষণা এর দায়িত্ব।

বিএমডিসি চিকিৎসকদের নিবন্ধন দেয়। অর্থাৎ কে চিকিৎসক হিসেবে পেশা চালাতে পারবেন, সেই স্বীকৃতির বিষয়টি এর এখতিয়ারে।

প্রতিষ্ঠান কাজ যা করে না
আইইডিসিআর রোগতত্ত্ব ও রোগ নিয়ন্ত্রণ চিকিৎসকের নিবন্ধন দেয় না
বিএমডিসি চিকিৎসক নিবন্ধন রোগ অনুসন্ধান করে না

মনে রাখার কৌশল — আইইডিসিআর রোগ নিয়ে, বিএমডিসি চিকিৎসক নিয়ে।

রোগতত্ত্ব শব্দটির অর্থও একবার বুঝে নাও। এটি রোগের ছড়িয়ে পড়ার ধরন, কারণ ও প্রতিরোধ নিয়ে অনুসন্ধানের বিদ্যা। কোনো এলাকায় হঠাৎ একই রোগে অনেকে আক্রান্ত হলে সেখানে অনুসন্ধান চালিয়ে উৎস খুঁজে বের করা এই ধরনের কাজেরই অংশ।

আর নিবন্ধন বলতে বোঝায় পেশাগত স্বীকৃতি। নিবন্ধন ছাড়া কেউ চিকিৎসক পরিচয়ে পেশা চালাতে পারেন না। তাই এই দুটি প্রতিষ্ঠানের কাজ পুরোপুরি ভিন্ন প্রকৃতির।

স্বাস্থ্যসেবার স্তরবিন্যাস

দেশের স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো ধাপে ধাপে সাজানো। নিচের স্তরে সাধারণ সেবা, উপরের স্তরে জটিল ও বিশেষায়িত চিকিৎসা।

স্তর অবস্থান বৈশিষ্ট্য
কমিউনিটি ক্লিনিক তৃণমূল প্রাথমিক সেবা ও পরামর্শ
ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ইউনিয়ন মৌলিক চিকিৎসা
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স উপজেলা ভর্তিসহ চিকিৎসা
জেলা হাসপাতাল জেলা সিভিল সার্জনের তত্ত্বাবধান
মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে উন্নত চিকিৎসা ও শিক্ষা
বিশেষায়িত ইনস্টিটিউট জাতীয় নির্দিষ্ট রোগে বিশেষ চিকিৎসা

এই ছকটি শুধু মুখস্থ কোরো না, ক্রমটা বুঝে নাও। রোগী নিচের স্তরে প্রথমে যায়, প্রয়োজন হলে উপরের স্তরে রেফার হয়।

জেলা পর্যায়ে সিভিল সার্জন পদটি আলাদা করে মনে রাখো। জেলার স্বাস্থ্য প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা এই পদ নিয়ে প্রশ্ন প্রায়ই আসে।

এই স্তরবিন্যাসের পেছনের ভাবনাটাও বুঝে নাও। সব রোগীকে যদি সরাসরি বড় হাসপাতালে পাঠানো হয়, তাহলে সেখানে চাপ এত বাড়বে যে সত্যিকারের জটিল রোগীরা সেবা পাবেন না।

তাই সাধারণ অসুখ নিচের স্তরে নিষ্পত্তি হয়, আর জটিল রোগী ধাপে ধাপে উপরে যান। একেই বলা হয় রেফারেল ব্যবস্থা।

তৃণমূলে কমিউনিটি ক্লিনিকের অবস্থান সবচেয়ে নিচে হলেও গুরুত্বে এটি কম নয়। প্রাথমিক পরামর্শ ও মৌলিক সেবা এখানেই পাওয়া যায়, ফলে উপরের স্তরের চাপ কমে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্তরটিকে অনেকে সেতু বলে ভাবতে পারো। এখানে বহির্বিভাগের পাশাপাশি রোগী ভর্তি রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকে, ফলে বহু রোগীকে আর জেলা পর্যন্ত যেতে হয় না।

সবচেয়ে বড় ফাঁদ — ডিপিএইচই

এবার সেই ফাঁদের কথা, যেটি সবচেয়ে বেশি ভুল উত্তর তৈরি করে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, সংক্ষেপে ডিপিএইচই, এই মন্ত্রণালয়ের অধীন নয়। এটি স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন।

নামের ভেতরে "জনস্বাস্থ্য" শব্দটি থাকায় প্রায় সবাই ধরে নেয় এটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের। কিন্তু এর কাজ নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন অবকাঠামো, যা প্রকৌশল ও স্থানীয় সরকারের কাজের সঙ্গে যুক্ত।

দপ্তর আসল অধীনতা
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর স্থানীয় সরকার বিভাগ

শেষ সারিটি লাল কালি দিয়ে দাগিয়ে রাখো। প্রশ্নে "কোনটি এই মন্ত্রণালয়ের অধীন নয়" জিজ্ঞেস করলে উত্তর সাধারণত এটিই।

এই ধরনের ফাঁদ এড়ানোর একটা সাধারণ নিয়ম শিখে রাখো। নাম দেখে অধীনতা ঠিক না করে কাজ দেখে ঠিক করো।

ডিপিএইচইর কাজ পানির লাইন বসানো ও স্যানিটেশন অবকাঠামো তৈরি — এটি প্রকৌশলের কাজ, চিকিৎসার নয়। কাজটা ধরলে অধীনতা নিয়ে আর ভুল হবে না।

একইভাবে অন্য মন্ত্রণালয়ের ক্ষেত্রেও নামের সঙ্গে কাজ মিলিয়ে দেখার অভ্যাস করো। পরীক্ষক প্রায় সবসময় নামের মিল দেখিয়েই ভুল উত্তরের দিকে টানেন।

যেসব ভুল সবচেয়ে বেশি হয়

ভুলগুলো এক জায়গায় সাজিয়ে দিলাম, যাতে পরীক্ষার আগে চোখ বুলিয়ে নিতে পারো।

প্রথম ভুল — ডিপিএইচইকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ভাবা। এটি স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন।

দ্বিতীয় ভুল — বিভাগ দুটির নাম গুলিয়ে ফেলা। একটি স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, অন্যটি স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ।

তৃতীয় ভুল — পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শাখা ভাবা। দুটি স্বতন্ত্র অধিদপ্তর।

চতুর্থ ভুল — আইইডিসিআর ও বিএমডিসির কাজ অদলবদল করে ফেলা।

ভুল ধারণা সঠিক তথ্য
ডিপিএইচই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অংশ আলাদা অধিদপ্তর
বিএমডিসি রোগ নিয়ন্ত্রণ করে চিকিৎসক নিবন্ধন দেয়
ঔষধ প্রশাসন শিক্ষা বিভাগের অধীন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অধীন

পরীক্ষায় যেভাবে প্রশ্ন আসে

এই অধ্যায় থেকে প্রশ্ন সাধারণত কয়েকটি নির্দিষ্ট ছাঁচে আসে।

প্রথম ছাঁচ — বিভাগ গণনা ও নামকরণ। কয়টি বিভাগ এবং সেগুলোর নাম কী, তা সরাসরি জিজ্ঞেস করা হয়।

দ্বিতীয় ছাঁচ — অধীনতা মেলানো। কোন অধিদপ্তর কোন বিভাগের অধীন, তা মেলাতে বলা হয়।

তৃতীয় ছাঁচ — নেতিবাচক প্রশ্ন। কোনটি এই মন্ত্রণালয়ের অধীন নয়, সেখানে ডিপিএইচই বসানো থাকে।

চতুর্থ ছাঁচ — স্তরবিন্যাস। কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে বিশেষায়িত ইনস্টিটিউট পর্যন্ত ক্রম সাজাতে বলা হয়, বা কোনো একটি স্তরের দায়িত্ব জানতে চাওয়া হয়।

প্রশ্নের ছাঁচ প্রস্তুতির জায়গা
বিভাগের নাম দুই বিভাগের ছক
অধীনতা অধিদপ্তরের তালিকা
নেতিবাচক ডিপিএইচই মনে রাখো
স্তরবিন্যাস সেবার ছয় স্তরের ক্রম

এই ছাঁচগুলো ধরে অনুশীলন করতে /practice/bangladesh-affairs ভালো জায়গা। বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন একসাথে পেতে /bank/subject/bangladesh-affairs, আর সময় ধরে পূর্ণ সেট দিতে /mock ব্যবহার করো।

এক নজরে মনে রাখার তথ্য

শেষ রিভিশনের জন্য এই তালিকাটাই যথেষ্ট।

  • বিভাগ দুটি — স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ।
  • স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর সেবা বিভাগের অধীন।
  • পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অধীন।
  • আইইডিসিআর রোগতত্ত্ব ও রোগ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।
  • বিএমডিসি চিকিৎসকদের নিবন্ধন দেয়।
  • জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন।
  • সেবার স্তর — কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত ইনস্টিটিউট।
  • জেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য প্রশাসনে সিভিল সার্জন।
  • মন্ত্রণালয় নীতি করে, অধিদপ্তর বাস্তবায়ন করে।

হাসপাতাল, শয্যা বা জনবলের সংখ্যা সংক্রান্ত কোনো তথ্য দরকার হলে সাম্প্রতিক উৎস দেখো — এসব সংখ্যা বদলায়, তাই /current-affairs থেকে মিলিয়ে নিও।

পরের ধাপে কী পড়বে

মন্ত্রণালয়ের অধ্যায়টি ভালোভাবে গাঁথতে হলে একটির পর একটি ধরে এগোনোই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ কাঠামোর যুক্তি সবখানে এক।

শিক্ষাখাতও দুই বিভাগে ভাগ, তাই তুলনা করে পড়লে দুটোই মনে থাকবে — /blog/shikkha-montronaloy। প্রাথমিক স্তরের আলাদা কাঠামো বুঝতে /blog/prathomik-gonoshikkha-montronaloy পড়ে নাও।

সামাজিক নিরাপত্তা ও হাসপাতাল সমাজসেবার মতো বিষয় স্বাস্থ্যখাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ, তাই /blog/somajkollan-montronaloy লেখাটিও কাজে দেবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও হজ ব্যবস্থাপনার জন্য /blog/dhormo-bishoyok-montronaloy আছে।

সব প্রশ্ন একসাথে দেখতে /bank, নিয়মিত অভ্যাস গড়তে /practice ব্যবহার করো। মনে রেখো, এই অধ্যায়ে নম্বর তোলার আসল কৌশল নামের তালিকা নয় — কে কার অধীন, সেই সম্পর্কটা ধরতে পারা।

Ah

Ahosan Habib

@ahosanhabib922

অচিনপুরের নির্মাতা। BCS ও চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে লেখেন — সিলেবাস, ব্যাকরণ ও পড়ার কৌশল।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়মন্ত্রণালয়বিসিএস প্রস্তুতিসাধারণ জ্ঞান

আরও পড়ো