প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে কী কী দপ্তর আছে?
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাজ, অধীন দপ্তর, ন্যাপ ও পিটিআইয়ের ভূমিকা এবং পরীক্ষার সাধারণ ফাঁদ — বিসিএস ও চাকরির প্রস্তুতির গোছানো নোট।
বাংলাদেশ বিষয়াবলির প্রশ্নপত্রে একটা ফাঁদ প্রায় প্রতিবারই ফিরে আসে। প্রশ্নে থাকে প্রাথমিক শিক্ষা সংক্রান্ত কোনো দপ্তরের নাম, আর বিকল্পে বসানো থাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
অনেকে চোখ বন্ধ করে সেটিতেই দাগ দিয়ে আসে। অথচ সঠিক উত্তর আলাদা একটি মন্ত্রণালয়। এই লেখায় সেই মন্ত্রণালয়টির পুরো কাঠামো তুমি এক জায়গায় পাবে।
এই মন্ত্রণালয় কেন আলাদা
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের শিশুদের প্রথম ধাপের শিক্ষা এবং প্রাপ্তবয়স্কদের নিরক্ষরতা দূরীকরণের দায়িত্ব পালন করে। এই দুটি কাজ প্রকৃতিগতভাবে আলাদা, তাই এর জন্য আলাদা প্রশাসনিক কাঠামো রাখা হয়েছে।
নামের দুটি অংশ খেয়াল করো। "প্রাথমিক" অংশটি স্কুলগামী শিশুদের নিয়ে, আর "গণশিক্ষা" অংশটি সাধারণ মানুষের অক্ষরজ্ঞান ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা নিয়ে।
নামের ভেতরেই কাজের বিভাজন লুকিয়ে আছে। নাম মনে থাকলে কাজও মনে থাকবে।
অন্য সব মন্ত্রণালয়ের মতো এটিও বাংলাদেশ সচিবালয় থেকে পরিচালিত হয়। রাজনৈতিক প্রধান মন্ত্রী, প্রশাসনিক প্রধান সচিব।
প্রাথমিক শিক্ষা মানে ঠিক কোন স্তর
প্রাথমিক শিক্ষা বলতে বোঝায় প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত স্তর। এই সীমাটা মনে রাখো, কারণ প্রশ্নে সরাসরি এটিও আসে।
পঞ্চম শ্রেণির পর শিক্ষার্থী মাধ্যমিক স্তরে চলে যায়, আর তখন সে অন্য মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারে ঢোকে।
| স্তর | শ্রেণি | দায়িত্বে |
|---|---|---|
| প্রাথমিক | প্রথম থেকে পঞ্চম | প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় |
| মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা | ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে উপরে | শিক্ষা মন্ত্রণালয় |
অনেকে জিজ্ঞেস করে, একটি বিদ্যালয়ে যদি প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়, তাহলে সেটি কার অধীন। উত্তরটা প্রতিষ্ঠানের ধরন ও অনুমোদনের ওপর নির্ভর করে, তবে নীতিগত ভাগটা স্তর ধরেই বোঝানো হয়।
পরীক্ষার জন্য এই সূক্ষ্ম ব্যতিক্রম নিয়ে মাথা ঘামানোর দরকার নেই। মূল নিয়মটা ধরে রাখো — প্রাথমিক স্তর এক মন্ত্রণালয়ে, তার উপরের স্তর অন্য মন্ত্রণালয়ে।
এই সীমারেখাটাই পুরো অধ্যায়ের মূল চাবি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিস্তারিত কাঠামো দেখতে চাইলে /blog/shikkha-montronaloy লেখাটি পাশে রেখে পড়ো, তুলনা করলে দুটোই পাকা হবে।
মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ভাগাভাগি
সব মন্ত্রণালয়ের ক্ষেত্রে একটি নিয়ম খাটে — মন্ত্রণালয় নীতি করে, অধিদপ্তর তা বাস্তবায়ন করে। এখানেও ব্যতিক্রম নেই।
মন্ত্রণালয় ঠিক করে কোন নীতি নেওয়া হবে, বাজেট কোথায় যাবে, নতুন বিদ্যালয় স্থাপনের নীতিমালা কী হবে। এরপর মাঠপর্যায়ে সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করে অধিদপ্তর।
তুমি যদি প্রশ্নে দেখো "নীতি নির্ধারণ করে কে", উত্তর মন্ত্রণালয়। আর যদি দেখো "বাস্তবায়ন করে কে", উত্তর অধিদপ্তর।
কেন এই ভাগাভাগি দরকার হলো, সেটাও বুঝে নেওয়া ভালো। একটি মন্ত্রণালয়ে হাতেগোনা কয়েকজন কর্মকর্তা থাকেন, যাঁদের কাজ মূলত কাগজে সিদ্ধান্ত নেওয়া। কিন্তু সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা হাজারো বিদ্যালয় সামলাতে বড় জনবল লাগে।
সেই জনবল থাকে অধিদপ্তরে এবং তার মাঠপর্যায়ের কার্যালয়ে। ফলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গা আর সিদ্ধান্ত কার্যকর করার জায়গা আলাদা রাখা হয়েছে।
এই নকশাটা শুধু এই মন্ত্রণালয়ের নয়। স্বাস্থ্য, সমাজকল্যাণ, ধর্ম — সব ক্ষেত্রেই একই ছক। একবার ধরে ফেললে প্রতিটি মন্ত্রণালয় পড়া অনেক দ্রুত হবে।
অধীন দপ্তর ও সংস্থা
এবার মূল তালিকা। এটি খাতায় তুলে রাখো, বারবার কাজে লাগবে।
| দপ্তর বা সংস্থা | কাজ |
|---|---|
| প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর | সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশাসন ও তদারকি |
| উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো | প্রথাগত স্কুলের বাইরে শিক্ষা ও নিরক্ষরতা দূরীকরণ |
| জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (ন্যাপ) | প্রশিক্ষণ ও গবেষণা, অবস্থান ময়মনসিংহ |
| প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই) | প্রাথমিক শিক্ষকদের মৌলিক প্রশিক্ষণ |
চারটি নাম, চারটি আলাদা কাজ। একটিও অন্যটির সঙ্গে মিলে যায় না, তাই একবার বুঝে নিলে আর গোলাবে না।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কী করে
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর হলো এই মন্ত্রণালয়ের প্রধান বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা, শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া, বিদ্যালয় পরিদর্শন, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ — এসব এর আওতায়।
মাঠপর্যায়ে এই অধিদপ্তরের নিজস্ব প্রশাসনিক শাখা আছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষা কর্মকর্তারা এই কাঠামোরই অংশ, যাঁরা সরাসরি বিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকেন।
এই অধিদপ্তরের গঠন ও দায়িত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা আছে /blog/prathomik-shikkha-odhidoptor লেখায়।
মনে রাখো, এই অধিদপ্তর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন নয়। এটি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন। এই এক লাইনের ভুলেই সবচেয়ে বেশি নম্বর কাটা যায়।
উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো ও গণশিক্ষা
উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো সেই মানুষদের নিয়ে কাজ করে, যারা কোনো কারণে প্রচলিত বিদ্যালয়ে যেতে পারেনি বা মাঝপথে ঝরে পড়েছে।
প্রথাগত শ্রেণিকক্ষের বাইরে বিকল্প পদ্ধতিতে অক্ষরজ্ঞান ও মৌলিক শিক্ষা পৌঁছে দেওয়াই এর মূল কাজ। নিরক্ষরতা দূরীকরণ কর্মসূচিও এই ধারার অংশ।
"গণশিক্ষা" শব্দটি মন্ত্রণালয়ের নামে যুক্ত থাকার কারণ এটিই। শুধু শিশু নয়, বড়দের শিক্ষার দায়িত্বও এই মন্ত্রণালয়ের।
উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার ধারণাটা পরীক্ষায় সংজ্ঞা আকারে আসে, তাই এটি একটু গুছিয়ে বোঝা দরকার। আনুষ্ঠানিক শিক্ষা মানে নির্দিষ্ট বয়স, নির্দিষ্ট শ্রেণি, নির্দিষ্ট সময়সূচি ও নির্দিষ্ট সনদের কাঠামোয় বাঁধা পড়াশোনা।
উপানুষ্ঠানিক শিক্ষায় সেই বাঁধন শিথিল। শিক্ষার্থীর বয়স ভিন্ন হতে পারে, সময়সূচি নমনীয় হতে পারে, পাঠদানের জায়গাও প্রচলিত শ্রেণিকক্ষ না হতে পারে।
লক্ষ্যটা এক জায়গায় গিয়ে মেলে — যারা প্রথাগত ব্যবস্থার বাইরে থেকে গেছে, তাদের অন্তত মৌলিক অক্ষরজ্ঞান ও জীবনদক্ষতা পৌঁছে দেওয়া।
| শব্দ | অর্থ |
|---|---|
| আনুষ্ঠানিক শিক্ষা | নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান, শ্রেণি ও পাঠক্রমে বাঁধা |
| উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা | নমনীয় পদ্ধতি, প্রচলিত শ্রেণিকক্ষের বাইরে |
ন্যাপ ও পিটিআই — প্রশিক্ষণের দুই স্তর
শিক্ষক ভালো না হলে শিক্ষা ভালো হয় না। তাই প্রশিক্ষণের জন্য দুটি আলাদা প্রতিষ্ঠান আছে, এবং দুটির স্তর আলাদা।
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি, সংক্ষেপে ন্যাপ, জাতীয় পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান। এটি প্রশিক্ষণ ও গবেষণা দুটোই করে, এবং এর অবস্থান ময়মনসিংহ।
পিটিআই বা প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট মাঠপর্যায়ের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মৌলিক পেশাগত প্রশিক্ষণ এখানে হয়।
| প্রতিষ্ঠান | স্তর | বিশেষত্ব |
|---|---|---|
| ন্যাপ | জাতীয় | প্রশিক্ষণ ও গবেষণা, ময়মনসিংহে অবস্থিত |
| পিটিআই | মাঠপর্যায় | শিক্ষকদের মৌলিক প্রশিক্ষণ |
ন্যাপের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন খুব সাধারণ। ময়মনসিংহ নামটি আলাদা করে মনে রাখো, কারণ বিকল্পে ঢাকা বা গাজীপুর বসিয়ে দেওয়া হয়।
দুটি প্রতিষ্ঠানের পার্থক্য ধরার একটা সহজ উপায় আছে। নামের ভেতরে "জাতীয়" শব্দটি যেখানে আছে, সেটি নীতিনির্ভর ও গবেষণামুখী জাতীয় প্রতিষ্ঠান।
আর যেখানে "ট্রেনিং ইনস্টিটিউট" আছে, সেটি সরাসরি প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রতিষ্ঠান, যা মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে থাকে। এভাবে নাম ধরে ধরে এগোলে মুখস্থের চাপ অনেক কমে যায়।
প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও মাঝে মাঝে ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন আসে। একজন শিক্ষক বিষয়বস্তু জানলেই যথেষ্ট নয়, শিশুকে কীভাবে শেখাতে হয় সেই পদ্ধতিও জানতে হয়। পেশাগত প্রশিক্ষণ সেই ঘাটতিই পূরণ করে।
মন্ত্রণালয়ের প্রধান কাজগুলো
কাজের তালিকাটা মনে রাখলে অনেক ঘুরিয়ে করা প্রশ্নের উত্তর মিলে যাবে।
- সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা ও তদারকি
- প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ
- শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি কার্যক্রম
- বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ
- নিরক্ষরতা দূরীকরণ ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা
উপবৃত্তির যুক্তিটা বুঝে রাখো, কারণ ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নে কাজে লাগে। অনেক পরিবারে শিশুকে স্কুলে পাঠানোর চেয়ে কাজে পাঠানো লাভজনক মনে হয়। উপবৃত্তি সেই আর্থিক চাপ কিছুটা কমিয়ে শিশুকে বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে সাহায্য করে।
একইভাবে বিনামূল্যে পাঠ্যবই দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো বইয়ের খরচ যেন কারও পড়াশোনা বন্ধ করার কারণ না হয়। দুটি কর্মসূচিরই লক্ষ্য এক — ঝরে পড়া ঠেকানো।
এর মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণের বিষয়টি একটু ব্যাখ্যা দরকার। বই বিতরণের ব্যবস্থাপনা এই মন্ত্রণালয় করে প্রাথমিক স্তরের জন্য, কিন্তু পাঠ্যবই প্রণয়ন ও কারিকুলাম তৈরির কাজ করে এনসিটিবি। সেই প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত পড়ো /blog/nctb-pathyopustok-board লেখায়।
উপবৃত্তির অঙ্ক বা সুবিধাভোগীর সংখ্যা নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দরকার হলে সাম্প্রতিক উৎস দেখো, কারণ এসব সংখ্যা সময়ের সঙ্গে বদলায় — /current-affairs থেকে হালনাগাদ তথ্য নিয়ে নিও।
মাঠপর্যায়ের কাঠামো
প্রাথমিক শিক্ষার প্রশাসন কেন্দ্র থেকে গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত। স্তরগুলো এভাবে সাজানো।
| স্তর | ভূমিকা |
|---|---|
| মন্ত্রণালয় | নীতি ও বাজেট |
| অধিদপ্তর | জাতীয় বাস্তবায়ন |
| জেলা পর্যায় | জেলাভিত্তিক তদারকি |
| উপজেলা পর্যায় | বিদ্যালয় পরিদর্শন ও দৈনন্দিন প্রশাসন |
| বিদ্যালয় | সরাসরি পাঠদান |
উপরের দিক থেকে নিচে নামলে দায়িত্ব ক্রমশ নির্দিষ্ট হয়। নীতি উপরে, বাস্তবায়ন নিচে — এই যুক্তিটাই কাঠামোর ভিত্তি।
এই স্তরবিন্যাস মনে রাখলে একটি বাড়তি সুবিধা পাবে। প্রশাসনিক প্রশ্নে প্রায়ই জানতে চাওয়া হয়, কোনো নির্দেশনা কোন স্তর থেকে আসে বা কোনো অভিযোগ প্রথমে কোথায় যায়।
সাধারণ যুক্তি হলো, দৈনন্দিন বিষয় সবচেয়ে কাছের স্তরে নিষ্পত্তি হয়, আর নীতিগত বিষয় উপরের স্তরে যায়। এই যুক্তি প্রায় সব মন্ত্রণালয়ের ক্ষেত্রেই খাটে।
অন্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সীমারেখা
একটি মন্ত্রণালয় কোথায় শেষ আর অন্যটি কোথায় শুরু, সেটি জানা থাকলে অনেক বিভ্রান্তি এড়ানো যায়।
| কাজ | কার এখতিয়ার |
|---|---|
| প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি | প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় |
| মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক | শিক্ষা মন্ত্রণালয় |
| কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা | শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ |
| বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় | শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি |
কারিগরি ধারার দপ্তর নিয়ে বিস্তারিত জানতে /blog/karigori-shikkha-odhidoptor দেখতে পারো, আর মাধ্যমিক স্তরের পরীক্ষা ব্যবস্থাপনার জন্য /blog/madhyomik-shikkha-board আছে।
যেসব ভুল সবচেয়ে বেশি হয়
এই অংশটা দুবার পড়ো। এখানেই প্রকৃত নম্বরের খেলা।
প্রথম ভুল — প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ভাবা। এটি সম্পূর্ণ ভুল। এটি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন।
দ্বিতীয় ভুল — ন্যাপ ও পিটিআইকে এক করে ফেলা। ন্যাপ জাতীয় পর্যায়ের একাডেমি, পিটিআই মাঠপর্যায়ের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান।
তৃতীয় ভুল — প্রাথমিক শিক্ষার সীমা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ভাবা। প্রাথমিক শিক্ষা প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি।
চতুর্থ ভুল — পাঠ্যবই তৈরির কৃতিত্ব এই মন্ত্রণালয়কে দেওয়া। বই ও কারিকুলামের কাজ এনসিটিবির।
| ভুল ধারণা | সঠিক তথ্য |
|---|---|
| প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন | আলাদা মন্ত্রণালয়ের অধীন |
| ন্যাপ ও পিটিআই একই | দুটি আলাদা স্তরের প্রতিষ্ঠান |
| প্রাথমিক মানে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত | প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি |
| ন্যাপ ঢাকায় | ন্যাপ ময়মনসিংহে |
পরীক্ষায় যেভাবে প্রশ্ন আসে
প্রশ্নের ধরন চিনে নিলে পড়ার সময় কোথায় জোর দিতে হবে তা বুঝে যাবে।
সবচেয়ে সাধারণ ধরন হলো অধীনতা যাচাই — কোন দপ্তর কোন মন্ত্রণালয়ের অধীন। এখানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নাম দিয়ে বিকল্পে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বসানো থাকে।
দ্বিতীয় ধরন অবস্থানভিত্তিক — কোন প্রতিষ্ঠান কোথায়। ন্যাপ প্রসঙ্গে ময়মনসিংহ এখানে জরুরি।
তৃতীয় ধরন সংজ্ঞাভিত্তিক — উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কী, বা প্রাথমিক শিক্ষার স্তর কোনটি।
চতুর্থ ধরন কাজ মেলানো — কোন সংস্থা কী করে, তা মিলিয়ে দিতে বলা হয়।
| প্রশ্নের ধরন | মূল প্রস্তুতি |
|---|---|
| অধীনতা | অধীন দপ্তরের তালিকা |
| অবস্থান | ন্যাপ ময়মনসিংহে |
| সংজ্ঞা | প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার সংজ্ঞা |
| কাজ মেলানো | চার সংস্থার কাজের ছক |
এই ধরনের প্রশ্নে হাত পাকাতে /practice/bangladesh-affairs ব্যবহার করো। পুরো বিষয়ের প্রশ্নব্যাংক দেখতে /bank/subject/bangladesh-affairs, আর সময় ধরে পরীক্ষা দিতে /mock আছে।
এক নজরে মনে রাখার তথ্য
শেষ মুহূর্তে চোখ বুলানোর জন্য এই অংশটুকুই যথেষ্ট।
- প্রাথমিক শিক্ষা প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত।
- রাজনৈতিক প্রধান মন্ত্রী, প্রশাসনিক প্রধান সচিব।
- মন্ত্রণালয় নীতি করে, অধিদপ্তর বাস্তবায়ন করে।
- অধীন দপ্তর — প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো, ন্যাপ ও পিটিআই।
- ন্যাপের অবস্থান ময়মনসিংহ।
- পিটিআই শিক্ষকদের মৌলিক প্রশিক্ষণ দেয়।
- উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা প্রচলিত শ্রেণিকক্ষের বাইরের ব্যবস্থা।
- মূল কাজ — বিদ্যালয় পরিচালনা, শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ, উপবৃত্তি, বিনামূল্যে পাঠ্যবই, নিরক্ষরতা দূরীকরণ।
- সব মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয়।
পরের ধাপে কী পড়বে
শিক্ষা সংক্রান্ত দুটি মন্ত্রণালয় একসাথে পড়লে দুটোই স্পষ্ট হয়। তাই এরপর /blog/shikkha-montronaloy লেখাটি ধরো।
প্রশাসনিক কাঠামোর ধরন একবার বুঝে গেলে অন্য মন্ত্রণালয়গুলোও সহজ লাগবে। স্বাস্থ্যখাতের জন্য /blog/shastho-poribar-kollan-montronaloy, সামাজিক নিরাপত্তার জন্য /blog/somajkollan-montronaloy আর ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও হজ ব্যবস্থাপনার জন্য /blog/dhormo-bishoyok-montronaloy পড়ে নাও।
সংবিধানের দিক থেকে দেখলে শিক্ষা রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির অংশ, যা ১৭ অনুচ্ছেদে এসেছে। এই অধ্যায়টি ঝালাই করতে /constitution আর প্রশ্ন অনুশীলনের জন্য /bank/subject/constitution কাজে লাগাও।
নিয়মিত অনুশীলন ছাড়া এই তালিকাগুলো মাথায় থাকে না। তাই প্রতিদিন অল্প করে হলেও /practice থেকে প্রশ্ন ধরো, আর পুরো প্রশ্নভান্ডার একসাথে দেখতে /bank ব্যবহার করো।
Ahosan Habib
@ahosanhabib922
অচিনপুরের নির্মাতা। BCS ও চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে লেখেন — সিলেবাস, ব্যাকরণ ও পড়ার কৌশল।