প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর আসলে কোন মন্ত্রণালয়ের অধীন?

২ আগস্ট, ২০২৬১২ মিনিট পড়া

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কোন মন্ত্রণালয়ের অধীন, কী কাজ করে, পিটিআই ও ন্যাপের ভূমিকা কী — বিসিএস ও চাকরির পরীক্ষার জন্য গোছানো নোট ও প্রশ্নের ধরন।

বাংলাদেশ বিষয়াবলির প্রশ্নপত্রে একটি প্রশ্ন প্রায় নিয়ম করে ঘুরেফিরে আসে — প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কোন মন্ত্রণালয়ের অধীন? প্রশ্নটা সহজ মনে হয়, কিন্তু এখানেই সবচেয়ে বেশি প্রার্থী নম্বর হারায়। কারণ চোখ বন্ধ করে বেশিরভাগ মানুষ লিখে আসে "শিক্ষা মন্ত্রণালয়" — আর সেটাই ভুল।

এই লেখায় তুমি শুধু উত্তরটা মুখস্থ করবে না। প্রশাসনিক কাঠামোটা বুঝে নেবে, যাতে প্রশ্ন যেভাবেই ঘুরিয়ে আসুক, তুমি ধরতে পারো।

অধিদপ্তর জিনিসটা আসলে কী

সরকারি প্রশাসনের একটা সিঁড়ি আছে। সেই সিঁড়ির ধাপগুলো না চিনলে "কোন প্রতিষ্ঠান কার অধীন" জাতীয় প্রশ্নে তুমি বারবার আটকে যাবে।

স্তর কাজের ধরন নেতৃত্বে থাকেন
মন্ত্রণালয় নীতি প্রণয়ন, বাজেট বরাদ্দ, আইন-বিধি তৈরি সচিব (রাজনৈতিক প্রধান মন্ত্রী)
বিভাগ মন্ত্রণালয়ের ভেতরে আলাদা কাজের ভাগ সচিব বা সিনিয়র সচিব
অধিদপ্তর নীতি বাস্তবায়ন, মাঠপর্যায়ের পরিচালনা মহাপরিচালক
দপ্তর/পরিদপ্তর নির্দিষ্ট এলাকার বা নির্দিষ্ট কাজের বাস্তবায়ন পরিচালক

মনে রাখার সহজ সূত্র — মন্ত্রণালয় ভাবে, অধিদপ্তর করে। মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেয় যে সব শিশুকে বিনামূল্যে বই দিতে হবে; অধিদপ্তর সেই বই স্কুলে স্কুলে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ঠিক এই তৃতীয় ধাপের প্রতিষ্ঠান। এটি নীতি বানায় না, নীতি বাস্তবায়ন করে।

সবচেয়ে বড় ফাঁদ: কোন মন্ত্রণালয়ের অধীন

এবার মূল কথায় আসি। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন নয়।

বাংলাদেশে শিক্ষা নিয়ে দুটি আলাদা মন্ত্রণালয় কাজ করে। একটি দেখে প্রাথমিক স্তর, আরেকটি দেখে মাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত। এই দুইয়ের ভাগাভাগিটা মাথায় গেঁথে নাও।

মন্ত্রণালয় কী কী দেখে উদাহরণ প্রতিষ্ঠান
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রাথমিক বিদ্যালয়, গণশিক্ষা, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর
শিক্ষা মন্ত্রণালয় মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, কারিগরি, মাদ্রাসা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, এনসিটিবি, শিক্ষা বোর্ড

কেন এই ভুলটা এত হয়? কারণ আমাদের মাথায় "শিক্ষা মানেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়" ধারণাটা বসে আছে। কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষাকে আলাদা গুরুত্ব দিতেই একে আলাদা মন্ত্রণালয়ের হাতে রাখা হয়েছে। "গণশিক্ষা" শব্দটাও খেয়াল করো — নিরক্ষরতা দূরীকরণ, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা, বয়স্ক শিক্ষা — এসবও এই মন্ত্রণালয়ের কাজ।

তুমি যদি একটাই বাক্য মনে রাখো, সেটা হোক — প্রাথমিক আলাদা, বাকি সব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে।

প্রাথমিক শিক্ষার পরিধি কতটুকু

বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষা বলতে বোঝায় প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঁচ বছরের স্তর। এর নিচে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি আছে, যা শিশুদের বিদ্যালয়ে অভ্যস্ত করার জন্য।

স্তর শ্রেণি তদারককারী মন্ত্রণালয়
প্রাক-প্রাথমিক শিশু শ্রেণি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়
প্রাথমিক প্রথম–পঞ্চম প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়
নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক ষষ্ঠ–দশম শিক্ষা মন্ত্রণালয়
উচ্চমাধ্যমিক একাদশ–দ্বাদশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়

পঞ্চম শ্রেণি পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শিক্ষার্থী এক মন্ত্রণালয়ের হাত থেকে আরেক মন্ত্রণালয়ের হাতে চলে যায় — এই ছবিটা মনে রাখলে প্রশ্ন যেভাবেই আসুক তুমি গুলিয়ে ফেলবে না। ষষ্ঠ শ্রেণির পর থেকে শিক্ষার্থীর পরীক্ষা ও সনদের দায়িত্ব যায় শিক্ষা বোর্ডের হাতে

অধিদপ্তরের মূল কাজগুলো

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের দায়িত্ব অনেক বিস্তৃত। মোটা দাগে ভাগ করলে এভাবে দাঁড়ায়।

কাজের ক্ষেত্র কী করে
বিদ্যালয় পরিচালনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক তদারকি
শিক্ষক নিয়োগ সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনা
শিক্ষক প্রশিক্ষণ পিটিআই ও ন্যাপের মাধ্যমে পেশাগত প্রশিক্ষণ
উপবৃত্তি শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি বিতরণ ও তদারকি
পাঠ্যবই বিতরণ বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিদ্যালয় পর্যন্ত পৌঁছানো
তদারকি ও পরিদর্শন মাঠপর্যায়ে শিক্ষা অফিসারদের মাধ্যমে মনিটরিং
অবকাঠামো চাহিদা ভবন ও শ্রেণিকক্ষের চাহিদা নিরূপণ ও প্রস্তাব

শেষ লাইনটা লক্ষ করো — অধিদপ্তর চাহিদা জানায়, কিন্তু ভবন নিজে বানায় না। ভবন নির্মাণের কাজ করে আলাদা প্রকৌশল সংস্থা। এই ভাগাভাগি নিয়ে বিস্তারিত পাবে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের লেখাটিতে

মাঠপর্যায়ের কাঠামো

অধিদপ্তর ঢাকায় বসে সারা দেশের হাজার হাজার বিদ্যালয় সামলাতে পারে না। তাই একটা স্তরভিত্তিক প্রশাসনিক জাল আছে।

প্রশাসনিক স্তর দায়িত্বশীল কর্মকর্তা
জাতীয় মহাপরিচালক
বিভাগ বিভাগীয় উপপরিচালক
জেলা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার
উপজেলা/থানা উপজেলা শিক্ষা অফিসার
ক্লাস্টার সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার
বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক

"ক্লাস্টার" শব্দটা মনে রাখো — কয়েকটি বিদ্যালয় নিয়ে একটি ক্লাস্টার হয়, আর সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার সেই ক্লাস্টারের বিদ্যালয়গুলো নিয়মিত পরিদর্শন করেন। প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন এলে এই সিঁড়িটাই কাজে লাগবে।

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ কীভাবে হয়

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে একটা বড় বিভ্রান্তি আছে, তাই ধাপে ধাপে বুঝে নাও।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা পরিচালনা করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর নিজেই, মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে। এটি সরকারি কর্ম কমিশনের মাধ্যমে হয় না।

নিয়োগের ধরন কে পরিচালনা করে
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর
বেসরকারি স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষক নিবন্ধন ও সুপারিশ এনটিআরসিএ
ক্যাডার পদে সরকারি কলেজের প্রভাষক সরকারি কর্ম কমিশন

তিনটি আলাদা সংস্থা, তিন ধরনের নিয়োগ — গুলিয়ে ফেললেই ভুল। কমিশনের কাঠামো ও কার্যপরিধি ভালোভাবে জানতে সরকারি কর্ম কমিশন নিয়ে লেখাটি পড়ে নাও, কারণ সেখান থেকেও প্রতি বছর প্রশ্ন আসে।

পিটিআই ও ন্যাপ: প্রশিক্ষণের দুই স্তম্ভ

শিক্ষক নিয়োগ পেলেই কাজ শেষ নয়। তাঁকে পড়ানোর কৌশল শেখাতে হয়। এই প্রশিক্ষণের দায়িত্বে দুটি প্রতিষ্ঠানের নাম তোমাকে জানতেই হবে।

পিটিআই — প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট। জেলা পর্যায়ে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মৌলিক পেশাগত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রাথমিক শিক্ষায় ডিপ্লোমা ধরনের কোর্স এখানেই পরিচালিত হয়।

ন্যাপ — জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি, অবস্থান ময়মনসিংহ। এটি প্রাথমিক শিক্ষার শীর্ষস্থানীয় প্রশিক্ষণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান। এখানে মূলত প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ এবং প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে গবেষণা হয়।

প্রতিষ্ঠান পূর্ণরূপ অবস্থান মূল কাজ
পিটিআই প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট জেলা পর্যায়ে শিক্ষকদের মৌলিক প্রশিক্ষণ
ন্যাপ জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি ময়মনসিংহ প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ ও গবেষণা

পরীক্ষায় "ন্যাপ কোথায় অবস্থিত?" — এই এক লাইনের প্রশ্ন বহুবার এসেছে। উত্তর ময়মনসিংহ। এটা এমন একটা তথ্য যা একবার মনে গাঁথলে আর ভোলার কথা নয়।

উপবৃত্তি ও বিনামূল্যে পাঠ্যবই

গরিব পরিবারের শিশুরা যেন টাকার অভাবে ঝরে না পড়ে, সে জন্য উপবৃত্তি কর্মসূচি চালু আছে। এই কর্মসূচির বাস্তবায়ন তদারকি করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এখন উপবৃত্তির টাকা মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে সরাসরি অভিভাবকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা আছে — মাঝখানের ধাপ কমিয়ে অপচয় ঠেকানোই এর উদ্দেশ্য।

বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণের ক্ষেত্রে একটা সূক্ষ্ম ভাগ আছে, যা পরীক্ষায় প্যাঁচ তৈরি করে।

কাজ দায়িত্বে কে
পাঠ্যবই রচনা ও মুদ্রণ এনসিটিবি
বই বিদ্যালয় পর্যন্ত পৌঁছানো ও বিতরণ তদারকি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (প্রাথমিক স্তরে)

অর্থাৎ বই বানায় এক প্রতিষ্ঠান, শিশুর হাতে তুলে দেয় আরেক প্রতিষ্ঠান। পাঠ্যপুস্তক তৈরির পুরো প্রক্রিয়াটা বুঝতে এনসিটিবি নিয়ে লেখাটি দেখে নাও।

সংবিধানে প্রাথমিক শিক্ষার জায়গা

এই অংশটা প্রায়ই সংবিধান আর প্রাথমিক শিক্ষা — দুই দিক থেকেই প্রশ্নে আসে।

সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্র একই পদ্ধতির গণমুখী ও সর্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য এবং আইনের দ্বারা নির্ধারিত স্তর পর্যন্ত সকল বালক-বালিকাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষাদানের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

তবে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা সূক্ষ্মতা আছে। ১৭ অনুচ্ছেদটি সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে, অর্থাৎ রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির অংশ — মৌলিক অধিকারের অংশ নয়। মূলনীতিগুলো আদালতের মাধ্যমে সরাসরি বলবৎযোগ্য নয়, এগুলো রাষ্ট্র পরিচালনার দিকনির্দেশনা।

বিষয় তথ্য
অনুচ্ছেদ ১৭
সংবিধানের ভাগ দ্বিতীয় ভাগ
প্রকৃতি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি
মূল কথা অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা

"১৭ অনুচ্ছেদ মৌলিক অধিকার" — এটা লিখে এলেই নম্বর হারাবে। ফাঁদটা এখানেই।

কোন সংস্থা কী করে: এক পাতায় তুলনা

শিক্ষা নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলো এক জায়গায় সাজিয়ে নিলে প্রশ্ন মেলানো সহজ হয়।

সংস্থা অভিভাবক মন্ত্রণালয়/বিভাগ মূল কাজ
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা
শিক্ষা বোর্ড শিক্ষা মন্ত্রণালয় এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা ও সনদ
এনসিটিবি শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ পলিটেকনিক ও কারিগরি প্রতিষ্ঠান
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ
ইউজিসি শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিশ্ববিদ্যালয় তদারকি
এনটিআরসিএ শিক্ষা মন্ত্রণালয় বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও সুপারিশ

এই টেবিলটা মুখস্থ না করে বারবার চোখ বুলাও। কয়েকদিন পর নিজে থেকেই মাথায় বসে যাবে। এরপর বাংলাদেশ বিষয়াবলির প্র্যাকটিস সেটে নিজেকে যাচাই করে নাও।

যেসব ভুল সবচেয়ে বেশি হয়

ভুল ধারণা সঠিক তথ্য
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন এটি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন
প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত
অধিদপ্তর পাঠ্যবই লেখে ও ছাপে সেটি এনসিটিবির কাজ, অধিদপ্তর বিতরণ তদারকি করে
অধিদপ্তর স্কুল ভবন নির্মাণ করে নির্মাণের কাজ প্রকৌশল সংস্থার
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পিএসসি করে অধিদপ্তর নিজেই এই নিয়োগ পরিচালনা করে
ন্যাপ ঢাকায় ন্যাপ ময়মনসিংহে
সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদ মৌলিক অধিকার এটি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি
শিক্ষা নিয়ে একটাই মন্ত্রণালয় দুটি — প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়

এই আটটি ভুল ঠিকভাবে শুধরে নিলে এই অধ্যায় থেকে আসা প্রায় সব প্রশ্নই তোমার হাতে চলে আসবে।

পরীক্ষায় যেভাবে প্রশ্ন আসে

প্রশ্নের ধরন মোটামুটি নির্দিষ্ট। আগেভাগে ধরনটা চিনে রাখলে পরীক্ষার হলে সময় বাঁচে।

ধরন এক — সরাসরি অধীনতা। "প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কোন মন্ত্রণালয়ের অধীন?" অপশনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থাকবেই, টোপ হিসেবে। উত্তর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

ধরন দুই — অবস্থান। "জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি কোথায় অবস্থিত?" উত্তর ময়মনসিংহ।

ধরন তিন — পূর্ণরূপ। পিটিআই বা ন্যাপের পূর্ণরূপ চাওয়া হয়। বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই মনে রাখো।

ধরন চার — সংবিধান মেলানো। "অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার কথা সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে?" উত্তর ১৭ অনুচ্ছেদ।

ধরন পাঁচ — কাজ মেলানো। বাঁ পাশে প্রতিষ্ঠানের নাম, ডান পাশে কাজ — মিলিয়ে দিতে হয়। এখানেই এনসিটিবি, বোর্ড ও অধিদপ্তরের কাজ গুলিয়ে যায়।

ধরন ছয় — শ্রেণিসীমা। প্রাথমিক শিক্ষা কোন শ্রেণি পর্যন্ত, এই ধরনের প্রশ্ন।

লিখিত পরীক্ষায় প্রশ্ন আরও বড় হয় — "প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ভূমিকা আলোচনা করো" ধরনের। তখন এই লেখার টেবিলগুলোই তোমার কাঠামো হয়ে দাঁড়াবে। ব্যাংক ও নিয়োগ পরীক্ষার আগের প্রশ্নের ধাঁচ দেখতে ব্যাংক প্রস্তুতির অংশে চোখ রাখো।

এক নজরে মনে রাখার তথ্য

প্রশ্ন উত্তর
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কার অধীন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়
প্রধান নির্বাহী মহাপরিচালক
প্রাথমিক শিক্ষার স্তর প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি
শিক্ষক প্রশিক্ষণের জেলা প্রতিষ্ঠান পিটিআই
শীর্ষ প্রশিক্ষণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান ন্যাপ, ময়মনসিংহ
উপজেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীল উপজেলা শিক্ষা অফিসার
পাঠ্যবই প্রণয়নকারী এনসিটিবি
অবৈতনিক শিক্ষা সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ ১৭
১৭ অনুচ্ছেদের প্রকৃতি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন এনটিআরসিএ

পড়ার পর কী করবে

মুখস্থ করে ফেলে রাখলে দুই সপ্তাহে সব মুছে যাবে। তাই পড়া শেষে সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োগে যাও।

প্রথমে প্র্যাকটিস অংশে গিয়ে বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন সমাধান করো। এরপর সময় ধরে একটা মক টেস্ট দাও — চাপের মধ্যে তথ্য মনে আসছে কি না, সেটাই আসল পরীক্ষা। প্রশাসনিক কাঠামো বা পদ-পরিবর্তন সংক্রান্ত নতুন খবর জানতে কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স অংশটি নিয়মিত দেখো, কারণ সংখ্যা ও হালনাগাদ পরিসংখ্যান সেখানেই পাবে।

আর ভাষার দিকটাও অবহেলা করো না — লিখিত পরীক্ষায় বানান ও বাক্যগঠনে নম্বর কাটা যায়। বাংলা ব্যাকরণের বই থেকে অল্প অল্প করে প্রতিদিন পড়ো।

প্রতিষ্ঠান-ভিত্তিক এই সিরিজের বাকি লেখাগুলোও পড়ে নাও — কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং পরিসংখ্যান ব্যুরো নিয়ে লেখা দুটি একই ধরনের প্রশ্নে কাজে লাগবে। আর সব প্রস্তুতির উপকরণ এক জায়গায় পাবে ব্যাংক প্রস্তুতির পাতায়

Ah

Ahosan Habib

@ahosanhabib922

অচিনপুরের নির্মাতা। BCS ও চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে লেখেন — সিলেবাস, ব্যাকরণ ও পড়ার কৌশল।

প্রাথমিক শিক্ষাবাংলাদেশ বিষয়াবলিসরকারি প্রতিষ্ঠানবিসিএস প্রস্তুতি

আরও পড়ো