শিক্ষা বোর্ড কীভাবে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নেয়?

২ আগস্ট, ২০২৬১২ মিনিট পড়া

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কাজ, কোন কোন বোর্ড আছে, জিপিএ ও গ্রেডিং পদ্ধতি এবং বিসিএস-চাকরির পরীক্ষায় আসা প্রশ্নের ধরন এক জায়গায়।

এসএসসি বা এইচএসসির ফল প্রকাশের দিন সারা দেশের চোখ থাকে একটি শব্দের দিকে — বোর্ড। কিন্তু চাকরির পরীক্ষায় যখন প্রশ্ন আসে "শিক্ষা বোর্ড কোন মন্ত্রণালয়ের অধীন" বা "কোন বোর্ড কোন বিভাগে", তখন অনেকেই থমকে যায়।

কারণ আমরা বোর্ডকে চিনি ফলাফলের জায়গা হিসেবে, প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়। এই লেখায় তুমি বোর্ডকে একটা প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিনবে — কাঠামো, কাজ, আর ফাঁদ সহ।

শিক্ষা বোর্ড বলতে ঠিক কী বোঝায়

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড একটি স্বায়ত্তশাসিত সংবিধিবদ্ধ সংস্থা। অর্থাৎ এটি আইনের মাধ্যমে গঠিত, নিজস্ব কাঠামো ও তহবিল আছে, এবং নির্দিষ্ট এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পাবলিক পরীক্ষার দায়িত্ব এর হাতে।

একটা কথা গোড়াতেই পরিষ্কার করে নাও। বোর্ড অধিদপ্তর নয়। অধিদপ্তর সরকারের নির্বাহী শাখার সরাসরি অংশ, আর বোর্ড স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা। কাজেও পার্থক্য আছে।

বিষয় অধিদপ্তর শিক্ষা বোর্ড
প্রকৃতি সরকারের নির্বাহী দপ্তর স্বায়ত্তশাসিত সংবিধিবদ্ধ সংস্থা
প্রধান মহাপরিচালক চেয়ারম্যান
প্রধান কাজ নীতি বাস্তবায়ন, প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পরীক্ষা গ্রহণ, সনদ প্রদান, স্বীকৃতি
এলাকা সারা দেশ বা নির্দিষ্ট খাত নির্দিষ্ট অঞ্চল

"স্বায়ত্তশাসিত" শব্দটার মানে কী, সেটাও বুঝে রাখো। এর অর্থ প্রতিষ্ঠানটি নিজের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দৈনন্দিন সিদ্ধান্ত নিতে পারে, নিজস্ব তহবিল থাকে এবং প্রতিটি ছোট বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের অনুমতি লাগে না। তবে স্বায়ত্তশাসন মানে সরকারের বাইরে চলে যাওয়া নয় — নীতি ও সার্বিক তদারকির দায়িত্ব মন্ত্রণালয়ের হাতেই থাকে।

পরীক্ষায় প্রায়ই জিজ্ঞেস করা হয় প্রতিষ্ঠানটির চরিত্র কী ধরনের। শিক্ষা বোর্ডের ক্ষেত্রে উত্তর — স্বায়ত্তশাসিত সংবিধিবদ্ধ সংস্থা।

কোন মন্ত্রণালয়ের অধীন

শিক্ষা বোর্ড শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন। এখানে অনেকে গুলিয়ে ফেলে প্রাথমিক স্তরের সঙ্গে।

মনে রাখো — প্রাথমিক স্তরের দায়িত্ব প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের, আর ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ওপরের সবকিছু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। এই বিভাজনটা বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা আছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের লেখাটিতে, যেখানে দেখানো হয়েছে কেন প্রাথমিক আলাদা।

দেশে কোন কোন সাধারণ শিক্ষা বোর্ড আছে

বাংলাদেশে কয়েকটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড কাজ করে, প্রতিটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের দায়িত্বে। নতুন বোর্ড গঠিত হতে পারে বলে সংখ্যা মাঝে মাঝে বদলায়, তাই নামগুলো চিনে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।

বোর্ডের নাম যে অঞ্চল দেখে
ঢাকা ঢাকা ও আশপাশের জেলা
রাজশাহী রাজশাহী অঞ্চল
চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম অঞ্চল
খুলনা খুলনা অঞ্চল
বরিশাল বরিশাল অঞ্চল
সিলেট সিলেট অঞ্চল
যশোর যশোর অঞ্চল
কুমিল্লা কুমিল্লা অঞ্চল
দিনাজপুর রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল
ময়মনসিংহ ময়মনসিংহ অঞ্চল

সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন এলে সতর্ক থাকো — হালনাগাদ সংখ্যাটা কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স অংশ থেকে মিলিয়ে নাও, কারণ পুরোনো বইয়ে অনেক সময় আগের সংখ্যা থেকে যায়।

সাধারণ বোর্ডের বাইরে আরও দুটি বোর্ড

সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাধারণ বোর্ডের অধীন নয়। ধারা অনুযায়ী আলাদা বোর্ড আছে, আর এখান থেকেই বেশি প্রশ্ন হয়।

বোর্ড কাদের পরীক্ষা নেয় পরীক্ষার নাম
সাধারণ শিক্ষা বোর্ড স্কুল ও কলেজ এসএসসি ও এইচএসসি
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড মাদ্রাসা দাখিল ও আলিম
কারিগরি শিক্ষা বোর্ড কারিগরি প্রতিষ্ঠান, পলিটেকনিক এসএসসি ভোকেশনাল, এইচএসসি বিএমটি, ডিপ্লোমা

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড — দুটিই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সঙ্গে সম্পর্কিত। কারিগরি ধারার পুরো ছবিটা পাবে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর নিয়ে লেখাটিতে

বোর্ডের মূল কাজগুলো

বোর্ডের কাজ শুধু পরীক্ষা নেওয়া নয়। কাজের তালিকাটা এরকম।

কাজ ব্যাখ্যা
পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণ এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজন ও পরিচালনা
ফল প্রকাশ খাতা মূল্যায়ন শেষে ফলাফল প্রকাশ ও পুনঃনিরীক্ষণ
সনদ প্রদান মূল সনদপত্র, নম্বরপত্র, প্রশংসাপত্র ইস্যু
প্রতিষ্ঠান স্বীকৃতি নতুন প্রতিষ্ঠানকে পাঠদানের অনুমতি ও স্বীকৃতি
শাখা ও বিষয় অনুমোদন নতুন বিভাগ বা বিষয় খোলার অনুমতি
নিবন্ধন শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন ও ফরম পূরণ ব্যবস্থাপনা
শৃঙ্খলা রক্ষা পরীক্ষায় অসদুপায় সংক্রান্ত ব্যবস্থা
মান তদারকি পাঠদানের মান ও নিয়মকানুন পরিপালন দেখা

পরীক্ষা গ্রহণ থেকে ফল প্রকাশ: ধাপে ধাপে

পুরো প্রক্রিয়াটা একবার সিরিয়াল ধরে বুঝে নিলে লিখিত পরীক্ষায় ব্যাখ্যা লিখতে সুবিধা হয়।

ধাপ কী ঘটে
এক শিক্ষার্থীর নিবন্ধন ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড
দুই নির্বাচনী পরীক্ষার পর ফরম পূরণ
তিন প্রবেশপত্র ইস্যু ও কেন্দ্র নির্ধারণ
চার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও গোপনীয়তা রক্ষা
পাঁচ কেন্দ্রে পরীক্ষা গ্রহণ, কেন্দ্র সচিবের তদারকি
ছয় উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও নিরীক্ষণ
সাত ফল প্রকাশ ও পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন
আট সনদ ও নম্বরপত্র বিতরণ

কয়েকটি শব্দ এই ধাপগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে, আর সেগুলো নিয়েও প্রশ্ন হয়।

শব্দ অর্থ
কেন্দ্র যে প্রতিষ্ঠানে বসে পরীক্ষা দেওয়া হয়
কেন্দ্র সচিব কেন্দ্রের সার্বিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
প্রবেশপত্র পরীক্ষায় বসার অনুমতিপত্র
রেজিস্ট্রেশন কার্ড বোর্ডে শিক্ষার্থীর নিবন্ধনের প্রমাণ
পুনঃনিরীক্ষণ ফল প্রকাশের পর খাতার নম্বর যাচাইয়ের আবেদন
প্রশংসাপত্র প্রতিষ্ঠান ছাড়ার সময় দেওয়া সনদ

পুনঃনিরীক্ষণ নিয়ে একটা ভুল ধারণা আছে — অনেকে ভাবে পুরো খাতা আবার দেখা হয়। বাস্তবে এখানে মূলত নম্বর যোগে ভুল হয়েছে কি না, কোনো প্রশ্নের উত্তর মূল্যায়নে বাদ পড়েছে কি না, এসব যাচাই করা হয়।

খেয়াল করো, এই আট ধাপের কোথাও পাঠ্যবই লেখা বা শিক্ষাক্রম তৈরির কাজ নেই। ওটা সম্পূর্ণ আলাদা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব — এনসিটিবি নিয়ে লেখাটিতে সেই ভাগাভাগি স্পষ্ট করা আছে।

প্রতিষ্ঠান স্বীকৃতি ও পাঠদানের অনুমতি

একটা নতুন স্কুল বা কলেজ চালু হলেই তার শিক্ষার্থীরা পাবলিক পরীক্ষায় বসতে পারে না। আগে বোর্ডের অনুমোদন লাগে।

প্রথমে পাঠদানের অনুমতি, তারপর শর্ত পূরণ সাপেক্ষে একাডেমিক স্বীকৃতি। স্বীকৃতি না থাকলে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষার নিবন্ধনই করতে পারে না।

ধাপ অর্থ
পাঠদানের অনুমতি নির্দিষ্ট শ্রেণিতে পড়ানোর প্রাথমিক অনুমোদন
একাডেমিক স্বীকৃতি পাবলিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থী পাঠানোর অধিকার
স্বীকৃতি নবায়ন নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে শর্ত যাচাই করে নবায়ন

জিপিএ ও গ্রেডিং পদ্ধতি

আগে নম্বরভিত্তিক বিভাগ ছিল — প্রথম বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ। এখন চালু আছে গ্রেডিং পদ্ধতি, যেখানে প্রাপ্ত নম্বরকে অক্ষরে ও গ্রেড পয়েন্টে প্রকাশ করা হয়। এই গড় পয়েন্টই জিপিএ

প্রাপ্ত নম্বর লেটার গ্রেড গ্রেড পয়েন্ট
৮০ থেকে ১০০ এ প্লাস ৫.০০
৭০ থেকে ৭৯ ৪.০০
৬০ থেকে ৬৯ এ মাইনাস ৩.৫০
৫০ থেকে ৫৯ বি ৩.০০
৪০ থেকে ৪৯ সি ২.০০
৩৩ থেকে ৩৯ ডি ১.০০
০ থেকে ৩২ এফ ০.০০

কয়েকটি পরিভাষা আলাদা করে চিনে রাখো, কারণ এগুলো নিয়েই প্যাঁচানো প্রশ্ন হয়।

  • জিপিএ — গ্রেড পয়েন্ট এভারেজ, একটি পরীক্ষার গড় গ্রেড পয়েন্ট।
  • সিজিপিএ — একাধিক স্তর বা সেমিস্টারের সমন্বিত গড়।
  • চতুর্থ বিষয় — অতিরিক্ত বিষয়, নির্দিষ্ট গ্রেড পয়েন্টের বেশি অংশ মূল ফলে যোগ হয়।
  • এফ গ্রেড — অকৃতকার্য; কোনো একটিতে এফ পেলে সামগ্রিক ফল অকৃতকার্য হয়।

গণিতের এই ছোট হিসাবগুলো মানসিক দক্ষতার প্রশ্নেও ঘুরে আসে। অনুশীলনের জন্য প্র্যাকটিস অংশে সময় দাও।

বোর্ডের প্রশাসনিক কাঠামো

বোর্ডের ভেতরের পদগুলো নিয়েও প্রশ্ন হয়, বিশেষ করে "বোর্ডের প্রধান কে" জাতীয় প্রশ্ন।

পদ দায়িত্ব
চেয়ারম্যান বোর্ডের প্রধান নির্বাহী
সচিব প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজের সমন্বয়
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পরীক্ষা গ্রহণ ও ফল প্রকাশের দায়িত্ব
বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রতিষ্ঠান স্বীকৃতি ও পরিদর্শন
কলেজ পরিদর্শক কলেজ পর্যায়ের তদারকি
হিসাব ও নিরীক্ষা শাখা আর্থিক ব্যবস্থাপনা

"পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক" পদটি মনে রাখো — ফল প্রকাশ ও পুনঃনিরীক্ষণের সঙ্গে এই পদের নাম জড়িয়ে প্রশ্ন আসে।

কে কী করে: বোর্ড, এনসিটিবি ও অধিদপ্তর

এই তিনটার কাজ গুলিয়ে ফেলা সবচেয়ে সাধারণ ভুল। টেবিলটা মন দিয়ে দেখো।

প্রতিষ্ঠান যা করে যা করে না
এনসিটিবি শিক্ষাক্রম তৈরি, পাঠ্যবই রচনা ও মুদ্রণ পরীক্ষা নেয় না, সনদ দেয় না
শিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা গ্রহণ, ফল, সনদ, স্বীকৃতি পাঠ্যবই লেখে না
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষক ব্যবস্থাপনা, এমপিও পরীক্ষা নেয় না
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ভবন নির্মাণ ও মেরামত পাঠদান বা পরীক্ষার সঙ্গে সম্পর্ক নেই
ইউজিসি বিশ্ববিদ্যালয় তদারকি স্কুল-কলেজের বিষয়ে নয়
এনটিআরসিএ বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও সুপারিশ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নয়

অবকাঠামোর দিকটা আলাদা করে বুঝতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের লেখাটি দেখে নিতে পারো।

যেসব ভুল সবচেয়ে বেশি হয়

ভুল ধারণা সঠিক তথ্য
শিক্ষা বোর্ড পাঠ্যবই লেখে পাঠ্যবই লেখে ও ছাপে এনসিটিবি
বোর্ড প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বোর্ড শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন
দেশে একটিই শিক্ষা বোর্ড কয়েকটি সাধারণ বোর্ড, সঙ্গে মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ড
মাদ্রাসার এসএসসি সমমান পরীক্ষার নাম আলিম দাখিল; আলিম এইচএসসি সমমান
বোর্ডের প্রধান মহাপরিচালক বোর্ডের প্রধান চেয়ারম্যান
জিপিএ ও সিজিপিএ একই জিনিস জিপিএ এক স্তরের, সিজিপিএ সমন্বিত গড়
বোর্ড শিক্ষক নিয়োগ দেয় বেসরকারি শিক্ষক সুপারিশ করে এনটিআরসিএ
ডিপ্লোমা পরীক্ষা সাধারণ বোর্ড নেয় ডিপ্লোমা পরীক্ষা নেয় কারিগরি শিক্ষা বোর্ড

পরীক্ষায় যেভাবে প্রশ্ন আসে

ধরন এক — অধীনতা। "মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কোন মন্ত্রণালয়ের অধীন?" উত্তর শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

ধরন দুই — বোর্ডের নাম চেনা। কোনো একটি জেলা দিয়ে জিজ্ঞেস করা হয় সেটি কোন বোর্ডের অধীন। অঞ্চলভিত্তিক তালিকাটা তাই কাজে লাগে।

ধরন তিন — পরীক্ষার নাম মেলানো। দাখিল, আলিম, এসএসসি ভোকেশনাল — কোনটা কোন বোর্ডের, এই ম্যাচিং প্রশ্ন খুব হয়।

ধরন চার — পদ চেনা। "বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কে?" উত্তর চেয়ারম্যান।

ধরন পাঁচ — গ্রেডিং হিসাব। নির্দিষ্ট নম্বর দিয়ে গ্রেড পয়েন্ট বের করতে বলা হয়, বা জিপিএ গণনার নিয়ম জিজ্ঞেস করা হয়।

ধরন ছয় — কাজ আলাদা করা। "নিচের কোনটি শিক্ষা বোর্ডের কাজ নয়?" — এখানে অপশনে পাঠ্যবই মুদ্রণ থাকলে সেটিই উত্তর।

শিক্ষক নিয়োগ ও কমিশনসংক্রান্ত প্রশ্নের প্রস্তুতি নিতে সরকারি কর্ম কমিশন নিয়ে লেখাটি পড়ে নাও, আর আগের প্রশ্নের ধাঁচ মেলাতে ব্যাংক প্রস্তুতির বাংলাদেশ বিষয়াবলি অংশে যাও।

এক নজরে মনে রাখার তথ্য

প্রশ্ন উত্তর
শিক্ষা বোর্ড কার অধীন শিক্ষা মন্ত্রণালয়
বোর্ডের প্রধান চেয়ারম্যান
সাধারণ বোর্ডের পরীক্ষা এসএসসি ও এইচএসসি
মাদ্রাসা বোর্ডের পরীক্ষা দাখিল ও আলিম
কারিগরি বোর্ডের পরীক্ষা ভোকেশনাল, বিএমটি, ডিপ্লোমা
সর্বোচ্চ গ্রেড পয়েন্ট ৫.০০, এ প্লাস
ন্যূনতম উত্তীর্ণ নম্বর ৩৩
ফল প্রকাশের দায়িত্বপ্রাপ্ত পদ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক
পাঠ্যবই কে দেয় এনসিটিবি
বিশ্ববিদ্যালয় তদারকি ইউজিসি

এরপর কী করবে

তথ্য পড়ে ফেলা এক জিনিস, পরীক্ষার হলে মনে আসা আরেক জিনিস। তাই আজই বাংলাদেশ বিষয়াবলির প্র্যাকটিস থেকে অন্তত ত্রিশটি প্রশ্ন সমাধান করো।

তারপর সময় বেঁধে একটা মক টেস্ট দাও। ভুলগুলো আলাদা খাতায় লিখে রাখো — একই ভুল দ্বিতীয়বার করলে বুঝবে ধারণাটা এখনো পাকা হয়নি।

ইংরেজি অংশে দুর্বলতা থাকলে ইংরেজি ব্যাকরণের বই থেকে প্রতিদিন একটা করে অধ্যায় শেষ করো। আর সব বিষয়ের প্রস্তুতির উপকরণ এক জায়গায় গোছানো আছে প্রস্তুতির মূল পাতায়। পরিসংখ্যানসংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান নিয়ে প্রশ্নের জন্য বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর লেখাটিও পড়ে রাখো।

Ah

Ahosan Habib

@ahosanhabib922

অচিনপুরের নির্মাতা। BCS ও চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে লেখেন — সিলেবাস, ব্যাকরণ ও পড়ার কৌশল।

শিক্ষা বোর্ডবাংলাদেশ বিষয়াবলিমাধ্যমিক শিক্ষাবিসিএস প্রস্তুতি

আরও পড়ো