শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগ ও অধীন দপ্তর কোনগুলো?
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগ, মাউশি, এনসিটিবি, শিক্ষা বোর্ড ও ইউজিসির কাজ সহজ ভাষায় সাজানো — বিসিএস ও চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য পূর্ণাঙ্গ নোট।
তুমি যদি বাংলাদেশ বিষয়াবলি পড়তে গিয়ে মন্ত্রণালয়ের অংশে এসে গুলিয়ে ফেলো, তাহলে জেনে রাখো — তুমি একা নও। মন্ত্রণালয়ের নাম, বিভাগের নাম আর অধিদপ্তরের নাম দেখতে প্রায় একরকম, তাই মুখস্থ করতে গেলে সব মিলেমিশে যায়।
এই লেখায় আমরা শুধু একটি মন্ত্রণালয় ধরব, কিন্তু গোড়া থেকে ধরব। শেষ পর্যন্ত পড়লে তুমি নিজেই বলে দিতে পারবে কোন দপ্তর কার অধীন, আর কোথায় পরীক্ষক ফাঁদ পেতে রাখে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় আসলে কী করে
শিক্ষা মন্ত্রণালয় হলো সরকারের সেই অংশ, যা দেশের মাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত পুরো ব্যবস্থার নীতি নির্ধারণ করে। কারিকুলাম কেমন হবে, শিক্ষক নিয়োগের নীতি কী হবে, কোন প্রতিষ্ঠান স্বীকৃতি পাবে, বাজেট কোথায় যাবে — এসব সিদ্ধান্ত এখান থেকেই আসে।
একটা কথা গোড়াতেই মাথায় গেঁথে নাও। মন্ত্রণালয় নীতি তৈরি করে, আর অধিদপ্তর সেই নীতি মাঠে গিয়ে বাস্তবায়ন করে। মন্ত্রণালয় কাগজে সিদ্ধান্ত নেয়, অধিদপ্তর সেই সিদ্ধান্ত স্কুল-কলেজ পর্যন্ত পৌঁছে দেয়।
এই একটি বাক্য বুঝে ফেললে যেকোনো মন্ত্রণালয়ের গঠন তোমার কাছে সহজ হয়ে যাবে। কারণ কাঠামোটা সব জায়গায় একই।
দেশের সব মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাপ্তরিক কার্যক্রমও সেখান থেকেই পরিচালিত হয়।
মন্ত্রী ও সচিব — কে কী করেন
প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রধান থাকে, এবং এই দুজনের ভূমিকা আলাদা। একজন রাজনৈতিক, আরেকজন প্রশাসনিক।
| পদ | ধরন | মূল দায়িত্ব |
|---|---|---|
| মন্ত্রী | রাজনৈতিক প্রধান | নীতিগত দিকনির্দেশনা, সংসদে জবাবদিহি |
| সচিব | প্রশাসনিক প্রধান | দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা, নথি ও বাস্তবায়ন তদারকি |
মন্ত্রী সরকারের নীতির মুখপাত্র। সচিব হলেন প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী, যিনি সেই নীতি বাস্তবে রূপ দেওয়ার দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করেন।
পরীক্ষায় এই পার্থক্য নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন আসে। "মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক প্রধান কে?" — উত্তর সচিব, মন্ত্রী নয়।
আরও একটি কথা। একটি মন্ত্রণালয়ের অধীনে একাধিক বিভাগ থাকলে প্রতিটি বিভাগের জন্য আলাদা সচিব থাকতে পারেন। শিক্ষার ক্ষেত্রে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানে বিভাগ দুটি।
দুই বিভাগে ভাগ হওয়ার হিসাব
শিক্ষা মন্ত্রণালয় দুটি বিভাগে বিভক্ত। এই দুই ভাগের নাম মনে রাখা তোমার জন্য বাধ্যতামূলক, কারণ এখান থেকেই সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন হয়।
প্রথমটি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। দ্বিতীয়টি কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ।
| বিভাগ | কী দেখে |
|---|---|
| মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ | মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় |
| কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ | কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং মাদ্রাসা শিক্ষা |
নামটা মনে রাখার সহজ উপায় আছে। সাধারণ ধারার পড়াশোনা যায় প্রথম বিভাগে, আর হাতে-কলমে দক্ষতার শিক্ষা ও ধর্মীয় ধারার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা যায় দ্বিতীয় বিভাগে।
খেয়াল করো, দুটোই একই মন্ত্রণালয়ের অংশ। এগুলো আলাদা মন্ত্রণালয় নয়, আলাদা বিভাগ। এই পার্থক্যটাও প্রশ্নে আসে।
অধীন দপ্তর ও সংস্থা
এবার মূল তালিকা। এই টেবিলটা তুমি আলাদা করে খাতায় তুলে রাখতে পারো, কারণ একটি প্রশ্নের উত্তর এখান থেকেই বেরিয়ে আসবে।
| দপ্তর বা সংস্থা | সংক্ষেপে কাজ |
|---|---|
| মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) | মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা স্তরের প্রশাসন ও তদারকি |
| কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর | পলিটেকনিক ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা |
| মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর | মাদ্রাসা শিক্ষার প্রশাসনিক তদারকি |
| শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর | শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণ |
| জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) | কারিকুলাম প্রণয়ন ও পাঠ্যবই তৈরি |
| শিক্ষা বোর্ডসমূহ | পাবলিক পরীক্ষা ও প্রতিষ্ঠান স্বীকৃতি |
| বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) | বিশ্ববিদ্যালয়ের মান ও মঞ্জুরি সংক্রান্ত কাজ |
| ব্যানবেইস | শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান সংগ্রহ ও প্রকাশ |
| নায়েম | শিক্ষা ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ |
তালিকাটা লম্বা মনে হলেও ভয় পেয়ো না। প্রতিটির কাজ আলাদা এবং নাম দেখেই কাজ অনেকটা আন্দাজ করা যায়।
মাউশি কী করে
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, সংক্ষেপে মাউশি, হলো এই মন্ত্রণালয়ের সবচেয়ে পরিচিত বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান। স্কুল-কলেজের প্রশাসনিক তদারকি, শিক্ষক-কর্মচারী সংক্রান্ত কাজ, প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন — এসব মাউশির আওতায় পড়ে।
তুমি যখন খবরে দেখো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য নির্দেশনা জারি হয়েছে, সেই নির্দেশনা সাধারণত এই অধিদপ্তর থেকেই আসে।
মাউশি নিজে নীতি বানায় না। নীতি আসে মন্ত্রণালয় থেকে, মাউশি তা কার্যকর করে। এই সীমারেখাটা মনে রাখলে অনেক প্রশ্নের উত্তর নিজে থেকেই মিলে যাবে।
আরেকটি দপ্তরের নাম প্রায়ই চোখ এড়িয়ে যায় — শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। এর কাজ পড়ানো নয়, পড়ানোর জায়গা তৈরি করা। স্কুল-কলেজের নতুন ভবন, শ্রেণিকক্ষ, ছাত্রাবাস, ল্যাব ভবন — এসব নির্মাণ ও সংস্কারের দায়িত্ব এই অধিদপ্তরের।
নামের সঙ্গে কাজের মিল খেয়াল করো। যেখানে প্রকৌশল শব্দটি আছে, সেখানে বোঝাই যাচ্ছে কাজটি নির্মাণ ও অবকাঠামোর। পরীক্ষায় যদি জিজ্ঞেস করা হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ কোন দপ্তরের কাজ, উত্তর এটিই।
মাউশির সমান্তরালে কাজ করে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। প্রথমটি পলিটেকনিক ও কারিগরি প্রতিষ্ঠান দেখে, দ্বিতীয়টি মাদ্রাসা শিক্ষার প্রশাসন দেখে। কারিগরি শিক্ষার বিস্তারিত কাঠামো নিয়ে আলাদা আলোচনা আছে /blog/karigori-shikkha-odhidoptor লেখায়।
এনসিটিবি ও পাঠ্যবই
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, যাকে সবাই এনসিটিবি নামে চেনে, দেশের কারিকুলাম তৈরি করে এবং পাঠ্যবই প্রণয়ন ও ছাপানোর কাজ দেখে।
তোমার হাতে যে পাঠ্যবই ছিল, তার বিষয়বস্তু ঠিক করার দায়িত্ব এই বোর্ডের। শ্রেণিভিত্তিক শিখনফল, বিষয়ের বিন্যাস, বইয়ের অধ্যায় সাজানো — সবই এখানে হয়।
এনসিটিবির কাজ নিয়ে বিস্তারিত পড়তে চাইলে /blog/nctb-pathyopustok-board দেখে নিতে পারো।
একটা বিষয় খেয়াল রাখো। এনসিটিবি বই বানায়, কিন্তু পরীক্ষা নেয় না। পরীক্ষা নেয় শিক্ষা বোর্ড। দুটি প্রতিষ্ঠানের কাজ আলাদা, অথচ প্রশ্নে এদের একসাথে গুলিয়ে দেওয়া হয়।
শিক্ষা বোর্ড ও পাবলিক পরীক্ষা
শিক্ষা বোর্ড আঞ্চলিকভাবে গঠিত প্রতিষ্ঠান। এগুলো মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের পাবলিক পরীক্ষা নেয়, ফল প্রকাশ করে, প্রতিষ্ঠানকে স্বীকৃতি ও পাঠদানের অনুমতি দেয়।
সাধারণ ধারার বোর্ডের পাশাপাশি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডও আছে। অর্থাৎ তিন ধারার জন্য আলাদা বোর্ড ব্যবস্থা রয়েছে।
শিক্ষা বোর্ডের গঠন ও কাজ বিস্তারিত জানতে /blog/madhyomik-shikkha-board লেখাটি কাজে দেবে।
| প্রতিষ্ঠান | দায়িত্ব | যা করে না |
|---|---|---|
| এনসিটিবি | কারিকুলাম ও পাঠ্যবই | পরীক্ষা নেয় না |
| শিক্ষা বোর্ড | পরীক্ষা, ফল, স্বীকৃতি | পাঠ্যবই লেখে না |
| মাউশি | প্রশাসনিক তদারকি | কারিকুলাম বানায় না |
ইউজিসি, ব্যানবেইস ও নায়েম
এই তিনটি সংস্থার নাম পরীক্ষায় প্রায়ই একসাথে আসে, আর ঠিক এখানেই অনেকে আটকে যায়।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বা ইউজিসি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের মঞ্জুরি, মান ও সমন্বয় সংক্রান্ত কাজ করে। উচ্চশিক্ষার সঙ্গে যুক্ত যেকোনো নীতিগত সমন্বয়ে এই কমিশনের ভূমিকা থাকে।
ব্যানবেইস অর্থাৎ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো শিক্ষা সংক্রান্ত তথ্য ও পরিসংখ্যান সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রকাশ করে। কোনো সংখ্যাভিত্তিক তথ্য দরকার হলে সেটি এখান থেকেই আসে।
নায়েম বা জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়। শিক্ষক ও শিক্ষা প্রশাসকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোই এর কাজ।
| সংস্থা | এক কথায় |
|---|---|
| ইউজিসি | বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি ও মান |
| ব্যানবেইস | শিক্ষার তথ্য ও পরিসংখ্যান |
| নায়েম | শিক্ষা ব্যবস্থাপনার প্রশিক্ষণ |
মনে রাখার কৌশল — ইউজিসি টাকা ও মঞ্জুরি, ব্যানবেইস তথ্য, নায়েম প্রশিক্ষণ।
এই তিনটির মধ্যে ইউজিসিকে নিয়ে বিভ্রান্তি সবচেয়ে বেশি হয়। অনেকে ভাবে ইউজিসি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা নেয় বা সনদ দেয়। তা নয়। সনদ দেয় সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় নিজে, ইউজিসি করে সমন্বয় ও মান তদারকির কাজ।
ব্যানবেইসের বেলায়ও একই কথা। এটি তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশ করে, কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠানকে স্বীকৃতি দেয় না। স্বীকৃতির কাজ বোর্ডের।
শিক্ষাব্যবস্থার তিন ধারা
বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা তিনটি ধারায় বিভক্ত — সাধারণ, মাদ্রাসা ও কারিগরি। এই তিন ধারার কথা প্রশ্নে ঘুরেফিরে আসে।
সাধারণ ধারা হলো প্রচলিত স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পথ। মাদ্রাসা ধারা ধর্মীয় শিক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ, যার নিজস্ব বোর্ড ও পাঠক্রম আছে। কারিগরি ধারা কারিগরি ও বৃত্তিমূলক দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা দেয়।
| ধারা | চরিত্র |
|---|---|
| সাধারণ | প্রচলিত স্কুল-কলেজ পাঠক্রম |
| মাদ্রাসা | ধর্মীয় শিক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক ধারা |
| কারিগরি | দক্ষতা ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা |
তিন ধারার মধ্যে দুটি ধারা কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীনে পড়ে, আর একটি ধারা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অধীনে। এই মিল দেখেই বিভাগ দুটির নামের যুক্তি বুঝতে পারবে।
সংবিধানে শিক্ষা
সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদ শিক্ষা সম্পর্কিত। এটি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির অংশ, অর্থাৎ এটি রাষ্ট্রের ওপর দায়িত্ব আরোপ করে।
মূলনীতি আর মৌলিক অধিকারের পার্থক্য মনে রাখা জরুরি। মৌলিক অধিকার আদালতে বলবৎযোগ্য, কিন্তু মূলনীতি রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশনা হিসেবে কাজ করে।
সংবিধানের কাঠামো ঝালিয়ে নিতে চাইলে /constitution অংশটি একবার দেখে নিও, আর প্রশ্নভিত্তিক অনুশীলনের জন্য /bank/subject/constitution আছে।
যেসব ভুল সবচেয়ে বেশি হয়
এই অংশটি মন দিয়ে পড়ো। এখানে যে ভুলগুলো আছে, সেগুলোই তোমার নম্বর কাটে।
সবচেয়ে বড় ভুল — প্রাথমিক শিক্ষাকে এই মন্ত্রণালয়ের অধীন ভাবা। প্রাথমিক শিক্ষা এই মন্ত্রণালয়ের অধীন নয়। এর জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় আছে, যার নাম প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিস্তারিত পড়ো /blog/prathomik-gonoshikkha-montronaloy লেখায়।
দ্বিতীয় ভুল — এনসিটিবিকে পরীক্ষা গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ভাবা। এনসিটিবি বই ও কারিকুলাম দেখে, পরীক্ষা নেয় বোর্ড।
তৃতীয় ভুল — বিভাগ আর অধিদপ্তরকে এক করে ফেলা। বিভাগ মন্ত্রণালয়ের ভেতরের ভাগ, অধিদপ্তর তার নিচে থাকা বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান।
| ভুল ধারণা | সঠিক তথ্য |
|---|---|
| প্রাথমিক শিক্ষা এই মন্ত্রণালয়ের অধীন | আলাদা মন্ত্রণালয়ের অধীন |
| এনসিটিবি পরীক্ষা নেয় | পরীক্ষা নেয় শিক্ষা বোর্ড |
| ইউজিসি স্কুল দেখে | ইউজিসি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় দেখে |
| শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর পাঠ্যক্রম বানায় | এটি অবকাঠামো নির্মাণ দেখে |
পরীক্ষায় যেভাবে প্রশ্ন আসে
প্রশ্নের ধরনগুলো চিনে রাখলে পড়া অনেক লক্ষ্যভিত্তিক হয়ে যায়। সাধারণত চার ধরনের প্রশ্ন হয়।
প্রথম ধরন — সরাসরি অধীনতা যাচাই। "মাউশি কোন মন্ত্রণালয়ের অধীন?" এখানে সরাসরি নাম জানতে চাওয়া হয়।
দ্বিতীয় ধরন — বিভাগ গণনা। "শিক্ষা মন্ত্রণালয় কয়টি বিভাগে বিভক্ত?" উত্তর দুটি, এবং নাম দুটিও জানা থাকতে হবে।
তৃতীয় ধরন — কাজ মেলানো। কোন সংস্থা কী করে, তা মিলিয়ে দিতে বলা হয়। ব্যানবেইস, নায়েম, ইউজিসি — এই তিনটি প্রায়ই একসাথে বিকল্প হিসেবে আসে।
চতুর্থ ধরন — নেতিবাচক প্রশ্ন। "কোনটি এই মন্ত্রণালয়ের অধীন নয়?" এখানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বিকল্প হিসেবে বসিয়ে দেওয়া হয়। উত্তর হবে সেটিই।
| প্রশ্নের ধরন | তোমার করণীয় |
|---|---|
| অধীনতা | তালিকা মুখস্থ রাখো |
| সংখ্যা | দুই বিভাগের কথা মনে রাখো |
| কাজ মেলানো | সংস্থার নামের অর্থ ধরো |
| নেতিবাচক | প্রথমে প্রাথমিক শিক্ষা খুঁজে দেখো |
এই ধরনের প্রশ্ন অনুশীলনের জন্য /practice/bangladesh-affairs ভালো জায়গা, আর সময় ধরে পুরো সেট দিতে চাইলে /mock ব্যবহার করো।
এক নজরে মনে রাখার তথ্য
শেষ মুহূর্তের রিভিশনের জন্য এই তালিকাটাই যথেষ্ট।
- রাজনৈতিক প্রধান মন্ত্রী, প্রশাসনিক প্রধান সচিব।
- মন্ত্রণালয় নীতি করে, অধিদপ্তর বাস্তবায়ন করে।
- বিভাগ দুটি — মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ।
- শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর হিসেবে মাউশি, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর মনে রাখো।
- এনসিটিবি কারিকুলাম ও পাঠ্যবই দেখে।
- ইউজিসি বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যানবেইস তথ্য, নায়েম প্রশিক্ষণ।
- শিক্ষাব্যবস্থার তিন ধারা — সাধারণ, মাদ্রাসা, কারিগরি।
- সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদ শিক্ষা সম্পর্কিত, এটি মূলনীতি।
- প্রাথমিক শিক্ষা আলাদা মন্ত্রণালয়ের অধীন।
- সব মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয়।
কোনো সাম্প্রতিক পরিবর্তন, নতুন সংস্থা বা হালনাগাদ কাঠামোর খবর দরকার হলে /current-affairs দেখে নাও। এই ধরনের তথ্য বদলায়, তাই সবসময় সাম্প্রতিক উৎস থেকে মিলিয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
পরের ধাপে কী পড়বে
এই মন্ত্রণালয়টি একা পড়লে অর্ধেক ছবি পাওয়া যায়। এর সঙ্গে মিলিয়ে অন্য কয়েকটি মন্ত্রণালয় পড়লে পুরো প্রশাসনিক মানচিত্র মাথায় বসে যাবে।
স্বাস্থ্যখাতের কাঠামোও দুই বিভাগে ভাগ, তাই তুলনা করে পড়লে দুটোই মনে থাকবে — /blog/shastho-poribar-kollan-montronaloy। সামাজিক নিরাপত্তার দিকটি বুঝতে /blog/somajkollan-montronaloy আর ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও হজ ব্যবস্থাপনার দিকটির জন্য /blog/dhormo-bishoyok-montronaloy পড়ে নাও।
বিষয়ভিত্তিক প্রশ্নব্যাংক ধরে এগোতে চাইলে /bank/subject/bangladesh-affairs থেকে শুরু করো, আর পুরো প্রশ্নভান্ডার একসাথে দেখতে /bank আছে। নিয়মিত অনুশীলনের অভ্যাস গড়তে /practice কাজে লাগাও।
মনে রেখো, মন্ত্রণালয়ের অধ্যায়ে সাফল্যের রহস্য মুখস্থ নয়, কাঠামো বোঝা। কে নীতি করে আর কে বাস্তবায়ন করে — এই একটি প্রশ্নের উত্তর জানলে বাকি সব নিজে থেকেই সাজানো লাগবে।
Ahosan Habib
@ahosanhabib922
অচিনপুরের নির্মাতা। BCS ও চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে লেখেন — সিলেবাস, ব্যাকরণ ও পড়ার কৌশল।