স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে কোন কোন দপ্তর ও সংস্থা আছে?

২ আগস্ট, ২০২৬১২ মিনিট পড়া

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগ, অধীন অধিদপ্তর ও সংস্থার পূর্ণ তালিকা, কাজের পরিধি এবং বিসিএস ও ব্যাংক পরীক্ষায় আসা প্রশ্নের ধরন এক জায়গায়।

পরীক্ষার হলে "বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর কোন মন্ত্রণালয়ের অধীন?" এই এক লাইনের প্রশ্নে যত প্রার্থী নম্বর হারায়, তত আর কোনো ধরনের প্রশ্নে হারায় না। কারণ আমরা প্রতিষ্ঠানটি চিনি, কিন্তু সে কার অধীনে বসে সেটা কখনো গুছিয়ে পড়িনি।

এই লেখায় তুমি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিয়ে ঠিক সেই গোছানো ছকটাই পাবে — কোন বিভাগ, কোন দপ্তর, কে কী করে।

মন্ত্রণালয় জিনিসটা আসলে কী

সরকার চালানোর কাজ ভাগ করা আছে অনেকগুলো মন্ত্রণালয়ে। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের হাতে একটি নির্দিষ্ট বিষয় থাকে, আর সেই বিষয়ে নীতি নির্ধারণ করাই তার প্রধান কাজ।

নীতি ঠিক হওয়ার পর সেটি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করে মন্ত্রণালয়ের অধীন অধিদপ্তর, দপ্তর ও সংস্থা। এই পার্থক্যটি মাথায় গেঁথে নাও — পরীক্ষায় প্রায়ই এটিকে ঘুরিয়ে জিজ্ঞেস করা হয়।

প্রশ্ন মন্ত্রণালয় অধিদপ্তর
কাজের ধরন নীতি প্রণয়ন নীতি বাস্তবায়ন
অবস্থান বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা নিজস্ব প্রধান কার্যালয় ও মাঠ অফিস
প্রশাসনিক প্রধান সচিব মহাপরিচালক বা সমমানের কর্মকর্তা
রাজনৈতিক প্রধান মন্ত্রী নেই
জনগণের সঙ্গে সরাসরি সেবা সাধারণত নয় হ্যাঁ

বাংলাদেশের সব মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর ঢাকার বাংলাদেশ সচিবালয়ে। মন্ত্রিসভার সার্বিক সমন্বয় করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, যা প্রধানমন্ত্রীর অধীনে থাকে।

সংবিধানের দিক থেকে দেখলে ৫৫ অনুচ্ছেদ মন্ত্রিসভা সম্পর্কিত, আর ৫৬ অনুচ্ছেদ মন্ত্রী নিয়োগ নিয়ে। মন্ত্রীদের নয়-দশমাংশ আসতে হবে সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে, অনধিক এক-দশমাংশ আসতে পারেন বাইরে থেকে — এঁদেরই বলে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী। সংবিধানের এই অংশগুলো ঝালাই করতে সংবিধান অধ্যায় দেখে নিতে পারো।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচয়

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বলা যায় রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার মন্ত্রণালয়। দেশের ভেতরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, নাগরিকত্ব, পাসপোর্ট ও ভিসা, কারাগার, অগ্নিনির্বাপণ, মাদক নিয়ন্ত্রণ — এই সবকিছুর নীতিগত দায়িত্ব এখানেই।

সহজ সূত্র: দেশের বাইরের সম্পর্ক দেখে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দেশের ভেতরের নিরাপত্তা দেখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আর দেশের প্রতিরক্ষা দেখে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

কাজের পরিধিটা ছকে দেখলে ধরতে সুবিধা হয়।

দায়িত্বের ক্ষেত্র সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
আইনশৃঙ্খলা অপরাধ দমন, জননিরাপত্তা রক্ষা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা
নাগরিকত্ব নাগরিকত্ব প্রদান, ত্যাগ ও সংশ্লিষ্ট নীতিমালা
পাসপোর্ট ও ভিসা ভ্রমণ দলিল ইস্যু ও বিদেশিদের অবস্থান সংক্রান্ত অনুমোদন
কারা ব্যবস্থাপনা বন্দি ব্যবস্থাপনা ও সংশোধন কার্যক্রম
অগ্নিনির্বাপণ আগুন নেভানো, উদ্ধার ও দুর্যোগকালীন সহায়তা
মাদক নিয়ন্ত্রণ মাদক প্রতিরোধ, তদারকি ও নিরাময় ব্যবস্থা
সীমান্ত ও উপকূল স্থল সীমান্ত এবং সমুদ্র উপকূলের নিরাপত্তা

এই সাতটি ক্ষেত্র মনে থাকলে যেকোনো নতুন প্রতিষ্ঠানের নাম শুনেও তুমি আন্দাজ করতে পারবে সেটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন কি না।

দুটি বিভাগ — প্রথমেই এটি মনে রাখো

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাঠামোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো, এটি দুটি বিভাগে বিভক্ত। প্রতিটি বিভাগের আলাদা সচিব থাকেন, কিন্তু মন্ত্রী একজনই।

বিভাগ মূল দায়িত্বের ধরন
জননিরাপত্তা বিভাগ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সীমান্ত নিরাপত্তা, উপকূলীয় নিরাপত্তা
সুরক্ষা সেবা বিভাগ কারাগার, অগ্নিনির্বাপণ, মাদক নিয়ন্ত্রণ, পাসপোর্ট ও অভিবাসন

জননিরাপত্তা বিভাগ নাম শুনেই বোঝা যায় — যারা অস্ত্র হাতে শৃঙ্খলা রক্ষা করে, তারা এখানে। আর সুরক্ষা সেবা বিভাগ এমন সেবাগুলো দেখে যেগুলো নাগরিককে সরাসরি সুরক্ষা বা সেবা দেয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর ও সংস্থার তালিকা

এই টেবিলটিই এই লেখার প্রাণ। পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে ঠিক এই ছক ধরে।

দপ্তর বা বাহিনী কোন বিভাগের অধীন কাজের সংক্ষিপ্ত পরিচয়
বাংলাদেশ পুলিশ জননিরাপত্তা বিভাগ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, তদন্ত, অপরাধ দমন
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জননিরাপত্তা বিভাগ সীমান্ত রক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধ
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) জননিরাপত্তা বিভাগ সহায়ক নিরাপত্তা ও গ্রামীণ প্রতিরক্ষা
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড জননিরাপত্তা বিভাগ উপকূল ও সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা
কারা অধিদপ্তর সুরক্ষা সেবা বিভাগ কারাগার পরিচালনা ও বন্দি ব্যবস্থাপনা
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর সুরক্ষা সেবা বিভাগ অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার তৎপরতা
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সুরক্ষা সেবা বিভাগ মাদক নিয়ন্ত্রণ ও নিরাময় কার্যক্রম
বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর সুরক্ষা সেবা বিভাগ পাসপোর্ট, ভিসা ও অভিবাসন সংক্রান্ত সেবা

চার আর চার — মনে রাখার জন্য এর চেয়ে সুবিধাজনক ভাগ আর হয় না।

জননিরাপত্তা বিভাগ ঘনিষ্ঠভাবে

বাংলাদেশ পুলিশ এই বিভাগের সবচেয়ে বড় ও পরিচিত বাহিনী। থানা থেকে শুরু করে জেলা, রেঞ্জ ও সদর দপ্তর পর্যন্ত এর একটি স্তরবিন্যস্ত কাঠামো আছে। পুলিশের পদবি, ইউনিট ও কাঠামো নিয়ে আলাদা করে পড়তে বাংলাদেশ পুলিশ লেখাটি দেখে নাও — সেখানে প্রশ্নের ধরন ধরে ধরে সাজানো আছে।

বিজিবি স্থলসীমান্ত পাহারা দেয়, আর কোস্ট গার্ড দেখে সমুদ্র ও উপকূল। একটি প্রচলিত বিভ্রান্তি হলো কোস্ট গার্ডকে নৌবাহিনীর অংশ ভেবে ফেলা। কোস্ট গার্ড প্রশাসনিকভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন, আর নৌবাহিনী প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন। এই পার্থক্য বুঝতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী লেখাটি পাশে রেখে পড়লে দুটোই পরিষ্কার হয়ে যাবে।

আনসার ও ভিডিপি সহায়ক বাহিনী হিসেবে নির্বাচন, দুর্যোগ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তায় কাজ করে। নামের দ্বিতীয় অংশ ভিডিপি মানে গ্রাম প্রতিরক্ষা দল — অর্থাৎ এই বাহিনীর একটি বড় অংশ গ্রামভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী কাঠামোর উপর দাঁড়ানো। প্রশ্নে "ভিডিপি" পূর্ণরূপ চাওয়া হয় বলে এটি আলাদা করে মনে রেখো।

এই চার বাহিনীর কাজের ভৌগোলিক ক্ষেত্র আলাদা, এবং সেই আলাদা ক্ষেত্রই প্রশ্ন তৈরির সবচেয়ে প্রিয় জায়গা।

বাহিনী কাজের প্রধান ক্ষেত্র
বাংলাদেশ পুলিশ দেশের অভ্যন্তরভাগ, থানা থেকে জাতীয় পর্যায়
বিজিবি আন্তর্জাতিক স্থলসীমান্ত এলাকা
কোস্ট গার্ড উপকূল, সমুদ্রসীমা ও নদীপথের মোহনা
আনসার ও ভিডিপি গ্রামীণ এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা

সুরক্ষা সেবা বিভাগ ঘনিষ্ঠভাবে

কারা অধিদপ্তর দেশের কারাগারগুলো পরিচালনা করে। কারাগারের শ্রেণিবিন্যাস, বন্দির ধরন ও কারা প্রশাসনের কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত পাবে কারা অধিদপ্তর লেখায়।

বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর পাসপোর্ট ইস্যু করে। পাসপোর্টের ধরন, মলাটের রং ও ভিসা সংক্রান্ত তথ্য এখান থেকেই প্রশ্নে আসে — পাসপোর্ট অধিদপ্তর লেখাটিতে সেগুলো টেবিল করে দেওয়া আছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কেবল আগুন নেভায় না; ভবনধস, সড়ক দুর্ঘটনা ও দুর্যোগে উদ্ধার কাজও করে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মাদক প্রতিরোধ ও নিরাময়কেন্দ্র তদারকির দায়িত্বে।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯

জরুরি অবস্থায় পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স — তিন সেবা একটিমাত্র নম্বরে পাওয়ার ব্যবস্থা হলো ৯৯৯। প্রশ্নে এই সংখ্যাটি সরাসরি আসে, তাই সংখ্যাটি ভুলে যেয়ো না।

এই সেবার সৌন্দর্য হলো সমন্বয়। একজন নাগরিককে আলাদা করে মনে রাখতে হয় না কোন সমস্যার জন্য কোন দপ্তরে ফোন করতে হবে; একটি কল থেকেই প্রয়োজনীয় বাহিনীর কাছে বার্তা পৌঁছে যায়। প্রশাসনিক ভাষায় একে বলে "একক প্রবেশদ্বার" ব্যবস্থা, আর এটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেবামুখী চরিত্রেরই প্রকাশ।

লিখিত পরীক্ষায় ডিজিটাল সেবা নিয়ে প্রশ্ন এলে এই উদাহরণটি ব্যবহার করতে পারো — নাগরিকসেবা সহজীকরণের ভালো উদাহরণ হিসেবে এটি সহজেই কাজে লাগে।

মন্ত্রী, সচিব ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা

পদ ধরন দায়িত্ব
মন্ত্রী রাজনৈতিক প্রধান নীতিগত সিদ্ধান্ত ও সংসদে জবাবদিহি
সচিব প্রশাসনিক প্রধান মন্ত্রণালয়ের দৈনন্দিন পরিচালনা
অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব মধ্যস্তর অনুবিভাগ ও শাখার তদারকি
মহাপরিচালক বা প্রধান অধিদপ্তর পর্যায় মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন

দুটি বিভাগ থাকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সচিবও দুজন — একজন জননিরাপত্তা বিভাগের, একজন সুরক্ষা সেবা বিভাগের। এই ছোট তথ্যটিই অনেক সময় প্রশ্নের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে যায়।

অন্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলার জায়গাগুলো

যা অনেকে ভাবে আসলে যা সঠিক মন্ত্রণালয়
কোস্ট গার্ড নৌবাহিনীর অংশ আলাদা বাহিনী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
আবহাওয়া অধিদপ্তর স্বরাষ্ট্রের অধীন নয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়
পাসপোর্ট দেয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাধারণ পাসপোর্ট দেয় পাসপোর্ট অধিদপ্তর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
ডিসি নিয়োগ দেয় স্বরাষ্ট্র নয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
অধস্তন আদালতের প্রশাসন স্বরাষ্ট্রের কাজ নয় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়

প্রতিরক্ষার অধীনে আবহাওয়া অধিদপ্তর থাকার ব্যাপারটি সবচেয়ে বেশি ভুল হয় — কারণটি বুঝতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় লেখাটি পড়ে নাও। আর ডিসি–ইউএনও কাঠামো কেন জনপ্রশাসনের হাতে, সেটি আছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় লেখায়।

যেসব ভুল সবচেয়ে বেশি হয়

এক, দুটি বিভাগের নাম উল্টে ফেলা। মনে রাখো — যারা অস্ত্র হাতে বাইরে থাকে তারা জননিরাপত্তায়, যারা সেবা ও প্রতিষ্ঠান চালায় তারা সুরক্ষা সেবায়।

দুই, "বিভাগ" শব্দটি নিয়ে বিভ্রান্তি। মন্ত্রণালয়ের ভেতরের বিভাগ আর প্রশাসনিক ভৌগোলিক বিভাগ এক জিনিস নয়।

তিন, র‍্যাব, পিবিআই, সিআইডি-কে আলাদা অধিদপ্তর ভাবা। এগুলো বাংলাদেশ পুলিশের কাঠামোর ভেতরের ইউনিট, আলাদা অধিদপ্তর নয়।

চার, নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজ ভাবা। নাগরিকত্বের নীতিগত দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের।

পাঁচ, সচিব ও মন্ত্রীর ভূমিকা মিলিয়ে ফেলা। সচিব প্রশাসনিক প্রধান, তিনি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেন না।

ছয়, সাল বা পরিসংখ্যান মুখস্থ করতে গিয়ে কাঠামো ভুলে যাওয়া। জনবল বা বাজেটের সংখ্যা বদলায়, কিন্তু কাঠামো স্থির। সাম্প্রতিক সংখ্যাগত তথ্যের জন্য কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স অংশে চোখ রাখো।

পরীক্ষায় যেভাবে প্রশ্ন আসে

প্রশ্নের ধরন নমুনা
অধীনতা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কোন মন্ত্রণালয়ের অধীন?
বিভাগ চিহ্নিতকরণ ফায়ার সার্ভিস কোন বিভাগের অধীন?
সংখ্যা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভাগ কয়টি?
ব্যতিক্রম নিচের কোনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন নয়?
সেবা জাতীয় জরুরি সেবার নম্বর কত?
পার্থক্য কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনী কোন মন্ত্রণালয়ের অধীন?
সাংবিধানিক যোগ মন্ত্রী নিয়োগ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে?

লিখিত পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে বর্ণনামূলক ভঙ্গিতে — যেমন "অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা আলোচনা করো"। তখন দুই বিভাগের নাম, অধীন আটটি প্রতিষ্ঠান ও তাদের কাজ গুছিয়ে লিখলেই নম্বর ওঠে।

এই ধরনের প্রশ্নে হাত পাকাতে বাংলাদেশ বিষয়াবলি প্র্যাকটিস সেটগুলো ধরে ধরে সমাধান করো।

এক নজরে মনে রাখার তথ্য

বিষয় তথ্য
মন্ত্রণালয়ের নাম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
বিভাগ জননিরাপত্তা বিভাগ ও সুরক্ষা সেবা বিভাগ
রাজনৈতিক প্রধান মন্ত্রী
প্রশাসনিক প্রধান সচিব
অবস্থান বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা
জননিরাপত্তার অধীন পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, কোস্ট গার্ড
সুরক্ষা সেবার অধীন কারা অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর
জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯
মন্ত্রিসভা সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ ৫৫
মন্ত্রী নিয়োগ সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ ৫৬

মনে রাখার সহজ কৌশল

জননিরাপত্তা মনে রাখতে ভাবো — "পু-বি-আ-কো": পুলিশ, বিজিবি, আনসার, কোস্ট গার্ড।

সুরক্ষা সেবা মনে রাখতে ভাবো — "কা-ফা-মা-পা": কারা, ফায়ার, মাদক, পাসপোর্ট।

দুই লাইন মুখস্থ হলে আটটি প্রতিষ্ঠানই হাতের মুঠোয়। এরপর প্রতিটির কাজ এক বাক্যে বলতে পারলে যেকোনো প্রশ্নেই তুমি নিরাপদ।

প্রস্তুতি কীভাবে সাজাবে

প্রথমে গঠনটা শেখো, তারপর প্রতিষ্ঠানভিত্তিক বিস্তারিত। একদিনে সব মন্ত্রণালয় ধরতে যেয়ো না — সপ্তাহে দুটি করে ধরলে দুই মাসেই গুরুত্বপূর্ণগুলো শেষ।

পড়ার পর সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্ন সমাধান করা জরুরি, নইলে মিলিয়ে ফেলার প্রবণতা থেকেই যায়। বাংলাদেশ বিষয়াবলি অধ্যায়ের প্রশ্নব্যাংক ধরে অনুশীলন করো, আর পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতির জন্য প্রশ্নব্যাংকমক টেস্ট নিয়মিত দাও।

আইন ও বিচার সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান কোন মন্ত্রণালয়ের অধীনে সেটি জানতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং কূটনৈতিক পাসপোর্ট কেন আলাদা তা বুঝতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লেখা দুটি পড়ে নাও।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর মানে মুখস্থ তালিকা নয় — এটি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামোর মানচিত্র। মানচিত্রটা একবার মাথায় ঢুকে গেলে বিসিএস সাধারণ জ্ঞান অংশে এই ধরনের প্রশ্ন তোমার জন্য নিশ্চিত নম্বর হয়ে দাঁড়াবে।

Ah

Ahosan Habib

@ahosanhabib922

অচিনপুরের নির্মাতা। BCS ও চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে লেখেন — সিলেবাস, ব্যাকরণ ও পড়ার কৌশল।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়বাংলাদেশ বিষয়াবলিবিসিএস প্রস্তুতিপ্রশাসন

আরও পড়ো