পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কীভাবে কূটনীতি পরিচালনা করে থাকে?

২ আগস্ট, ২০২৬১৪ মিনিট পড়া

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজ, রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারের পার্থক্য, কূটনৈতিক পরিভাষা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সদর দপ্তর — পরীক্ষার জন্য গোছানো আলোচনা।

লন্ডনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিকে বলা হয় হাইকমিশনার, আর ওয়াশিংটনে বলা হয় রাষ্ট্রদূত। কাজ প্রায় একই, তবু নাম আলাদা কেন — এই প্রশ্নের উত্তর জানা থাকলে পরীক্ষার হলে একটি নিশ্চিত নম্বর তোমার।

কূটনীতির এমন ছোট ছোট পরিভাষাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রশ্নের প্রাণ। এই লেখায় সেগুলোই ধরে ধরে সাজানো।

মন্ত্রণালয় নীতি ঠিক করে, দপ্তর বাস্তবায়ন করে

সব মন্ত্রণালয়ের মৌলিক সূত্রটি এক। মন্ত্রণালয় নীতি নির্ধারণ করে, আর অধীন দপ্তর ও মিশন সেই নীতি মাঠে বাস্তবায়ন করে।

দিক মন্ত্রণালয় অধীন দপ্তর ও মিশন
প্রধান কাজ নীতি প্রণয়ন নীতি বাস্তবায়ন ও সেবা প্রদান
রাজনৈতিক প্রধান মন্ত্রী নেই
প্রশাসনিক প্রধান সচিব মিশন প্রধান বা দপ্তর প্রধান
অবস্থান বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা দেশে ও বিদেশে
নাগরিকের সঙ্গে সরাসরি সেবা কম বেশি

মন্ত্রিসভার সমন্বয় করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, যা প্রধানমন্ত্রীর অধীন। সংবিধানের ৫৫ অনুচ্ছেদ মন্ত্রিসভা সংক্রান্ত এবং ৫৬ অনুচ্ছেদ মন্ত্রী নিয়োগ সংক্রান্ত — নয়-দশমাংশ মন্ত্রী সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে, অনধিক এক-দশমাংশ বাইরে থেকে অর্থাৎ টেকনোক্র্যাট। এই অনুচ্ছেদগুলো দেখে নিতে সংবিধান অধ্যায় কাজে লাগবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কী দেখে

এই মন্ত্রণালয়ের বিষয়বস্তু হলো রাষ্ট্রের বাইরের সম্পর্ক

দায়িত্ব ব্যাখ্যা
কূটনৈতিক সম্পর্ক অন্য রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন ও পরিচালনা
মিশন পরিচালনা বিদেশে দূতাবাস, হাইকমিশন ও কনস্যুলেট পরিচালনা
আন্তর্জাতিক চুক্তি চুক্তি আলোচনা, স্বাক্ষর ও অনুসরণ
কনস্যুলার সেবা প্রবাসী বাংলাদেশিদের সেবা ও সহায়তা
বহুপাক্ষিক কূটনীতি আন্তর্জাতিক সংস্থায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব
প্রটোকল রাষ্ট্রীয় সফর ও আনুষ্ঠানিকতার ব্যবস্থাপনা

দেশের ভেতরের নিরাপত্তা দেখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সামরিক প্রতিরক্ষা দেখে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, আর বাইরের সম্পর্ক দেখে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই ভাগটি বুঝতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় লেখা দুটি পাশাপাশি পড়ে নাও।

রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার

এই পার্থক্যটি প্রশ্নে বারবার আসে, তাই আলাদা করে দাগিয়ে রাখো।

পদবি কোথায় নিযুক্ত হন মিশনের নাম
রাষ্ট্রদূত কমনওয়েলথের বাইরের দেশে দূতাবাস
হাইকমিশনার কমনওয়েলথভুক্ত দেশে হাইকমিশন

মনে রাখার সহজ সূত্র — কমনওয়েলথ মানেই হাইকমিশন। কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ককে ঐতিহাসিকভাবে "আন্তঃরাষ্ট্রীয়" না ভেবে "পারিবারিক" ধরা হতো, তাই আলাদা পরিভাষা।

দুটি পদের মর্যাদা ও দায়িত্ব সমান — কেবল নাম আলাদা। এই বাক্যটিই প্রশ্নে সঠিক বিকল্প বেছে নিতে সাহায্য করবে।

জরুরি কূটনৈতিক পরিভাষা

পরিভাষা অর্থ
চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মিশন প্রধানের অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা
কূটনৈতিক দায়মুক্তি কূটনীতিকদের স্থানীয় আইনি প্রক্রিয়া থেকে বিশেষ সুরক্ষা
পার্সোনা নন গ্রাটা অনভিপ্রেত ব্যক্তি ঘোষণা করে কূটনীতিককে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত
কনস্যুলেট নির্দিষ্ট শহরে সীমিত পরিসরের সেবাদানকারী মিশন
প্রত্যাহার নিজ দেশের কূটনীতিককে ফিরিয়ে আনা
আক্রেডিটেশন এক মিশন প্রধানের একাধিক দেশে দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি

পার্সোনা নন গ্রাটা শব্দবন্ধটি প্রশ্নে সরাসরি আসে, তাই এর অর্থ — "অনভিপ্রেত ব্যক্তি" — মুখস্থ রাখো।

ভিয়েনা কনভেনশন

কূটনৈতিক সম্পর্কের নিয়ম-কানুন আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত হয় ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী। কূটনীতিকদের মর্যাদা, দায়মুক্তি, মিশনের অলঙ্ঘনীয়তা — এসবের ভিত্তি এই কনভেনশন।

বিষয় সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
কূটনৈতিক দায়মুক্তি কূটনীতিক গ্রেপ্তার বা আটক থেকে সুরক্ষিত
মিশনের অলঙ্ঘনীয়তা দূতাবাস প্রাঙ্গণে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ নিষিদ্ধ
যোগাযোগের স্বাধীনতা কূটনৈতিক ব্যাগ ও বার্তার সুরক্ষা
পার্সোনা নন গ্রাটার অধিকার গ্রহীতা রাষ্ট্র যেকোনো কূটনীতিককে অনভিপ্রেত ঘোষণা করতে পারে

প্রশ্নে "কূটনৈতিক সম্পর্ক সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক দলিল কোনটি" জানতে চাইলে উত্তর ভিয়েনা কনভেনশন।

কূটনৈতিক পাসপোর্ট

পাসপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন এলে ধরন ও মলাটের রং সবচেয়ে বেশি জিজ্ঞেস করা হয়।

ধরন কারা পান মলাটের রং
কূটনৈতিক পাসপোর্ট কূটনীতিক ও নির্দিষ্ট উচ্চপদস্থ ব্যক্তি লাল
সরকারি পাসপোর্ট সরকারি কাজে বিদেশগামী কর্মকর্তা নির্ধারিত পৃথক রং
সাধারণ পাসপোর্ট সাধারণ নাগরিক নির্ধারিত পৃথক রং

কূটনৈতিক পাসপোর্ট সংক্রান্ত বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্ত থাকে, তবে সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যু করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর। এই ভাগাভাগিটাই সবচেয়ে বেশি ভুল হয় — বিস্তারিত দেখে নাও পাসপোর্ট অধিদপ্তর লেখায়।

ফরেন সার্ভিস একাডেমি

পররাষ্ট্র ক্যাডারের কর্মকর্তাদের কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ দেয় ফরেন সার্ভিস একাডেমি। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, প্রটোকল, ভাষা ও আলোচনার কৌশল — এসবই এখানে শেখানো হয়।

প্রশ্নে সাধারণত জানতে চাওয়া হয় কোন প্রতিষ্ঠান কূটনীতিকদের প্রশিক্ষণ দেয়। উত্তর ফরেন সার্ভিস একাডেমি — অন্য ক্যাডারের সাধারণ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলো না। সরকারি চাকরিতে নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের সাধারণ কাঠামো জানতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় লেখাটি দেখে নাও।

মিশনের ধরন ও মিশন প্রধানের পদবি

বিদেশে বাংলাদেশের সব কার্যালয় এক ধরনের নয়। ধরন আলাদা, তাই প্রধানের পদবিও আলাদা। এই একটি টেবিল মুখস্থ থাকলে এই অধ্যায়ের অনেকগুলো প্রশ্ন একসঙ্গে ধরা পড়ে।

মিশনের ধরন কোথায় প্রধানের পদবি বৈশিষ্ট্য
দূতাবাস অ-কমনওয়েলথ দেশের রাজধানীতে রাষ্ট্রদূত পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক প্রতিনিধিত্ব
হাইকমিশন কমনওয়েলথভুক্ত দেশের রাজধানীতে হাইকমিশনার দূতাবাসের সমমর্যাদা, ভিন্ন নাম
কনস্যুলেট রাজধানীর বাইরের গুরুত্বপূর্ণ শহরে কনসাল জেনারেল সীমিত পরিসরে কনস্যুলার সেবা
ভারপ্রাপ্ত মিশন প্রধান অনুপস্থিত থাকলে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স অস্থায়ী দায়িত্ব

কনসাল জেনারেল পদটি নিয়ে প্রার্থীরা সবচেয়ে বেশি দ্বিধায় পড়ে। মনে রাখো — রাজধানীতে দূতাবাস বা হাইকমিশন, আর বাণিজ্যিক বা প্রবাসী-ঘন অন্য শহরে কনস্যুলেট। কনস্যুলেটের প্রধানই কনসাল জেনারেল, এবং তাঁর কাজ মূলত পাসপোর্ট, সত্যায়ন ও নাগরিক সেবাকেন্দ্রিক — রাজনৈতিক আলোচনার দায়িত্ব তাঁর নয়।

একটি ত্রিভুজ মনে রাখো — দূতাবাস রাজনৈতিক, কনস্যুলেট সেবামূলক, চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স সাময়িক

আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সদর দপ্তর

বাংলাদেশ যেসব সংস্থার সদস্য, তার মধ্যে পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি আসে এই কয়টি।

সংস্থা সদর দপ্তর
জাতিসংঘ নিউইয়র্ক
ওআইসি জেদ্দা
সার্ক কাঠমান্ডু
কমনওয়েলথ লন্ডন
বিমসটেক ঢাকা
ডি-৮ ইস্তাম্বুল

তিনটি সদর দপ্তর গেঁথে রাখো — জাতিসংঘ নিউইয়র্ক, ওআইসি জেদ্দা, সার্ক কাঠমান্ডু। এই তিনটি জোড়া থেকেই সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন তৈরি হয়।

তবে সাম্প্রতিক প্রশ্নে বিমসটেকের সদর দপ্তর ঢাকা — এই তথ্যটিও খুব আসছে। বাংলাদেশের রাজধানীতে একটি আঞ্চলিক সংস্থার সচিবালয় থাকা কূটনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ, তাই এটি আলাদা করে দাগিয়ে রাখো। আর ডি-৮ ইস্তাম্বুলকমনওয়েলথ লন্ডন — এই দুটি জোড়া দিয়ে টেবিলটি পূর্ণ হয়।

আন্তর্জাতিক সংস্থার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত, সম্মেলন বা সদস্যপদ সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্যের জন্য কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স অংশে চোখ রাখো।

জাতিসংঘের ছয়টি প্রধান অঙ্গ

বহুপাক্ষিক কূটনীতির প্রশ্ন এলে জাতিসংঘের কাঠামো লাগবেই। প্রধান অঙ্গ ছয়টি — সংখ্যাটি নিয়ে দ্বিধা রাখা যাবে না।

অঙ্গ সংক্ষিপ্ত পরিচয়
সাধারণ পরিষদ সব সদস্যরাষ্ট্র নিয়ে গঠিত আলোচনাসভা
নিরাপত্তা পরিষদ আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত অঙ্গ
অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ অর্থনৈতিক, সামাজিক ও উন্নয়ন বিষয়ক সমন্বয়
অছি পরিষদ অছিভুক্ত অঞ্চল তদারকির জন্য গঠিত অঙ্গ
আন্তর্জাতিক আদালত রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে বিরোধ নিষ্পত্তি, অবস্থান হেগ
সচিবালয় দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা

প্রশ্নে সবচেয়ে বেশি আসে দুটি বিষয় — প্রধান অঙ্গ ছয়টি, আর আন্তর্জাতিক আদালতের অবস্থান হেগ। বাকি পাঁচটি অঙ্গের কার্যালয় নিউইয়র্কে থাকলেও আন্তর্জাতিক আদালত নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে — এই ব্যতিক্রমটিই ফাঁদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

এমওইউ ও চুক্তি এক জিনিস নয়

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৈনন্দিন কাজের বড় অংশ দলিল সই করা। কিন্তু সব দলিলের ওজন সমান নয়।

দিক এমওইউ চুক্তি
পূর্ণরূপ সমঝোতা স্মারক আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক চুক্তি
প্রকৃতি সহযোগিতার অভিপ্রায় প্রকাশ পক্ষগুলোর জন্য দায়বদ্ধতা সৃষ্টি
ভাষা নমনীয়, সাধারণ সুনির্দিষ্ট, শর্তনির্ভর
সাধারণ ব্যবহার প্রাথমিক বোঝাপড়া, কারিগরি সহযোগিতা সীমানা, বাণিজ্য, প্রত্যর্পণ ধরনের বিষয়

সংক্ষেপে — এমওইউ বলে "আমরা একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী", আর চুক্তি বলে "আমরা এই কাজটি করতে বাধ্য"। লিখিত পরীক্ষায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে লিখতে গেলে এই পার্থক্যটি এক লাইনে উল্লেখ করলে উত্তরের মান বাড়ে।

ডিমার্শ থেকে পার্সোনা নন গ্রাটা

কূটনীতিতে অসন্তোষ প্রকাশেরও ধাপ আছে। ধাপগুলো নিচের ক্রমে সাজানো থাকলে প্রশ্নে কোন শব্দ কোন মাত্রার, তা ধরতে পারবে।

ধাপ কী ঘটে
ডিমার্শ নির্দিষ্ট বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক বার্তা বা আপত্তি জানানো
তলব সংশ্লিষ্ট দেশের মিশন প্রধানকে মন্ত্রণালয়ে ডেকে অবস্থান জানানো
প্রত্যাহার নিজ দেশের কূটনীতিককে ফিরিয়ে আনা
পার্সোনা নন গ্রাটা কূটনীতিককে অনভিপ্রেত ঘোষণা করে দেশত্যাগে বাধ্য করা

ডিমার্শ শব্দটি নতুন প্রার্থীদের কাছে অচেনা লাগে, কিন্তু এর অর্থ সহজ — কোনো বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানিয়ে দেওয়া কূটনৈতিক পদক্ষেপ। এটি প্রতিবাদও হতে পারে, আবার অনুরোধও হতে পারে।

সবচেয়ে কঠোর ধাপ পার্সোনা নন গ্রাটা, এবং এই অধিকারটি ভিয়েনা কনভেনশন থেকেই আসে — গ্রহীতা রাষ্ট্র কারণ না দেখিয়েও যেকোনো কূটনীতিককে অনভিপ্রেত ঘোষণা করতে পারে।

প্রবাসী ও কনস্যুলার সেবা

বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য মিশনগুলো নানা সেবা দেয় — পাসপোর্ট নবায়নে সহায়তা, দলিল সত্যায়ন, বিপদে পড়া নাগরিকের পাশে দাঁড়ানো, মৃতদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা।

সেবা সংক্ষিপ্ত পরিচয়
সত্যায়ন শিক্ষা ও আইনি দলিলের সত্যায়ন
ভ্রমণ দলিল জরুরি প্রয়োজনে দেশে ফেরার দলিল প্রদান
আইনি সহায়তা বিপদগ্রস্ত নাগরিকের পাশে দাঁড়ানো
শ্রমিক কল্যাণ কর্মরত প্রবাসীদের কল্যাণ সংক্রান্ত সহায়তা

লিখিত পরীক্ষায় প্রবাসী কল্যাণ নিয়ে প্রশ্ন এলে মনে রেখো, কূটনৈতিক মিশনের ভূমিকা আর জনশক্তি সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা আলাদা হলেও দুটি পরস্পর সহযোগী।

যেসব ভুল সবচেয়ে বেশি হয়

এক, রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার উল্টে ফেলা। কমনওয়েলথ দেশে হাইকমিশনার, বাকি দেশে রাষ্ট্রদূত।

দুই, সাধারণ পাসপোর্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেয় ভাবা। সাধারণ পাসপোর্ট দেয় স্বরাষ্ট্রের অধীন পাসপোর্ট অধিদপ্তর।

তিন, পার্সোনা নন গ্রাটার অর্থ ভুল করা। এর মানে অনভিপ্রেত ব্যক্তি ঘোষণা করা।

চার, সার্কের সদর দপ্তর নিয়ে দ্বিধা। এটি কাঠমান্ডুতে।

পাঁচ, ওআইসির সদর দপ্তর নিয়ে দ্বিধা। এটি জেদ্দায়।

ছয়, চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে স্থায়ী পদ ভাবা। এটি ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব।

সাত, দূতাবাস ও কনস্যুলেটকে এক ভাবা। দূতাবাস রাজধানীতে, কনস্যুলেট অন্য শহরে সীমিত সেবা দেয়।

আট, সংখ্যাগত তথ্য মুখস্থ করা। মিশনের সংখ্যা বদলায়, তাই কাঠামো ও পরিভাষায় জোর দাও।

নয়, এমওইউ ও চুক্তিকে সমার্থক ভাবা। এমওইউ অভিপ্রায়ের দলিল, চুক্তি দায়বদ্ধতার দলিল।

দশ, আন্তর্জাতিক আদালতের অবস্থান নিউইয়র্ক বলা। এটি হেগে।

প্রস্তুতি কীভাবে সাজাবে

প্রথম দিন কেবল পরিভাষা — রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, কনসাল জেনারেল, চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স, পার্সোনা নন গ্রাটা, ডিমার্শ। দ্বিতীয় দিন সংস্থা ও সদর দপ্তর। তৃতীয় দিন জাতিসংঘের ছয় অঙ্গ, পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবা।

তুলনা করে পড়লে ফাঁদ ধরা সহজ হয়। আইন ও চুক্তি সংক্রান্ত কাজ কোন মন্ত্রণালয়ের, তা দেখে নাও আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় লেখায়।

পড়ার পর যাচাই করা জরুরি। বাংলাদেশ বিষয়াবলি অধ্যায়ের প্রশ্ন ধরে মিলিয়ে নাও, প্রশ্নব্যাংক থেকে বিষয়ভিত্তিক অনুশীলন করো, মক টেস্ট দিয়ে সময় ধরে নিজেকে যাচাই করো এবং নিয়মিত প্র্যাকটিস চালিয়ে যাও।

পরীক্ষায় যেভাবে প্রশ্ন আসে

প্রশ্নের ধরন নমুনা
পরিভাষা কমনওয়েলথভুক্ত দেশে বাংলাদেশের প্রতিনিধিকে কী বলা হয়?
পরিভাষা পার্সোনা নন গ্রাটা বলতে কী বোঝায়?
আন্তর্জাতিক দলিল কূটনৈতিক সম্পর্ক সংক্রান্ত কনভেনশন কোনটি?
সদর দপ্তর সার্কের সদর দপ্তর কোথায়?
সদর দপ্তর ওআইসির সদর দপ্তর কোন শহরে?
প্রতিষ্ঠান কূটনীতিকদের প্রশিক্ষণ দেয় কোন প্রতিষ্ঠান?
পাসপোর্ট কূটনৈতিক পাসপোর্টের মলাটের রং কী?
সাংবিধানিক যোগ মন্ত্রী নিয়োগ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে?
মিশন কনস্যুলেটের প্রধানকে কী বলা হয়?
সদর দপ্তর বিমসটেকের সদর দপ্তর কোথায়?
সদর দপ্তর ডি-৮ এর সদর দপ্তর কোন শহরে?
জাতিসংঘ জাতিসংঘের প্রধান অঙ্গ কয়টি?
জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক আদালত কোথায় অবস্থিত?
পরিভাষা ডিমার্শ বলতে কী বোঝায়?

লিখিত পরীক্ষায় আসতে পারে "বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো"। তখন বহুপাক্ষিক কূটনীতি, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও প্রবাসী কল্যাণ — এই তিন স্তম্ভ ধরে লিখলে উত্তর গোছানো হয়।

অনুশীলনের জন্য বাংলাদেশ বিষয়াবলি প্র্যাকটিস সেট ধরে এগোও।

এক নজরে মনে রাখার তথ্য

বিষয় তথ্য
মন্ত্রণালয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
রাজনৈতিক প্রধান মন্ত্রী
প্রশাসনিক প্রধান সচিব
অবস্থান বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা
কমনওয়েলথ দেশে প্রতিনিধি হাইকমিশনার
অন্য দেশে প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত
ভারপ্রাপ্ত মিশন প্রধান চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স
অনভিপ্রেত ব্যক্তি ঘোষণা পার্সোনা নন গ্রাটা
কূটনৈতিক নিয়মের ভিত্তি ভিয়েনা কনভেনশন
কূটনৈতিক পাসপোর্টের রং লাল
প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ফরেন সার্ভিস একাডেমি
কনস্যুলেটের প্রধান কনসাল জেনারেল
জাতিসংঘের সদর দপ্তর নিউইয়র্ক
জাতিসংঘের প্রধান অঙ্গ ছয়টি
আন্তর্জাতিক আদালতের অবস্থান হেগ
ওআইসির সদর দপ্তর জেদ্দা
সার্কের সদর দপ্তর কাঠমান্ডু
কমনওয়েলথের সদর দপ্তর লন্ডন
বিমসটেকের সদর দপ্তর ঢাকা
ডি-৮ এর সদর দপ্তর ইস্তাম্বুল
আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক বার্তা ডিমার্শ
অভিপ্রায়ের দলিল এমওইউ বা সমঝোতা স্মারক

কূটনীতি মানে জটিল কিছু নয় — কয়েকটি পরিভাষা, কয়েকটি সদর দপ্তর আর একটি স্পষ্ট কাঠামো। এই তিনটি হাতে থাকলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রশ্নে তুমি আর কখনো দ্বিধায় পড়বে না।

Ah

Ahosan Habib

@ahosanhabib922

অচিনপুরের নির্মাতা। BCS ও চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে লেখেন — সিলেবাস, ব্যাকরণ ও পড়ার কৌশল।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কূটনীতিআন্তর্জাতিক সংস্থাবিসিএস প্রস্তুতি

আরও পড়ো